এখন পড়ছেন
হোম > রাজ্য > কলকাতা > তৃণমূলের ‘অত্যাচারের’ বর্ণনা নয়, রাজ্য বিজেপির কাছে এবার ‘কাজ’ চায় কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব!

তৃণমূলের ‘অত্যাচারের’ বর্ণনা নয়, রাজ্য বিজেপির কাছে এবার ‘কাজ’ চায় কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব!

অভাব অভিযোগ অনেক হল – এবার সময় এসেছে ‘কাজে’ করে দেখানোর! গেরুয়া শিবিরের কেন্দ্রীয় থিঙ্কট্যাঙ্ক কার্যত এই ভাষাতেই এবার নির্দেশিকা দিল বঙ্গ-বিজেপিকে! দুটি ঘটনা – আর তাতেই নিশ্চিত, বিজেপি কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব আর শাসকদলের ‘অত্যাচারের’ বর্ণনা শুনতে খুব একটা রাজি নয়! বদলে কিভাবে বাংলায় সংগঠন সাজানো হবে ও তার পরিপ্রেক্ষিতে বাংলায় ক্ষমতা দখল করে জনগণকে উন্নয়ন পৌঁছে দিতে পারবে গেরুয়া শিবির – সেই নীল নকশাই এবার জানতে চাইছে গেরুয়া শিবিরের কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব।

প্রথমে, এই ইঙ্গিতটা দেন সঙ্ঘের প্রধান মোহন ভাগবত। কলকাতায় এসে তিনি দিলি ঘোষদের স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দেন – তৃণমূল বিরোধিতা ছাড়া রাজ্য বিজেপির প্ল্যান-বি কি? আর এরপরেই, কার্যত একই সুরে কথা বলেছেন বিজেপির সর্বভারতীয় কার্যকরী সভাপতি জেপি নাড্ডাও। তিনিও, তাঁর বঙ্গ সফরে দলীয় নেতাদের যে ইঙ্গিত – তা কার্যত মোহন ভাগবতের কথাতেই সিলমোহর দিয়েছে। দিল্লি সূত্রের খবর, উৎসবের মরশুম পেরোলেই – এই নিয়ে আরও স্পষ্টভাবে বার্তা আসতে চলেছে রাজ্য বিজেপির জন্য।

2019 এর লোকসভা ভোটের পর থেকে বিজেপি তৃণমূলের বিরুদ্ধে একনাগাড়ে প্রচার চালিয়ে গেছে। তবে তৃণমূলের বিরুদ্ধে বলতে গিয়ে একই কথা বিজেপি বারবার বলে চলেছে। তৃণমূলের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক হিংসা ছড়ানোর কথা বিজেপি প্রথম থেকেই বলে আসছে। তবে কেন্দ্রীয় স্তরের নেতারা কিন্তু বুঝেছেন শুধুমাত্র তৃণমূল বিরোধিতা করলেই এ রাজ্যে মাটি পাওয়া যাবে না। এ রাজ্যে টিকে থাকতে গেলে করতে হবে কাজ। আর তাই সেই পথেই এবার বিজেপি নেতাদের চলার ও করার নির্দেশ আসতে চলেছে খুব শীঘ্রই বলে সূত্রের খবর।

প্রসঙ্গত, কলকাতার সুইস হোটেলের বৈঠকে এই নিয়ে কার্যত দিকনির্দেশ ঠিক করে দিয়েই গেছেন বিজেপির কার্যকরী সভাপতি জে পি নাড্ডা। সেই বৈঠকে রাজ্যের নেতা নেত্রীদের স্পষ্ট করে তিনি জানিয়ে গেছেন, এরাজ্যে টিকে থাকতে গেলে কাজ করতে হবে, বিজেপি কি করছে তার খতিয়ান দিতে হবে। এছাড়াও, রাজ্যের উচ্চস্তরের বিজেপি নেতা-নেত্রীদের তৃণমূল স্তরে নেমে কাজ করতে হবে। সংগঠন তৈরিতে সাহায্য করতে হবে বলেও তিনি জানিয়ে যান।

ফেসবুকের কিছু টেকনিক্যাল প্রবলেমের জন্য সব আপডেট আপনাদের কাছে সবসময় পৌঁচ্ছাছে না। তাই আমাদের সমস্ত খবরের নিয়মিত আপডেট পেতে যোগদিন আমাদের হোয়াটস্যাপ বা টেলিগ্রাম গ্রূপে।

১. আমাদের Telegram গ্রূপ – ক্লিক করুন
২. আমাদের WhatsApp গ্রূপ – ক্লিক করুন
৩. আমাদের Facebook গ্রূপ – ক্লিক করুন
৪. আমাদের Twitter গ্রূপ – ক্লিক করুন
৫. আমাদের YouTube চ্যানেল – ক্লিক করুন

প্রিয় বন্ধু মিডিয়ায় প্রকাশিত খবরের নোটিফিকেশন আপনার মোবাইল বা কম্পিউটারের ব্রাউসারে সাথে সাথে পেতে, উপরের পপ-আপে অথবা নীচের বেল আইকনে ক্লিক করে ‘Allow‘ করুন।


আপনার মতামত জানান -

সঙ্ঘ প্রধান মোহন ভাগবত যখন কলকাতায় এসে রাজ্য বিজেপি নেতাদের কাছে জানতে চান, যে তৃণমূল বিরোধিতা ছাড়া রাজ্য দখলের জন্য তাঁদের অন্য পরিকল্পনা কি? তখন কার্যত নিশ্চুপ ছিলেন রাজ্যনেতারা বলে জানা গেছে। আর এরপরেই নড়েচড়ে বসেন বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। অন্যদিকে, জে পি নাড্ডা একসময় পশ্চিমবঙ্গে থেকেই বিজেপির সাংগঠনিক কাজ করেছেন। ফলে, তিনি খুব ভালোভাবে পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতির অলিগলি চেনেন।

সেই তিনিও যখন বাংলায় প্রথম সফরে এসেই স্পষ্ট ইঙ্গিত দিয়েছেন, পশ্চিমবঙ্গে যদি বিজেপি সংগঠন না ঠিক হয়, তাহলে শাসক দলের সাথে এঁটে ওঠা কোনোমতেই সম্ভব নয় – তারপরেই আর কালক্ষেপ করতে রাজি নয় গেরুয়া শিবির। বঙ্গ-বিজেপির জন্য সুনির্দিষ্ট দিকনির্দেশ ঠিক করতে আসরে নেমে পড়েছেন কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। এমনকি, আগামী দিনে বঙ্গ নেতাদের কাছে বিজেপি কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব ঠিক কি চাইছেন, তা অনেকটাই স্পষ্ট হয়ে গেছে জেপি নাদ্দার কথায়।

কলকাতায় এসে রাজ্য বিজেপি নেতৃত্বের সাথে বৈঠকে বসেন জে পি নাড্ডা। বৈঠকের প্রথমেই তিনি স্পষ্ট বার্তা দেন, তৃণমূল কি করেছে না করেছে সে কথা তিনি শুনতে চান না। অপ্রাসঙ্গিক কথা না বলে সংগঠনের কাজ কতদূর এগিয়েছে সেটাই তিনি জানতে চান। তাঁর কাছে পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা দখল করতে গেলে বিজেপির সংগঠনকে আরও শক্তিশালী হতে হবে সে কথা স্পষ্ট। যা কার্যত মোহন ভাগবতের কথার পুনরাবৃত্তি। অর্থাৎ সঙ্ঘ ও বিজেপি কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব বাংলা নিয়ে কার্যত একই পথে ভাবছে – তা আপাতত স্পষ্ট।

অন্যদিকে, জেপি নাড্ডা রাজ্যের নেতাদের স্পষ্ট ভাষায় নির্দেশ দেন তাদেরকে বুথ ভিত্তিক সংগঠন তৈরি করতে হবে এবং কাজ কিভাবে এগোচ্ছে সে বিষয়ে তাঁকে বিস্তারিত রিপোর্ট জানাতে হবে। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, রাজ্যে লোকসভা ভোটের পর এ রাজ্যের বিজেপি নেতৃত্বের মধ্যে যেন আত্মম্ভরিতা না দেখা যায় তা স্পষ্ট করতে চায় কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। সবমিলিয়ে বলা যায়, 2021 এর বিধানসভা ভোটের লক্ষ্যে পদ্ম শিবির যে রীতিমতো আদাজল খেয়ে উঠে পড়ে লেগেছে, সে কথা পরিষ্কার বোঝা যাচ্ছে।

কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব লোকসভা ভোটের পর থেকেই পশ্চিমবঙ্গের ওপর কড়া নজর রেখেছে – তা মোহন ভাগবত ও জেপি নাড্ডার কথাতেই বোঝা যাচ্ছে। সমগ্র পরিস্থিতির ওপর নজর রেখে রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মত, 2021-এর বিধানসভা নির্বাচনে জয় পেতে মরিয়া বিজেপি কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। কিন্তু, যে পথে বঙ্গ-বিজেপি সেই কাঙ্খিত লক্ষ্যে পৌঁছাতে চাইছে, তা পিচ্ছিল হতে পারে। আর তাই এখন থেকেই সেই পিচ্ছিল পথ বদলে নিশ্চিত পথকে আঁকড়ে ধরার কথা নিশ্চিত করতে চাইছে গেরুয়া শিবিরের অভিজ্ঞ কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব।

আপনার মতামত জানান -
Top
error: Content is protected !!