এখন পড়ছেন
হোম > রাজ্য > কলকাতা > বিজেপি নেতা অরবিন্দ মেননের উপর হামলার অভিযোগ উঠেছে শাসকদলের বিরুদ্ধে, তৃণমূল-বিজেপি সংঘর্ষ উত্তপ্ত বারাসত

বিজেপি নেতা অরবিন্দ মেননের উপর হামলার অভিযোগ উঠেছে শাসকদলের বিরুদ্ধে, তৃণমূল-বিজেপি সংঘর্ষ উত্তপ্ত বারাসত

নির্বাচনের অনেক আগে থেকেই রাজ্যে গণতন্ত্র নেই, বিরোধীদের সভা-সমিতি করতে বাধা দেওয়া হচ্ছে বলে শাসক দল তৃণমূলের বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে দেখা গেছে রাজ্যের প্রধান বিরোধী দল বিজেপিকে। যদিও বা শাসক দলের পক্ষ থেকে বিরোধীদের করা অভিযোগকে অস্বীকার করা হয়েছে।

কিন্তু বাস্তবে বিরোধীদের প্রতি শাসকের আঘাত হানার ঘটনায় বারে বারেই উত্তাল হতে দেখা গেছে রাজ্য রাজনীতিকে। আর এবার সোমবার রাতে শাসক দল তৃণমূল বনাম বিরোধী দল বিজেপির সংঘর্ষ উত্তপ্ত হতে দেখা গেল বারাসাত লোকসভা কেন্দ্রকে।

সূত্রের খবর, সোমবার রাতে বারাসাতের প্রসাদপুর এলাকায় জেলা বিজেপির সাধারণ সম্পাদক তুহিন মন্ডলের বাড়িতে বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্বের পক্ষ থেকে একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। আর যে বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রের বিজেপি নেতা অরবিন্দ মেনন সহ রাজ্য বিজেপির অন্যান্যরা। অভিযোগ, বিজেপি নেতারা বৈঠক করে গাড়ি করে ফেরার সময় বারাসাত পৌরসভার কাছে তাদের গাড়িগুলো আটকে তৃণমূলের পক্ষ থেকে হামলা চালানো হয়। তবে এই গাড়িতে বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতা অরবিন্দ মেনন ছিলেন না। তিনি তখনও সেই বৈঠকে তুহিন মন্ডলের বাড়িতেই উপস্থিত ছিলেন।

হাতের মুঠোয় আরও সহজে প্রিয় বন্ধু মিডিয়ার খবর পেতে যোগ দিন –

১. আমাদের Telegram গ্রূপ – ক্লিক করুন
২. আমাদের WhatsApp গ্রূপ – ক্লিক করুন
৩. আমাদের Facebook গ্রূপ – ক্লিক করুন
৪. আমাদের Twitter গ্রূপ – ক্লিক করুন
৫. আমাদের YouTube চ্যানেল – ক্লিক করুন

বিজেপির অভিযোগ, এই খবর পেয়ে তুহিনবাবুর বাড়িতেও হামলা চালায় তৃনমূল। পরে অবশ্য কোনোরকমে অরবিন্দ মেনন সহ চার বিজেপি নেতাকে বাড়ির দরজা ভেঙে সেই ঘর থেকে উদ্ধার করে পুলিশ। অন্যদিকে প্রসাদপুরে বিজেপির আক্রান্ত হওয়া ও হামলা চালানো গাড়িটিকে উদ্ধার করে পুলিশের পক্ষ থেকে সেটি থানায় নিয়ে গেলে সেই থানার মধ্যেই শাসক দল তৃণমূল বনাম বিরোধী দল বিজেপির মধ্যে তুমুল সংঘর্ষের সৃষ্টি হয়। কিন্তু ভোটের মরশুমে কেন বিরোধীদলের গাড়িতে এইভাবে হামলা চালানো হল? তাহলে কি এই ঘটনা গণতন্ত্রের পরিপন্থী নয়?

এদিন এই প্রসঙ্গে বারাসাত লোকসভা কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী কাকলি ঘোষদস্তিদার বলেন, “গুজরাট থেকে বিজেপি নেতারা এসে টাকা ছড়াচ্ছে। গাড়ি করে অস্ত্র নিয়ে এসেছে।” এদিকে তৃণমূলের করা এই অভিযোগের সম্পূর্ণরূপে অস্বীকার করেছেন বঙ্গ বিজেপির হেভিওয়েট নেতা মুকুল রায়। এদিন তিনি বলেন, “কোথাও কোনো তল্লাশিতে একটি টাকাও উদ্ধার হয়নি। আসলে তল্লাশির নাম করে বিজেপি নেতাদের হয়রানির শিকার করা হচ্ছে।”

অন্যদিকে এই ঘটনায় বারাসাত থানার আইসি এবং জেলার পুলিশ সুপারের বদলের দাবিতে সরব হয়েছে গেরুয়া শিবির।অন্যদিকে সোমবারই রাজ্যে প্রচার করতে আসা বিজেপির কেন্দ্রীয় মন্ত্রী অজয় টামটার গাড়িতে তল্লাশি চালায় কলকাতা পুলিশের স্পেশাল টিম। বিজেপির অভিযোগ, প্রায় 40 মিনিট ধরে কলকাতা পুলিশ তল্লাশি চালালেও কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর গাড়িতে কিছুই পাওয়া যায়নি। আসলে শাসকদলের ওপর তলার নির্দেশেই বিজেপি নেতা কর্মীদের রোজ রোজ হেনস্থা করা হচ্ছে। অপরদিকে তৃণমূলের তরফে অবশ্য এই সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করে দেওয়া হয়েছে।

কলকাতা পুলিশের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, 19 মে কোলকাতার লোকসভা নির্বাচনের আগে রুটিন মাফিক এই নাকা তল্লাশি চালানো হয়েছে। এদিকে এদিনই বারাসাতের একাধিক হোটেলে ম্যাজিস্ট্রেটকে সঙ্গে নিয়ে তল্লাশি অভিযান চালাতে দেখা যায় পুলিশকে। আর আশ্চর্যজনকভাবে টাকি রোডের উপর এক হোটেলে তল্লাশি চালানোর সময় সেই হোটেলে থাকা গুজরাট থেকে আসা কয়েকজন বিজেপি নেতা এবং রাজ্য বিজেপি নেতা বিশ্বপ্রিয় রায় চৌধুরীর সঙ্গে পুলিশের কথা কাটাকাটি হয়। পুলিশের পক্ষ থেকে ফের রুটিন মাফিক তল্লাশি চালানো হয়েছে বলে দাবি করা হলেও এর পেছনে অন্য গন্ধ পাচ্ছে বিজেপি।

এদিন এই প্রসঙ্গে রাজ্য বিজেপি নেতা বিশ্বপ্রিয় রায় চৌধুরী বলেন, “সার্চ ওয়ারেন্ট ছাড়া ঘরে ঢুকে কখনও তল্লাশি করা যায় না।” সব মিলিয়ে বিরোধী নেতাদের গাড়ি তল্লাশি, আবার কখনও বা শাসকের বিরুদ্ধে বিরোধী নেতাদের ওপর হামলা চালানোর অভিযোগে সপ্তম তথা শেষ দফার লোকসভা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার আগে প্রবল উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ছে বঙ্গ রাজনীতিতে।

Top
error: Content is protected !!