এখন পড়ছেন
হোম > রাজ্য > মালদা-মুর্শিদাবাদ-বীরভূম > মালদার দুই আসনেই লড়াইটা কংগ্রেস বনাম বিজেপি – মেনে নিচ্ছেন হেভিওয়েট পিতা-পুত্র কংগ্রেস প্রার্থীরাই

মালদার দুই আসনেই লড়াইটা কংগ্রেস বনাম বিজেপি – মেনে নিচ্ছেন হেভিওয়েট পিতা-পুত্র কংগ্রেস প্রার্থীরাই

আসন্ন লোকসভা নির্বাচনে একদা কংগ্রেসের গড় বলে পরিচিত মালদহে তৃণমূলের সাথে বিজেপিরই লড়াই হবে বলে রাজ্যের শাসকদলের পক্ষ থেকে দাবি করা হলেও এবার মনোনয়নপত্র জমা দিতে গিয়ে উত্তর এবং দক্ষিণ মালদহের দুই কংগ্রেস প্রার্থী তথা গনি পরিবারের সদস্য আবু হাসেম খান চৌধুরী এবং তার পুত্র ঈসা খান চৌধুরী পাল্টা এই ব্যাপারে তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে তোপ দেগে আসন্ন লোকসভা নির্বাচনে মালদহে মূল লড়াই কংগ্রেসের সাথে বিজেপির হবে বলে জানিয়ে দিলেন।

সূত্রের খবর, গতকাল রীতি অনুযায়ী প্রথমেই কোতোয়ালি ভবন থেকে বেরিয়ে উত্তর এবং দক্ষিণ মালদহের দুই কংগ্রেস প্রার্থী অর্থাৎ বাবা এবং ছেলে আবু হাসেম খান চৌধুরী এবং ঈশা খান চৌধুরী মিলে গনি খান চৌধুরীর মাজারে গিয়ে প্রথমে চাদর জড়িয়ে মালদহের জাগ্রত কালী মন্দির মনস্কামনা দেবীর মন্দিরে গিয়ে পুজো দিয়ে সেই ডালু বাবু অর্থাৎ আবু হাসেম খান চৌধুরীর গাড়িতে করে মনোনয়নপত্র জমা দিতে আসেন।

প্রিয় বন্ধু মিডিয়ার খবর আরও সহজে হাতের মুঠোয় পেতে যোগ দিন আমাদের যে কোনও এক্সক্লুসিভ সোশ্যাল মিডিয়া গ্রূপে। ক্লিক করুন এখানে – টেলিগ্রামফেসবুক গ্রূপ, ট্যুইটার, ইউটিউবফেসবুক পেজ

যোগ দিন আমাদের হোয়াটস্যাপ গ্রূপে – ক্লিক করুন এখানে

প্রিয় বন্ধু মিডিয়ায় প্রকাশিত খবরের নোটিফিকেশন আপনার মোবাইল বা কম্পিউটারের ব্রাউসারে সাথে সাথে পেতে, উপরের পপ-আপে অথবা নীচের বেল আইকনে ক্লিক করে ‘Allow‘ করুন।


আপনার মতামত জানান -

কিন্তু একদা কংগ্রেসের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত মালদহে কংগ্রেস প্রার্থীদের মনোনয়ন প্রক্রিয়ায় সেই রকম ভাবে কোনো মিছিল লক্ষ্য করা যায়নি। কিন্তু কোনোরূপ জমায়েত করে তারা যে মিছিল করবেন না, তা আগেই তারা ঘোষণা করে দিয়েছিলেন। আর সেই মতই তারা এদিন মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন বলে জানান মালদহ জেলা কংগ্রেসের কার্যকরী সভাপতি তথা বিধায়ক অর্জুন হালদার।

এদিকে মনোনয়নপত্র জমা দিয়ে বেরিয়ে উত্তর এবং দক্ষিণ মালদহের দুই কংগ্রেস প্রার্থী আবু হাসেম খান চৌধুরী এবং তার পুত্র ঈসা খান চৌধুরীর গলায় মূল প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে বিজেপিই রয়েছে বলে শোনা গেল। সূত্রের খবর, এদিন এই প্রসঙ্গে দক্ষিণ মালদহের কংগ্রেস প্রার্থী তথা প্রদেশ কংগ্রেসের কার্যকরী সভাপতি আবু হাসেম খান চৌধুরী বলেন, “আমাদের সঙ্গে তো বিজেপি লড়াই হচ্ছে। তৃণমূলকে আমরা প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে ধরছি না। কেন্দ্রে বিজেপি ক্ষমতায় আছে। কিন্তু এবার বিজেপিকে পরাজিত করে কেন্দ্রে আমরাই সরকার করব। উত্তর এবং দক্ষিণ মালদহের দুটি আসনেই কংগ্রেস জিতবে।”

অন্যদিকে একই কথা শোনা গেছে উত্তর মালদহের কংগ্রেস প্রার্থী ইশা খান চৌধুরীর গলায়। এদিন তিনি বলেন, “দ্বিতীয় এবং তৃতীয় কে হবে সেগুলো বিজেপি ও অন্যান্য দল মিলে ঠিক করুক। কিন্তু মালদহের দুটি লোকসভা কেন্দ্রেই কংগ্রেস এক নম্বরে থাকবে।” এদিকে সম্প্রতি কংগ্রেস ছেড়ে তৃণমূলে যোগ দেওয়া তথা বর্তমানে উত্তর মালদহের লোকসভা কেন্দ্রের প্রার্থী মৌসম বেনজির নূর সম্পর্কে ইশা খান চৌধুরীর বোন হয়।

এদিন সেই মৌসম নুর সম্পর্কে ঈশা বলেন, “গত 10 বছরে রাজ্য সরকার উত্তর মালদহের কোনো উন্নয়ন করেনি। মৌসম কেন ভুল করে ওই দলে গেল আমি জানি না। মানুষ এবার কংগ্রেসকে জিতিয়ে ওর যে ভুল হয়েছে তা প্রমাণ করে দেবে।” এদিকে তৃণমূলের বদলে বিজেপিকেই মালদহ জেলার দুই লোকসভা কেন্দ্রে কংগ্রেস প্রার্থীরা মূল প্রতিদ্বন্দ্বী মনে করলে এদিন সেই ব্যাপারে পাল্টা মুখ খুলে মালদহ জেলা তৃণমূলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি বাবলা সরকার বলেন, “ডালুবাবু বয়সের কারণে এসব বলছেন। আমরা ওনাকে দোষ দিচ্ছি না। বাংলা তথা মালদহের মানুষ জানে বিজেপিকে প্রতিরোধ করতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দরকার। আমরা মনে করি এখানকার মূল লড়াই সম্প্রদায়িক বিজেপির সঙ্গে আমাদের তৃণমূলের। ওনারা শুধুই ভোটের অংক জটিল করতে প্রার্থী হচ্ছেন।” সব মিলিয়ে এবার মালদহে লোকসভা নির্বাচনে কে কার মূল প্রতিদ্বন্দ্বি তা নিয়ে প্রবল তরজায় তৃণমূল বনাম কংগ্রেস।

আপনার মতামত জানান -
Top