এখন পড়ছেন
হোম > রাজ্য > বর্ধমানে বড় জয় করে ফিরলেন বিজেপি নেতারা , তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ প্রায় হাজারের

বর্ধমানে বড় জয় করে ফিরলেন বিজেপি নেতারা , তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ প্রায় হাজারের

পঞ্চায়েত নির্বাচনের পর থেকেই বিজেপি এ রাজ্যে তাদের ক্ষমতা জানান দিয়েছিল। ভোটে শাসকদল সংখ্যাগরিষ্ঠতায় সার্বিকভাবে এগিয়ে থাকলেও বিজেপিও গুটি গুটি পায়ে এগিয়েছে। এমনকি বেশ কয়েকটি তৃণমূল শক্তিধর এলাকাতেই টেক্কা দিয়েছে জোড়াফুলকে। কংগ্রেস,বামফ্রন্টের মতো বিরোধী রাজনৈতিক দলকে পিছনে ফেলে গেরুয়া ঝান্ডা উঠে এসেছে দ্বিতীয় স্থানে। হঠাৎ করে তৃনমূল শাসিত বাংলায় বিজেপির শক্তি বাড়তে দেখে রাতে ঘুম উড়েছিল তৃনমূলের। তবে পঞ্চায়েত বোর্ড গঠন পর্বেই বিজেপিকে ক্ষমতা বুঝিয়েছে তৃণমূল। পঞ্চায়েতে বিজেপির টিকিটে জয়ী প্রার্থীদেরই দেখা গিয়েছে দল ছেড়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উন্নয়নের সঙ্গী হতে। এরকম নজির ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে গোটা রাজ্যে। তবে তৃণমূলের ফর্মুলাতেই তৃণমূলকে এবার নিজেদের দাপট বুঝিয়ে দিল পদ্মশিবির। সঙ্গে বিরোধীরাও দেখল বিজেপির সংগঠনের নমুনা। নজিরবহীন ভাবে বাম,কংগ্রেস,তৃণমূলের থেকে প্রায় ১০০০ জন সদস্য এবার যোগ দিল বিজেপিতে। লোকসভা ভোটের আগেই গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব নিয়ে আবহাওয়া উত্তপ্ত ছিল রাজ্যবিজেপিতে। এমতাবস্থায় সংগঠনের শক্তিবৃদ্ধি নিঃসন্দেহে সেই গোষ্ঠীদ্বন্দ্বে মুখে ছাই দিল। খুশি হাওয়া পদ্মশিবিরে।

এদিন পূর্ব বর্ধমানের পীরহাটায় সভা করে নবাগতদের দলে স্বাগত জানালেন জেলা বিজেপি হেভিওয়েট নেতারা। দলের নতুন সদস্যদের হাতে গেরুয়া পতাকা তুলে দেন রাজ্য বিজেপি সভাপতি দিলীপ ঘোষ। সভায় হাজির ছিলেন জয় বন্দ্যোপাধ্যায়ও। তাকে দেখা গেল শাসকদলের বিরুদ্ধে আক্রমণাত্ম ভূমিকায়।

জয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তব্য,ক্ষমতায় এসে তৃনমূল শুধু সাধারণ মানুষের ভোগান্তিকেই বাড়িয়েছে। সন্ত্রাসের আখড়া বানিয়ে রয়েছে গোটা রাজ্যকে। প্রসঙ্গে টানলেন কেন্দ্রীয় সরকারের জনস্বার্থমুখী প্রকল্পগুলোকে। বললেন মোদীজি ক্ষমতায় এসে বিপিএল তালিকাভুক্ত মানুষের উন্নয়ণে একাধিক প্রকল্প চালু করেছেন। অথচ তৃণমূলের বাধার ফলে এ রাজ্যের সাধারণ মানুষের কাছে সে সুবিধাগুলো পৌছাচ্ছে না। কেন্দ্রীয় সরকারের প্রকল্পগুলোকেও দুর্নীতিগ্রস্থ করে তুলছেন তৃণমূলের নেতারা। অভিযোগের আঙুল তুললেন জয় বন্দ্যোপাধ্যায়। পাশাপাশি রাজ্যপুলিশের কড়া নিন্দা করে বললেন, এ রাজ্যের পুলিশ প্রশাসন তাদের দায়িত্ব ঠিকঠাক পালন করে না। তাঁরা নিজেদের ডিউটি করার বদলে কেবলে শাসকদলের তাঁবেদারি করতেই বেশি ব্যস্ত। জায়গায় জায়গায় তোলা আদায় করাকেই নিজেদের পেশা বানিয়ে রেখেছে। রাজ্যে একের পর এক দুর্নীতিমূলক কান্ড ঘটে যাচ্ছে,সন্ত্রাস দাপিয়ে বেড়াচ্ছে রাজ্যের সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোতে,অথচ রাজ্য পুলিশ নিষ্ক্রিয় হয়ে আছে। পুলিশ প্রশাসনকে নিয়ন্ত্রণ করছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর অঙ্গুলি হিলনেই চলছে সব। পুলিশের এই পক্ষপাতদুষ্টতা নিয়ে কড়া সমালোচনা করেন তিনি।

সম্প্রতি বেআইনী অর্থ লগ্নি সংস্থার সিবিআই তদন্ত প্রক্রিয়ার মন্থর গতির জন্য তৃণমূলের সঙ্গে বিজেপির যোগসূত্রতাকে এর জন্য দায়ী করেছিল বাম-কংগ্রসে। দুই বিরোধী দল এক ছাতার তলায় এসে কড়া সমালোচনা করেছিল তৃণমূল-বিজেপির। তবে এ অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা বলেই বক্তব্যে জনালেন এদিন রাজ্য বিজেপি সভাপতি। এ প্রসঙ্গে আওয়াজ তুলতে দেখা গেল জয় বন্দ্যোপাধ্যায়কেও। তৃণমূলের দিকেই তোপ দেগে বললেন,সারদা-রোজভ্যালি কান্ডে একের পর এক অভিযোগের তালিকায় উঠে এসেছেন তৃণমূলের হেভিওয়েট নেতারা। গোটা রাজ্য দেখেছে তাঁরা কীভাবে বাংলার সম্মান মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দিয়েছে।

ফেসবুকের কিছু টেকনিকাল প্রবলেমের জন্য সব খবর আপনাদের কাছে পৌঁছেছে না। তাই আরো খবর পেতে চোখ রাখুন প্রিয়বন্ধু মিডিয়া-তে

এবার থেকে প্রিয় বন্ধুর খবর পড়া আরো সহজ, আমাদের সব খবর সারাদিন হাতের মুঠোয় পেতে যোগ দিন আমাদের হোয়াটস্যাপ গ্রূপে – ক্লিক করুন এই লিঙ্কে

উল্লেখ্য,দল বেঁধে বিরোধীদের বিজেপি শিবিরে যোগ দেওয়া দেখে ব্যাপক শোরগোল পড়ে গিয়েছে রাজ্য রাজনৈতিক শিবিরে। উদ্বেগে শাসক দল সহ বিরোধীরাও। তবে জয় বন্দ্যোপাধ্যায় যেভাবে বিভিন্ন ইস্যুতে শাসকদলকে আক্রমণ করলেন তার পাল্টা প্রতিক্রিয়া তৃণমূলের তরফ থেকেও আসবে বলেই জল্পনা চলছে। লোকসভা ভোট যতোই এগিয়ে আসবে ততোই শাসক-বিরোধী তরজায় আরো ইন্ধন যোগানোর বিষয় সামনে আসবে। নানান ইস্যুতে রাজনৈতিক রং দিয়ে ক্ষমতা প্রদর্শনে মরিয়া হয়ে উঠবে প্রতিপক্ষ রাজনৈতিক দলগুলো। এমনটাই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা।

Top
error: Content is protected !!