এখন পড়ছেন
হোম > রাজ্য > নদীয়া-২৪ পরগনা > বিজেপি ছেড়ে ফের ঘরে ফিরেই দায়িত্ব কাঁধে তুলল কাউন্সিলররা, তাও পুরসভা নিয়ে বড়সড় দাবি মুকুল পুত্রের

বিজেপি ছেড়ে ফের ঘরে ফিরেই দায়িত্ব কাঁধে তুলল কাউন্সিলররা, তাও পুরসভা নিয়ে বড়সড় দাবি মুকুল পুত্রের

এক সময় বঙ্গ রাজনীতির নজর কেড়েছিল সিঙ্গুর এবং নন্দীগ্রাম। কৃষিজমি বনাম শিল্পের দ্বন্দ্বে তখন উত্তাল বঙ্গসমাজ। রাজনীতির আনাচে-কানাচে কিংবা সুশীল সমাজের মধ্যে তখন ন্যায়-অন্যায়ের চুলচেরা বিশ্লেষণ চলছে। আর এই সব কিছুর মধ্যেই সিঙ্গুর নন্দীগ্রাম আন্দোলনের নেতৃত্ব দিতে ঝাঁপিয়ে পড়েন তদানীন্তন বিরোধী নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তৃণমূল নেত্রী সেইসময় নির্ভীকভাবে কৃষকদের পাশে থেকে যে লড়াই করেছিলেন তার সুফলও পান তিনি। গত 2011 সালের নির্বাচনে বাংলার মসনদের অধিশ্বরী হন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

এর পরে তিস্তা, গঙ্গা, হুগলি, ভাগীরথী দিয়ে অনেক জল বয়ে গেছে। 11 থেকে 19 এর মধ্যে মমতা সরকারের 8 বছর পূর্তি হতে চলেছে। কিন্তু কথায় আছে, ইতিহাস তার নিজের পরিমন্ডলে বারবার ঘুরে আসে। একদা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দল তৃণমূল কংগ্রেসের খাসতালুক হিসেবে পরিচিত ছিল বীজপুর, ভাটপাড়া, হালিশহর ইত্যাদি জায়গাগুলো। কিন্তু একদা তৃণমূলের সেকেন্ড ইন কমান্ড নামে পরিচিত মুকুল রায় বিজেপিতে যোগদানের পর থেকেই পরিবর্তিত হয় ছবিটি।

প্রথমদিকে অবশ্য তৃণমূলের ঘরে তেমন ভাঙন ধরাতে পারেননি বঙ্গ বিজেপির চাণক্য। যা নিয়ে বিস্তর আলোচনা হয়। তৃণমূলের নেতারা নানান রকম মন্তব্য করেন। কেউ বলেন, কাঁচরাপাড়ার কাচা ছেলে, আবার কেউ বা বলেন, বুড়োভাম। আর বেইমান, মীরজাফর ইত্যাদি নামে তো বহুবারই ভূষিত হয়েছেন তিনি। কিন্তু মুকুলবাবু বলেছিলেন, ব্যাট হাতে মাঠে থাকলে রান আসবেই। আর তা প্রমানও করে দেন তিনি।

2019 সালের লোকসভা নির্বাচনের পূর্বে একদিকে যেমন অনুপম হাজরা, সৌমিত্র খাঁদের মত তৃণমূল সাংসদদের দলে এনে রাজ্যের শাসক শিবিরকে জোর ধাক্কা দেন তিনি, অন্যদিকে সদ্যসমাপ্ত লোকসভা নির্বাচনে বিজেপিকে এক ধাক্কায় দুই থেকে আঠেরোটি আসনে জয় লাভ করিয়ে তৃণমূলের রাতের ঘুম উড়িয়ে নেন মুকুলবাবু। আর এরপর তো সবকিছু এমনভাবেই হতে থাকে যেন সব পূর্বপরিকল্পিতই ছিল। দলত্যাগের পর ভাটপাড়াতে যেই অর্জুন সিংকে মুকুলের বিরুদ্ধে সবচেয়ে বেশি আওয়াজ তুলতে দেখা গিয়েছিল, 2019 সালের নির্বাচনে দীনেশ ত্রিবেদীর সঙ্গে লড়াইয়ে নিজের দল তৃণমূলের কাছ থেকে টিকিট না পেয়ে সেই মুকুল রায়ের হাত ধরে বিজেপিতে নাম লেখান ভাটপাড়া এই বাহুবলী। যার পর ব্যারাকপুরে লোকসভা নির্বাচনে তিনি জয়লাভও করেন।

ফেসবুকের কিছু টেকনিক্যাল প্রবলেমের জন্য সব আপডেট আপনাদের কাছে সবসময় পৌঁচ্ছাছে না। তাই আমাদের সমস্ত খবরের নিয়মিত আপডেট পেতে যোগদিন আমাদের হোয়াটস্যাপ বা টেলিগ্রাম গ্রূপে।

১. আমাদের Telegram গ্রূপ – ক্লিক করুন
২. আমাদের WhatsApp গ্রূপ – ক্লিক করুন
৩. আমাদের Facebook গ্রূপ – ক্লিক করুন
৪. আমাদের Twitter গ্রূপ – ক্লিক করুন
৫. আমাদের YouTube চ্যানেল – ক্লিক করুন

এরপর থেকেই তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়তে থাকে ভাটপাড়া, বীজপুর ইত্যাদি জায়গার তৃনমূলের দলীয় সংগঠন। পরিস্থিতি এমন হয়ে যায় যে দখল হয়ে যাওয়া পার্টি অফিসকে পুনরুদ্ধার করতে পথে নামতে হয় স্বয়ং তৃণমূল নেত্রী মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে। তারপর অবশ্য পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হয়। বীজপুরে সাসপেন্ড তৃণমূল বিধায়ক মুকুল পুত্র শুভ্রাংশু রায় প্রত্যাশিতভাবেই যখন বিজেপিতে যোগ দেয়, তখন দিল্লিতে হালিশহরের 9 জন কাউন্সিলরকে নিয়ে তাদের গলাতেও গেরুয়া উত্তরীয় প্রদান করেন শুভ্রাংশু। কিন্তু কথায় আছে, ওস্তাদের মার শেষ রাতে। তাই মাস ঘুরতে না ঘুরতেই হালিশহরের সেই দল থেকে বিজেপিতে যোগ দেওয়া কাউন্সিলরদেরকে ঘরে ফেরাল তৃণমূল কংগ্রেস।

সূত্রের খবর, গত মঙ্গলবারই বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে দেখা করেন ঘরে ফেরা 9 জন কাউন্সিলর। সঙ্গে ছিলেন শীর্ষ নেতৃত্বরাও। এদিন নেত্রী তাদেরকে জানান, যে সমস্ত কাউন্সিলররা ঘরে ফিরছেন তাদের পাশে দল সব সময় থাকবে এবং তাদেরকে নির্ভয় কাজ করার পরামর্শ দেন তৃণমূল নেত্রী তথা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আর এরপরই এদিন 12 জন কাউন্সিলরদেরকে নিয়ে সপার্ষদ হালিশহরের পৌরসভা ভবনে প্রবেশ করতে দেখা যায় পৌরপ্রধান অংশুমান রায়কে।

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, 23 সদস্য বিশিষ্ট হালিশহর পৌরসভার তিনজন কাউন্সিলর বরাবরই তৃণমূলের সঙ্গে ছিল। তারা কখনই দল পরিবর্তন করেনি। একজন কাউন্সিলর সরাসরি বিজেপির টিকিটে নির্বাচনে জিতে এসেছে, একজন নির্দল। তাই 9 জন কাউন্সিলর পুনরায় ঘরে ফিরে আসাতে তৃণমূলের সংখ্যা 12 তে এসে দাড়ায়। যা পুরবোর্ড গঠনের জন্য পর্যাপ্ত। জানা যায়, এদিন পৌরসভায় প্রবেশ করে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন অংশুমান রায়। তার সঙ্গে ছিলেন পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য তৃণমূল ছাত্র পরিষদের সভাপতি তৃণাঙ্কুর ভট্টাচার্য।

পুরপ্রধান অংশুমান রায় এদিন সাংবাদিকদেরকে বলেন, “ভাটপাড়ায় লাগাতার সন্ত্রাসের আবহাওয়ায় বিজেপির অকথ্য অত্যাচারের মুখে কাউন্সিলররা দল ত্যাগ করতে বাধ্য হয়। কিন্তু মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ছাড়া তারা থাকতে পারছিলেন না। জনগণের দ্বারা নির্বাচিত কাউন্সিলররা বিজেপিতে যোগদানের পর কাজ করতে পারছিলেন। যা তাদের পক্ষে অত্যন্ত কষ্টের।” দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এদিন বড় দিদির মতো মাতৃসুলভভাবে তাদের সকল দোষ ত্রুটি ক্ষমা করে ঘরে ফিরিয়ে নিয়েছেন তার জন্য তারা দলনেত্রীর কাছে কৃতজ্ঞ বলেও এদিন জানান সেই অংশুমান বাবু।

কিন্তু তিনি যাই বলুক না কেন, এদিনের ঘরে ফেরা তৃণমূল কাউন্সিলরদের পৌরসভা অভিযানকে পাল্টা কটাক্ষ করতে ছাড়েননি ভাটপাড়ার বিজেপি সাংসদ অর্জুন সিংহ। অর্জুন বাবু বলেন, “অনাস্থা প্রস্তাব আনা হবে পৌরপ্রধানের বিরুদ্ধে। আর ভোটাভুটিতে ভাটপাড়ার পুনরাবৃত্তি ঘটবে।” একইভাবে আরও এক কাঠি উপরে উঠে মুকুল পুত্র বীজপুরের বিধায়ক শুভ্রাংশু রায় বলেন, “ভোটাভুটি হলে পৌরপ্রধান হেরে যাবেন এবং বোর্ড বিজেপি গঠন করবে।”

কিন্তু বিজেপি নেতাদের এই সমস্ত কথায় আমল দিতে নারাজ অংশুমান রায়। এদিন তিনি বলেন, “বোর্ড গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় 12 জন কাউন্সিলর আমার পাশে বসে আছে। তাই কে কি বলল তাতে কিছু যায় আসে না।” বিজেপি নেতাদের কোনো ব্যাখ্যাকেই যে তিনি পাত্তা দিতে নারাজ, তা এদিন স্পষ্টভাবে জ্বালিয়ে দেন হালিশহরের পৌরপ্রধান। কিন্তু দলবদল ঘরে ফেরা আবার দলবদল ইত্যাদি নিয়ে সারা বাংলার পাশাপাশি উত্তর 24 পরগনা যে রাজনৈতিক ভাবে ক্রমশই মুখোরোচক হয়ে উঠছে, সেই বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই রাজনৈতিক মহলের।

Top
error: Content is protected !!