এখন পড়ছেন
হোম > রাজ্য > কলকাতা > পুলিশ আর রাজ্য সরকারকে তীব্র ভর্ৎসনা প্রধান বিচারপতির, তবুও রথযাত্রা নিয়ে ব্যাকফুটে বিজেপি – জানুন বিস্তারিত

পুলিশ আর রাজ্য সরকারকে তীব্র ভর্ৎসনা প্রধান বিচারপতির, তবুও রথযাত্রা নিয়ে ব্যাকফুটে বিজেপি – জানুন বিস্তারিত

গতকাল দীর্ঘ টালবাহানার পর কলকাতা হাইকোর্টে বিচারপতি তপোব্রত চক্রোবর্তীর সিঙ্গল বেঞ্চ রায় দেয় যে বিজেপির প্রস্তাবিত রথযাত্রা হতে পারে শর্তসাপেক্ষে। কিন্তু, সেই রায়দানের সাথেসাথেই কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় রাজ্য সরকার।

সেখানে শুনানির শুরুতেই রাজ্য সরকারের পক্ষে বলতে ওঠেন রাজ্যের অ্যাডভোকেট জেনারেল কিশোর দত্ত। অন্যদিকে রাজ্য পুলিশের হয়ে হাজির হন আইনজীবী অভিষেক মনু সিঙ্ঘভি। যা দেখে প্রশ্ন তোলেন প্রধান বিচারপতি দেবাশিস করগুপ্ত। তিনি স্পষ্ট জানতে চান, পুলিশের হয়ে কেন বলবেন আলাদা আইনজীবী? পুলিশ রাজ্য সরকারের থেকে কি আলাদা?

রীতিমত ক্ষুব্ধ হয়ে প্রধান বিচারপতি বলেন, রাজ্য সরকার এখানে আছে, পুলিশের সব আধিকারিকরা আছেন। তারপরও আলাদাভাবে কীসের আইনজীবী প্রয়োজন? এটা ডেসপারেট অ্যাটেমপ্ট। এটা কি গ্রহণযোগ্য? আগে এটা প্রমান করুন। প্রধান বিচারপতির রুদ্রমূর্তি দেখে তখন আদালতে পিন পড়লেও শব্দ শোনা যাবে।

এরপরেই রাজ্যের অ্যাডভোকেট জেনারেল ও অভিষেক মনু সিঙ্ঘভি নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে জানান, রাজ্যের এই পুলিশ কর্তরাই আইন শৃঙ্খলা দেখেন। ওঁদের আইনজীবী শুধু আমাকে সমর্থন করবেন, অতিরিক্ত হলফনামা দেবেন। তাতেও প্রধান বিচারপতি প্রশ্ন তোলেন, অ্যাডভোকেট জেনারেলের উপর আর কারোর বলার কি আছে?

ফেসবুকের কিছু টেকনিক্যাল প্রবলেমের জন্য সব আপডেট আপনাদের কাছে সবসময় পৌঁচ্ছাছে না। তাই আমাদের সমস্ত খবরের নিয়মিত আপডেট পেতে যোগদিন আমাদের হোয়াটস্যাপ বা টেলিগ্রাম গ্রূপে।

১. আমাদের Telegram গ্রূপ – ক্লিক করুন
২. আমাদের WhatsApp গ্রূপ – ক্লিক করুন
৩. আমাদের Facebook গ্রূপ – ক্লিক করুন
৪. আমাদের Twitter গ্রূপ – ক্লিক করুন
৫. আমাদের YouTube চ্যানেল – ক্লিক করুন

প্রিয় বন্ধু মিডিয়ায় প্রকাশিত খবরের নোটিফিকেশন আপনার মোবাইল বা কম্পিউটারের ব্রাউসারে সাথে সাথে পেতে, উপরের পপ-আপে অথবা নীচের বেল আইকনে ক্লিক করে ‘Allow‘ করুন।


আপনার মতামত জানান -

কিন্তু, রাজ্য সরকার ও পুলিশ কোনোক্রমে প্রধান বিচারপতিকে অভিষেক মনু সিঙ্ঘভিকেও সওয়াল করতে দিতে রাজি করান। এরপর, রাজ্য সরকার ও পুলিশ মূলত আবার গোয়েন্দা রিপোর্টের কথা তুলে পুনরায় বিজেপির রথযাত্রা নিয়ে প্রশ্ন তুলে দেন। তাঁরা স্পষ্ট জানান, বিজেপির দেওয়াল লিখনে মন্দির ও পতাকার ছবি আছে – যা সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির ব্যাঘাত ঘটাতে পারে।

এছাড়াও তাঁরা বলেন, হাইওয়ে আটকে মিছিল করা যায় না – বিজেপির এই ৩৯ দিনের কর্মসূচির সময় রাজ্যের পুলিশ কি অন্য কোন কাজ করবে না? এরপর প্রধান বিচারপতি, বিজেপির আইনজীবীকে জিজ্ঞাসা করেন, কাল কি রথ করতে প্রস্তুত আপনারা? হাইওয়ে আটকে কীভাবে মিছিলের অনুমতি দিল আদালত? কীভাবে গোয়েন্দা রিপোর্ট বাদ দিয়ে রায় দিলেন? ব্যাখ্যা করুন।

জবাবে বিজেপির আইনজীবী বলেন, আমরা তৈরি কিন্তু রাজ্য যেহেতু কোন কিছু অ্যারেঞ্জ করেনি তাই এক সপ্তাহ পিছিয়ে দিতে পারি। রাজ্য এখানে আদালতের দারস্থ হয়েও রথ আটকাতে পারেনি। আমরা দিন পরিবর্তন করে দিতে চাইছি। রাজ্য সরকার রথ যাত্রায় না বলার কে? কোর্ট কমিটি ঠিক করেছে তার পরিপ্রেক্ষিতেই রথযাত্রা হচ্ছে।

এরপরেই প্রধান বিচারপতি দেবাশিস করগুপ্ত বলেন, সব রিপোর্ট খতিয়ে না দেখে কী করে রায় দান হল? এবার সব গোয়েন্দা রিপোর্ট খতিয়ে দেখতে হবে – স্পষ্ট নির্দেশ দেন। আর তারপরেই তিনি এই মামলা ফের বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তীর সিঙ্গল বেঞ্চে ফেরত পাঠানোর নির্দেশ দেন। ফলে, সবমিলিয়ে আপাতত ফের বিশ বাঁও জলে বিজেপির রথযাত্রা।

আপনার মতামত জানান -
Top
error: Content is protected !!