এখন পড়ছেন
হোম > জাতীয় > মোদির পরে বিজেপি সরকার থাকলে কে হবেন প্রধানমন্ত্রী? সংঘ শিবিরের সিলমোহর এনাকেই

মোদির পরে বিজেপি সরকার থাকলে কে হবেন প্রধানমন্ত্রী? সংঘ শিবিরের সিলমোহর এনাকেই

রাম রথযাত্রা দিয়ে ভারতীয় জনতা পার্টির নির্বাচনী জয়যাত্রা শুরু হয়েছিল। প্রথমার্ধে জোট করে এনডিএ গঠন করে অটল বিহারী বাজপেয়ী ছয় বছর সরকার চালালেও বিজেপির নিজস্ব কর্মসূচিগুলি পূর্ণ করতে পারেনি বাজপেয়ী সরকার। জনসেবামূলক কাজে নিরন্তর পরিশ্রম করলেও সংঘ এবং ভারতীয় জনতা পার্টির রাজনৈতিক কর্মসূচিগুলি পূর্ণ করার স্বপ্ন বাজপেয়ী আমলে অধরাই থেকে গিয়েছিল বলে মনে করেন রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা।

তবে 2014 সাল থেকে শুরু করে পরপর দুবার কেন্দ্রে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে ভারতীয় জনতা পার্টির নরেন্দ্র মোদি নেতৃত্বাধীন এনডিএ সরকার। কিন্তু এনডিএ থাকলেও ভারতীয় জনতা পার্টি একক সংখ্যাগরিষ্ঠ হিসাবেই দুইবার কেন্দ্র সরকারের দায়িত্বভার গ্রহন করেছে‌। বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে ভারতবর্ষের সর্বোচ্চ নেতা বলে মনে করা হয় নরেন্দ্র মোদিকে।

প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তো বটেই, ভারতীয় জনতা পার্টির প্রাণপুরুষ হিসেবে ইতিমধ্যেই প্রতিষ্ঠিত হয়েছে মোদি। তবে পাশাপাশি নরেন্দ্র মোদির পর তার স্থান কে দখল করবে, এই ব্যাপারেও ভারতীয় জনতা পার্টির মধ্যে কান পাতলে গুঞ্জন শোনা যায়‌। কিন্তু এবার সেই জল্পনাকে অনেকটা বাড়িয়ে দিয়েই পরবর্তীতে নরেন্দ্র মোদীর জায়গায় কে স্থলাভিষিক্ত হবেন, সেই বিষয়ে অবস্থান কিছুটা পরিষ্কার করলেন সংঘ পরিবারের এক প্রবীণ নেতা।

ফেসবুকের কিছু টেকনিক্যাল প্রবলেমের জন্য সব আপডেট আপনাদের কাছে সবসময় পৌঁচ্ছাছে না। তাই আমাদের সমস্ত খবরের নিয়মিত আপডেট পেতে যোগদিন আমাদের হোয়াটস্যাপ বা টেলিগ্রাম গ্রূপে।

১. আমাদের Telegram গ্রূপ – ক্লিক করুন
২. আমাদের WhatsApp গ্রূপ – ক্লিক করুন
৩. আমাদের Facebook গ্রূপ – ক্লিক করুন
৪. আমাদের Twitter গ্রূপ – ক্লিক করুন
৫. আমাদের YouTube চ্যানেল – ক্লিক করুন

প্রিয় বন্ধু মিডিয়ায় প্রকাশিত খবরের নোটিফিকেশন আপনার মোবাইল বা কম্পিউটারের ব্রাউসারে সাথে সাথে পেতে, উপরের পপ-আপে অথবা নীচের বেল আইকনে ক্লিক করে ‘Allow‘ করুন।


আপনার মতামত জানান -

সূত্রের খবর, গত সোমবার দিল্লিতে সংঘ পরিবারের অনুগামীদের একটি অনুষ্ঠানে মূল বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অমিত শাহ। একই অনুষ্ঠানে কর্ণাটক থেকে উপস্থিত হয়েছিলেন এক প্রবীণ রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের নেতা। সভার মধ্যে উপস্থিত থাকা অমিত শাহ সেই নেতাকে প্রণাম করলে অমিত শাহকে আশীর্বাদ করে তিনি বলেন, “ভবিষ্যতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী হন।”

যার পরেই গোটা সভা হাততালিতে ফেটে পড়ে। স্বাভাবিকভাবেই সম্মুখ প্রশংসায় কিছুটা বিনয়ী হয়ে পড়েন অমিত শাহও। হাসিমুখে সংঘ নেতার আশীর্বাদ মাথা পেতে নেন শাহ। তবে শুধুমাত্র সংঘের প্রবীণ নেতার কথাতেই নয়, বিগত দিনে ভারতবর্ষের রাজনৈতিক পরিসরে ঘটে যাওয়া অনেক ঘটনাকে কেন্দ্র করেই রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের অনেকেই মনে করছেন, নরেন্দ্র মোদির যোগ্য উত্তরসূরি হিসেবে ভারতীয় জনতা পার্টির একটা বড় অংশ এবং সংঘ পরিবার অমিত শাহকেই দেখছেন।

বিগত দিনে রাজনাথ সিংকে দেশের প্রতিরক্ষা মন্ত্রীর দায়িত্ব দিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করেছেন অমিত শাহ। আজ 54 বছর বয়সে পা রাখলেন অমিতজি। অন্যদিকে কয়েকদিন আগেই 74 বছরে পা রেখেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। বিজেপির মধ্যে আগের থেকেই মৃদু গুঞ্জন ছিল, নরেন্দ্র মোদির পর তার স্থান কে পূর্ণ করবেন! তবে এই আলোচনা দীর্ঘদিন ধরে চললেও দলের অন্দরেই সেই আলোচনা সীমাবদ্ধ ছিল।

বর্তমানে যা প্রকাশ্যে চলে আসছে বলে মত রাজনৈতিক মহলের। দেশের সমসাময়িক রাজনীতির পরিবেশ ইতিমধ্যেই অমিত শাহের এই সম্ভাবনার দিকে ইঙ্গিত করছে বলে অনেকে মনে করছেন। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, গত 2014 সালে নরেন্দ্র মোদি সরকার প্রথমবার একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে ক্ষমতায় বসলেও বিজেপির নির্বাচনী ইশতেহারে থাকা তিন তালাক, ধারা 370, রাম মন্দির ইত্যাদি ইস্যুতে উল্লেখযোগ্য কোনো রকম কাজ করতে পারেনি বলেই মত একাংশের।

তবে নরেন্দ্র মোদি 2 সরকার প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পরেই নিজেদের একগুচ্ছ প্রতিশ্রুতি নিয়ে রীতিমত ঝাপিয়ে পড়ে বিজেপি সরকার। যার মধ্যে অমিত শাহের ভূমিকা যথেষ্ট বলে মনে করে রাজনৈতিক মহল। ধারা 370 এর বিলুপ্তির সময় সংসদে বিল উত্থাপন করেছিলেন দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ।

অপরদিকে তিন তালাক বিরোধী আইন আনার ক্ষেত্রে রাজ্যসভার সাংসদদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে যথেষ্ট তৎপর হন শাহ। আবার দীর্ঘদিন ধরে ভারতীয় জনতা পার্টিতে “এক ব্যক্তি এক পদের” রেওয়াজ চালু থাকলেও বর্তমানে বিজেপির সভাপতির পাশাপাশি দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করছেন অমিত শাহ। বিজেপির ক্ষেত্রে যা তা অত্যন্ত নজির বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

তাছাড়াও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সর্ব ঘনিষ্ঠ আস্থাভাজন ব্যক্তি হিসেবে অমিত শাহকে মনে করেন সকলে। নির্বাচনী প্রচারের ক্ষেত্রেও বর্তমানে সদ্য ভোটগ্রহণ সমাপ্ত হওয়া মহারাষ্ট্র এবং হরিয়ানাতে নরেন্দ্র মোদির পরই সবচেয়ে বেশি সভা করার জন্য আবেদন এসেছিল অমিত শাহের কাছে। যার কারণে ভারতীয় জনতা পার্টির প্রায় সকলেই দেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নরেন্দ্র মোদির পরেই অমিত শাহকে কল্পনা করছেন বলে রাজনৈতিক মহলের একাংশের মত। তাছাড়াও তার বিরোধীদের উদ্দেশ্যে করা আক্রমণ, সাংগঠনিক মেধা সবকিছুই ভারতীয় জনতা পার্টির পক্ষে যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ বলে মত বিশেষজ্ঞদের।

সভাস্থল থেকে তাকে “হিন্দুস্থান কা শের” সহ একাধিক সম্বোধনে সম্মোহিত করা হয়। তাই বলাই বাহুল্য, জন্ম দিবসের একদিন আগে সংঘের প্রবীণ নেতার অমিত শাহের উদ্দেশ্যে করা আশীর্বাদ যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ। তবে নিজের প্রধানমন্ত্রী পদের ব্যাপারে যখন অনেকবার বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের পক্ষ থেকে অমিত শাহর কাছে প্রশ্ন করা হয়েছে, তখন তিনি বারবারই বলেছেন, “এমন কিছু নয়। নানান সময় এমন অনেক ধারণা তৈরি করা হয়। নরেন্দ্র মোদী আমাদের সকলের নেতা। তার নেতৃত্বেই আমরা নিজ নিজ দায়িত্ব পালন করছি মাত্র।”

তবে অমিতবাবু যাই বলুন না কেন, সম্প্রতি ভারতের রাজনীতিতে মহীরুহের আকৃতি ধারণ করা ভারতীয় জনতা পার্টির কাছে নাম্বার টু হিসেবে অমিত শাহ যে বারবার প্রতিষ্ঠিত হয়েছেন, সেই বিষয়ে একমত প্রায় সকল রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরাই।

আপনার মতামত জানান -
Top
error: Content is protected !!