এখন পড়ছেন
হোম > রাজ্য > মালদা-মুর্শিদাবাদ-বীরভূম > হায়দ্রাবাদের ছায়া মালদার আমবাগানে – তরুনীর অর্ধদগ্ধ দেহ নিয়ে ঝড় তুলে দিল বিজেপি

হায়দ্রাবাদের ছায়া মালদার আমবাগানে – তরুনীর অর্ধদগ্ধ দেহ নিয়ে ঝড় তুলে দিল বিজেপি

সম্প্রতি হায়দ্রাবাদের নৃশংস ঘটনা আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল গোটা দেশজুড়ে। দোষীদের গ্রেপ্তারের দাবিতে সরব হয়েছিল প্রত্যেকেই। তবে দেশে যখন এই নৃশংস ঘটনা ঘটেছে, তখন বাংলার শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে শাসনব্যবস্থার প্রতি অনাস্থা জানিয়ে তীব্র শোরগোল তোলা হয়েছিল। আর সেই তৃণমূল কংগ্রেসের দখলে থাকা বাংলাতেই এক নৃশংস ঘটনা সামনে আসায় তৃণমূলকে চাপে ফেলে দিল ভারতীয় জনতা পার্টি।

জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার মালদহের ইংলিশবাজার থানার কোতোয়ালি অঞ্চলের ধানতলা এলাকায় একটি আমবাগানে অজ্ঞাতপরিচয় মহিলার অর্ধদগ্ধ দেহ উদ্ধার করা হয়। আর এই ঘটনার পরেই হায়দ্রাবাদ কান্ডের সাথে সাথে রাজ্যে ঘটা এই ঘটনার প্রবল সমালোচনায় মুখর হন বিদ্বজ্জনেরা। আর এবার রাজ্যের বুকে ঘটে যাওয়া এমন নৃশংস ঘটনায় প্রতিবাদ জানাতে মালদহ জেলা প্রশাসনকে চাপে ফেলে দিলেন বিজেপি মহিলা মোর্চা রাজ্যসভা নেত্রী তথা সাংসদ লকেট চট্টোপাধ্যায়।

জানা যায়, এদিন প্রথমে মালদহে এসে জেলা বিজেপি এবং মহিলা মোর্চা নেতৃত্বের সঙ্গে এক দফা বৈঠক করেন এই হেভিওয়েট বিজেপি সাংসদ। আর তার পরেই তিনি ধানতলায় যে এলাকায় এই ঘটনাটা ঘটেছিল, সেখানে চলে যান। পরে স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলার পর চলে যান মালদহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে। সম্প্রতি মালদহের হরিশ্চন্দ্রপুরের এক সাড়ে তিন বছরের নাবালিকার ওপর যৌন নির্যাতনের ঘটনায় মেডিকেলে সুপারের কাছে গিয়ে উপযুক্ত চিকিৎসার দাবি জানায় বিজেপি নেতৃত্ব।

প্রিয় বন্ধু মিডিয়ার খবর আরও সহজে হাতের মুঠোয় পেতে যোগ দিন আমাদের যে কোনও এক্সক্লুসিভ সোশ্যাল মিডিয়া গ্রূপে। ক্লিক করুন এখানে – টেলিগ্রাম, হোয়াটস্যাপ, ফেসবুক গ্রূপ, ট্যুইটার, ইউটিউবফেসবুক পেজ

প্রিয় বন্ধু মিডিয়ায় প্রকাশিত খবরের নোটিফিকেশন আপনার মোবাইল বা কম্পিউটারের ব্রাউসারে সাথে সাথে পেতে, উপরের পপ-আপে অথবা নীচের বেল আইকনে ক্লিক করে ‘Allow‘ করুন।


আপনার মতামত জানান -

আর এরপরই ধানতলার ঘটনায় বিচার চাইতে মালদহ জেলা পুলিশের সদর কার্যালয়ে ঢুকে পড়েন বিজেপি নেত্রী লকেট চট্টোপাধ্যায় এবং বিজেপির কর্মী-সমর্থকেরা। অভিযোগ, পুলিশ সুপারের দপ্তরে ঢুকে পুলিশ সুপারকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করেন বিজেপির নেতা কর্মীরা। ক্রমেই পরিস্থিতি ঘোরালো হয়ে ওঠে। আর এরপরই রাজ্যের পুলিশ প্রশাসন এবং পুলিশ মন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে কাঠগড়ায় দাঁড় করান লকেট চট্টোপাধ্যায়।

তিনি বলেন, “পুলিশ ধানতলা কাণ্ড ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে। মুখ্যমন্ত্রী হায়দ্রাবাদের এনকাউন্টারে সমালোচনা করছেন। তা শুনে রাজ্যের মহিলারা আতঙ্কিত। রাজ্যে মহিলারা নিরাপদ নয়, বিজেপি মালদহের ঘটনা নিয়ে রাজ্যজুড়ে আন্দোলন করবে।” অন্যদিকে মালদহ জেলা তৃণমূলের সভানেত্রী মহিলা কমিশনের চেয়ারপার্সন হওয়ায় তার জেলা এই ঘটনা ঘটে যাওয়ায় তাকেও কড়া ভাষায় আক্রমণ করেন লকেট চট্টোপাধ্যায়।

তিনি বলেন, “রাজ্য মহিলা কমিশনের ভাইস চেয়ারপার্সন একবারও হাসপাতালে ধর্ষিতা শিশুকে দেখতে যাননি। ধানতলাতেও যাননি। তিনি ভুলে গিয়েছেন, তৃণমূলের জেলা সভানেত্রী হলেও তিনি একজন নারী।” সত্যিই তো তাই! তার জেলায় এহেন ঘটনা ঘটা সত্ত্বেও কেন তিনি একবারটিও নির্যাতিতাকে দেখতে গেলেন না! এদিন এই প্রসঙ্গে মৌসম বেনজির নূর বলেন, “কিছু কাজে কলকাতায় রয়েছি। মালদায় ফিরে সবখানেই যাব। বিজেপি শাসিত উত্তরপ্রদেশে প্রতিদিন মেয়েদের সুরক্ষা ভূলুণ্ঠিত হচ্ছে।”

তাঁর মতে, “তা থেকে চোখ সরাতেই মালদহের ঘটনা নিয়ে বিজেপি আন্দোলন করছে। পুলিশের ওপর আমাদের আস্থা আছে দোষীরা ধরা পড়বেই।” তবে জেলা তৃণমূলের সভানেত্রী যে কথাই বলুন না কেন, হায়দ্রাবাদের ঘটনার পর পশ্চিমবঙ্গের মালদায় যে ঘটনা ঘটল, তা যে অত্যন্ত মর্মস্পর্শী ঘটনা, তা বলাই বাহুল্য। তবে এই ঘটনাকে নিয়ে রাজনীতি হোক, তা চান না কেউই। কিন্তু তা সত্ত্বেও যেভাবে নির্যাতিতার সুবিচার পাইয়ে দেওয়ার দাবিতে বিজেপি পথে নামল এবং তৃণমূলকে কটাক্ষ করল, তাতে শেষ পর্যন্ত ধানতলার ঘটনার বিচার কি হয়, সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছেন সকলে।

আপনার মতামত জানান -
Top
error: Content is protected !!