এখন পড়ছেন
হোম > রাজ্য > কলকাতা > আন্দোলনের নামে নিজের স্ত্রী-পুত্রের হেনস্থার পিছনে তৃণমূলী মন্ত্রীর হাত দেখছেন বিজেপি সাংসদ

আন্দোলনের নামে নিজের স্ত্রী-পুত্রের হেনস্থার পিছনে তৃণমূলী মন্ত্রীর হাত দেখছেন বিজেপি সাংসদ

 

সংসদের দুই কক্ষের নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল পাস হওয়ার পর, তাতে রাষ্ট্রপতি সই করে দিয়েছে। আর তার ফলে এখন সেই বিল আইনে পরিণত হয়ে গেছে। তবে এই নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর এই রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় তা নিয়ে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেছেন সাধারণ মানুষ। কোথাও ট্রেন আটকানো, আবার কোথাও বা টায়ার পুড়িয়ে রাস্তা অবরোধ করা। ইতিমধ্যেই রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে এই বিক্ষোভ চরম আকার ধারণ করেছে।

আর তারা আচ পৌঁছে গিয়েছে উত্তর 24 পরগনা জেলার বিভিন্ন এলাকায়। আমডাঙ্গা থেকে শুরু করে বসিরহাট, পণ্যবাহী ট্রাক আটকে বিক্ষোভ, আগুন লাগিয়ে অবরোধ সমস্ত কিছুরই সাক্ষী থাকতে হয়েছে পথচলতি মানুষদের। তবে শনিবার বিক্ষোভকারীদের রোষের মুখে পড়ে হেনস্থা হতে হল বনগাঁর বিজেপি সাংসদ শান্তনু ঠাকুরের স্ত্রীকে। যা নিয়ে ইতিমধ্যেই ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে উত্তর 24 পরগনা জেলায়।

প্রিয় বন্ধু মিডিয়ার খবর আরও সহজে হাতের মুঠোয় পেতে যোগ দিন আমাদের যে কোনও এক্সক্লুসিভ সোশ্যাল মিডিয়া গ্রূপে। ক্লিক করুন এখানে – টেলিগ্রামফেসবুক গ্রূপ, ট্যুইটার, ইউটিউবফেসবুক পেজ

যোগ দিন আমাদের হোয়াটস্যাপ গ্রূপে – ক্লিক করুন এখানে

প্রিয় বন্ধু মিডিয়ায় প্রকাশিত খবরের নোটিফিকেশন আপনার মোবাইল বা কম্পিউটারের ব্রাউসারে সাথে সাথে পেতে, উপরের পপ-আপে অথবা নীচের বেল আইকনে ক্লিক করে ‘Allow‘ করুন।


আপনার মতামত জানান -

ইতিমধ্যেই এই ঘটনাকে ইস্যু করে তৃণমূলের বিরুদ্ধে পরিকল্পনামাফিক তার স্ত্রীকে হেনস্থা করা হয়েছে বলে সরব হতে শুরু করেছেন বনগাঁর বিজেপি সাংসদ শান্তনু ঠাকুর। পাল্টা তৃণমূলের তরফে সেই অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে। তবে একের পর এক বিভিন্ন জায়গায় বিক্ষোভ, অগ্নিসংযোগের ঘটনায় রীতিমতো আতঙ্কিত সাধারণ মানুষ।

এদিন এই প্রসঙ্গে হাড়োয়ার বাসিন্দা সন্তোষ দত্ত, সজল দাসরা বলেন, “অফিসের কাজে বেড়িয়েছিলাম। ট্রেন বন্ধ বলে বাস ধরে আসার চেষ্টা করি। বিভিন্ন জায়গায় রাস্তা অবরোধের জেরে বারাসাতে পৌঁছাতে বিকেল হয়ে যায়। ট্রেন বন্ধ থাকায় রাতে হোটেলে ভাড়া নিয়ে থাকতে হয়েছে।” তবে এই ব্যাপারে তৃণমূলের বিরুদ্ধে সুর চড়িয়ে তাঁর স্ত্রীকে হেনস্থা করা নিয়ে সোচ্চার হয়েছেন বনগাঁর বিজেপি সাংসদ শান্তনু ঠাকুর।

এদিন তিনি বলেন, “নাগরিকত্ব আইন পাস হওয়ায় শরণার্থীদের দীর্ঘদিনের দাবি পূরণ হয়েছে। মানুষ খুশির আনন্দে মাতছেন। এই পরিস্থিতিতে পরিকল্পনামাফিক জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক জেলার সর্বত্র উস্কানি দিচ্ছেন। তার জেরেই অবরোধ এবং বিক্ষোভের ঘটনা ঘটছে। শুক্রবার সন্ধ্যায় বারাসাতের কাজীপাড়াতে ওনার পরিকল্পনাতেই আমার স্ত্রী এবং পুত্রের গাড়ি আটক করা হয়েছে। তাদের গালাগালি এবং হেনস্থা করা হয়েছে। কোনোমতে জওয়ানরা আমার স্ত্রী ও দুই ছেলেকে উদ্ধার করে নিয়ে যায়।”

তবে এই ব্যাপারে শান্তনু ঠাকুরের করা অভিযোগকে সম্পূর্ণরূপে অস্বীকার করেছেন উত্তর 24 পরগনা জেলা তৃণমূল সভাপতি তথা খাদ্যমন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক। এদিন তিনি বলেন, “সাংসদ অভিনয়ে দক্ষ। উনি নিজে নিজের মাথা ফাটিয়ে তৃণমূলের ঘাড়ে দোষ দেন। তার চরিত্র জেলাবাসী জানেন। তাঁর স্ত্রীকে কোথাও আটক করার বিষয়টি আমার জানা নেই। তাছাড়া রাস্তায় নামা প্রত্যেক আতঙ্কিত মানুষকে শান্তিপূর্ণ ও গণতান্ত্রিক পথে আন্দোলন করার অনুরোধ করা হয়েছে। ভাঙচুর বা রাস্তা অবরোধ করে সাধারণ মানুষকে সমস্যায় ফেলা যাবে না।”

তবে এই নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল ইস্যুতে বিক্ষোভের জেরে বিজেপি সাংসদ তৃণমূলের বিরুদ্ধে সোচ্চার হলেও এবং তাকে নিয়ে রাজনৈতিক উত্তাপ চড়লেও সকলেই চাইছেন শান্ত হোক গোটা বাংলা। এখন রাজনৈতিক দলগুলো একে অপরের বিরুদ্ধে বিষোদগার না করে, সাধারণ বিক্ষোভকারীদের আয়ত্তে আনতে কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করেন কিনা! সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছেন সকলে।

আপনার মতামত জানান -
Top
error: Content is protected !!