এখন পড়ছেন
হোম > রাজ্য > উত্তরবঙ্গ > তীব্র উত্থান হচ্ছে বিজেপির, পুরভোটের আগে মুখ থুবড়ে পড়বে বাম- কংগ্রেস জোট? সংশয়ে একাধিক জোটপন্থীই

তীব্র উত্থান হচ্ছে বিজেপির, পুরভোটের আগে মুখ থুবড়ে পড়বে বাম- কংগ্রেস জোট? সংশয়ে একাধিক জোটপন্থীই

 

লোকসভা নির্বাচনে বিজেপির উত্থান এবং নিজেদের ভোট বিজেপি দিকে চলে যাওয়া। এই দুই কারণে দিনকে দিন অস্তিত্ব সংকট হতে দেখা যাচ্ছে বাম এবং কংগ্রেসের। 2016 সালে শেষবার তারা জোট করে লড়াই করলেও তেমন সাফল্য পায়নি। তারপর বহুবার একসাথে লড়াইয়ের কথা হলেও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। কিন্তু 2019 এর লোকসভা নির্বাচনে ভরাডুবির পর অবশেষে রাজ্যের তিন বিধানসভা কেন্দ্রের উপনির্বাচনের আগে এখন জোটবদ্ধ হয়ে লড়াই করতে শুরু করেছে আলিমুদ্দিন স্ট্রিট এবং বিধান ভবনের নেতারা। তবে তিন বিধানসভা উপনির্বাচনে তারা জোটবদ্ধ হয়ে লড়াই করলেও আসন্ন শিলিগুড়ি পৌরসভার ভোটে তাদের এই জোট থাকবে কিনা, তা নিয়ে সংশয় তৈরি হয়েছে রাজনৈতিক মহলে।

প্রসঙ্গত, 2011 সালে শিলিগুড়িতে পালাবদল ঘটে। তবে তারপর রাজ্যের শাসক দল তৃণমূলকে রুখতে নিজেদের মধ্যে গাঁটছড়া বাঁধেন সিপিএম এবং কংগ্রেস। গত 2015 সালের পৌরসভা এবং মহকুমা পরিষদের নির্বাচনে এই দুই দলের মধ্যে সমঝোতা হয়নি ঠিকই। কিন্তু তারা ঐক্যবদ্ধভাবে তৃণমূলের বিরুদ্ধে মোকাবিলা করতে শুরু করে। যার জেরে 2016 সালের বিধানসভা নির্বাচনে শিলিগুড়িতে কিছুটা হলেও সাফল্য পায় বাম এবং কংগ্রেস।

কিন্তু রাজনীতি সব সময় এক গতিতে চলে না। আর তাইতো আসন্ন শিলিগুড়ি পৌরসভা এবং মহকুমা পরিষদের নির্বাচনে বাম এবং কংগ্রেসের এই জোট থাকবে কিনা, তা নিয়ে নানা প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। কারন নেতাকর্মীদের একাংশের দাবি, বাম এবং কংগ্রেসের এই জোট শিলিগুড়ি মডেল হলেও জয়লাভের পর সেইভাবে এলাকার উন্নয়ন করতে দেখা যায়নি। পাশাপাশি নেতাদেরও কিছু মিছিল ছাড়া সেইভাবে রাজনৈতিক কার্যকলাপের শামিল হতে দেখা যায়নি। ফলে এই ফরমুলা ভবিষ্যতে আর সম্ভব হবে না বলেই মনে করছেন একাংশ।

এদিন এই প্রসঙ্গে দার্জিলিং জেলা সিপিএমের সম্পাদক জীবেশ সরকার বলেন, “ভোটে জেতার লক্ষ নিয়ে সংগঠন শক্তিশালী করার কাজ চলছে। কৌশল কি হবে, তা পরে ঠিক করা হবে। এর জন্য অনেক সময় রয়েছে।” এই প্রসঙ্গে শিলিগুড়ি পৌরসভার কংগ্রেসের কাউন্সিলর সুজয় ঘটক বলেন, “তৃণমূলের মারের মোকাবিলা করতে কংগ্রেসের হাত ধরেছিলেন অশোক ভট্টাচার্যরা‌। কিন্তু পৌরসভা, মহাকুমা পরিষদের ভোটে আসন সমঝোতা হয়নি। সিপিএমের বিরুদ্ধে লড়াই করে জিতেছি। কাজেই শিলিগুড়ি মডেল বানানো গপ্প। তাই আগামী নির্বাচনে কি হবে, তা বলা যাবে না।”

আর সুজয়বাবুর এই কথা থেকেই রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, হয়ত নিজেদের মধ্যে বনিবনা না হওয়ার কারণেই শিলিগুড়ি পৌরসভা এবং মহকুমা পরিষদের নির্বাচনে বাম এবং কংগ্রেসের জোট ভেস্তে যেতে পারে। ইতিমধ্যেই এই ব্যাপারে নিজেদের সাংগঠনিক কাজকর্ম করে সেই পৌরসভা এবং মহকুমা পরিষদ দখল করতে তৎপর হয়েছে বিজেপি এবং তৃণমূল। এদিন এই প্রসঙ্গে শিলিগুড়ি সাংগঠনিক জেলা বিজেপির সভাপতি অভিজিৎ রায়চৌধুরী বলেন, “কংগ্রেস এবং সিপিএমের শিলিগুড়ি মডেল ফ্লপ। তাই শিলিগুড়িকে মেগা সিটি হিসেবে গড়ার ভিসন নিয়ে আমরা ভোটের ময়দানে নামব।”

অন্যদিকে এই ব্যাপারে শিলিগুড়ি মহকুমা পরিষদ এবং পৌরসভা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উন্নয়নের নিরিখেই দখল করা সম্ভব হবে বলে জানান দার্জিলিং জেলা তৃণমূলের সভাপতি রঞ্জন সরকার। তবে যে রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিরা যে কথাই বলুন না কেন, বাম এবং কংগ্রেসের জোট যদি এখানে সম্ভব না হয়, তাহলে দুই দলই কার্যত অস্তাচলে চলে যেতে পারে সেই ব্যাপারে নিশ্চিত বিশেষজ্ঞরা। এখন শেষ পর্যন্ত তাদের এই জোট আদৌ হয় কিনা এবং জোট হলে তারা কতটা ছাপ রাখতে পারে, সেদিকেই তাকিয়ে সকলে।

আপনার মতামত জানান -
Top
error: Content is protected !!