এখন পড়ছেন
হোম > রাজ্য > কলকাতা > বিজেপির আমলে সংবিধান বিপন্ন! গণতন্ত্র বাঁচাতে সব করবেন, সোশ্যাল মিডিয়ায় অঙ্গীকার মমতার

বিজেপির আমলে সংবিধান বিপন্ন! গণতন্ত্র বাঁচাতে সব করবেন, সোশ্যাল মিডিয়ায় অঙ্গীকার মমতার

পূর্বে একাধিকবার কেন্দ্রের নরেন্দ্র মোদি ওয়ান সরকারের সময় থেকেই দেশের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার অবনতির জন্য বিজেপিকে দায়ী করে এসেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আর এবার দেশের সুপার এমার্জেন্সি চলছে এবং এর বিরুদ্ধে যতদূর সম্ভব ততদূর লড়ার দাবি জানালেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী। রবিবার আন্তর্জাতিক গণতন্ত্র দিবস উপলক্ষে সোশ্যাল মিডিয়ায় রাজ্যবাসীর উদ্দেশ্যে দেওয়া নিজের বার্তায় নাম না করে কেন্দ্রকে খোঁচা দিলেন তৃণমূল নেত্রী।

বর্তমানে কেন্দ্রে বিজেপি শাসনাধীন যে এনডিএ সরকার চলছে, সেই সরকারের আমলে দেশের সংবিধান বিপন্ন, পাশাপাশি আশঙ্কায় রয়েছে গোটা দেশ। যারা স্বাধীনতা ও গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষার জন্য লড়াই করছেন তাদেরকে বারবার কেন্দ্রীয় সরকারের রোষের ভাজন হতে হচ্ছে। কিন্তু নিজের লড়াইয়ের জায়গা থেকে যে একচুলও নড়বেন না মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, তা তিনি এদিন কার্যত স্পষ্ট করে দিয়েছেন। এই মুহূর্তে অসম এনআরসি নিয়ে সরগরম।

জাতীয় নাগরিক পঞ্জিকরণের বিরুদ্ধে ইতিপূর্বে বহুবার জেহাদ ঘোষণা করে এসেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আর এদিন তার সেই পুরনো এনআরসি বিরোধিতায় একমত শান দিলেন তৃনমূল সুপ্রিমো। এনআরসিকে যে তিনি কোনোভাবেই মেনে নেবেন না এবং পশ্চিমবঙ্গে এনআরসি শুরু হলে তিনি যে সব রকম ভাবে তাকে প্রতিহত করার চেষ্টা করবেন, সেই বার্তা এদিন আরও স্পষ্ট করলেন মুখ্যমন্ত্রী।

প্রিয় বন্ধু মিডিয়ার খবর আরও সহজে হাতের মুঠোয় পেতে যোগ দিন আমাদের যে কোনও এক্সক্লুসিভ সোশ্যাল মিডিয়া গ্রূপে। ক্লিক করুন এখানে – টেলিগ্রাম, হোয়াটস্যাপ, ফেসবুক গ্রূপ, ট্যুইটার, ইউটিউবফেসবুক পেজ

প্রিয় বন্ধু মিডিয়ায় প্রকাশিত খবরের নোটিফিকেশন আপনার মোবাইল বা কম্পিউটারের ব্রাউসারে সাথে সাথে পেতে, উপরের পপ-আপে অথবা নীচের বেল আইকনে ক্লিক করে ‘Allow‘ করুন।


আপনার মতামত জানান -

পাশাপাশি কেন্দ্রীয় সরকারের সংস্থাগুলিকে ব্যবহার করে বিরোধীদের রাজনৈতিক আন্দোলনকে দাবিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছে মোদি সরকার। প্রথম দফায় ক্ষমতায় আসার পর থেকেই বিভিন্ন কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাকে কাজে লাগিয়ে বিরোধী দলগুলিকে বারবার হেনস্থা করেছেন বলেও অভিযোগ করেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী। অবিজেপি রাজ্যগুলিতে বারবার রাজনৈতিক লড়াইয়ে কার্যত অপারগ হয়ে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাগুলোকে ব্যবহার করেছে কেন্দ্রের সরকার।

আর এর মধ্যেই দ্বিতীয়বার ক্ষমতায় বসার পরে আসামের পাশাপাশি বাংলাতেও নাগরিকপঞ্জি চালু করতে চায় ভারতীয় জনতা পার্টি। বাংলায় বসবাসকারী বহু পূর্ববঙ্গের মানুষ রয়েছেন। যারা বিভিন্ন সময়ে ভারতের প্রতি আস্থা রেখে পশ্চিমবাংলার শরণাপন্ন হয়েছেন। এনআরসি চালু হলেও কার্যত ভারতের নাগরিকত্ব রাখার ক্ষেত্রে তাদের যে প্রবল অসুবিধার সম্মুখীন হতে হবে, অসমের নাগরিকপঞ্জি থেকেই তা স্পষ্ট। ইতিমধ্যেই অসমে 17 লক্ষেরও বেশি মানুষ তাদের নাগরিক অধিকার হারিয়েছেন। যার ফলে প্রশান্তি এবং বিক্ষোভের চেহারা নিয়েছে অসমের রাজনীতি। সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের সঙ্গে সঙ্গে সংখ্যাগুরু সম্প্রদায়ও সেখানে চোখে পড়ার মত।

কিন্তু পশ্চিমবঙ্গে এনআরসি চালু হলে 17 লক্ষ সংখ্যাটা যে 2 কোটির কাছাকাছি পৌঁছে যাবে, এই বিষয়ে একাধিকবার মন্তব্য করেছেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ থেকে শুরু করে হুগলির সাংসদ লকেট চট্টোপাধ্যায় প্রমুখ। গত লোকসভা নির্বাচনে বাংলায় নির্বাচনী প্রচারে এসে বর্তমান ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ একাধিকবার পশ্চিমবাংলা এনআরসির দাবি করেছেন। তাছাড়াও বিজেপির ছাত্র যুব সংগঠনের তরফ থেকে বিভিন্ন বার জেলাস্তরে জেলাশাসকের অফিসের সামনে পশ্চিমবঙ্গে এনআরসি চাই বলে আন্দোলনও করতে দেখা গেছে।

সম্প্রতি রাজ্য বিজেপি সভাপতি দিলীপ ঘোষ মন্তব্য করেছেন, রাজ্যে অনুপ্রবেশকারীদের সংখ্যা প্রায় 2 কোটি। তাদের চিহ্নিত করতে এনআরসি চালু করতে হবে। আর এই বিতর্কের মধ্যেই গত সপ্তাহে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এনআরসির বিরোধিতায় কলকাতার রাজপথে পদযাত্রা করেন। এই পদযাত্রায় মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে তার মন্ত্রিপরিষদের অনেক সদস্য এবং দলীয় সদস্যদের উপস্থিতিও চোখে পড়ার মত ছিল।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতে, দেশের সংবিধান আক্রান্ত হচ্ছে। ধর্মীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে দেশকে ভাগ করার চক্রান্ত করছে বিজেপি। তার স্পষ্ট হুঁশিয়ারি, তিনি বেঁচে থাকতে আর কোনভাবেই বঙ্গভঙ্গ হতে দেবেন না। তার কথা মোতাবেক, এনআরসির মাধ্যমে মূল ভাবনার নষ্ট হচ্ছে সংবিধানের। উপেক্ষিত হচ্ছে ধর্মনিরপেক্ষতা।

গত লোকসভা নির্বাচনে পশ্চিমবঙ্গের ভালো ফল করেছে বিজেপি। আর বিজেপির নির্বাচনী ইশতেহারে বহুবার জাতীয় নাগরিকপঞ্জীর কথা বলা হয়েছিল। আর এই ইশতেহার প্রকাশ করার পরই বাংলায় 2 থেকে বেড়ে 18 হয়েছে বিজেপি। তাই স্বাভাবিকভাবেই বিজেপির মন থেকে এনআরসি উৎকণ্ঠা দূর হয়েছে। আরও তীব্রভাবে এবার তারা এনআরসি চালু করার স্বপক্ষে যে আন্দোলন চালাবে, এই বিষয়ে কোনো দ্বিমত নেই রাজনৈতিক মহলের মনে।

কিন্তু এনআরসিকে কেন্দ্র করে রাজ্যে যে বিজেপি বনাম তৃণমূল রাজনৈতিক সংঘর্ষ আরও বৃদ্ধি পাবে, সেই বিষয়েও একমত প্রায় সকল বিশেষজ্ঞরা। জরূরী অবস্থার সময় যেভাবে দেশের মৌলিক অধিকারগুলোকে খর্ব করে দেওয়া হয়েছিল, মোদি সরকারের বর্তমান নীতিকে সেই এমার্জেন্সিরই প্রতিচ্ছবি বলে কটাক্ষ করেছেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী। ধর্মের নামে গণপিটুনি থেকে শুরু করে এনআরসি সবই যে সংবিধানকে উপেক্ষা করে চলছে, এই বিষয়ে জোরালো আওয়াজ তোলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আন্তর্জাতিক গণতন্ত্র দিবসের প্রেক্ষাপটে নিজের সেই জেহাদির সুর আরও চড়ালেন তৃনমূল নেত্রী বলে মত বিশেষজ্ঞদের।

আপনার মতামত জানান -
Top
error: Content is protected !!