এখন পড়ছেন
হোম > রাজ্য > কলকাতা > বিজেপিতে নাম লিখিয়ে বিধানসভায় ঝড় তুলতেই ‘আইনশৃঙ্খলার’ প্রশ্নে সাসপেন্ড হেভিওয়েট বিধায়ক

বিজেপিতে নাম লিখিয়ে বিধানসভায় ঝড় তুলতেই ‘আইনশৃঙ্খলার’ প্রশ্নে সাসপেন্ড হেভিওয়েট বিধায়ক

তাদের দলীয় জনপ্রতিনিধিরা লাগাতার হামলার শিকার হওয়ায় ওয়েলে নেমে বিক্ষোভ করায় তার অশোভন আচরণের জন্য তাকে একদিনের জন্য সাসপেন্ড করেছিলেন বিধানসভার অধ্যক্ষ বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু একদিন নয়, এবার তার আচরণে অসন্তুষ্ট হয়ে রাজ্য বিধানসভার চলতি অধিবেশনের বাকি দিনগুলির জন্যও সাসপেন্ড হলেন ‘দলবদলু’ বিজেপি বিধায়ক বাগদার দুলাল বর।

সূত্রের খবর, মঙ্গলবার সরকারপক্ষের তরফে এই ব্যাপারে একটি প্রস্তাব আনা হয়। আর সেখানেই হাত তুলে সংখ্যাগরিষ্ঠ শাসক শিবির সমর্থন করায় অধ্যক্ষ বিমান বন্দ্যোপাধ্যায় অধিবেশনের প্রথমার্ধ শেষ হওয়ার আগেই দুলালবাবুকে এই শাস্তির নিদান দেন। কিন্তু তাঁদের দলের বিধায়ক দুলাল বর না হলেও বিরোধী শিবির থেকে বাম পরিষদীয় দলনেতা সুজন চক্রবর্তী এভাবে একজন বিধায়ককে শাস্তি দেওয়ার তীব্র বিরোধিতা করেন।

বস্তুত, দুলালবাবু সম্প্রতি কংগ্রেস থেকে বিজেপিতে নাম লিখিয়েছেন। কিন্তু বিধানসভার একজন সদস্য হিসেবে তাঁর অধিকার খর্ব করা হয়েছে বলে জানান বাম বিধায়ক সুজন চক্রবর্তী। অন্যদিকে নির্বাচনে যাদের টিকিটে দুলালবাবু জয়ী হয়েছিলেন, সেই কংগ্রেস পরিষদীয় তথা বিরোধী দলনেতা আব্দুল মান্নান অধ্যক্ষের নিদানের সমালোচনা না করলেও দল বদলে তৃণমূলে থাকাকালীন শাসকপক্ষ দুলালবাবুর বিরুদ্ধে কেন কোনও পদক্ষেপ করেনি, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলতে শুরু করেন।

আর যাঁকে নিয়ে এত কিছু, এদিন সেই প্রসঙ্গে দুলাল বর বলেন, “সদনে তাঁর অনুপস্থিতিতে এই অগণতান্ত্রিক সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে। এটি একজন বিধায়কের স্বাধিকারে হস্তক্ষেপের নামান্তর। এর প্রতিবাদে তিনি বুধবার থেকে বিধানসভা চত্বরেই অবস্থানে বসবেন।”

তবে এদিন দুলাল বর কাণ্ডের আগে বিজেপি পরিষদীয় দল অধিবেশনের পরিবেশ কিছুটা সরগরম করে তোলে। জানা যায়, বিজেপির তরফে তাদের আনা মুলতুবি প্রস্তাবকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়ায় বিধানসভার অলিন্দে। দলের শীর্ষস্থানীয় নেতাদের উপর হামলার ঘটনা সহ দলের কর্মী-সমর্থকদের খুন, মারধর, মিথ্যা মামলায় গ্রেপ্তারের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের নিরাপত্তাহীনতার অভিযোগকে সামনে রেখে গেরুয়া শিবির রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির প্রসঙ্গে এদিন মুলতুবি প্রস্তাব আনে।

ফেসবুকের কিছু টেকনিক্যাল প্রবলেমের জন্য সব আপডেট আপনাদের কাছে সবসময় পৌঁচ্ছাছে না। তাই আমাদের সমস্ত খবরের নিয়মিত আপডেট পেতে যোগদিন আমাদের হোয়াটস্যাপ বা টেলিগ্রাম গ্রূপে।

১. আমাদের Telegram গ্রূপ – ক্লিক করুন
২. আমাদের WhatsApp গ্রূপ – ক্লিক করুন
৩. আমাদের Facebook গ্রূপ – ক্লিক করুন
৪. আমাদের Twitter গ্রূপ – ক্লিক করুন
৫. আমাদের YouTube চ্যানেল – ক্লিক করুন

প্রিয় বন্ধু মিডিয়ায় প্রকাশিত খবরের নোটিফিকেশন আপনার মোবাইল বা কম্পিউটারের ব্রাউসারে সাথে সাথে পেতে, উপরের পপ-আপে অথবা নীচের বেল আইকনে ক্লিক করে ‘Allow‘ করুন।


আপনার মতামত জানান -

সূত্রের খবর, অধ্যক্ষ বিমান বন্দ্যোপাধ্যায় এই প্রস্তাবের সম্পাদিত অংশটুকু কেবলমাত্র পাঠ করার অনুমতি দিলে বিজেপি বিধায়ক স্বাধীন সরকার তা পাঠ করার পর আলোচনার দাবিতে সরব হন। কিন্তু স্পিকার সেই অনুমতি না দেওয়ায় বিজেপির পরিষদীয় দলনেতা মনোজ টিগ্গার নেতৃত্বে উপস্থিত পাঁচ বিজেপি বিধায়ক ওয়েলে নেমে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন।

তবে এতেও অধ্যক্ষ কোনোরূপ কর্ণপাত না করায় বিজেপি বিধায়করা রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে ধিক্কার দেওয়ার পাশাপাশি ‘জয় শ্রীরাম’, ‘ভারত মাতা কি জয়’ স্লোগান দিতে দিতে ওয়াকআউট করেন। কিন্তু বিজেপির অন্যান্য বিধায়করা ওয়াক আউট করলে এদিন বিজেপিতে যোগ দেওয়া দুলালবাবু আইনি কারণেই তাদের সঙ্গী হননি। তবে কংগ্রেস বেঞ্চে বসেই তিনি দূর থেকে তাঁদের উৎসাহ দেন। আর এর কিছুক্ষণ পর তিনি স্ব ভূমিকায় অবতীর্ণ হতে শুরু করেন ধারণ করেন।

বস্তুত, গত 1 তারিখ বাসন্তীর চরবিদ্যাপুরে পাঁচ বছরের শিশুকন্যার সামনে তার মাকে গণধর্ষণ করে খুন করার নির্মম ঘটনার প্রসঙ্গটি সংবাদপত্রের কাটিং নিয়ে উল্লেখ করার চেষ্টা করেন দুলাল বর। কিন্তু বিষয়টি তদন্তাধীন বলে অধ্যক্ষ বিমান বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁকে বলার সুযোগ না দিয়ে তার মাইকের সংযোগ বন্ধ করে দিলেই শুরু হয় তীব্র উত্তেজনা। আর তাতেই আরও ক্ষিপ্ত হয়ে চিৎকার শুরু করে দেন দুলাল বর।

আর কিছুক্ষণ এই ব্যাপারে গন্ডগোল চলার পর প্রতিবাদে কক্ষত্যাগ করেন সেই বিধায়ক। আর এরপরই দুলাল বরের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির দাবিতে প্রস্তাব পেশ করেন শাসক দলের মুখ্য সচেতক নির্মল ঘোষ। জানা যায়, এরপরই নিয়মিত সদনের কাজে বাধা সৃষ্টি করার অভিযোগে তাঁকে শাস্তি দেওয়ার দাবি জানান নির্মল ঘোষ। আর তখনই অধিবেশনে উপস্থিত বিধায়কদের মত জানতে চান অধ্যক্ষ। সাথে সাথেই শাসক শিবিরের সকলেই দু’হাত তুলে তাতে সমর্থন করেন। আর সবশেষে সংখ্যাগরিষ্ঠতার কারণে অধ্যক্ষ বিমান বন্দ্যোপাধ্যায় দুলাল বরকে অধিবেশনের বাকি দিনগুলির জন্য সাসপেন্ড করার কথা ঘোষণা করেন।

আপনার মতামত জানান -
Top
error: Content is protected !!