এখন পড়ছেন
হোম > রাজ্য > গেরুয়া ঝড় ঠেকাতে ও লোকালয়ের মন বুঝতে বাম আমলের “সফল রণনীতি” ব্যবহারের পরিকল্পনায় শাসকদল

গেরুয়া ঝড় ঠেকাতে ও লোকালয়ের মন বুঝতে বাম আমলের “সফল রণনীতি” ব্যবহারের পরিকল্পনায় শাসকদল

নির্বাচনী বৈতরণী পার হতে সাধারণ মানুষকে পরিষেবা দেওয়াই যে মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত- তা বারে বারে দলীয় নেতাদের বলেছেন তৃণমূল সুপ্রিমো তথা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আর এবারে দলনেত্রীর সেই কথাকে মান্যতা দিয়ে জঙ্গলমহলের যে সমস্ত অঞ্চলে খারাপ ফলাফলের সম্মুখীন হয়েছে শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস, সেইখানে বামেদের কায়দায় একটি “পাড়া বৈঠক” করার সিদ্ধান্ত নিল তারা।

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, সম্প্রতি পঞ্চায়েত নির্বাচনে এই জঙ্গলমহলে অনেকটাই মাথা তুলেছে পদ্ম শিবির। আর যার ফলে চিন্তা বেড়েছে শাসকদল ঘাসফুল শিবিরের অন্দরে। মূলত বাঁকুড়ার রায়পুর, রানিবাঁধ সিমলাপাল ও সারেঙ্গা ব্লকে বিজেপি প্রধান বিরোধী শক্তি হিসেবে উঠে এসেছে। আর এইখানেই শাসকদলের কিছুটা খারাপ ফলাফল প্রসঙ্গে অনেকেই মনে করছেন যে, স্থানীয় তৃণমূল নেতাদের স্বচ্ছ ভাবমূর্তি না থাকার কারণেই এবার এখানে বিজেপির দাপট বেড়েছে। কিন্তু সামনেই লোকসভা।

আর সেই নির্বাচনে যদি রাজ্যের তৃণমূল সরকারের আমলে উন্নয়নমুখী জঙ্গলমহলে ছাপ ফেলতে শুরু করে বিজেপি, তাহলে অচিরেই বড় সমস্যার মুখে পড়বেন ঘাসফুল শিবির। আর তাইতো এখন নিজেদের ভোটব্যাঙ্ক পুনরুদ্ধারে জনসংযোগকেই মূল হাতিয়ার করতে চলেছে বাঁকুড়া জেলা তৃণমূল নেতৃত্ব।

সূত্রের খবর, শনিবার বাঁকুড়ার রানীবাধে একটি উন্নয়ন যাত্রার আয়োজন করে তৃণমূল নেতৃত্ব। সেখানে উপস্থিত ছিলেন বাঁকুড়া জেলা তৃণমূল সভাপতি অরূপ খাঁ, রাজ্যের পঞ্চায়েত দফতরের প্রতিমন্ত্রী শ্যামল সাঁতরা, রানিবাঁধের বিধায়ক জ্যোৎস্না মান্ডি, শালতোড়ার বিধায়ক স্বপন বাউরি, জেলা তৃণমূলের সাধারণ সম্পাদক জয়দীপ চট্টোপাধ্যায় সহ একাধিক নেতৃত্বরা।

আর এই উন্নয়ন যাত্রায় সাধারণ মানুষের সাথে প্রবল জনসংযোগ করতে দেখা যায় তৃণমূল নেতাদের। এমনকি ভিড়ের মধ্যে দাঁড়িয়ে থাকা অনেক মায়ের কোল থেকে শিশু সন্তানকে আদরও করেন তারা। কিন্তু শাসকদলের এই উন্নয়ন যাত্রা হলেও জেলার নিচুস্তরের তৃণমূল নেতৃত্বের জন্যেই এলাকায় দিনকে দিন ফল খারাপ হচ্ছে বলে এদিন জানান রানি বাঁধের আকখুটা গ্রামের বাসিন্দা শেফালী দাস।

অন্যদিকে এই ব্যাপারে রানিবাঁধের আরেক বাসিন্দা আকুল মাহাতো বলেন, “মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতি আমাদের আস্থা আজও অটুট আছে। কিন্তু তৃণমূলের একশ্রেণীর যুব নেতারা বর্তমানে ক্ষমতার দম্ভে মত্ত হয়ে রয়েছেন। তাই রানিবাঁধ, রাইপুরে তাদের ভিত নড়ে গিয়েছে। জেলা নেতৃত্ব যদি এখনো বেপরোয়া নেতাদের নিয়ন্ত্রণ করতে না পারেন তাহলে খুব খারাপ দিন আসছে।”

অন্যদিকে শাসকদলের নীচুতলার নেতাদের এহেন কুকীর্তি প্রসঙ্গে মুখ খুলেছেন বিরোধীদল সিপিএম এবং বিজেপি। এদিন এই প্রসঙ্গে তৃণমূলকে কটাক্ষ করে সিপিএমের বাঁকুড়া জেলা সম্পাদক অজিত পতি বলেন, “আসলে সিঙ্গুরের পদযাত্রা দেখে তৃণমূল ভয় পেয়েছে। তাই ওরা এখন উন্নয়ন পদযাত্রা করছে।”

অন্যদিকে এই ব্যাপারে বাঁকুড়া জেলা বিজেপির সভাপতি বিবেকানন্দ পাত্র বলেন, “গত 7 বছরে জঙ্গলমহলে প্রকৃত উন্নয়নের পরিবর্তে একশ্রেণীর সুবিধাভোগী তৃণমূল নেতা ও ঠিকাদাররা নিজেদের পকেটেই টাকা ঢুকিয়েছে।” তবে এতসব সত্ত্বেও উন্নয়ন যাত্রা করে সাধারণ মানুষের সাথে জনসংযোগ গড়ে তুলে আগামী লোকসভা নির্বাচনে এই বাঁকুড়াতে দাগ কাটতে তারা যে অনেকটাই সক্ষম হবে সেই ব্যাপারে নিশ্চিত ঘাসফুল শিবিরের নেতারা।

ফেসবুকের কিছু টেকনিকাল প্রবলেমের জন্য সব খবর আপনাদের কাছে পৌঁছেছে না। তাই আরো খবর পেতে চোখ রাখুন প্রিয়বন্ধু মিডিয়া-তে

 

এবার থেকে প্রিয় বন্ধুর খবর পড়া আরো সহজ, আমাদের সব খবর সারাদিন হাতের মুঠোয় পেতে যোগ দিন আমাদের হোয়াটস্যাপ গ্রূপে – ক্লিক করুন এই লিঙ্কে

এদিন এই প্রসঙ্গে বাঁকুড়া জেলা তৃণমূলের সভাপতি অরূপ খাঁ বলেন, “সিপিএম বর্তমানে জঙ্গলমহলে সাইনবোর্ডে পরিণত হয়েছে, আর বিজেপি ধর্মের ভিত্তিতে রাজনীতি করছে। ওরা দুটো দলই উন্নয়নবিরোধী। তাই উন্নয়ন কখনোই ওদের চোখে পড়বে না। জঙ্গলমহলের মানুষ আগামী লোকসভা নির্বাচনে এদের সকলকেই প্রত্যাখ্যান করবে।” তবে শেষ পর্যন্ত এই জঙ্গলমহলে আগামী লোকসভা নির্বাচনে ঠিক কি ফলাফল হয় তার জন্য অপেক্ষা করতে হবে আরও বেশ কিছু দিন।

আপনার মতামত জানান -
Top
error: Content is protected !!