এখন পড়ছেন
হোম > রাজ্য > কলকাতা > লোকসভার মুখে শাসকদলের অস্বস্তি বাড়িয়ে নির্বাচন কমিশনে গোটা বাংলাকে ‘অতিস্পর্শকাতর’ ঘোষণার দাবী নিয়ে বিজেপি

লোকসভার মুখে শাসকদলের অস্বস্তি বাড়িয়ে নির্বাচন কমিশনে গোটা বাংলাকে ‘অতিস্পর্শকাতর’ ঘোষণার দাবী নিয়ে বিজেপি

বহু প্রতীক্ষিত সপ্তদশ লোকসভা ভোটের নির্ঘন্ট প্রকাশিত হয়ে গিয়েছে গত রবিবার এবং ভোটের দিনক্ষণ জানার পর থেকেই প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করা নিয়ে চূড়ান্ত ব্যস্ততা দেখিয়েছে ভোটে অংশগ্রহণকারী বিভিন্ন রাজনৈতিক দলগুলো। তড়িঘড়ি করে রাজ্যের শাসকদল সবার আগে চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করে প্রচার পর্বে বাকিদের তুলনায় এক ধাপ এগিয়ে গিয়েছে। দেওয়াল লিখন থেকে শুরু করে প্রচার মিছিল যেখানে শুরু করে দিয়েছে তৃণমূল, সেখানে বিজেপি বামফ্রন্ট বা কংগ্রেস এখনো প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করতে পারল না।

তবে শাসকদলকে অস্বস্তিতে ফেলে নির্বাচন কমিশনে গোটা বাংলাকে ‘অতিস্পর্শকাতর’ ঘোষণার দাবী জানিয়েছে বিজেপি। গত পঞ্চায়েত নির্বাচনের উদাহরণ টেনে পশ্চিমবঙ্গের বর্তমান আইনশৃঙ্খলার বিরুদ্ধে জাতীয় নির্বাচন কমিশনে গিয়ে অভিযোগ জানিয়ে এসেছেন বিজেপির প্রতিনিধিরা। এদিন কমিশনের অফিস থেকে বেরিয়ে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী রবিশংকর প্রসাদ জানান,পশ্চিমবঙ্গ সরকারের বিরুদ্ধে একগুচ্ছ অভিযোগ জানিয়ে এসেছেন তাঁরা। তাঁদের অভিযোগ, গত পঞ্চায়েত নির্বাচনে অগণতান্ত্রিক ভাবে ভোট হয়েছে বাংলায়। সন্ত্রাসকে হাতিয়ার করে বাংলার ভোট লুট করেছে শাসকদল।

হাতের মুঠোয় আরও সহজে প্রিয় বন্ধু মিডিয়ার খবর পেতে যোগ দিন –

১. আমাদের Telegram গ্রূপ – ক্লিক করুন
২. আমাদের WhatsApp গ্রূপ – ক্লিক করুন
৩. আমাদের Facebook গ্রূপ – ক্লিক করুন
৪. আমাদের Twitter গ্রূপ – ক্লিক করুন
৫. আমাদের YouTube চ্যানেল – ক্লিক করুন

কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর আরও অভিযোগ, তার জেরে রাজ্যের ৩৪% আসন জয় করেছিল তৃণমূল। আর সেজন্যেই সুষ্ঠু এবং অবাধ নির্বাচনের স্বার্থে পশ্চিমবঙ্গের সমস্ত বুথকে অতি স্পর্শকাতর ঘোষণা করার পাশাপাশি প্রতিটি বুথে কেন্দ্রীয় বাহিনীও মোতায়েন করার দাবী করেছেন তাঁরা। শুধু তাই নয়, কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েনের উপর নজরদারির জন্যে কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষক নিয়োগের কথাও কমিশনকে বলেছে বিজেপি। এদিনের বৈঠকে সংবাদমাধ্যমের প্রসঙ্গও উঠে এসেছ বলে জানালেন রবিশংকর।

বিজেপির দাবী, রাজ্যের শাসকদলের চাপেই ঠিকঠাক সংবাদ পরিবেশন করতে পারছে না বাংলার সংবাদমাধ্যম। নানানভাবে সংবাদমাধ্যম গুলোকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করছে তৃণমূল। আর সেজন্যেই বাংলার সংবাদমাধ্যমকে স্বাধীনতা দেওয়ার জন্য মিডিয়া অবজারভার নিয়োগ করারও দাবী জানিয়েছেন তাঁরা। প্রসঙ্গত, নির্বাচন কমিশনে যাওয়া বিজেপির প্রতিনিধি দলে ছিলেন কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক কৈলাস বিজয়বর্গীয়, তিন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী রবিশংকর প্রসাদ, জেপি নাড্ডা, নির্মলা সীতারমণ ও রাজ্য বিজেপির নেতা মুকুল রায়। সূত্রের খবর, নির্বাচন কমিশনে বিজেপি শুধু রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে নালিশ জানিয়েই আসেনি,উপযুক্ত তথ্য প্রমাণও দিয়ে এসেছে।

গত পঞ্চায়েত নির্বাচনের বিভিন্ন তথ্য ও ভিডিও ক্লিপিংস কমিশনের সামনে পেশ করেছে। যুক্তি দেখিয়েছে, একটি পঞ্চায়েত নির্বাচনে যদি এরাজ্যে একশোর বেশি মানুষের প্রাণ যায় তাহলে লোকসভা ভোটের মতো গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনে পরিস্থিতি কতেটা ভয়াবহ হতে পারে! এসব তথ্য তুলে ধরেই নির্বাচন কমিশনের কাছে বাংলাকে ‘অতি স্পর্শকাতর’ বলেই ঘোষণা করার দাবী করেছেন গেরুয়া শিবিরের প্রতিনিধিরা। তবে রাজ্য মুখ্য নির্বাচন কমিশনের তরফে যে রিপোর্ট জমা পড়েছে তাতে বলা হয়েছে পশ্চিমবঙ্গে কোনো স্পর্শকাতর লোকসভা কেন্দ্র নেই! কাজেই বিজেপির দাবী আদৌ পূরণ হবে কিনা বা হলেও কতোটা হবে তা নিয়ে যথেষ্ট সংশয় রয়েছে রাজনৈতিক মহলে।

Top
error: Content is protected !!