এখন পড়ছেন
হোম > রাজ্য > কলকাতা > একুশের লড়াইয়ে তৃণমূলকে হারাতে বাম-কংগ্রেসকেও বিজেপির পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান হেভিওয়েট সাংসদের

একুশের লড়াইয়ে তৃণমূলকে হারাতে বাম-কংগ্রেসকেও বিজেপির পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান হেভিওয়েট সাংসদের

রাজনৈতিক মঞ্চে দুই যুযুধান শিবির বিজেপি এবং তৃণমূল কংগ্রেস। এ রাজ্যে বিজেপি 2019 এর লোকসভা ভোটে রাজনৈতিক মঞ্চে একদম সামনের সারিতে চলে আসে। বেশ কিছুটা পেছনে পড়ে যায় রাজ্যের শাসক দল। লোকসভা ভোটে রাজ্যের শাসক দলকে কোণঠাসা করে রাজ্য বিজেপি শিবিরের আত্মবিশ্বাস অনেকটাই বেড়ে যায়। এরই মাঝে এল রাজ্যের তিনটি বিধানসভা উপনির্বাচন। যেগুলিতে জেতার ব্যাপারে 100% নিশ্চিত ছিল বিজেপি। কিন্তু ফল হলো একদমই উল্টো। রাজ্যের তিনটি বিধানসভা উপনির্বাচন কেন্দ্র করিমপুর, কালিয়াগঞ্জ ও খড়গপুর। এর মধ্যে করিমপুর ও কালিয়াগঞ্জ তৃণমূল দখল তো করলই, উপরন্তু রাজ্য বিজেপি সভাপতি দিলীপ ঘোষের নিজের জায়গা খড়গপুরও হাতছাড়া হয়ে গেল। উপ-নির্বাচনের ফল বেরোনোর পরেই রাজ্য বিজেপি অন্দরে নানান কাটাছেঁড়া শুরু হয়েছে। তারই মাঝে এবার 2021 এর বিধানসভা ভোটে তৃণমূল কে রাজ্য থেকে উচ্ছেদ করতে বাম-কংগ্রেসকেও বিজেপির পাশে দাঁড়ানোর আবেদন জানালেন বিজেপির হেভিওয়েট সাংসদ সৌমিত্র খাঁ।

ইতিমধ্যে, উপ-নির্বাচনের ফল বেরোনোর পর বিজেপির মধ্যেই দলীয় কোন্দল আর ক্ষমতা দখল নিয়ে অসন্তোষ সৃষ্টি হয়েছে। রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় বিজেপির দলীয় কোন্দলের খবর উঠে আসছে সংবাদমাধ্যমে। এ নিয়ে একের পর এক বিজেপি নেতারা বলছেন। তবে এবার 2021 এর বিধানসভা ভোটে তৃণমূল কংগ্রেসকে উৎখাত করতে একযোগে বাম এবং কংগ্রেস নেতাদের পাশে দাঁড়ানোর আবেদন জানালেন বিজেপি নেতা তথা সাংসদ সৌমিত্র খাঁ। এদিন তিনি বেছে নেন সোশ‍্যাল মাধ‍্যমকে এই কথা বলার জন্য।

ফেসবুক লাইভ এর মাধ্যমে এদিন তিনি বলেন, ‘আমাদের এখন একটাই লক্ষ্য 2021 সালে মমতার সরকারকে সরিয়ে রাজ্যে বিজেপি সরকার প্রতিষ্ঠা করা। আপনারা সভাপতি বা মন্ডল সভাপতি কে হবেন তা নিয়ে প্রতিযোগিতা না করে একটাই লক্ষ্য স্থির করুন‌। মমতার সরকারকে কিভাবে হটানো যায়। এখানেই তিনি তার বক্তব্য শেষ না করে উল্লেখযোগ্যভাবে এরপর পশ্চিমবঙ্গের সিপিএম এবং কংগ্রেস কে 2021 এর বিধানসভা ভোটে তৃণমূল কংগ্রেসকে উৎখাত করার জন্য একযোগে কাজ করার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ‘গ্রামেগঞ্জে আমার সিপিএম কংগ্রেস নেতা ভাইরা। আমি জানি, আপনারাও জানেন তৃণমূলকে আপনারা একা সরাতে পারবেন না। তাই বলছি আমাদের সঙ্গে আসুন। এক সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে এই সরকারকে 2021 এই উৎখাত করব।’

প্রিয় বন্ধু মিডিয়ার খবর আরও সহজে হাতের মুঠোয় পেতে যোগ দিন আমাদের যে কোনও এক্সক্লুসিভ সোশ্যাল মিডিয়া গ্রূপে। ক্লিক করুন এখানে – টেলিগ্রামফেসবুক গ্রূপ, ট্যুইটার, ইউটিউবফেসবুক পেজ

যোগ দিন আমাদের হোয়াটস্যাপ গ্রূপে – ক্লিক করুন এখানে

প্রিয় বন্ধু মিডিয়ায় প্রকাশিত খবরের নোটিফিকেশন আপনার মোবাইল বা কম্পিউটারের ব্রাউসারে সাথে সাথে পেতে, উপরের পপ-আপে অথবা নীচের বেল আইকনে ক্লিক করে ‘Allow‘ করুন।


আপনার মতামত জানান -

সম্প্রতি তিনটি বিধানসভা উপনির্বাচনের ফলাফল প্রকাশে দেখা যাচ্ছে, রাজ্যে বিজেপি তৃণমূলের কাছে গো হারান হেরেছে। ফলত বিজেপি শিবিরের আত্মবিশ্বাস একেবারে তলানিতে ঠেকেছে। এই মুহূর্তে মোটিভেশন স্পিচ এর ভীষণ রকম দরকার ছিল বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। আর তাই সৌমিত্র খাঁয়ের এমন বক্তব্য বেশ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা। ইতিমধ্যেই উপনির্বাচনের কারণ কি হতে পারে, তার তত্ত্বতালাশ করতে শনিবার বিজেপি রাজ্য সদর দপ্তরে বৈঠকে বসেছিলেন রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ ও অন্যান্য বিজেপি নেতৃত্বরা।

সৌমিত্র খাঁ এর মন্তব্যকে ঘিরে এখনো পর্যন্ত পশ্চিমবঙ্গের শাসক দলের তরফ থেকে কোনো প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি। রাজনৈতিক মহলের একাংশের দাবি, উপনির্বাচন হলেও বিজেপি শিবির যেভাবে আগামীদিনে 2021 এর বিধানসভা নির্বাচনকে লক্ষ্য করে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করছে, তাতে তাঁদের সংগঠন অনেক বেশী মজবুত হওয়ার পথে। অবশ্য অন্যদিকে, শাসক শিবিরও পিছিয়ে নেই‌। তাঁদের ‘দিদিকে বল’ জনসংযোগ কর্মসূচি সমানতালে চলছে। ইতিমধ্যে রাজ্য বিধানসভায় উপনির্বাচনের জয় তাঁদের এক্সট্রা অক্সিজেন প্রদান করেছে। আপাতত রাজ্যের যুযুধান দুই শিবির পরবর্তী কী পদক্ষেপ নিতে চলেছে জনগণের মন পেতে, সেদিকে লক্ষ্য রাখছেন রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা।

আপনার মতামত জানান -
Top
error: Content is protected !!