এখন পড়ছেন
হোম > রাজ্য > মেদিনীপুর > বাংলার বুকে জেলা কার্যালয় বানাতে শুধু জমি কিনতেই কোটি টাকা খরচ গেরুয়া শিবিরের

বাংলার বুকে জেলা কার্যালয় বানাতে শুধু জমি কিনতেই কোটি টাকা খরচ গেরুয়া শিবিরের

গোটা রাজ্যে বিগত লোকসভা নির্বাচনে ভারতীয় জনতা পার্টির ব্যাপক উত্থান ঘটেছে। এমনকি, তৃণমূল কংগ্রেসের দাপুটে নেতা শুভেন্দু অধিকারী সহ অধিকারী পরিবারের বিশেষ দাপট রয়েছে যেখানে, সেই পূর্ব মেদিনীপুর জেলাতেও বিজেপির উত্থান চোখে পড়ার মত। লোকসভায় আসন সংখ্যার নিরিখে খাতা না খুললেও, তৃণমূলের গড় বলে খ্যাত পূর্ব মেদিনীপুরে গেরুয়া শিবিরের ভোটবৃদ্ধি সবাইকে চমকে দিয়েছে। অথচ, আশ্চর্যের ব্যাপার এই জেলায় সাংগঠনিক শক্তি সেভাবে বাড়েই নি বিজেপির!

এমনকি, সাধারণের সুযোগ-সুবিধা নিয়ে অভিযোগ শোনার জন্য বা সমগ্র জেলার রণনীতি নির্ধারণের জন্য কোনো নিজস্ব জেলা পার্টি অফিস পর্যন্ত নেই বিজেপির। তাই এবার পূর্ব মেদিনীপুর জেলায় নিজেদের স্থায়ী জেলা কার্যালয় নির্মাণের ব্যাপারে উদ্যোগী হতে দেখা গেল ভারতীয় জনতা পার্টিকে। তমলুকের নিমতৌড়ি এলাকায় কাকগেছিয়া হলদিয়া মেচেদা 41 নম্বর জাতীয় সড়কের পার্শ্ববর্তী এলাকায় দলীয় কার্যালয় তৈরি করার জন্য জমি কিনেছে ভারতীয় জনতা পার্টি। যার বাজার দর নাকি 69 লক্ষ টাকা।

তবে তৃণমূলকে টক্কর দিতে যে জায়গায় জেলা পার্টি অফিস করা হচ্ছে – তা হাতে পেতে নাকি কোটি টাকা খরচ হয়ে গেছে গেরুয়া শিবিরের! আর এই খরচের কথা প্রকাশ্যে আসতেই, রীতিমত চমকে গেছে রাজনৈতিক মহল। বিজেপি সূত্রে পাওয়া খবর অনুযায়ী, আগামী মার্চ মাসের মধ্যেই পূর্ব মেদিনীপুর জেলার দলীয় কার্যালয় তৈরি হয়ে যাবে। যদিও ভারতীয় জনতা পার্টির জেলা কার্যালয় তৈরি ক্ষেত্রে ব্যাপক আর্থিক খরচা নিয়ে গেরুয়া শিবিরকে প্রশ্নবানে বিদ্ধ করতে ছাড়ছেন না বিরোধীরা।

তবে জমি কেনা, তথা জেলা কার্যালয় তৈরীর ব্যাপারটা – সম্পূর্ণ কেন্দ্রীয় ভারতীয় জনতা পার্টির আর্থিক সহযোগিতায় সম্পন্ন হচ্ছে বলে দাবি করেছেন জেলা বিজেপি নেতৃত্ব। এই বিষয়ে বিজেপির তমলুক সাংগঠনিক জেলা সভাপতি নবারুণ নায়েক সংবাদমাধ্যমকে বলেন, “বিধানসভা নির্বাচনের আগেই নতুন জেলা কার্যালয় ভবন করার লক্ষ নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে কাকগেছিয়া এলাকায় একটি ভাড়া বাড়িতে জেলা কার্যালয় চলে।”

তিনি আরও জানিয়েছেন, “দলের সাংগঠনিক শক্তি বৃদ্ধি পাওয়ায় বিধানসভা নির্বাচনের সময় জেলা রাজনৈতিক কর্মসূচি পরিচালনার জন্য নিজস্ব কার্যালয় খুব প্রয়োজন। সেজন্য দ্রুত জেলা কার্যালয় করার চেষ্টা হচ্ছে।”
অপরদিকে বিরোধীদের তোলা অর্থের উৎস প্রসঙ্গে নবারুণবাবু বলেন, “জেলা কার্যালয় নির্মাণের কাজ বিজেপির কেন্দ্রীয় কমিটির তত্ত্বাবধানে সম্পন্ন হচ্ছে। গোটা টাকাটাই দলের কেন্দ্রীয় কমিটি প্রদান করছে। ফলে এতে জেলা বা রাজ্যের কোনো ভূমিকা নেই। প্রাথমিকভাবে ভবনটি একতলা করা হবে। পরে দোতলা বা তিনতলার কাজ সম্পন্ন হবে।”

ফেসবুকের কিছু টেকনিক্যাল প্রবলেমের জন্য সব আপডেট আপনাদের কাছে সবসময় পৌঁচ্ছাছে না। তাই আমাদের সমস্ত খবরের নিয়মিত আপডেট পেতে যোগদিন আমাদের হোয়াটস্যাপ বা টেলিগ্রাম গ্রূপে।

১. আমাদের Telegram গ্রূপ – ক্লিক করুন
২. আমাদের WhatsApp গ্রূপ – ক্লিক করুন
৩. আমাদের Facebook গ্রূপ – ক্লিক করুন
৪. আমাদের Twitter গ্রূপ – ক্লিক করুন
৫. আমাদের YouTube চ্যানেল – ক্লিক করুন

প্রিয় বন্ধু মিডিয়ায় প্রকাশিত খবরের নোটিফিকেশন আপনার মোবাইল বা কম্পিউটারের ব্রাউসারে সাথে সাথে পেতে, উপরের পপ-আপে অথবা নীচের বেল আইকনে ক্লিক করে ‘Allow‘ করুন।

আপনার মতামত জানান -

বস্তুত, পূর্ব মেদিনীপুর জেলায় এবারের লোকসভা নির্বাচনে ব্যাপক উত্থান ঘটেছে ভারতীয় জনতা পার্টির। যে জেলায় কার্যত অস্তিত্ব সংকটে ভুগত গেরুয়া শিবির, সেইখানে জেলার দুই লোকসভা কেন্দ্রে 39 শতাংশ ভোট পেয়ে রীতিমতো শাসকের ঘাড়ে নিঃশ্বাস ফেলছে ভারতীয় জনতা পার্টি। তাই এমন পরিস্থিতিতে পদ্মফুল শিবিরের পূর্ব মেদিনীপুর জেলাতে জেলা কার্যালয় নির্মাণ রীতিমতো রাজনৈতিক গুরুত্ব রাখে বলে মত বিশেষজ্ঞদের।

তবে শুধু পূর্ব মেদিনীপুর জেলা নয়, পশ্চিমবঙ্গের একাধিক জেলাতেই গড়ে উঠেছে বিজেপির জেলা কার্যালয়। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, অমিত শাহ ভারতীয় জনতা পার্টির সর্বভারতীয় সভাপতি হওয়ার পরপরই ভারতবর্ষের প্রত্যেকটি জেলায় ভারতীয় জনতা পার্টির জেলা কার্যালয় নির্মাণের কর্মসূচি গ্রহণ করে বিজেপি কেন্দ্রীয় কমিটি। আর যে পরিকল্পনা মোতাবেক দেশের বিভিন্ন জেলাতে গড়ে উঠছে গেরুয়া শিবিরের জেলা কার্যালয়।

সূত্রের খবর, রবিবার পূর্ব মেদিনীপুরে বিজেপির জেলা কার্যালয়ের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন রাজ্য বিজেপি সভাপতি দিলীপ ঘোষ। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গে পরপর দুবার তৃণমূল সরকার প্রতিষ্ঠিত হওয়া সত্ত্বেও এখনও পর্যন্ত পূর্ব মেদিনীপুর জেলা তৃণমূলের কোনো নিজস্ব কার্যালয় নেই। দলের যাবতীয় জেলা সভা-সমিতির কাজ জেলা পরিষদ ভবনের অদূরে অবস্থিত তৃণমূল শিক্ষা সেলের ভবনে হয়ে থাকে‌।

তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিজেপির মত সাংগঠনিক দলের পক্ষে জেলা কার্যালয় গঠন করে কাজ করাটা অত্যন্ত স্বাভাবিক ব্যাপার। আর বর্তমান ভারতবর্ষে যেভাবে সর্ববৃহৎ রাজনৈতিক দল হিসেবে নিজেদের আত্মপ্রকাশ করেছে বিজেপি, তাতে করে জেলায় জেলায় তাদের পার্টি অফিস গঠনের সিদ্ধান্ত যদি কেন্দ্রীয় কমিটি নিয়ে থাকে, তাহলে তাদের পক্ষে তা খুব একটা বেশি অসুবিধার নয় বলেই মনে করছে রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা।

এই প্রসঙ্গে পূর্ব মেদিনীপুর জেলা তৃণমূলের সভাপতি শিশির অধিকারী সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, “ওরা (বিজেপি) ব্যবসায়ীক দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে চলে। তাই ওদের এসব তৈরিতে, জেলা রাজনীতিতে কোনো রকম প্রভাব পড়বে না।” তবে লোকসভা নির্বাচনে রাজ্যজুড়ে যেভাবে বিজেপির উত্থান ঘটেছে এবং সাংগঠনিক প্রেক্ষাপটে গেরুয়া শিবির যেভাবে ধীরে ধীরে এগিয়ে যাচ্ছে, তাতে করে তারা যদি জনসংযোগ রক্ষায় সক্ষম হয়, তাহলে শাসক দলের পক্ষে তা যথেষ্ট চিন্তার বিষয় হবে বলেই মত ওয়াকিবহাল মহলের।

আপনার মতামত জানান -
Top
error: Content is protected !!