এখন পড়ছেন
হোম > রাজ্য > উত্তরবঙ্গ > উপনির্বাচনে ভরাডুবি হতেই তীব্র অন্তর্দ্বন্দ্ব শুরু বিজেপিতে! ছাড় নেই কেন্দ্রীয় মন্ত্রীরও!

উপনির্বাচনে ভরাডুবি হতেই তীব্র অন্তর্দ্বন্দ্ব শুরু বিজেপিতে! ছাড় নেই কেন্দ্রীয় মন্ত্রীরও!

Priyo Bandhu Media


উত্তর দিনাজপুর জেলা বরাবরই কংগ্রেসের ঘাঁটি ছিল। কিন্তু বিগত লোকসভা নির্বাচনে সেখানে বিপুল ভোটে জয়লাভ করেছিলেন বিজেপির দেবশ্রী চৌধুরী। রায়গঞ্জ লোকসভা কেন্দ্রে বিজেপির দেবশ্রীদেবী জয়লাভ করার পেছনে কালিয়াগঞ্জ বিধানসভা কেন্দ্র থেকে তার 57 হাজার ভোটে লিড পাওয়াকেই সাফল্য হিসাবে ধরেছিল ভারতীয় জনতা পার্টি। তবে লোকসভায় জিতে সাংসদ হওয়ার পাশাপাশি কেন্দ্রীয় মন্ত্রী হন এই দেবশ্রী চৌধুরী।

কিন্তু সেই লোকসভার ফলাফল বেরোনোর 6 মাস পার হতে না হতেই কালিয়াগঞ্জ বিধানসভা উপনির্বাচনে বিজেপি প্রার্থীকে হারিয়ে তৃণমূল প্রার্থীর জয়লাভ রীতিমতো অস্বস্তিতে ফেলে দিয়েছে জেলা বিজেপি নেতৃত্বকে। 6 মাস আগে রায়গঞ্জ লোকসভা কেন্দ্রে বিজেপি সাংসদ হয়ে দেবশ্রী চৌধুরী কালিয়াগঞ্জ থেকে ব্যাপক ভোট পেলেও কালিয়াগঞ্জ বিধানসভা উপনির্বাচনে বিজেপি প্রার্থী কেন হেরে গেলেন, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে দলের অন্দরেই।

ইতিমধ্যেই ফলাফল পর্যালোচনায় একে অপরের ঘাড়ে দোষারোপের বন্যা বইয়ে দিতে শুরু করেছে। সূত্রের খবর, এবার কালিয়াগঞ্জে দলের এই হার নিয়ে বিজেপি সাংসদ তথা কেন্দ্রীয় মন্ত্রী দেবশ্রী চৌধুরীকে কাঠগড়ায় দাঁড় করালেন উত্তর দিনাজপুর জেলা বিজেপির প্রাক্তন সভাপতি তথা মালদহ জেলা বিজেপির পর্যবেক্ষক শংকর চক্রবর্তী। ইতিমধ্যেই শঙ্করবাবু ফেসবুকে একাধিক পোস্ট করেছেন। যে পোস্টকে ঘিরে তীব্র চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে উত্তর দিনাজপুর জেলা বিজেপির অন্দরমহলে।

কিন্তু বিজেপির শংকর চক্রবর্তী ঠিক কি লিখেছেন সেই ফেসবুক পোস্টে? জানা গেছে, সেখানে তিনি লিখেছেন, “শেষ পর্যন্ত কালিয়াগঞ্জে হারের জন্য আসল আসামি পাওয়া গেল। আমি সেই আসামি? সৌজন্যে সেন্ট্রাল মিনিস্টার দেবশ্রী চৌধুরী।” তিনি আরও লিখেছেন, “ফোন করে জানালেন, সকালের ট্রেন বা এনআরসি নয়, নিউজপেপার রিপোর্টাররা আমার কথায় নিউজ করে। তাই হেরেছে। ধন্যবাদ দিদি। এসব ছাড়ুন। সকালের ট্রেনটা দিন। তারপরে পার্টি থেকে আমার মত লোককে তাড়িয়ে দিন।”

অর্থাৎ কালিয়াগঞ্জ বিধানসভা উপনির্বাচনে বিজেপি প্রার্থী হওয়ার পেছনে দেবশ্রীদেবী শঙ্করবাবুকে দায়ী করলেও এদিন তার পাল্টা জবাব দিয়ে দেবশ্রীদেবীকে কাঠগড়ায় তুলেছেন শংকর চক্রবর্তী বলে মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকেরা। যা নিয়ে ইতিমধ্যেই উত্তর দিনাজপুর জেলা বিজেপি নেতৃত্ব প্রবল অস্বস্তিতে পড়তে শুরু করেছে। এদিন এই প্রসঙ্গে পাল্টা সেই শংকর চক্রবর্তীকে আক্রমণ করেছেন রায়গঞ্জের বিজেপি সাংসদ তথা কেন্দ্রীয় মন্ত্রী দেবশ্রী চৌধুরী।


WhatsApp-এ প্রিয় বন্ধু মিডিয়ার খবর পেতে – ক্লিক করুন এখানে

আমাদের অন্যান্য সোশ্যাল মিডিয়া গ্রূপের লিঙ্ক – টেলিগ্রামফেসবুক গ্রূপ, ট্যুইটার, ইউটিউব, ফেসবুক পেজ

আমাদের Subscribe করতে নীচের বেল আইকনে ক্লিক করে ‘Allow‘ করুন।

এবার থেকে আমাদের খবর পড়ুন DailyHunt-এও। এই লিঙ্কে ক্লিক করুন ও ‘Follow‘ করুন।



আপনার মতামত জানান -

তিনি বলেন, “শংকর নিজে দলের জেলা সভাপতি হওয়ার জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছে। আমাকে জেলা সভাপতি হওয়ার কথা বলেছিল। তাকে বলেছি, আমি সংগঠনের বিষয়ে হস্তক্ষেপ করি না। শংকরকে আমি ধমকাতে যাব কেন! তাকে শুধু বলেছি, শঙ্কর এগুলো কি করছ!” কালিয়াগঞ্জ বিধানসভায় দলের পরাজয়ের পর দুই হেভিওয়েট নেতা নেত্রীর এই বাকবিতণ্ডা এখন জেলা বিজেপি নেতৃত্বের কপালে ঘাম ঝড়াতে শুরু করেছে।

যেখানে হারের মুখ দেখে বিজেপির সংগঠনকে শক্তিশালী করার কথা, সেখানে সংগঠনকে দাঁড় করানো তো দূর অস্ত, সেখানে দুই হেভিওয়েট নেতা নেত্রী যেভাবে নিজেদের মধ্যে দ্বন্দ্বে লিপ্ত হয়েছেন, তাতে বিজেপি কিভাবে উত্তর দিনাজপুরে ঘুরে দাঁড়াবে! তা নিয়ে তৈরি হয়েছে প্রশ্নচিহ্ন। এদিন এই প্রসঙ্গে উত্তর দিনাজপুর জেলা বিজেপির সম্পাদক বিশ্বজিৎ রায় বলেন, “শংকর চক্রবর্তী যেটা করেছেন, সেটা দলবিরোধী কাজ ছাড়া অন্য কিছু হতে পারে না।”

,তিনি আরও বলেন, “শৃংখলাবদ্ধ দলের নেতৃত্বে থেকে উনি যা করেছেন, তাতে ব্যক্তিগত কোনো স্বার্থ, উদ্দেশ্য থাকতে পারে। দলের কোনো বিষয় নিয়ে অভাব, অভিযোগ থাকলে সেটা দলের অভ্যন্তরে আলোচনার জায়গা রয়েছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় যে ধরনের মন্তব্য করেছেন, তার রিপোর্ট রাজ্য এবং কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের কাছে পাঠানো হয়েছে।” তবে কেন এই ধরনের পোস্ট করলেন উত্তর দিনাজপুর জেলা বিজেপির প্রাক্তন সভাপতি!

এদিন এই প্রসঙ্গে সেই শংকর চক্রবর্তী বলেন, “কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বুধবার আমাকে ফোন করে ধমক দিচ্ছিলেন। আমাকে কালিয়াগঞ্জের হারের জন্য দায়ী করা হয়েছে। তাই অপমান হজম করতে না পেরে এদিন ফেসবুকে আমি আমার কিছু বক্তব্য পোস্ট করেছি। কেন্দ্রীয় মন্ত্রীকে ঘিরে একটি বৃত্ত তৈরি হয়েছে। আমি যাতে সাংগঠনিক কাজ করতে না পারি, সেজন্য একটা চক্রান্ত চলছে।” বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রাখে হরি তো মারে কে। একজনকে টেক্কা দিয়ে অন্যজন আরেক বিস্ফোরক মন্তব্য করে ফেলছেন।

আর যা অজান্তেই বিজেপি নেতৃত্বের কপালে বিপদ ডেকে আনছে। ফলে এভাবেই যদি চলতে থাকে, তাহলে হার থেকে উঠে দাঁড়ানো তো দূরঅস্ত, ধীরে ধীরে সাধারন মানুষের থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে হারের দিকেই এগিয়ে যেতে হবে গেরুয়া শিবিরকে। তাই এখন নিজেদের গোষ্ঠী কোন্দলকে থামিয়ে দুই হেভিওয়েট নেতা- নেত্রী শাসকের বিরুদ্ধে বিজেপির যে লড়াই, সেই লড়াইয়ে পদক্ষেপ নেয়, নাকি নিজেদের লড়াইটাকেই অব্যাহত ভাবে চালাতে থাকে! সেদিকেই নজর থাকবে সকলের।

আপনার মতামত জানান -

Top
error: Content is protected !!