এখন পড়ছেন
হোম > রাজ্য > কলকাতা > উপনির্বাচনে ভরাডুবি হতেই ব্যাপক সাংগঠনিক রদবদলের পথে বিজেপি! দায়িত্বে এবার সংখ্যালঘু মুখও

উপনির্বাচনে ভরাডুবি হতেই ব্যাপক সাংগঠনিক রদবদলের পথে বিজেপি! দায়িত্বে এবার সংখ্যালঘু মুখও

 

লোকসভা নির্বাচনে বাংলায় বিজেপি জয়লাভ করেছিল মোদি হাওয়ার উপর ভর করে। 18 টি আসন পেয়ে বিজেপির আত্মপ্রত্যয় চরম পরিমাণে বৃদ্ধি পেয়েছিল। লোকসভার পর রাজ্যে চলে আসা তিন বিধানসভা উপনির্বাচনে বিজেপি উপলব্ধি করেছিল, তারা এমনিতেই এই উপ নির্বাচনের বৈতরণী পার হয়ে যাবে। কিন্তু বিজেপি নেতাদের সেই কল্পনাকে মিথ্যে করে দিয়ে সংগঠন না থাকলে যে রাজ্যের নির্বাচনে জয়লাভ করা যায় না, তা স্পষ্ট হয়ে গেছে।

যার কারণে করিমপুর, খড়গপুর এবং কালিয়াগঞ্জ তিন কেন্দ্রেই বিজেপিকে হারিয়ে জয়লাভ করেছে তৃণমূল কংগ্রেস। তবে তিন উপনির্বাচনে হারের পর লোকসভার ভোটব্যাংক বৃদ্ধিকে কিছুটা দূরে সরিয়ে রেখে এবার সংগঠনকে জোরদার করতে শুরু করল ভারতীয় জনতা পার্টি। উপনির্বাচনে হারের পরেই এবার নদীয়া জেলায় বিজেপির মন্ডল সভাপতি গঠনে প্রবল জোর দিতে দেখা গেল।

বস্তুত, করিমপুরে উপনির্বাচনের কারণেই বিজেপির সাংগঠনিক নির্বাচন প্রক্রিয়া বন্ধ ছিল। তবে উপনির্বাচনে হারের পর দলকে যে সাংগঠনিকভাবে শক্তিশালী করতে হবে, তা পরোতে পরোতে উপলব্ধি করেছে বিজেপি নেতৃত্ব। আর তাইতো এবার নদীয়া জেলায় সংগঠনকে চাঙ্গা করতে পথে নামল গেরুয়া শিবির। জানা গেছে, নদীয়া সাংগঠনিক জেলা উত্তরে মোট 35 টি মন্ডলের মধ্যে 14 টিতে নতুন মন্ডল সভাপতি করা হয়েছে। পাশাপাশি করিমপুর 2 ব্লকের যে অঞ্চল বিজেপি অত্যন্ত কম ভোট পেয়েছে বিধানসভা উপনির্বাচনে, সেখানেও বদলানো হয়েছে মন্ডলে সভাপতি।

অন্যদিকে চাপরার মত এলাকায় বিজেপির মন্ডল সভাপতি হিসেবে এক সংখ্যালঘু মহিলাকে বসিয়ে দিয়েছে। বিজেপি সূত্রের খবর, জেলা পরিষদের 7 নম্বর মণ্ডলের সভাপতি দীপক বিশ্বাসকে সরিয়ে দীপক মজুমদারকে করা হয়েছে। 9 নম্বর মণ্ডলে বৃন্দাবন বিশ্বাস, 11 নম্বর মণ্ডলে দীনবন্ধু ঘোষ, 16 নম্বর মণ্ডলে বাবলু ঘোষ, 17 নম্বর মণ্ডলের জগন্নাথ মিত্র, 18 নম্বর মণ্ডলে বেবিনা খাতুন এবং 19 নম্বর মণ্ডলে নবকুমার পালকে বসানো হয়েছে।

শুধু তাই নয়, 23, 25-26-27 এবং 2 নম্বর মণ্ডলের সভাপতিত্বেও বদল এনেছে বিজেপি। তবে এতসব কিছুর মধ্যে 18 নম্বর মন্ডল সভাপতি পদে বিজেপি এক সংখ্যালঘু মহিলা মুখ দেওয়ায় তীব্র জল্পনা সৃষ্টি হয়েছে। অনেকে বলছেন, করিমপুর সংখ্যালঘু প্রবণ এলাকা।

প্রিয় বন্ধু মিডিয়ার খবর আরও সহজে হাতের মুঠোয় পেতে যোগ দিন আমাদের যে কোনও এক্সক্লুসিভ সোশ্যাল মিডিয়া গ্রূপে। ক্লিক করুন এখানে – টেলিগ্রাম, হোয়াটস্যাপ, ফেসবুক গ্রূপ, ট্যুইটার, ইউটিউবফেসবুক পেজ

প্রিয় বন্ধু মিডিয়ায় প্রকাশিত খবরের নোটিফিকেশন আপনার মোবাইল বা কম্পিউটারের ব্রাউসারে সাথে সাথে পেতে, উপরের পপ-আপে অথবা নীচের বেল আইকনে ক্লিক করে ‘Allow‘ করুন।


আপনার মতামত জানান -

সেদিক থেকে নদীয়া জেলায় অনেক সংখ্যালঘু মানুষের বসবাস হওয়ায় বিজেপি এই সংখ্যালঘুকে পথ দিয়ে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষদের নিজেদের দিকে টানার চেষ্টা করছে। আর উপনির্বাচনের হারের পর বিজেপির এই মন্ডল সভাপতি পরিবর্তনের ব্যাপারটিকে অন্যভাবেই দেখছেন বিশেষজ্ঞরা।

অনেকে বলছেন, বর্তমানে বিজেপি তিন বিধানসভা উপনির্বাচনে কেন হারল, তা নিয়ে জোর পর্যালোচনা চলছে। তবে পর্যালোচনায় প্রাথমিকভাবে যা উঠে এসেছে, তা হল সাংগঠনিক দুর্বলতা। তাই সেই সাংগঠনিক দুর্বলতা কাটাতে নদীয়া জেলায় সংগঠনকে শক্তিশালী করার জন্য বিজেপির এই একগুচ্ছ সিদ্ধান্ত। এদিন এই প্রসঙ্গে নদিয়া উত্তর সাংগঠনিক জেলা বিজেপির সভাপতি মহাদেব সরকার বলেন, “একেবারে শান্তিপূর্ণভাবেই আমাদের মন্ডল সভাপতিরা নির্বাচন হয়েছেন। 35 জনের মধ্যে 14 জন নতুন মন্ডল সভাপতি হয়েছেন। বাকিরা নির্বাচনে জিতে আগেই পদে রয়েছেন। এর মধ্যে সবথেকে উল্লেখযোগ্য বেবিনা খাতুন। ওর মত একজন সংখ্যালঘু মুখ সামনে আশায় আমরাও খুশি।”

আর বিজেপি নেতৃত্বের এই কথা থেকেই স্পষ্ট, তিন বিধানসভা নির্বাচনে হারের পর বিজেপি এখন উপলব্ধি করতে শুরু করেছে, সংগঠন না থাকলে বাংলায় ভালো ফল করা সম্ভব নয়। ফলে নদীয়া জেলায় মন্ডল সভাপতি পদে সংখ্যালঘু এবং একগুচ্ছ মন্ডল সভাপতি পরিবর্তন করে বিজেপি জয়ের পথে কতটা পৌঁছতে পারে, সেদিকেই নজর থাকবে সকলের।

আপনার মতামত জানান -
Top
error: Content is protected !!