এখন পড়ছেন
হোম > রাজ্য > বিজেপি কর্মী খুনে নাম ‘জড়াতেই’এলাকা ছাড়া তৃনমূল নেতা-কর্মীরা

বিজেপি কর্মী খুনে নাম ‘জড়াতেই’এলাকা ছাড়া তৃনমূল নেতা-কর্মীরা

Priyo Bandhu Media


পঞ্চায়েত ভোটের পর পুরুলিয়ার বলরামপুরে দুই বিজেপি কর্মীর মৃত্যু ঘিরে বর্তমানে সরগরম রাজ্য রাজনীতি।অভিযোগ পাল্টা অভিযোগে দ্বন্দ্ব অব্যাহত শাসক ও বিরোধী দলের মধ্যে।বিজেপি সূত্রে খবর,তাঁদের কর্মীদের খুন করে এখন পালিয়ে বেড়াচ্ছে তৃনমূলের দুস্কৃতীরা।অন্যদিকে তৃনমূলের দাবি,বিজেপির লাগাতার হুমকির জেরেই ঘর ছাড়তে বাধ্য হচ্ছেন তাঁদের কর্মীরা।যদিও বা শাসকদলের এই দাবি কে অগ্রাহ্য করে নিজেদের কর্মী খুনের বিচারের দাবিতে পুরুলিয়ায় অবস্থান বিক্ষোভ শুরু করেছে বিজেপি।

আরো খবর পেতে চোখ রাখুন প্রিয়বন্ধু মিডিয়া-তে

স্থানীয় সূত্রে খবর,গত শনিবার বিদ্যুতের হাইটেনশন তারের ওপর ঝুলতে দেখা যায় বিজেপি কর্মী দুলাল কুমারের মৃতদেহ।অভিযোগ,ময়নাতদন্তের রিপোর্ট দেখিয়ে জেলার পুলিশ সুপার আকাশ মাঘারিয়া দাবি করেন,বিজেপি কর্মী দুলাল কুমার আত্মহত্যা করেছেন।আর এতেই  পুলিশের বিরুদ্ধে ক্ষোবে ফেটে পড়ে দুলালের পরিবার।সোমবার এ বিষয়ে বলরামপুর থানায় অভিযোগ জানিয়ে মৃত দুলাল কুমারের খুড়তুতো দাদা কৃষ্নপদ কুমার বলেন,”গত শুক্রবার সন্ধ্যায় আমার ভাই দুলাল ও আমাকে গ্রামের তৃনমূল কর্মী বলে পরিচিত বিমল কুমার,গনেশ কুমার,হারাধন কুমার,মনোহর কুমার,বিক্রম মাঝি ও রতন কুমার হুমকি দেয় এবং বিজেপি না ছাড়লে প্রানে মেরে ফেলারও ভয় দেখায়।ঘন্টাখানেক পর নিজের বাবাকে দোকানে খাবার দিয়ে ফিরে আসার সময় দুলালকে ওই তৃনমূল ডেকে নিয়ে যায়।এরপরই দুলালের মৃতদেহ দেখতে পাই।”

এদিকে বিজেপি কর্মী দুলাল দাসের মৃত্যুতে সিবিআই তদন্তের দাবি করেছে গেরুয়া শিবির।বিজেপির দাবি,আদৌ পুলিশ ওই তৃনমূল কর্মীদের বিরুদ্ধে খুনের মামলা রুজু করেছে কী না,তাতে তাঁদের বিস্তর সন্দেহ রয়েছে।সূত্রে খবর,এ প্রসঙ্গে “যা বলার সিআইডি বলবে” বলে দায় এড়িয়েছে বলরামপুর থানা।অন্যদিকে সিআইডির বক্তব্য,দুলাল কুমারের মোবাইলের কললিষ্ট পরীক্ষা করা হচ্ছে।তবে দুলালের মৃত্যুতে খুনের মামলা রুজু করা হয়েছে কী না এব্যপারে স্পষ্ট কোনো কথা শোনা গেল না এই তদন্তকারী সংস্থার গলায়।দুলালের মৃত্যুর দিন তিনেক আগে বলরামপুরের সুপুরডি গ্রামে মৃত্যু হয় আর এক বিজেপি কর্মীর।পুলিশ জানিয়েছে,ত্রিলোচন মাহাতো নামে এই বিজেপি কর্মীর খুনের ঘটনায় তাঁরা খুনের মামলাই রুজু করেছে।এদিকে এই দুই বিজেপি কর্মী খুনে অভিযুক্ত বেশ খিছু তৃনমূল কর্মী কার্যত বেপাত্তা।মঙ্গলবার ডাভা ও সুপুরডি গ্রামে অভিযুক্ত 12 জন তৃনমূল কর্মীর মধ্যে 12 জনেরই কোনো হদিশ নেই।দুলাল কুমারের মৃত্যুর ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত তৃনমূল কর্মী বিমল কুমার।তাঁর খোজে বেরোলেও কোনো হদিশ না পাওয়ায় তাঁর বাবা রবি কুমার বলেন,”ছেলে ঘরে নেই।”

 

এদিকে পঞ্চায়েত ভোটের দিন বিজেপি কর্মী ত্রিলোচন মাহাতোকে দেখে নেওয়ার হুমকি দেন এলাচার তৃনমূল কর্মী রা বলে অভিযোগ করেছিলেন ত্রিলোচনের পিতা হাড়িরাম মাহাতো।এলাকার সেই তৃনমূল কর্মী ভক্তরঞ্জন মাহাতো,ফটিকচন্দ্র মাহাতোরাও উধাও।

কর্মীরা এলাকায় নেই কেন! এ প্রশ্নের জবাবে বলরামপুরের তৃনমূল নেতা তথা জেলাপরিষদের বিদায়ী সভাধিপতি সৃষ্টিধর মাহাতো বিজেপির বিরুদ্ধে অভিযোগ করে বলেন,”দুলালের মৃত্যুর পর এলাকার অনেক তৃনমূল কর্মীকে বিজেপির পক্ষ থেকে হুমকি দেওয়া হয়েছে।” অন্যদিকে বিজেপির জেলা সভাপতি বিদ্যাসাগর চক্রবর্তী তৃনমূলের সৃষ্টিধর মাহাতোকে তোপ দেগে বলেন,”সরকারি দেহরক্ষী থাকা সত্তেও উনি লাখ খানেক টানা খরচ করে একটা পিস্তল কিনেছেন।”সাথে সাথে তৃনমূলের কর্মীদের এভাবে পালিয়ে বেড়ানো নিয়ে তাঁর মন্তব্য,”যারা নানা ধরপের অত্যাচার ও দূর্নীতি করেছে,তাঁরা মানুষকে ভয় পাবে এটাই স্বাভাবিক।”

আপনার মতামত জানান -

Top
error: Content is protected !!