এখন পড়ছেন
হোম > রাজ্য > পুরুলিয়া-ঝাড়গ্রাম-বাঁকুড়া > দুই জেলায় তৃনমূল কর্মী ও পুলিশের ওপর হামলায় গ্রেপ্তার করা শুরু বিজেপি কর্মীদের

দুই জেলায় তৃনমূল কর্মী ও পুলিশের ওপর হামলায় গ্রেপ্তার করা শুরু বিজেপি কর্মীদের

এবার বিভিন্ন জায়গায় শাসক দল তৃণমূলের ওপর হামলার জন্য বিরোধী দল বিজেপির নেতা-কর্মীদের গ্রেফতার করতে উদ্যোগী হল পুলিশ প্রশাসন। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, গত বুধবার রাতে খেজুরির সুন্দরপুর এলাকায় বিজেপি কর্মী সুভাষ প্রামাণিকের বাড়িতে একটি বুথ মিটিং চলছিল। আর সেই সময় সেই রাস্তা দিয়ে তৃণমূল কর্মী সুখদেব মাইতি ও এক যুবক যাচ্ছিলেন।

তৃনমূলের অভিযোগ, তাদের কর্মী শুকদেবকে সেই সময় ব্যাপক মারধর করে বিজেপির নেতা কর্মীরা। এই ঘটনার পরই তৃণমূলের পক্ষ থেকে 8 বিজেপি নেতাকর্মীর নামে একটি অভিযোগ দায়ের করা হলে গত বৃহস্পতিবার রাতে সেই দুই অভিযুক্ত বিজেপি কর্মী সোমনাথ প্রামানিক ও রামহরি মণ্ডলকে গ্রেপ্তার করে তালপাটিঘাট কোস্টাল থানার পুলিশ। সূত্রের খবর, শুক্রবার ধৃতদের দুইজনকে কাঁথি মহকুমা আদালতে তোলা হলে বিচারক তাদের ১৪ দিনের জেল হেফাজতের নির্দেশ দেয়।

তবে বিজেপির দাবি, তৃণমূলই তাদের কর্মীদের মারধর করেছে। এদিকে খেজুরি সুন্দরপুরে যখন এহেন উত্তেজনা চলছে, ঠিক তখনই গত বৃহস্পতিবার সাঁকরাইলেও সেই শাসক বনাম বিরোধের সংঘর্ষে উত্তপ্ত হয়ে উঠল এলাকা। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, এবার এই সাঁকরাইল পঞ্চায়েত সমিতিতে বিজেপি ১১ টি এবং তৃণমূল ১০ টি আসন পেয়েছিল। আর সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিরিখে বৃহস্পতিবার বিজেপি সেখানে পঞ্চায়েত সমিতির বোর্ড গঠন করে।

আর এরপরই সেই সাকরাইল পঞ্চায়েত সমিতির লাউদহ গ্রাম পঞ্চায়েতের ঢেড়াছাড়া গ্রামে তৃণমূল কর্মীদের দিকে তীর ছোড়া হয় বলে অভিযোগ ওঠে বিজেপির বিরুদ্ধে। এমনকি আধারি ছেলিয়াসিঙা চকে তৃণমূল কর্মীদের মারধর, নেপুড়ায় তৃণমূলের পতাকা ছিঁড়ে দেওয়ার পাশাপাশি তৃণমূল কর্মী ভাগবত সাউয়ের বাবা দয়ানিধিবাবুকেও ব্যাপক মারধর ও তার বাড়ি ভাঙচুর করে বিজেপি কর্মীরা বলে অভিযোগ।

ফেসবুকের কিছু টেকনিকাল প্রবলেমের জন্য সব খবর আপনাদের কাছে পৌঁছেছে না – তাই আরো খবর পেতে চোখ রাখুন প্রিয়বন্ধু মিডিয়া-তে

এবার থেকে প্রিয় বন্ধুর খবর পড়া আরো সহজ, আমাদের সব খবর সারাদিন হাতের মুঠোয় পেতে যোগ দিন আমাদের হোয়াটস্যাপ গ্রূপে – ক্লিক করুন এই লিঙ্কে

অন্যদিকে রগড়া অঞ্চলের বাবলা গ্রামে সুকুমার পাল ও ধীরেন চন্দ্রের বাড়িতেও হামলা চালিয়ে তাদের বাড়ি ভাঙচুর ও অন্যান্য সদস্যদের মারধর করা হয়। এছাড়াও তেলকন্দ গ্রামে তৃণমূলের বুথ সভাপতি প্রভাত সিংয়ের ওপর হামলার ঘটনায় নাম জড়ায় বিজেপি নেতা কর্মীদের। এদিকে আধারি গ্রাম পঞ্চায়েতের বৈষ্না গ্রামে দু’পক্ষের তীরের সংঘর্ষে হেমন্ত ও বাহাদুর দোলই নামে দুই তৃণমূল কর্মী তীরবিদ্ধ হয়ে গুরুতর অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন।

তবে বিজেপির অভিযোগ যে, এই বৈষ্ণার আস্তি গ্রামে বিজেপি কর্মীরা চা খাওয়ার সময় তৃণমূলই তাদের প্রথম আঘাত করে। এদিকে এই হামলার ঘটনায় এদিন বিজেপির বিরুদ্ধে মুখ খুলেছেন সাঁকরাইল ব্লক তৃণমূল সভাপতি সোমা পাত্র। এদিন তিনি বলেন, “২০১১ সালে পরিবর্তনের পর মানুষ শান্তিতে ছিলেন। কিন্তু পঞ্চায়েত সমিতি দখল করার বিজেপি যেভাবে আক্রমণ শুরু করছে তাতে যদি এরা বাংলা দখল করে তাহলে এরা রাজ্যটাকে শ্মশান করে দেবে”।

অন্যদিকে পাল্টা তৃণমূলের বিরুদ্ধে তোপ দেগেছে বিজেপিও। এদিন এই প্রসঙ্গে বিজেপি জেলা সাধারণ সম্পাদক সঞ্চিত মাহাত বলেন, “আমাদের কেউ গন্ডগোল করেনি। তৃণমূলই প্রথমে আমাদের বিজয় মিছিলে হামলা চালায়। আসলে পঞ্চায়েত সমিতি দখল করতে না পেরেই ওরা এমন করছে”। তবে এই দুই রাজনৈতিক দলের চর্চায় এবার কঠোর হতে শুরু করেছে পুলিশ প্রশাসন। এলাকায় পুলিস পিকেট বসানোর পাশাপাশি অভিযোগের ভিত্তিতে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন ঝাড়গ্রাম জেলার পুলিশ সুপার অরিজিৎ সিনহা।

আপনার মতামত জানান -
Top
error: Content is protected !!