এখন পড়ছেন
হোম > রাজ্য > পুরুলিয়া-ঝাড়গ্রাম-বাঁকুড়া > বড় জয় প্যারাটিচারের – আদালতের নির্দেশে ফিরে পেলেন চাকরি – জেনে নিন বিস্তারিত

বড় জয় প্যারাটিচারের – আদালতের নির্দেশে ফিরে পেলেন চাকরি – জেনে নিন বিস্তারিত

প্যারাটিচারের চাকরির ভবিষ্যৎ বিদ্যালয়গুলির পরিচালন কমিটির ওপরই বেশিরভাগ সময় নির্ভর করে। জেলাশাসক থেকে আমলা এই প্রক্রিয়ায় হাত নেই কারোরই। এমনই বিগত প্রায় 9 বছর ধরে চলা একটি মামলায় অনিমা কর্মকার নামে এক প্যারাটিচারের নিদারুন কাহিনী প্রকাশ্যে এল।

জানা গেছে,বাঁকুড়ার চুয়ামোসিনা হাইস্কুলের বাছাই প্রক্রিয়ায় প্রথম হলে সেখানে 2007 সালের এপ্রিল মাস থেকে এক বছরের চুক্তি হিসাবে তিনি ইতিহাসের শিক্ষিকা হিসাবে যোগ দিলে বেতন হয় 3 হাজার টাকা। বছর শেষে তাঁর কাজে সন্তোষ প্রকাশ করে বিদ্যালয়। কিন্তু, চাকরি বহাল থাকেনি। চুক্তি নবীকরণ হয়নি।  চুক্তি নবীকরন না হলে সর্বশিক্ষা মিশন ও জেলাশাসকের কাছে দরবার করেন ওই শিক্ষিকা। আর এরপরই ডিপিও জেলাশাসকের অনুমতি নিয়ে 2009 এর 28 নভেম্বর বিদ্যালয়কে একটি চিঠি দিয়ে জানিয়ে দেন যে,15 দিনের মধ্যে এই অনিমা কর্মকারকে তার পদে না ফেরালে বিদ্যালয়ের আর্থিক সাহায্যও বন্ধ হয়ে যেতে পারে। কিন্তু এতেও সেই বিদ্যালয়ের পরিচালন কমিটি কোন পদক্ষেপই গ্রহন করেননি।

সূত্রের খবর, এরপরই সেই শিক্ষিকা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন। সেখানে রাজ্যের পক্ষ থেকে যেমন শুনানিতে অংশ নেওয়া হয়নি ঠিক তেমনি সেই বিদ্যালয়ের সম্পাদকও সেই মামলার বিরোধীতা করেন তবে তিনিও শুনানিতে অংশ নেননি। এই শুনানির পর মামলাকারীর পক্ষে আইনজীবি চন্দন সত্তর সওয়াল করলে 2015 সালের 14 ই জুলাই বিচারপতি অরিন্দম সিনহা একটি নির্দেশ দিয়ে বলেন, ডিপিওর নির্দেশ সরকারি নির্দেশ। আর এরপরই বিচারপতি সরকারের 2010 সালের 22 জুলাইয়ের একটি নির্দেশিকা তুলে ধরে বলেন, সরকারই বলেছে এই তারিখের আগে নিযুক্ত হওয়া প্যারাটিচারেরা 60 বছর পর্যন্ত চাকরি করতে পারবেন। এমনকী চুক্তি নবীকরনের কথাও সেখানে উল্লেখ করা নেই। তাই ডিপিওর এই নির্দেশ বিদ্যালয়কে মানতেই হবে।

কিন্তু এরপর বিচারপতির এই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে ডিভিশন বেঞ্চে যায় সেই বিদ্যালয়  এবং রাজ্য সরকার। সুত্রের খবর, এখানে বিদ্যালয়টি জানায়, 2008 সালের 31 মে পরিচালন কমিটা সিদ্ধান্ত নেয় যে, ইতিহাস নয়,,ইংরেজীর একটি প্যারাটিচার দরকার। এদিকে 2010 সালের সরকারি নির্দেশিকা জারির সময় এই মামলাকারী প্যারাটিচার না থাকায়  তিনি এই সুফল পাবেন না। জানা যায়, এই দুপক্ষের বক্তব্য শুনে বিচারপতি দীপঙ্কর দত্ত ও বিচারপতি সৈদুল্লা মুন্সীর ডিভিশন বেঞ্জ জানিয়ে দেয়, এই ইংরেজী প্যারাটিচারের প্রয়োজনের কথা তখন কাউকে বলা হয়নি। এমনকি পরিচালন কমিটি যে নথি এনেছিল তাতে মামলাকারী যে রাজনৈতিক শত্রুতার অভিযোগ এনিছিলেন তাতেও সত্যতা আছে।

আরো খবর পেতে চোখ রাখুন প্রিয়বন্ধু মিডিয়া-তে

——————————————————————————————-

এবার থেকে প্রিয় বন্ধুর খবর পড়া আরো সহজ, আমাদের সব খবর সারাদিন হাতের মুঠোয় পেতে যোগ দিন আমাদের হোয়াটস্যাপ গ্রূপে – ক্লিক করুন এই লিঙ্কে।

এদিন এই ডিভিশন বেঞ্চ আরও বলে যে, ডিপিওর প্রতি সম্মান দেখানো হয়নি। এমনকী 2009 সালের চিঠিতে সেই বিদ্যালয়টিকে হুশিয়ারি দিলেও পরে কেন ডিপিও নীরবতা পালন করল এদিন তা নিয়েও প্রশ্ন তোলে ডিভিশন বেঞ্চ। আর এরপরই এই ডিভিশন বেঞ্চ জানায়, একক বিচারপতির নির্দেশ বিদ্যালয় কতৃপক্ষকে মানতেই হবে। তবে এত সব সত্তেও সেই বিদ্যালয় এবং সরকার সুপ্রিম কোর্টে গেলে সেখানেও এই হাইকোর্টের রায়ই বহাল রাখেন বিচারপতি মদন বি লোকুর এবং বিচারপতি দীপক গুপ্তর ডিভিশন বেঞ্চ।

আর এসবের পরও সেই অনিমাদেবী তাঁর চাকরি ফিরে পাননি। বাধ্য হয়ে তিনি আদালত অবমানানর অভিযোগে বিচারপতি দত্তর নেতৃত্বাধীন ডিভিশন বেঞ্চে মামলা করলে 5 জুলাই সেই বেঞ্চ জানায়, বিচারাধীন থাকা অবস্থায় অভিযুক্তরা মামলাকারীকে চাকরি ফিরিয়ে দিতে পারে। যার ফলে গত 12 জুলাই পশ্চিমবঙ্গ সর্বশিক্ষা মিশনের প্রজেক্ট ডিরেক্টরের থেকে একটি চিঠি বাঁকুড়ার ডিপিওকে পাঠিয়ে বলা হয়, হাইকোর্টের নির্দেশ পালন করতে তিনি ব্যাবস্থা নিতেই পারেন। সূত্রের খবর,গত 13 ই জুলাই হাইকোর্টের নির্দেশ পালনের জন্য বিদ্যালয়ের সম্পাদক ও প্রধান শিক্ষককে একটি চিঠি পাঠালেই সমস্ত জটিলতা দূর করে 13 জুলাই নিজের কাজে যোগ দেন অনিমা কর্মকার।

আপনার মতামত জানান -
Top
error: Content is protected !!