এখন পড়ছেন
হোম > বিশেষ খবর > মুখ্যমন্ত্রীর মানবিক মুখের কাছে হারল গেরুয়া রণনীতি, মেদিনীপুর আজ উলটপুরাণ চমক

মুখ্যমন্ত্রীর মানবিক মুখের কাছে হারল গেরুয়া রণনীতি, মেদিনীপুর আজ উলটপুরাণ চমক

বেশ কয়েকদিন আগে গত ১৬ জুলাই বঙ্গ সফরে এসেছিলেন বিজেপি শীর্ষনেতা তথা ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। সভা করেছিলেন মেদিনীপুরে – কৃষি সহায়ক পন্যের মূল্যবৃদ্ধি সংক্রান্ত একাধিক ইস্যু নিয়ে বৈঠক উদ্দেশ্য হলেও বঙ্গ বিজেপির সংগঠনকে চাঙ্গা করাও লক্ষ্য ছিল প্রধানমন্ত্রীর বলে বক্তব্য রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের।

তবে সেদিন অপ্রত্যাশিতভাবে, মেদিনীপুর কলেজ মাঠে তাঁর জনসভা চলাকালীনই ভেঙে পড়ে দর্শকদের প্যান্ডেল। ঘটনায় আহত হন প্রায় শ-খানেক বিজেপি কর্মী। গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁদের বেশ কয়েকজনকে হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়। সভা শেষে আহতদের হাসপাতালে দেখতে গিয়ে কেঁদে ফেলেন প্রধানমন্ত্রী।

কিন্তু বিজেপির জনসভার দুর্ঘটনাকে হাতিয়ার করেই আহতদের পাশে দাঁড়াতে দেখা যায় রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে। রাজনৈতিক সূত্রের খবর থেকে জানা যায়, প্রধানমন্ত্রী আহতদের তদারক করতে হাসপাতালে যাওয়ার দিন তিনেক পরেই মেদিনীপুর সফরে যান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং হাসপাতালে গিয়ে আহতদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলেন, আর্থিক সহায়তা দানেরও আশ্বাস দেন।

এবার থেকে প্রিয় বন্ধুর খবর পড়া আরো সহজ, আমাদের সব খবর সারাদিন হাতের মুঠোয় পেতে যোগ দিন আমাদের হোয়াটস্যাপ গ্রূপে – ক্লিক করুন এই লিঙ্কে

আর যেমন কথা তেমন কাজ! পরের দিনই নেত্রীর কথামতো মুখ্যমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিল থেকে আহতদের হাতে চলে যায় জন প্রতি ১ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা। মুখ্যমন্ত্রীর মানবিক মূর্তি দেখে চোখের জল বাঁধ মানেনি হাসপাতালের বেডে শুয়ে থাকা সুমিত্রা মাহাতো, শকুন্তলা মাহাতো, কৌশিক মাহাতোদের। তাঁরা সকলেই ব্যক্তিগতভাবে কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন নেত্রীকে এবং জানিয়েছেন যদি শরীর সুস্থ থাকে তবে মেদিনীপুরের তৃণমূলের জনসভায় তাঁরা অবশ্যই হাজির হবেন। তাঁরা যদি নাও যেতে পারেন তাহলে তাঁদের পরিবারের লোকজনদের অবশ্যই পাঠাবেন।

সুখদা মাহাতো, সূর্যকান্ত চন্দ্র ও উত্তম দাসরাও এমনটাই জানালেন। এর পাশাপাশি জেলা বিজেপি নেতাদের প্রতি একরাশ অভিযোগ তুলে বলেন যে, প্রধানমন্ত্রী নাকি শুধু তাঁদের চোখের দেখা দেখতে এসেছিলেন মাত্র, কাজের কাজ করেননি কিছুই। অন্যদিকে জেলার বিজেপি নেতৃত্বরাও একবারও ফিরে তাকাননি তাঁদের দিকে, সাহায্য করা তো দূরের কথা। তার পরিবর্তে বাংলার মুখ্যমন্ত্রীকে পাশে পেয়েছেন তাঁরা বিপদের দিনে।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মানবিকতা বোধে জ্ঞানচক্ষু খুলেছে তাঁদের বলেও দাবি তোলা হয়েছে আহতদের তরফে। তাই এবার থেকে আর বিজেপি নয়, তৃণমূলের ছত্রছায়াতেই থাকবেন তাঁরা, এমনটাই জানালেন এদিন। প্রসঙ্গত, ২১-এর মঞ্চ থেকেই মোদীজির মেদিনীপুরের কলেজ মাঠেই করা জনসভার প্রেক্ষিতেই পাল্টা তৃণমূলের জনসভা করার বার্তা দিয়েছিলেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আগাম জানিয়ে দিয়েছিলেন বিজেপির জনসভাকে ছাপিয়ে যাবে তৃণমূলের সভা।

তবে শুধু জনসমাগম ঘটানোর লক্ষ্য নয় রাজ্যের শাসকদলের। জঙ্গলমহলে বিজেপির উত্থানের পর তৃনমূলের সাংগঠনিক শক্তি প্রদর্শন করাকেও পাখির চোখ করলেন নেত্রী। প্রধান লক্ষ্য তো একটাই, আসন্ন লোকসভা ভোটে বিজেপি সরকারকে কেন্দ্র থেকে উৎখাত করা। আর সেই লক্ষ্যে পৌছাতেই রাজ্য বিজেপির সংগঠনের মূলে আঘাত করতেই পরিকল্পিত পথে এগোচ্ছেন তিনি – এমনটাই ধারণা রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশের।

আপনার মতামত জানান -
Top
error: Content is protected !!