এখন পড়ছেন
হোম > রাজ্য > নদীয়া-২৪ পরগনা > খোদ মুকুল-গড়েই বিজেপি ছেড়ে তৃণমূলে, আরো বড় ধাক্কার অপেক্ষায় গেরুয়া শিবির?

খোদ মুকুল-গড়েই বিজেপি ছেড়ে তৃণমূলে, আরো বড় ধাক্কার অপেক্ষায় গেরুয়া শিবির?

সম্প্রতি রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে দফায় দফায় বিজেপি কর্মীদের শাসকদলে যোগ দেওয়ার নজির এক নতুন উদ্বেগের কারণ হয়েছে রাজ্য বিজেপির। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের ধারণা গেরুয়া শিবির যখন দাবি করছে তাদের হাত ধরেই বাংলায় পরিবর্তনের পরিবর্তন হবে – তখন এই দলত্যাগের ঘটনা রীতিমত বিড়ম্বনার কারণ হতে চলেছে। আর এই নিয়ে লোকসভা ভোটের আগে রীতিমতো অস্বস্তিতে বঙ্গ শিবিরের বিজেপিনেতারা। এদিন নোয়াপাড়া বিধানসভার মোহনপুর পঞ্চায়েতের বামনপুর এলাকা থেকে বিজেপির একটা বড় অংশ যোগ দিল শাসকশিবিরে। আর এ খবর প্রকাশ্যে আসতেই রীতিমত শোরগোল পড়ে গেছে রাজ্য রাজনীতিতে। স্থানীয় সূত্রের খবর, নোয়াপাড়া বিধানসভা এলাকা – এক কথায় এতদিন খাসতালুক ছিল তৃণমূলত্যাগী বিজেপি নেতা মুকুল রায়ের, তিনি বিজেপিতে যাবার পর তাঁর এই অঞ্চলের অনুগামীরাও তাঁর দেখানো পথে বিজেপিতে যোগ দিয়েছিলেন। এই সকল নব্য বিজেপি কর্মীরা আশা করেছিলো এবারের পঞ্চায়েত নির্বাচনে প্রার্থী হিসাবে দলীয় টিকিট পাবেন, কিন্তু বাস্তবে তা না হওয়ায় তীব্র অসন্তোষ তৈরি হচ্ছিল। আর লোকসভা নির্বাচনের আগে সেই ক্ষোভকে কাজ লাগিয়ে, তাঁদেরকে পুনরায় শাসকদলে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া শুরু হয়ে যায়।

এবার থেকে প্রিয় বন্ধুর খবর পড়া আরো সহজ, আমাদের সব খবর সারাদিন হাতের মুঠোয় পেতে যোগ দিন আমাদের হোয়াটস্যাপ গ্রূপে – ক্লিক করুন এই লিঙ্কে

এদিকে এই দলবদলের ফলে নোয়াপাড়ার বিজেপির সংগঠন আরো দুর্বল হয়ে পড়ল বলেই স্থানীয় সূত্রের খবর। অন্যদিকে খোদ মুকুল রায়ের ‘গড়ে’ এই দলবদলের ফলে লোকসভা নির্বাচনের আগে গেরুয়া শিবিরের কাছে তা বড় ধাক্কা হতে চলেছে বলে আশঙ্কা রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের। প্রসঙ্গত, এই দলবদলের পাশাপাশি এদিন মোহনপুর এলাকায় তৃণমূল কংগ্রেসের দলীয় কার্যালয়েরও উদ্বোধন হয়ে গেলো। এই অনুষ্ঠানে হাজির ছিলেন নোয়াপাড়ার বিধায়ক সুনীল সিং, উত্তর ব্যারাকপুর পুরসভার পুরপ্রধান মলয় ঘোষ, গারুলিয়া পুরসভার উপপ্রধান সুব্রত মুখোপাধ্যায়, মোহনপুর এলাকার নেতা নির্মল কর, তন্ময় পোড়েল, সন্দীপ কর, প্রদীপ পাত্র, রাজু দত্তের মতো তৃণমূলের অন্যতম শীর্ষনেতারা। দলীয় কার্যালয় উদ্বোধন করে নোয়াপাড়ার বিধায়ক সুনীল সিং জানান, নোয়াপাড়াতে বিজেপির সংগঠন এমনিতেই দুর্বল, তার উপর দলবদল করে বিজেপির স্থানীয় নেতা-কর্মীরা আমাদের সাথে আসায় ওদের শক্তি আরো কমলো। তবে নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক এক স্থানীয় তৃণমূল নেতার দাবি, বিজেপি নেতা-কর্মীদের এইভাবে দলে দলে তৃণমূলে যোগ দেওয়ার মূল কারণ হলেন মুকুল রায়। তৃণমূল কংগ্রেস থেকে বিজেপিতে গিয়ে উনি কি পেয়েছেন? দল যখন ছেড়েছিলেন তখন তিনি সহ-সভাপতি ছিলেন এখানে, ওনার সঙ্গে যে গুটি কয়েক নেতা কর্মী গিয়েছিলেন বিজেপিতে – তাঁরা তো বটেই, অন্যান্য বিজেপি নেতা কর্মীরাও দেখছেন বছর ঘুরতে চললেও মুকুল রায় এখনো বিজেপিতে কোনো পদই পান নি। ফলে ওই দলে যে কোনো ভবিষ্যৎ নেই বুঝে গেছেন, আর তাই বহু বিজেপি নেতা-কর্মীর ভুল ভেঙে গেছে। আমাদের নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত ধরেই যে বাংলায় প্রকৃত উন্নয়ন হবে সেই কথা বুঝে গেছেন আর তাই দলে দলে সবাই আমাদের দলে চলে আসছেন। ফলে আগামী দিনে গেরুয়া শিবিরে আরো বড় ভাঙন ধরতে চলেছে।

আপনার মতামত জানান -
Top
error: Content is protected !!