এখন পড়ছেন
হোম > রাজ্য > উত্তরবঙ্গ > সংখ্যালঘু ভোটে থাবা বসাবে বাম, বিরোধী জোট একাট্টা বিজেপিতে – রায়গঞ্জে ব্যাকফুটে তৃণমূল?

সংখ্যালঘু ভোটে থাবা বসাবে বাম, বিরোধী জোট একাট্টা বিজেপিতে – রায়গঞ্জে ব্যাকফুটে তৃণমূল?

রাত পোহালেই রায়গঞ্জ লোকসভা কেন্দ্রের নির্বাচন। আর সেই নির্বাচনকে ঘিরে এখন সমস্ত মহলে তীব্র গুঞ্জন শুরু হয়েছে। কেননা এবারে এই রায়গঞ্জ লোকসভা কেন্দ্রের চতুর্মুখী লড়াই হচ্ছে। ইতিমধ্যেই শাসক দল তৃণমূল, বিরোধী দল বাম এবং কংগ্রেস তাদের মূল প্রতিপক্ষ হিসেবে বিজেপিকেই টার্গেট করেছে।

বস্তুত, গত 2014 সালের লোকসভা নির্বাচনে এইখানে জয়ী হয়েছিল বামেরাই‌। ফলে নিজেদের দখলে থাকা এই রায়গঞ্জ লোকসভা আসনটি ফের দখল করতে এখানে মূল প্রতিপক্ষ হিসেবে বামেরা বিজেপিকেই টার্গেট করায় এখানে গেরুয়া শিবির যে সকলের কাছে একটা ফ্যাক্টর চলেছে সেই ব্যাপারে একপ্রকার নিশ্চিত বিশেষজ্ঞ মহল।

প্রসঙ্গত, গত পঞ্চায়েত নির্বাচনে এই উত্তর দিনাজপুর জেলায় শাসক দল তৃণমূল বনাম বিরোধী দল বিজেপির মধ্যেই মূল লড়াই রয়েছে। যেখানে দেখা গেছে যে, তৃণমূল বিরোধী লড়াইয়ে বাম, কংগ্রেস সহ অন্যান্য বিরোধী দলের সমর্থকদের ভোট চলে গেছে বিজেপিতে। ফলে লোকসভা নির্বাচনেও যদি বিরোধীদের সেই সমবেত ভোট বিজেপিতে গিয়ে পড়ে তাহলে অনেকটাই ব্যাকফুটে চলে যেতে পারে শাসক দল তৃণমূল এবং অন্যান্য বিরোধী দলগুলো বলে দাবি গেরুয়া শিবিরের।

আর এখানেই বামেদের তরফে দাবি করা হচ্ছে যে, যদি রায়গঞ্জ লোকসভা কেন্দ্রটি তারা দখল করতে চায়, তাহলে তাদের প্রার্থী গতবারের বিদায়ী সাংসদ মহম্মদ সেলিমকেই সংখ্যালঘু ভোটে থাবা বসাতে হবে। কিন্তু রায়গঞ্জ লোকসভা কেন্দ্রের ফ্যাক্টর হওয়া এই সংখ্যালঘু ভোট ঠিক কোন দিকে যেতে পারে এখন তা নিয়েই চুলচেরা বিশ্লেষণে রাজনৈতিক মহল।

ফেসবুকের কিছু টেকনিক্যাল প্রবলেমের জন্য সব আপডেট আপনাদের কাছে সবসময় পৌঁচ্ছাছে না। তাই আমাদের সমস্ত খবরের নিয়মিত আপডেট পেতে যোগদিন আমাদের হোয়াটস্যাপ বা টেলিগ্রাম গ্রূপে।

১. আমাদের Telegram গ্রূপ – ক্লিক করুন
২. আমাদের WhatsApp গ্রূপ – ক্লিক করুন
৩. আমাদের Facebook গ্রূপ – ক্লিক করুন
৪. আমাদের Twitter গ্রূপ – ক্লিক করুন
৫. আমাদের YouTube চ্যানেল – ক্লিক করুন

প্রিয় বন্ধু মিডিয়ায় প্রকাশিত খবরের নোটিফিকেশন আপনার মোবাইল বা কম্পিউটারের ব্রাউসারে সাথে সাথে পেতে, উপরের পপ-আপে অথবা নীচের বেল আইকনে ক্লিক করে ‘Allow‘ করুন।

আপনার মতামত জানান -

বিশেষজ্ঞদের মতে, কিছুদিন আগেই রায়গঞ্জের নির্বাচনী সভা থেকে বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি অমিত শাহ এনআরসি লাগু করার পক্ষে সওয়াল করে মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষরা কিছুটা হলেও ভীত হয়ে পড়েছেন। আর এই আশঙ্কার কথা শোনা গেছে হেমতাবাদ থানার বিষ্ণুপুর পঞ্চায়েতের মাধবপুর গ্রামের মুক্তার আলি এবং মনসুর আলিদের গলাতেও।

আর সংখ্যালঘু মানুষরা যখন এই ঘটনায় বিজেপির প্রতি কিছুটা হলেও ক্ষুব্ধ, ঠিক তখনই এই সংখ্যালঘু ভোটকে নিজেদের দিকে টানতে তৎপর হয়ে উঠেছে তৃণমূল, বামফ্রন্ট এবং কংগ্রেস। তবে তৃণমূল এবং বিজেপি দু’দলকেই দোষী বলে অভিহিত করে এবার এই ঘটনাকে হাতিয়ার করে সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে যেতে শুরু করেছে বামেরা।

এদিন এই প্রসঙ্গে উত্তর দিনাজপুর জেলা সিপিএমের সম্পাদক অপূর্ব পাল বলেন, “দল এবং সংগঠন ছাড়াও মহম্মদ সেলিম এখানে একটা ফ্যাক্টর। সেই অংকেই আমরা এবার বিজেপির সঙ্গে টক্কর নেব।” অন্যদিকে রায়গঞ্জ লোকসভা কেন্দ্রে বিজেপির কিছুটা হলেও হাওয়া আছে – একথা স্বীকার করে নিয়ে উত্তর দিনাজপুর জেলা কংগ্রেসের সভাপতি মোহিত সেনগুপ্ত বলেন, “তৃণমূলের জোরজবরদস্তির রাজনীতি মানুষ মেনে নিতে পারছে না। তাই বিজেপির অস্ত্র নিয়ে মিছিল দেখে অনেকেই বুঝছে যে তৃণমূলকে ওরাই শায়েস্তা করতে পারবে। তাই ওদের দিকে মানুষ গিয়েছে। ভোট যদি শান্তিপূর্ণ হয় তাহলে আমরাই জিতব এবং বিজেপি এখানে দ্বিতীয় স্থান অধিকার করবে।”

কিন্তু যেখানে উত্তর দিনাজপুর জেলায় এককালে কংগ্রেসের শক্ত এবং পাকাপোক্ত সংগঠন ছিল, যেখানে প্রয়াত কংগ্রেস নেতা প্রিয়রঞ্জন দাশমুন্সির মত নেতা ছিলেন, সেখানে সেই কংগ্রেসের পক্ষ থেকে প্রয়াত প্রিয়রঞ্জনের স্ত্রী দীপা দাশমুন্সি প্রার্থী কি কোনো লাভ করতে পারবে না? রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, এই রায়গঞ্জ শহরে কংগ্রেসের একটা নিজস্ব ভোটব্যাঙ্ক রয়েছে। কিন্তু যারা কংগ্রেসের একদা ভোট ম্যানেজার ছিলেন, তারা এখন তৃণমূলে যোগ দিয়েছেন। ফলে কংগ্রেস তাদের ঝুলিতে কতটা সমর্থন আনতে পারবেন, সেই ব্যাপারে একটা সন্দেহ রয়েই যাচ্ছে।

রায়গঞ্জ লোকসভা কেন্দ্রে কে শেষ হাসি হাসবে- এদিন এই বিষয় নিয়ে প্রশ্ন করায় একদা কংগ্রেস নেতা তথা বর্তমানে তৃণমূল নেতা তথা রায়গঞ্জ পুরসভার চেয়ারম্যান সন্দীপ বিশ্বাস বলেন, “উন্নয়ন যা হয়েছে তাতে এখানে এবার তৃণমূলই জয়লাভ করবে। বিজেপির হাওয়া বলে যে প্রচার হচ্ছে ভোটে তা প্রতিফলিত হবে না।”

অন্যদিকে জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী এই রায়গঞ্জ লোকসভা কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থী দেবশ্রী চৌধুরী। তিনি বলেন, “আমার জয় নিয়ে কোনো সংশয় নেই। সংখ্যালঘু ভোটও আমাদের অনুকূলে আসবে। বিজেপিই একমাত্র দল, যারা তৃণমূলের বিরুদ্ধে বাঘের মত লড়ছে।” সব মিলিয়ে এবার দাবি পাল্টা দাবির মাঝেই কে দখল করে রায়গঞ্জ লোকসভা কেন্দ্র! তা দেখবার জন্য অপেক্ষা করতেই হবে আরও কিছুদিন।

আপনার মতামত জানান -
Top
error: Content is protected !!