এখন পড়ছেন
হোম > রাজ্য > বিজেপি নেতা খুনে তৃণমূল নেতাকে ‘মারধরের’ অভিযোগে নিহতের পুত্র, তীব্র উত্তেজনা

বিজেপি নেতা খুনে তৃণমূল নেতাকে ‘মারধরের’ অভিযোগে নিহতের পুত্র, তীব্র উত্তেজনা

এলাকা দখলের লড়াইকে কেন্দ্র করে ফের উত্তপ্ত ঝাড়গ্রাম। পরিমানে খুন হলেন এক বিজেপি নেতা,জখম এক তৃণমূল নেতৃত্ব। পুলিশি সক্রিয়তায় গ্রেফতার দুই অভিযুক্ত রাসবিহারী বেরা এবং নেপাল মন্ডল। ধৃত রাসবিহারী বেরা বিজেপি নেতা নিহত রামপদ বেরার ছেলে এবং নেপাল মন্ডল জখম তৃনমূল নেতা সুষেণ কারকের শ্যালক। এমনটাই তদন্ত সূত্র থেকে জানা গিয়েছে। ধৃতদের এদিন ঝাড়গ্রাম এসিজেএম আদালতে তোলা হলে নেপাল মন্ডলকে ৫ দিনের এবং রাসবিহারী বেরাকে ১৪ দিনের পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছেন বিচারক। গোটা ঘটনায় থমথমে পরিস্থিতি এলাকায়।

পুলিশি তদন্ত এবং স্থানীয়দের সূত্র থেকে জানা গিয়েছে,দিন দুয়েক আগে এলাকা দখলকে কেন্দ্র করে তৃণমূল-বিজেপি লড়াই শুরু হয় বেলিয়াবেড়া থানার চোরিচিতা গ্রাম পঞ্চায়েতের ভামাল গ্রামে। পরিস্থিতি এতোটাই উত্তপ্ত হয়ে যায় যে মুহূর্তেই রণক্ষেত্র রূপ নেয় এলাকা। তৃণমূলের দলীয় কর্মীর বিরুদ্ধে বিজেপির বুথ সভাপতি রমাপদ বেরাকে টাঙি দিয়ে খুন করার অভিযোগ ওঠে। এরপরই পরিস্থিতি ভয়াভয় হয়ে ওঠে। প্রত্যক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে দুই প্রতিপক্ষের মধ্যে অ্যাসিত বৃষ্টি এবং তীর ছোঁড়াছুঁড়ি চলতে থাকে। ঘটনার জেরে এক শিশু সহ দুই পক্ষেরই চারজন জখম হয়। এই আহতদের মধ্যেই একজন তৃণমূল নেতা সুষেণ কারক। তিনি আপাতত মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন।

এই ঘটনার পরই উভয় পক্ষ থেকেই বেলিয়াবেড়া থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়। তদন্তে নেমেই পুলিশের হাতে আসে দুজন অভিযুক্ত। ময়নাতদন্তের পর রামপদবাবুর দেহ বিজেপির জেলা কার্যালয়ে নিয়ে যাওয়া হলে সেখানে তাকে শেষবারের মতো সম্মান দিতে মাল্যদান করেন রাজ্য সহ-সভাপতি মৌসুমি বিশ্বাস, যুব মোর্চার সাধারণ সম্পাদক তাপস ঘোষ সহ জেলা নেতারা। সহানুভূতি জানাতে নিহত নেতার বাড়ি যান রাজ্য নেতারা। দুঃখের এই দিনে নিহত নেতার পাশে থাকার আশ্বাস দেন তাঁরা। রামপদবাবুর শেষকৃত্যের জন্যে রাসবিহারীকে প্যারেলে ছাড়া হয়েছে।

তৃনমূল যে খুনোখুনির রাজনীতিতে বিশ্বাসী সেটাই আরো একবার প্রমাণ করে দিল তাঁরা,এমনটাই বক্তব্যে জানালেন বিজেপির ঝাড়গ্রাম জেলা সাধারণ সম্পাদক অবনী ঘোষ। ঘটনার জন্য কাঠগড়ায় তুললেন স্থানীয় পুলিশের নিষ্ক্রিয়তাকেও। তৃণমূলের এলাকা দখলের জেরেই এই গন্ডোগোল বেঁধেছে এমনটাই সাফ জানালেন অবনী বাবু। তবে, এ অভিযোগ ভিত্তিহীন দাবী করে গোপীবল্লভপুর-২ ব্লক তৃণমূল সভাপতি কালিপদ শূর জানালেন, এর সঙ্গে রাজনীতি কোনোভাবেই জড়িত নয়। সম্পূর্ণ পারিবারিক বিবাদের জেরেই এই খুন হয়েছে বলেই দাবীতে জানালেন তিনি।

ফেসবুকের কিছু টেকনিকাল প্রবলেমের জন্য সব খবর আপনাদের কাছে পৌঁছেছে না। তাই আরো খবর পেতে চোখ রাখুন প্রিয়বন্ধু মিডিয়া-তে

 

এবার থেকে প্রিয় বন্ধুর খবর পড়া আরো সহজ, আমাদের সব খবর সারাদিন হাতের মুঠোয় পেতে যোগ দিন আমাদের হোয়াটস্যাপ গ্রূপে – ক্লিক করুন এই লিঙ্কে

তবে একইসঙ্গে বিজেপি নেতা খুন এবং তৃনমূল নেতাকে মারধোরের এ নজির খুবই বিরল রাজ্যে। হয় তৃণমূল নিগৃহীত হয় নয়তো বিজেপি। রাজ্যের দুই শক্তিশালী রাজনৈতিক দলের নেতার এ হেন অবস্থা দেখে তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়েছে এলাকায়। তীব্র চর্চা শুরু হয়েছে রাজ্য রাজনীতির অন্দরে। পুলিশি তদন্তের সূত্র ধরে এ সংক্রান্ত আরো তথ্য উঠে আসবে বলেই মনে করছেন ওয়াকিবহাল মহল।

আপনার মতামত জানান -
Top
error: Content is protected !!