এখন পড়ছেন
হোম > রাজ্য > গেরুয়া শিবির আতঙ্কিত অন্তর্ঘাতের প্রশ্নে? খোদ রাজ্য সভাপতির গলায় যে বেসুরো!

গেরুয়া শিবির আতঙ্কিত অন্তর্ঘাতের প্রশ্নে? খোদ রাজ্য সভাপতির গলায় যে বেসুরো!

আসন্ন লোকসভা নির্বাচনে এই রাজ্যে গেরুয়া ঝড় তুলতে ইতিমধ্যেই রাজ্য নেতৃত্বকে রথযাত্রার কর্মসূচির নির্দেশ দিয়েছেন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি অমিত শাহ। আর সেই রথযাত্রার প্রস্তুতি ঘিরে এখন রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় প্রচার সমাবেশ করে বেড়াচ্ছেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ।

সূত্রের খবর, গতকাল মাহেশ্বরী ভবনে দলের জেলা সভাপতি, জেলা পর্যবেক্ষক এবং ওই রথ যাত্রার দায়িত্বে থাকা নেতাদের সঙ্গে একটি বৈঠক করেন দীলিপবাবু। আর সেখানেই রথযাত্রায় বাধা দেওয়ার প্রসঙ্গে দলীয় অন্তর্ঘাতকেই তুলে ধরেন তিনি। এদিন বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ বলেন, “যারা দলের সংবিধান না মেনে অন্তর্ঘাতের চেষ্টা করছেন, তাদের মুখ না দেখে মেরে পুলিশের হাতে তুলে দিন। তখন বুঝতে পারবেন তারা আসলে তৃণমূলের লোক ছিল।”

কিন্তু হঠাৎ ঠিক দলের কাকে উদ্দেশ্য করে এহেন মন্তব্য করলেন রাজ্য বিজেপির সভাপতি? তাহলে কি এই রথযাত্রা নিয়ে দলের ভেতরেই দ্বন্দ্ব রয়েছে? বিজেপির একাংশের মতে, রাজ্য বিজেপি সভাপতি দিলীপ ঘোষের অনুগামীরা তৃণমূল থেকে বিজেপিতে আসা এক নেতাকে খুব একটা ভালো চোখে দেখছেন না। আর তাই এদিনের বক্তব্যে সেই শাসকদল ছেড়ে বিজেপিতে নাম লেখানো নোতাকেই পরোক্ষে খোঁচা দিলেন দিলীপ ঘোষ।

এদিকে রাজ্য বিজেপি সভাপতির এই অন্তর্ঘাতের তত্ত্বকে পাল্টা কটাক্ষ করেছে শাসকদল তৃণমূলও। এদিন এই প্রসঙ্গে রাজ্যের পুরমন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম বলেন, “চামচিকেও পাখি আর বিজেপিও পার্টি। এর জন্য তৃণমূলের পক্ষ থেকে কোনো এজেন্ট পাঠানোর দরকার পড়ে না। মানুষই দুদিন পর ওদের তাড়া করবে। তবে এটা অন্তত বোঝা গেল যে, ওদের নিজেদের মধ্যে কোনো পারস্পারিক বিশ্বাসটাই নেই।”

অন্যদিকে এদিন মাহেশ্বরী ভবনের সভায় রাজ্য বিজেপির সভাপতি দিলীপ ঘোষ দলীয় কর্মীদের উদ্দেশ্যে বলেন, “কারওর যদি মার খাওয়ার ভয় থাকে, তাহলে সে জায়গা ছেড়ে দিন। সাহসীদের নিয়ে আসুন।” পাশাপাশি স্বভাবসিদ্ধ ভঙ্গিতে এদিনের সভা থেকে রাজ্যের শাসক দল তৃণমূলকেও কটাক্ষ করেন তিনি। দিলীপ ঘোষ বলেন, “তৃণমূল যদি আমাদের এই ভাবে আক্রমণ করে, তাহলে যেখানেই সুযোগ পাব ওদের পিঠের ছাল তুলে নেব।”

অন্যদিকে রাজ্য বিজেপি সভাপতির এহেন মন্তব্যে পাল্টা পদ্ম শিবিরের উদ্দেশ্যে কটাক্ষ ছুঁড়ে দিয়েছেন রাজ্যের পুরমন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম। এদিন তিনি বলেন, “আমরা ছুঁচো মেরে হাত গন্ধ করি না। দিদি যদি অনুমতি দেন তাহলে আমরা মিছিল করে ওদের পিপড়ের টিপে মেরে দিতে পারি। কিন্তু নেত্রী আমাদের সেই কাজ কখনই করতে দেবেন না। তাই বৃথা আমরা ওদের মারতে যাব কেন?”

ফেসবুকের কিছু টেকনিকাল প্রবলেমের জন্য সব খবর আপনাদের কাছে পৌঁছেছে না। তাই আরো খবর পেতে চোখ রাখুন প্রিয়বন্ধু মিডিয়া-তে

 

এবার থেকে প্রিয় বন্ধুর খবর পড়া আরো সহজ, আমাদের সব খবর সারাদিন হাতের মুঠোয় পেতে যোগ দিন আমাদের হোয়াটস্যাপ গ্রূপে – ক্লিক করুন এই লিঙ্কে

রাজনৈতিক মহলের মতে, শাসক-বিরোধী তরজা রাজনীতিতে চলবে, এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু রথযাত্রাকে ঘিরে রাজ্য বিজেপির সভাপতি যেভাবে দলীয় অন্তর্ঘাতের আশঙ্কা করছেন, তা যে গেরুয়া শিবিরের অন্দরমহলে অনেকটাই অস্বস্তি বাড়াবে সে ব্যাপারে একপ্রকার নিশ্চিত প্রত্যেকেই।

আপনার মতামত জানান -
Top
error: Content is protected !!