এখন পড়ছেন
হোম > রাজ্য > কলকাতা > বাংলাকে যে বিশেষ গুরুত্ব সংসদে নজিরবিহীন সিদ্ধান্তে স্পষ্ট করে দিল বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব

বাংলাকে যে বিশেষ গুরুত্ব সংসদে নজিরবিহীন সিদ্ধান্তে স্পষ্ট করে দিল বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব

“বাংলা ভুলি কি করে, বাংলা বুকের ভিতরে” – গানটি বঙ্গবাসীর কারোরই অজানা নয়। বাংলা ও বাঙালির আবেগ যে এই গানের পেছনে যথেষ্ট পরিমাণে জড়িয়ে আছে, তা অস্বীকার করার ক্ষমতা নেই কারোরই। বিভিন্ন সময়ে তৃণমূলের সভা মঞ্চে বাংলাকে নিয়ে বিভিন্ন গান পরিবেশন হতে দেখা যায়। বিজেপির উত্থানে যখন রাজ্যে কার্যত দিশেহারা অবস্থা শাসকদলের, ঠিক তখনই প্রায় প্রত্যেকটি মঞ্চ থেকেই বিজেপির বিরুদ্ধে তোপ দেগে, ‘বাংলার সর্বনাশ’ করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তৃণমূলের শীর্ষ নেতা নেত্রীরা।

এমনকি বিজেপি বাংলাবিদ্বেষী বলেও আক্রমণ করতে ছাড়েন না তারা। আর এই পরিস্থিতিতে এবার তৃণমূলকে বিপাকে ফেলতে এবং বাংলা ও বাঙালির মন জয় করতে অভিনব সিদ্ধান্ত নিল বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। বস্তুত, সদ্যসমাপ্ত লোকসভা নির্বাচনে রাজ্যের 42 টি লোকসভা কেন্দ্রের মধ্যে 18 টি লোকসভা কেন্দ্রেই জয়লাভ করেছেন ভারতীয় জনতা পার্টির প্রার্থীরা। বাংলা থেকে জয়ী সাংসদরা যাতে লোকসভায় বাংলা ভাষাতেই বক্তব্য রাখেন এবার তার জন্য সকলকে নির্দেশ দিলেও গেরুয়া শিবির।

আর বিজেপির এই সিদ্ধান্তের ফলে একদিকে যেমন দিল্লী পর্যন্ত বাংলার মানুষের কথা উঠে আসবে, ঠিক তেমনই তৃণমূলের অভিযোগের অনেকটাই মিথ্যে প্রমাণ করা যাবে বলে মনে করছে গেরুয়া শিবিরের থিঙ্কট্যাঙ্ক। জানা গেছে, বিজেপির যে 18 জন সাংসদ বাংলা থেকে দিল্লিতে গিয়েছেন, তাদের মধ্যে বেশ কয়েকজন হিন্দি এবং ইংরেজি ভাষাতে তেমন দক্ষ নন। তাই গেরুয়া শিবির চাইছে, বাংলার সাংসদরা যাতে বাংলাতেই সংসদেই বক্তব্য রাখেন।

এক্ষেত্রে নিজেদের সাংসদদের বাংলা ভাষায় দিল্লির সংসদে কথা বলার ভিডিও যেমন মানুষ দেখতে পাবে, ঠিক তেমনই তৃণমূলকেউ অনেকটাই চাপে রাখা যাবে বলে মনে করছেন গেরুয়া শিবির। কেননা মাঝেমধ্যেই তৃণমূলের নেতারা বিজেপিকে “বাংলার ক্ষতিকারক” দল বলে অভিহিত করে থাকেন। শুধু তাই নয়, অমিত শাহ এবং নরেন্দ্র মোদী বাংলায় আসলেও তারা বাংলায় বক্তব্য না দেওয়ায় হিন্দিকে প্রতিষ্ঠা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করতে দেখা যায় ঘাসফুল শিবিরকে।

ফেসবুকের কিছু টেকনিক্যাল প্রবলেমের জন্য সব আপডেট আপনাদের কাছে সবসময় পৌঁচ্ছাছে না। তাই আমাদের সমস্ত খবরের নিয়মিত আপডেট পেতে যোগদিন আমাদের হোয়াটস্যাপ বা টেলিগ্রাম গ্রূপে।

১. আমাদের Telegram গ্রূপ – ক্লিক করুন
২. আমাদের WhatsApp গ্রূপ – ক্লিক করুন
৩. আমাদের Facebook গ্রূপ – ক্লিক করুন
৪. আমাদের Twitter গ্রূপ – ক্লিক করুন
৫. আমাদের YouTube চ্যানেল – ক্লিক করুন

প্রিয় বন্ধু মিডিয়ায় প্রকাশিত খবরের নোটিফিকেশন আপনার মোবাইল বা কম্পিউটারের ব্রাউসারে সাথে সাথে পেতে, উপরের পপ-আপে অথবা নীচের বেল আইকনে ক্লিক করে ‘Allow‘ করুন।


আপনার মতামত জানান -

আর এই পরিস্থিতিতে দিল্লির সংসদে যেটা তৃণমূলের 34 জন সাংসদ করতে পারেনি, সেটাই করে দেখাতে চলেছেন তাদের 18 জন সাংসদ বলে দাবি বিজেপির। এদিন এই প্রসঙ্গে এক বিজেপি সাংসদ বলেন, “আমাদের মধ্যে অনেকেই প্রথমবার লোকসভার প্রতিনিধি হয়ে এসেছেন। ফলে সংসদীয় রীতি-নীতি বুঝতে একটু সময় লাগছে। তার ওপর সর্বভারতীয় স্তরে মাতৃভাষার বাইরে বক্তব্য পেশ করতে গিয়ে অনেকেই সমস্যায় পড়েছেন। বিষয়টি অনুধাবন করে দলের শীর্ষ নেতৃত্ব বাংলাতেই বক্তব্য পেশের অনুমোদন দিয়েছেন।”

এদিকে বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের এই সিদ্ধান্তে খুশি রাজ্য বিজেপি। এদিন এই প্রসঙ্গে রাজ্য বিজেপির অন্যতম সাধারণ সম্পাদক সায়ন্তন বসু বলেন, “এটা অত্যন্ত কার্যকর সিদ্ধান্ত। কেননা দক্ষিণ ভারতের বহু এমপি নিজেদের মাতৃভাষায় সংসদে বক্তব্য রাখেন। একইভাবে বাংলার এমপিরা বাংলাতে এলাকার সমস্যা কিংবা অন্যান্য বিষয়ে মতামত তুলে ধরলে পশ্চিমবঙ্গবাসী হিসেবে গর্ব অনুভব করব। নিজেদের বক্তব্য জনপ্রতিনিধিরা চাক্ষুষ করতে পেরে এলাকাবাসী নিজেদের ভোটদানের গুরুত্ব অনুভব করতে পারবেন।”

আর লোকসভা নির্বাচনে বাংলার মানুষ যেভাবে বিজেপির প্রতি তাদের বিপুল সমর্থন দেখিয়েছিল, তার পরিপ্রেক্ষিতে বিজেপির এই পদক্ষেপ বিধানসভা নির্বাচনের আগে কি মাস্টারস্ট্রোক হতে চলেছে? বিজেপির 18 জন সাংসদ দিল্লিতে লোকসভায় গিয়ে বাংলা ভাষায় বক্তব্য রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়ায়, তা কি এবার তৃণমূলকে প্রবল বিপাকে ফেলতে চলেছে? ইতিমধ্যেই এই নিয়ে তীব্র জল্পনা শুরু হয়ে গেছে রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মধ্যে। বাংলার বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিজেপির কেন্দ্রীয় কমিটির এই সিদ্ধান্ত রাজ্যের শাসকদলের ঘুম উড়িয়ে দিতে পারে বলে মনে করছেন অনেকেই।

রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, 2014 সালে বাংলা থেকে তৃণমূলের 34 জন সাংসদ হয়েছিলেন। কিন্তু তেমন ভাবে লাগাতার বাংলাভাষাকে বেছে নিয়ে তাদের সংসদে বক্তব্য রাখতে দেখা যায়নি। মাঝে নিজের স্বল্প উপস্থিতির মধ্যেই সেলিব্রিটি সাংসদ দেব – বার দুই চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু, তাঁকে রীতিমত হাসাহাসির শিকার হতে হয়। অথচ দল হিসাবে তৃণমূল সেটার বিরুদ্ধে বড়সড় বার্তা দেয় নি। আর সেখানে এবার বাংলা ও বাঙালির আবেগকে মর্যাদা দিয়ে বাংলার সাংসদদের বাংলা ভাষাতেই ঝড় তোলার সুযোগ করে দিল বিজেপি। যা নিঃসন্দেহে বাঙালি মননে গেরুয়া শিবিরের জায়গা অনেকটাই পোক্ত করবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

আপনার মতামত জানান -
Top
error: Content is protected !!