এখন পড়ছেন
হোম > রাজ্য > কলকাতা > ফের বিজেপির মিডিয়া ও আইটি সেলের কর্মকান্ড নিয়ে উঠলো প্রশ্ন,সমালোচনার ঝড়ে ক্ষোভ বাড়ছে নেতা কর্মীদের

ফের বিজেপির মিডিয়া ও আইটি সেলের কর্মকান্ড নিয়ে উঠলো প্রশ্ন,সমালোচনার ঝড়ে ক্ষোভ বাড়ছে নেতা কর্মীদের

পঞ্চায়েত নির্বাচনের পরেই ইঙ্গিত পাওয়া গিয়েছিল, আর লোকসভা নির্বাচনের পরে বিজেপির বিধায়ক সংখ্যা ১৩ বা সাংসদ সংখ্যা ১৮ হওয়ার পর তো তা জলের মত স্পষ্ট – যে রাজ্যের প্রধান দুই যুযুধান প্রতিপক্ষ বর্তমানে তৃণমূল ও বিজেপি। ফলে, সামান্যতম কোনো ত্রুটি-বিচ্যুতি থাকলেই, একে অপরকে বিদ্ধ করতে ছাড়ছে না দু’দলই। আর সেই আক্রমণের ঢেউ – সোশ্যাল মিডিয়া থেকে শুরু করে, সরাসরি সাংবাদিক বৈঠক কিংবা প্রকাশ্য সভামঞ্চেও প্রতিনিয়ত দেখা যাচ্ছে।

বিজেপির তরফ থেকে বার বার দাবি করা হয়েছে যে তাদের মিডিয়া ও আইটি সেল বরাবরই শাক্তশালী। রাজ্যের শাসকদল তৃণমূলকে টেক্কা দেওয়ার প্রশ্নই ওঠে না। তৃণমূল বিজেপির মিডিয়া ও আইটি সেলের ধারেকাছে আসতে পারবে না। শুধু তাই নয় যারা এর দ্বায়ীত্বে আছেন তাঁরাও যোগ্য ব্যাক্তিত্ব।

কিন্তু পর পর কয়েকবারই এর অন্যথা চোখে পড়েছে। বিজেপির মিডিয়া ও আইটি সেলের দারিদ্রতা চোখে পড়েছে। গতকাল ছিল বিশ্বকর্মা পূজা। আর সেখানে রাজ্যবাসীকে বিশ্বকর্মা পুজোর শুভেচ্ছা জানাতে গিয়ে রাজ্য বিজেপি ফেসবুক পেজে একটি পোস্ট করা হয়। সেই পর্যন্ত সব ঠিক ছিল কিন্তু গোলবাধে ছবি ঘিরে। বিশ্বকর্মার জায়গায় পোস্ট করা হয় প্রজাপতি ব্রহ্মার ছবি। আর তার পরেই সোশ্যাল মিডিয়ায় সমালোচনার ঝড় ওঠে। শাসকদলের তরফ থেকে সোশ্যাল মিডিয়ায় একের পর এক তির্যক মন্তব্য করে পোস্ট শুরু হয়।

পশ্চিমবঙ্গ বিজেপির অফিসিয়াল পেজে ১৪ লাখ ৩২ হাজারেরও বেশি লাইক রয়েছে। বিশ্বকর্মার বদলে ব্রহ্মার ছবি দেখে অনেকেই ক্ষোভ উগরে দেন। তৃণমূল কর্মী সমর্থকরা ঝাঁপিয়ে পরে একের পর এক মন্তব্য ও পোস্ট করতে শুরু করেন সোশ্যাল মিডিয়ায়। শুধু তৃণমূলই নয়, বিজেপি কর্মী সমর্থকরাও অভিযোগ তোলেন। অনেকের অভিযোগের তীর গিয়ে পরে বিজেপির মিডিয়া ও আইটি সেলের দ্বায়িত্ত্বপ্রাপ্ত নেতাদের উপর। তারা মন্তব্য করেন এই ভুল বিজেপির থেকে আশা করা যায় না। দ্বায়িত্বপ্রাপ্ত নেতারা কি করছিলেন ? আবার অনেকে বলতে থাকেন, এরা নাকি ধার্মিক পার্টি!

ফেসবুকের কিছু টেকনিক্যাল প্রবলেমের জন্য সব আপডেট আপনাদের কাছে সবসময় পৌঁচ্ছাছে না। তাই আমাদের সমস্ত খবরের নিয়মিত আপডেট পেতে যোগদিন আমাদের হোয়াটস্যাপ বা টেলিগ্রাম গ্রূপে।

১. আমাদের Telegram গ্রূপ – ক্লিক করুন
২. আমাদের WhatsApp গ্রূপ – ক্লিক করুন
৩. আমাদের Facebook গ্রূপ – ক্লিক করুন
৪. আমাদের Twitter গ্রূপ – ক্লিক করুন
৫. আমাদের YouTube চ্যানেল – ক্লিক করুন

প্রিয় বন্ধু মিডিয়ায় প্রকাশিত খবরের নোটিফিকেশন আপনার মোবাইল বা কম্পিউটারের ব্রাউসারে সাথে সাথে পেতে, উপরের পপ-আপে অথবা নীচের বেল আইকনে ক্লিক করে ‘Allow‘ করুন।


আপনার মতামত জানান -

খবর পৌঁছায় বিজেপিতে আর তার পরেই নড়েচড়ে বসেন মিডিয়া ও আইটি সেলের দ্বায়িত্ত্বপ্রাপ্ত নেতারা। যার পরে ব্রহ্মা সরে গিয়ে নির্দিষ্ট স্থানে জায়গা পান বিশ্বকর্মা। কিন্তু পরে দেখা যায় অনেক কমেন্ট উড়ে গেছে। আর সেখানেও অভিযোগ উঠেছে যে বিজেপির তরফ থেকে মন্তব্য ডিলিট করে দেওয়া হয়েছে যেহেতু তাদের বিরুদ্ধে কথা বলা হয়েছে। এই নিয়ে যদিও এখনো পর্যন্ত মুখ খোলেনি বিজেপির মিডিয়া ও আইটি সেলের দ্বায়িত্ত্বপ্রাপ্ত নেতারা।

রাজ্য বিজেপির ফেসবুক পেজটি খুবই জনপ্রিয় হওয়ায় সংশোধন হওয়ার আগে পর্যন্ত ওই পোস্টটিতে ৩৪৩ টি শেয়ার, ৩৯০০ টি লাইক এবং ৭০ টি কমেন্ট পড়ে গিয়েছে। বিজেপির বিভিন্ন কর্মসূচি এবং সাংবাদিক বৈঠক লাইভ সম্প্রচার করা হয় আর তাই রাজ্যের বিজেপি সমর্থকরা প্রতিনিয়ত এই পেজে খেয়াল রাখেন। শুধু তাই নয় বিজেপির কর্ম কান্ড এই পেজ থেকেই জানতে পারে বাংলার মানুষ। ফলে নেতা কর্মীরা এই নিয়ে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন। তাদের অভিযোগ নিজেদেরকে বড় বড় নেতা বলে দাবি করা মিডিয়া ও আইটি সেলের দ্বায়িত্ত্বপ্রাপ্ত নেতারা করছেন কি? তাদের কাজের দায় এবার আমাদের নিতে হবে। তৃণমূলের কটাক্ষের শিকার হতে হবে। তাছাড়া সাধারণ মানুষের মনে এই নিয়ে কি প্রভাব পড়বে। এই পেজগুলি তো সারা বাংলার বিজেপির ভাবমূর্তিকে তুলে ধরছে। একবার ,ভুল হয় দুবার ভুল হয় বার বার কি করে ভুল হয়?

 

শুধু কর্মী সমর্থকরাই নয়। মিডিয়া ও আইটি সেলের দ্বায়িত্ত্বপ্রাপ্ত নেতাদের বিরুদ্ধে চাপা ক্ষোভ রয়েছে অনেক বড় বড় নেতাদের। নামপ্রকাশ করা হবে না এই শর্তে কিছু নেতারা বলেন, আসলে মিডিয়া ও আইটি সেলে কি হচ্ছে তার দিকে নজর না দিয়ে মিডিয়া ও আইটি সেলের দ্বায়িত্ত্বপ্রাপ্ত নেতাদের নজর নিজেদেরকে বড় বড় নেতা হিসাবে দাবি করা। কোন সংবাদমাধ্যম বিজেপির বিরুদ্ধে কি লিখছে তাতে সেই খবরের সত্যতা থাকলেও তাদের ফোন করে ধমকানো চমকানো। সংবাদমাধ্যমকে বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দেওয়া এই সব কিছুতে ব্যাস্ত হয়ে আছেন। মিডিয়া ও আইটি সেলে কি হচ্ছে দেখার সময় কোথায় তাদের। এটা শুধু আমার কথা নয়, বিজেপির সদর দপ্তরে কান পাতুন এমন অভিযোগ অনেক পাবেন। বয়সে বড় হলেও যোগ্য সম্মানটাও পাই না। ক জন নাম জানে তার নেই ঠিক তারা আবার নিজেদের রাজ্য সভাপতির সমকক্ষভাবে এক একজন নিজেদেরকে।

স্বাভাবিকভাবেই, এর ফলে বিজেপির আইটি বা মিডিয়া সেলের কার্যকর্তাদের ‘কর্মপদ্ধতি’ ও ‘কর্মদক্ষতা’ নিয়ে বড়সড় প্রশ্নচিহ্ন উঠে গেল! যদিও এই ধরনের ঘটনা প্রথম নয়! এর আগেও বিজেপির মিডিয়া ও আইটি সেলের কাজের ‘বহরে’ বড়সড় অস্বস্তিতে পড়তে হয়েছিল গেরুয়া শিবিরকে! কদিন আগেই ‘দিলীপ ঘোষ বিজেপি’ নামক একটি পেজ থেকে ‘সেবা শপথ’ দিয়ে একটি পোস্ট শেয়ার করা হয়। সেই পোস্টে দিলীপবাবুর তরফে দাবি করা হয়, যে তিনি মেদিনীপুর জেলার নারায়ণগড়ের বেলদা গ্রামীণ হাসপাতালে গিয়ে রুগীদের সঙ্গে দেখা করেন ও তাঁদের হাতে ফল ও মিষ্টির প্যাকেট তুলে দেন। কিন্তু ইংরেজিতে লেখা হাসপাতাল শব্দটি হয়ে গেছে ‘Hispital’! তাছাড়া বিজেপির রাজ্য সদর দপ্তরে অফিসিয়াল ফেসবুক লাইভ করার সময়, কিছুক্ষণের জন্য নেতা মন্ত্রীদের মুখের উপর বিড়ালের ছবি দেখতে পাওয়া যায়! সাধারণত যা লোকে মজা করার জন্য করে থাকে! কিন্তু রাজ্য বিজেপির সাংবাদিক বৈঠক তো আর মজা করার জায়গা নয়! তাই রাজ্যে বিজেপির উত্থান হলেও, বিজেপির আইটি ও মিডিয়া সেল নিয়ে বড়সড় প্রশ্নচিহ্ন এখন গেরুয়া সমর্থকদের মনেই! যদিও এখনো পর্যন্ত এই নিয়ে বিজেপির তরফ থেকে সরকারিভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। সংশোধিত পোস্টে কোথাও ক্ষমা প্রার্থনাও করা হয়নি রাজ্যবাসীর উদ্দেশ্যে।

আপনার মতামত জানান -
Top
error: Content is protected !!