এখন পড়ছেন
হোম > রাজ্য > নদীয়া-২৪ পরগনা > নদীগর্ভে বাংলাদেশ সীমান্তে দুঃসাহসিক চুরির পরিকল্পনা, পুলিশের সাহসিকতায় বামাল সমেত গ্রেপ্তার

নদীগর্ভে বাংলাদেশ সীমান্তে দুঃসাহসিক চুরির পরিকল্পনা, পুলিশের সাহসিকতায় বামাল সমেত গ্রেপ্তার

পুলিশের সাহসিকতায় নদীগর্ভে বাংলাদেশ সীমান্তে দুঃসাহসিক চুরির পরিকল্পনা ভেস্তে গেল। বামাল সমেত অপরাধীরা হাতেনাতে ধরা পড়ল। গত শুক্রবার খিদিরপুর থেকে একটি কার্বো জাহাজ বাংলাদেশ যাচ্ছিল বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে। কিন্তু মাঝপথেই জাহাজের ক্যাপ্টেন ও খালাসীদের সঙ্গে যুক্তি করে জাহাজের তেল নিজেদের বজরায় তুলে চম্পট দেবার তালে ছিল কালিপদ মন্ডল ও অশোক মন্ডল।

এবার থেকে প্রিয় বন্ধুর খবর পড়া আরো সহজ, আমাদের সব খবর সারাদিন হাতের মুঠোয় পেতে যোগ দিন আমাদের হোয়াটস্যাপ গ্রূপে – ক্লিক করুন এই লিঙ্কে

সেইমত জাহাজের কর্মীদের সঙ্গে সমস্ত তেল নিয়ে নেওয়ার চুক্তি হয় দেড় লক্ষ টাকায়। ইতিমধ্যে খবর পেয়ে বিদ্যাধরী নদীর উপর ঘটনাস্থলে পৌঁছায় ঝরখালী কোস্টাল থানার পুলিশ। হাতেনাতে বমাল সমেত গ্রেপ্তার করা হয় কালিপদ মন্ডল, অশোক মন্ডল ও জাহাজের তিন কর্মীকে। পুলিশ পৌঁছনোর সময় প্রায় ১৮০ লিটার তেল জাহাজ থেকে বজরায় পাচার হয়ে গিয়েছিল।

এদিকে, ঘটনায় নাম জড়িয়ে যায় স্থানীয় তৃণমূল প্রধান দিলীপ মন্ডলের। স্থানীয়স্তরে অভিযোগ ওঠে ঘটনায় জড়িত কালিপদ মন্ডল ও অশোক মন্ডল আসলে তৃণমূল কর্মী এবং তাঁদেরকে বাঁচানোর চেষ্টা করছেন খোদ তৃণমূল পঞ্চায়েত প্রধান দিলীপ মন্ডল। খবর পেয়ে ঘটনার আমরা এই বিষয়ে বিস্তারিত কথা বলি স্বয়ম্যাগ দিলীপবাবুর সঙ্গে।

তিনি জানান, কালিপদ মন্ডল ও অশোক মন্ডল নামে দুই স্থানীয় ব্যক্তি জাহাজ থেকে বেআইনি ভাবে তেল চুরির মতলবে ছিল। জাহাজের সব তেল দেড় লক্ষ টাকার বিনিময়ে হাতানোর মতলবে ছিল তারা। কিন্তু পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে বামাল সমেত তাদের গ্রেপ্তার করেছে। ধৃতরা কেউই তৃণমূল কর্মী নয়, কিন্তু তৃণমূল সমর্থক হতেই পারে। কেননা এই অঞ্চলে সবাই বর্তমানে তৃণমূল সমর্থক। তবে, অন্যায় করলে দল যে পাশে সেকথা আগেই স্পষ্ট করে জানিয়ে দেওয়া হয়েছিল, ফলে, এই ঘটনায় অপরাধীদের পাশে দাঁড়ানোর কোনো প্রশ্নই নেই।

দিলীপবাবু আরো জানান, তবে ধৃতরা নিজেদের মত আইনজীবী নিয়োগ করে আইনি লড়াই লড়তেই পারেন। আগে এখানে সীমান্তবর্তী এলাকা বলে গরু পাচার থেকে আরম্ভ করে অনেক অনৈতিক কাজ হত, তৃণমূল ক্ষমতায় আসার পর সেসব কিছুই বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। সুতরাং, এই ঘটনায় পুলিশের যেখানে গ্রেপ্তার করেছে, সেখানে আইন আইনের পথেই চলবে। এই ঘটনায় আমি ব্যক্তিগতভাবে বা তৃণমূল কংগ্রেস দল হিসাবে কখনোই ধৃতদের পাশে দাঁড়াব না।

এই প্রসঙ্গে, ঝরখালী কোস্টাল থানার ওসি চন্দ্রশেখর ঘোষালের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, জাহাজ থেকে দেড় লক্ষ টাকার বিনিময়ে তেল চুরির চেষ্টা হচ্ছিল। আমরা খবর পেয়ে, ঝুঁকি নিয়ে বামাল সমেত অপরাধীদের গ্রেপ্তার করি ও আদালতে পেশ করি। যেহেতু জাহাজটি মাঝখানে দাঁড়িয়ে আছে তাই জাহাজের ক্যাপ্টেন ও এক খালাসি জামিন পেয়ে গেছে – যাতে জাহাজটিকে সরিয়ে নেওয়া যায়। তবে এই ঘটনায় শাসকদলের জড়িত থাকার কোনো তথ্যপ্রমাণ আমাদের হাতে এখনো আসেনি।

আপনার মতামত জানান -
Top
error: Content is protected !!