এখন পড়ছেন
হোম > রাজ্য > কলকাতা > বিজেপির উত্থান আটকাতে 12 বছর বাদে শাসকদলের “মনে পড়ল” পুরনো নেতাকে – কটাক্ষ দলের অন্দরে

বিজেপির উত্থান আটকাতে 12 বছর বাদে শাসকদলের “মনে পড়ল” পুরনো নেতাকে – কটাক্ষ দলের অন্দরে

অবশেষে কি বিপদ জেনেই দলের পুরোনো সক্রিয় কর্মীকে কাছে টানতে শুরু করল তৃণমূল কংগ্রেস? কেননা এক সময় তৃণমূলের নদীয়া জেলায় কার্যত প্রথম সারিতে থাকা বিধান পোদ্দার শাসক দলের কাছে অত্যন্ত প্রিয় পাত্র বলেই পরিচিত ছিলেন। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরেই দলে অতটা গুরুত্ব না পাওয়া সেই বিধান পোদ্দারকে ফের নদীয়া জেলা তৃনমূলের তপশিলি জাতি, জনজাতি ও অন্য অনগ্রসর শ্রেণীর সভাপতির পদে দায়িত্ব দেওয়ায় শুরু হয়েছে তীব্র জল্পনা।

অনেকেই বলছেন, তৃণমূলের দুর্দিনের সঙ্গী এই বিধান পোদ্দারকে পদ দিয়ে আগামী লোকসভায় তৃণমূল নদীয়া জেলায় নিজেদের ঘাটি গাড়ারই চেষ্টা করছে। কেননা এই নদীয়া জেলায় এখন সিংহভাগ মতুয়াদের সমর্থনই চলে গেছে বিজেপির দিকে। তাই সেই বিজেপির কাছ থেকে মতুয়াদের টানতে এবার দুর্দিনের কর্মীরাই বড় সঙ্গী হতে চলেছে তৃণমূলের।

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, প্রথমে কংগ্রেস এবং পরে মমতা বন্দোপাধ্যায়ের অনুগামী হিসেবেই পরিচিত ছিলেন ভীমপুরের বাসিন্দা বিধান পোদ্দার ।1996 সালে নদীয়ার কৃষ্ণগঞ্জ বিধানসভা থেকে কংগ্রেসের প্রার্থী হলেও সিপিএমের সুশীল বিশ্বাসের কাছে 1698 ভোটে হেরে যান তিনি। পরবর্তীতে 2001 এর বিধানসভা ভোটেও ফের তৃণমূলের টিকিটে দাঁড়ালেও সিপিএমের সুশীল বিশ্বাসের কাছে মাত্র 541 ভোটে হাটতে হয় তাঁকে। কিন্তু 2003 সালে সিপিএমের তরফে জয়ী সুশীল বিশ্বাস তৃণমূলে চলে আসলে পরবর্তীকালে সেই সুশীল বাবুকেই 2006 এর বিধানসভা ভোটে দাঁড় করায় তৃণমূল।

কিন্তু সেখানে সুশীল বাবু হেরে গেলেও সেই তৃনমূলের পুরোনো কর্মী বিধান পোদ্দারকে কার্যত কোণঠাসা করে সুশীলই বড় সম্পদ হয় তৃণমূলের। দিনকে দিন কোণঠাসা হয়ে পড়েন তৃণমূলের বিধান পোদ্দার। গত 2014 সালে সিপিএমের সুশীল বিশ্বাসের মৃত্যু হলেও সেই বিধানবাবু খুব একটা সুবিধা করে নিতে পারেননি।

কেননা বিগত উপনির্বাচনে সেই কৃষ্ণগঞ্জে তৃনমূলের টিকিট পান সত্যজিৎ বিশ্বাস। সেই সময় নদীয়া জেলা তৃণমূলের অন্যতম সম্পাদক পদে থাকলেও পরবর্তীতে দল বিরুদ্ধ কাজ করায় সেই বিধান পোদ্দারকেও পদ খোয়াতে হয়। ফলে স্বাভাবিকভাবেই দলে কার্যত গুরুত্বহীন হয়ে পড়া বিধান পোদ্দারকে ফের দলের একটি শাখা সংগঠনের জেলা সভাপতির দায়িত্ব দেওয়ায় অনেকের মনেই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে যে, তাহলে কি অবশেষে বিপদ বুঝেই পুরনো কর্মীদের কাছে টানতে শুরু করল শাসকদল?

ফেসবুকের কিছু টেকনিক্যাল প্রবলেমের জন্য সব আপডেট আপনাদের কাছে সবসময় পৌঁচ্ছাছে না। তাই আমাদের সমস্ত খবরের নিয়মিত আপডেট পেতে যোগদিন আমাদের হোয়াটস্যাপ বা টেলিগ্রাম গ্রূপে।

১. আমাদের Telegram গ্রূপ – ক্লিক করুন
২. আমাদের WhatsApp গ্রূপ – ক্লিক করুন
৩. আমাদের Facebook গ্রূপ – ক্লিক করুন
৪. আমাদের Twitter গ্রূপ – ক্লিক করুন
৫. আমাদের YouTube চ্যানেল – ক্লিক করুন

প্রিয় বন্ধু মিডিয়ায় প্রকাশিত খবরের নোটিফিকেশন আপনার মোবাইল বা কম্পিউটারের ব্রাউসারে সাথে সাথে পেতে, উপরের পপ-আপে অথবা নীচের বেল আইকনে ক্লিক করে ‘Allow‘ করুন।

আপনার মতামত জানান -

 

অনেকেই বলছেন, বিজেপি যেভাবে মতুয়াদের ভোটে ভাগ বসানোর চেষ্টা করছে তা রুখতেই বিধানের মত নেতাকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। আসলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অনুধাবন করতে শুরু করেছেন যে পুরনো নেতাদের না আনলে লোকসভা ভোট ওতরানো কার্যত অসম্ভব।

এদিন এই প্রসঙ্গে নদীয়া জেলা তৃণমূল সভাপতি গৌরীশংকর দত্ত বলেন, “এই বিধান পোদ্দার নয়ের দশক থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের একনিষ্ঠ কর্মী। তাই তিনি পুরোনো কর্মী হিসেবেই দলে মর্যাদা পেলেন।”

আর যাঁকে নিয়ে এত কিছু, সেই তৃণমূলের পুরোনো কর্মী নদীয়া জেলার বিধান পোদ্দার এদিন বলেন, “আমি তো সবাইকে নিয়েই চলি। দল আমায় যা দায়িত্ব দেবে, আমি সর্বশক্তি দিয়ে তা পালন করার চেষ্টা করব।” সব মিলিয়ে বিজেপির উত্থান আটকাতে এইবার 12 বছর বাদে পুরনো নেতাকে মনে পড়ল শাসকদলের।

আপনার মতামত জানান -
Top
error: Content is protected !!