এখন পড়ছেন
হোম > রাজ্য > কলকাতা > ওরা গেরুয়া ফেট্টি বেঁধে গোরক্ষার নামে রাস্তায় দাঙ্গা লাগাতে বেরোয়: বিজেপিকে আক্রমণ মমতার

ওরা গেরুয়া ফেট্টি বেঁধে গোরক্ষার নামে রাস্তায় দাঙ্গা লাগাতে বেরোয়: বিজেপিকে আক্রমণ মমতার

ফের পুলওয়ামা কাণ্ডের সূত্র ধরে বিজেপি বিদ্বেষ প্রকাশ করে রাজনৈতিকমহলে সমালোচনার কেন্দ্রবিন্দু হলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর মতে,পুলওয়ামা কাণ্ডের পরে হিংসার রাজনীতিতে আরো চাঙ্গা হয়ে উঠেছে বিজেপি। ছেলেধরার গুজবে দেশে দাঙ্গার পরিস্থিতি তৈরি করে সাম্প্রদায়িকতাকে অক্সিজেন দিচ্ছে বিজেপি এবং আরএসএস। গুজবের আতঙ্কে সন্ত্রাস্ত গোটা বাংলা।

শুধুমাত্র লোকসভা ভোটের আগে রাজনৈতিক ফায়দা লুটবার জন্যে হিন্দু মুসলমানের মতো ভেদাভেদ সৃষ্টি করছে বিজেপি। বোরখা পরিয়ে মানুষের ভীড়ে রাস্তায় কাউকে ছেড়ে দেওয়া হচ্ছে। তারপর ছেলেধরা বলে তাকে পিটিয়ে মারার চেষ্টা করা হচ্ছে। এই গুজবকে ইন্ধন দিতে বারণ করলেন মুখ্যমন্ত্রী। পাশাপাশি এরকম কোনো ঘটনা ঘটলে সঙ্গে সঙ্গে পুলিশকে জানানোর কথা বলে জোটবদ্ধ হয়ে বাংলায় সম্প্রীতির ঐতিহ্য বজায় রাখার আবেদন করলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

প্রসঙ্গত,গতকাল হুগলির তারকেশ্বরের বালিগড়িতে সরকারি পরিষেবা প্রদান অনুষ্ঠানে এসেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। হুগলি এবং আশেপাশের বেশ কয়েকটি জেলার অনেকগুলি সামাজিক উন্নয়নমূলক প্রকল্পের সূচনাও করেন তিনি। এরপর বক্তব্য রাখতে গিয়ে বিজেপির ‘সাম্প্রদায়িক’ রাজনীতির কড়া নিন্দা করেন নেত্রী।

বলেন,বিজেপির পাশবিক সংস্কৃতির জেরে দেশ উচ্ছন্নে যাচ্ছে। তাই ধর্মান্ধ,উন্মাদদের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হয়ে বাংলা তথা দেশের সংস্কৃতি রক্ষা করার বার্তা দেন নেত্রী। প্রসঙ্গে টেনে আনেন পুলওয়ামা ঘটনার কথা। বলেন,’সম্প্রতি আমাদের চল্লিশ জন জওয়ান মারা গেলেন। সঠিক সময়ে ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারত। কিন্তু তা হয়নি। গোটা ঘটনা নিয়ে রাজনীতি করা হচ্ছে।’‌

এরপর মুখ্যমন্ত্রী কটাক্ষের সুরে বলেন, ‘হিন্দু ধর্মের নাম করে যারা ডান্ডা হাতে মানুষ খুন করে, তারা কখনওই হিন্দু হতে পারে না। এরাজ্যে কোনও মন্দির-মসজিদ বা গির্জা ভাঙা হয় না। আমরা ছোট থেকে বাবা-‌মায়ের কাছে শিক্ষা পেয়েছি মানুষকে শ্রদ্ধা করতে। সে কোন ধর্মের সেটা কখনওই বড় কথা নয়। তাই ছোট থেকেই আমরা কখনও মানুষকে ঘৃণা করতে শিখিনি।’‌

পশ্চিমবঙ্গ সরকার যে কতোটা উদার মানসিকতায় বিশ্বাসী সেটা বোঝাতে গিয়ে নেত্রী বলেন,এই বাংলায় একদিকে যেমন তারকেশ্বর, ফুরফুরা, হংসেশ্বরী মন্দির, দক্ষিণেশ্বর মন্দির সংস্কার হয়, তেমনি দরগাও সংস্কার করা হয়। এরপর সরাসরি বিজেপিকে খোঁচা দিয়ে বলেন,’‌হিন্দু ধর্মের নামে মাথায় গেরুয়া ফেট্টি বাঁধলেই হয়ে যাবে!‌ রামকৃষ্ণ মিশন, ভারত সেবাশ্রমকে দেখে শেখা উচিত। এরাজ্যে সন্ন্যাসীরা গেরুয়া পরেন ত্যাগের জন্য। ওরা গেরুয়া পরে, অথচ গেরুয়ার মর্যাদা দিতে শেখেনি।’‌

প্রিয় বন্ধু মিডিয়ার খবর আরও সহজে হাতের মুঠোয় পেতে যোগ দিন আমাদের যে কোনও এক্সক্লুসিভ সোশ্যাল মিডিয়া গ্রূপে। ক্লিক করুন এখানে – টেলিগ্রাম, হোয়াটস্যাপ, ফেসবুক গ্রূপ, ট্যুইটার, ইউটিউবফেসবুক পেজ

প্রিয় বন্ধু মিডিয়ায় প্রকাশিত খবরের নোটিফিকেশন আপনার মোবাইল বা কম্পিউটারের ব্রাউসারে সাথে সাথে পেতে, উপরের পপ-আপে অথবা নীচের বেল আইকনে ক্লিক করে ‘Allow‘ করুন।


আপনার মতামত জানান -

এদিন দেশের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকেও বিঁধতে ছাড়েননি মমতা। মোদীর যোগ্যতা এবং দায়িত্বকে প্রশ্নচিহ্নের মুখে দাঁড় করিয়ে বলেন,’যিনি সবাইকে নিয়ে চলেন, তিনিই দেশনেতা। কিন্তু একলা চলে দেশকে ধ্বংসের পথে নিয়ে যান যিনি, তিনি কী করে দেশনেতা হন?‌ দেশভাগ করে দেশনেতা হওয়া যায় না।’‌ অভিযোগের সুর চড়া করে নেত্রী আরো বলেন,বিজেপি সরকার গোরক্ষার নামে দেশে দাঙ্গার পরিস্থিতি তৈরি করে রেখেছে।

তবে এই সরকারের পতন এবার ১৯’এর লোকসভা ভোটে হবে। এমনটাই দাবী করেন মমতা। তাছাড়া এই রাজ্যের বিজেপির দাঙ্গার রাজনীতির বিরুদ্ধে নেত্রী গর্জে উঠে বলেন,’আমার শেষ রক্তবিন্দু পর্যন্ত ধর্মের নামে হানাহানি এই রাজ্যে চলতে দেব না। কোনও ভাবেই আগুন লাগতে দেব না।’

এরপর অমিত শাহ-দিলীপ ঘোষেদের বাংলায় পদ্ম ফোটানোর স্বপ্ন নস্যাৎ করে কড়া হুঁসিয়ারী দিয়ে নেত্রী বলেন,’মনে রাখবেন, এই রাজ্যে একটা সরকার রয়েছে। এবং খুব ভাল ভাবেই চলছে সেই সরকার। দিল্লির সরকার এখানে চলবে না।’‌

আপনার মতামত জানান -
Top
error: Content is protected !!