এখন পড়ছেন
হোম > রাজ্য > নদীয়া-২৪ পরগনা > ‘জয় শ্রীরামের’ জয়ধ্বনিতে লঙ্কাকান্ড! এবার কান্ড কাঁচারাপাড়ায় – জানুন বিস্তারিত

‘জয় শ্রীরামের’ জয়ধ্বনিতে লঙ্কাকান্ড! এবার কান্ড কাঁচারাপাড়ায় – জানুন বিস্তারিত

বঙ্গ-রাজনীতিতে কয়েক বছর আগেও যা অভাবনীয় ছিল, আপাতত তৃণমূল নেত্রীর ‘কল্যানে’ তা এখন চলছে পুরোদমে! বঙ্গ রাজনীতি এতদিন অভ্যস্ত ছিল ইনকিলাব জিন্দাবাদ বা বন্দেমাতরম-এর মত স্লোগানে! কিন্তু আপাতত তা পিছনের সারিতে গিয়ে বঙ্গ রাজনীতি মুখরিত ‘জয় শ্রীরাম’ ধ্বনিতে। ঘটনার সূত্রপাত নির্বাচন চলাকালীন – যখন চন্দ্রকোনায় মুখ্যমন্ত্রীর কনভয় পাশ করার সময় কিছু গেরুয়া সমর্থক ‘জয় শ্রীরাম’ বললে গাড়ি থামিয়ে তেড়ে যান মুখ্যমন্ত্রী। ‘জয় শ্রীরাম’ বলার ‘অপরাধে’ কার্যত তান্ডব চালায় পুলিশ বলে অভিযোগ ওঠে!

গেরুয়া শিবিরের বক্তব্য ছিল খুব স্পষ্ট – মুখ্যমন্ত্রী ভোটব্যাঙ্কের রাজনীতি করতে গিয়ে একটি বিশেষ সম্প্রদায়কে তুষ্ট করতে গিয়ে বারেবারে তাঁদের ধর্মীয় কথাবার্তা প্রকাশ্য জনসভা থেকে নিয়ে আসেন। সেখানে ‘জয় শ্রীরাম’ ধ্বনি বিজেপি সমর্থকদের প্রাণের শব্দ, আর রাম হলেন ভারতের কেন্দ্রীয় চরিত্র, রামনামের মাধ্যমে সকলেরই মঙ্গল কামনা করা হয়। এর জন্য গাড়ি থেকে তেড়ে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলবেন গালাগালি দিচ্ছ! এরজন্য পুলিশ দিয়ে গ্রেপ্তার করাবেন! যাই হোক সেই দফায় নির্বাচন কমিশন নড়েচড়ে বসতেই ‘জয় শ্রীরাম’ বলার ‘অপরাধে’ গ্রেপ্তার করেও গেরুয়া সমর্থকদের ছেড়ে দিতে একপ্রকার বাধ্য হয় রাজ্য পুলিশ।

কিন্তু, ভোট মিটতেই তৃণমূল নেত্রী যখন নিজের দলের ভাঙন আটকাতে নৈহাটী ছুটছেন তখন একদল গেরুয়া সমর্থক রাস্তায় দাঁড়িয়ে ‘জয় শ্রীরাম’ ধ্বনি দিতে থাকেন। আর তাতেই রাগ সামলাতে না পেরে গাড়ি থেকে বারবার নেমে তেড়ে তেড়ে যান রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধান! ‘জয় শ্রীরাম’ ধ্বনি দেওয়া যুবকদের উদ্দেশ্যে ‘বিজেপির বাচ্ছা’, ‘ক্রিমিনাল’ থেকে শুরু করে বিভিন্ন অসংসদীয় ও অশালীন শব্দ শোনা যায় মুখ্যমন্ত্রীর গলায়! যা শুনে রীতিমত হতচকিত হয়ে পড়েন বঙ্গের শিক্ষিত সমাজ! এমনকি, এই ঘটনার পরে ১০ জনকে ‘জয় শ্রীরাম’ বলার অপরাধে গ্রেপ্তারও করে রাজ্য পুলিশ!

ফেসবুকের কিছু টেকনিক্যাল প্রবলেমের জন্য সব আপডেট আপনাদের কাছে সবসময় পৌঁচ্ছাছে না। তাই আমাদের সমস্ত খবরের নিয়মিত আপডেট পেতে যোগদিন আমাদের হোয়াটস্যাপ বা টেলিগ্রাম গ্রূপে।

১. আমাদের Telegram গ্রূপ – ক্লিক করুন
২. আমাদের WhatsApp গ্রূপ – ক্লিক করুন
৩. আমাদের Facebook গ্রূপ – ক্লিক করুন
৪. আমাদের Twitter গ্রূপ – ক্লিক করুন
৫. আমাদের YouTube চ্যানেল – ক্লিক করুন

প্রিয় বন্ধু মিডিয়ায় প্রকাশিত খবরের নোটিফিকেশন আপনার মোবাইল বা কম্পিউটারের ব্রাউসারে সাথে সাথে পেতে, উপরের পপ-আপে অথবা নীচের বেল আইকনে ক্লিক করে ‘Allow‘ করুন।

আপনার মতামত জানান -

আর সেই ‘জয় শ্রীরাম’ কাণ্ডের রেশ ধরে, এবার বড়সড় গন্ডগোল কাঁচরাপাড়ায়! কিছুদিন আগেই এখানকার বাসিন্দা তথা বীজপুরের বিধায়ক শুভ্রাংশু রায় তৃণমূল থেকে সাসপেন্ড হয়ে গেরুয়া শিবিরে নাম লেখান। তার পরিপ্রেক্ষিতে তৃণমূল নেতৃত্ব তাঁকে সরাসরি ‘ছোট গদ্দার’ বলে অভিহিত করেন। আজ তারই প্রতিবাদে যখন কাঁচরাপাড়ায় তৃণমূলের এক দলীয় বৈঠকে জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক, সুজিত বসু, মদন মিত্রের মতো শীর্ষস্তরের তৃণমূল নেতা ও রাজ্যের হেভিওয়েট মন্ত্রীরা দলীয় কার্যালয়ে আসতে শুরু করেন – তখনই একদল যুবক তাঁদের উদ্দেশ্যে ক্রমাগত ‘জয় শ্রীরাম’ ধ্বনি দিতে থাকেন।

স্থানীয় সূত্রের খবর, গেরুয়া সমর্থকদের ওই ‘জয় শ্রীরাম’ ধ্বনিতে রীতিমত অস্বস্তিতে পরে যান তৃণমূলের শীর্ষনেতারা। তাঁরা নির্দেশ দেন ওই যুবকদের ওখান থেকে সরিয়ে দিতে, পুলিশও ওই বিজেপি কর্মী সমর্থকদের হঠিয়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার চেষ্টা করে। কিন্তু, তাতে গেরুয়া সমর্থকদের ভিড় আরও বাড়তে থাকে, মুহুর্মুহু ‘জয় শ্রীরাম’ ধ্বনিতে রীতিমত কাঁপতে থাকে এলাকা। আর তাই পুলিশ শুরু করে বেধড়ক লাঠিচার্জ, নামানো হয় ব়্যাফ। ঘটনাকে কেন্দ্র করে রীতিমত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে কাঁচরাপাড়া স্টেশন সংলগ্ন কেজিয়ার পথ। কিন্তু, পুলিশের এই লাঠিচার্জে উত্তেজনা যেন আরও বাড়তে থাকে।

কার্যত, কড়া নিরাপত্তার চাদরে মুড়ে সেখান থেকে তৃণমূলের ২ মন্ত্রীকে বের করে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে ওই স্থান থেকে বেরিয়ে গিয়ে মন্ত্রী সুজিত বসু জানান, নির্বাচনে কেউ জিততে পারে, কেউ হারতে পারে। এটা গণতন্ত্রের সিস্টেম। এই সংস্কৃতি এই রাজ্যের নয়, যারা করছে তারা করছে। এই রাজ্যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার আছে, থাকবে। যারা দখলদারির রাজনীতি করছে তাদের মনে রাখতে হবে, মানুষ এই রাজনীতি পছন্দ করে না। অন্যদিকে আরেক মন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক জানান, গদ্দার গদ্দারই হয়, গদ্দারের কোনও ক্যারেক্টার হয় না। ১৪ তারিখ দলনেত্রী আসবেন কাঁচরাপাড়ায়। আমরা জিরো থেকে শুরু করলাম, ১০০-য় পৌঁছব।

কিন্তু স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীদের মত, মুকুল রায়, অর্জুন সিং বা শুভ্রাংশু রায় দল ছাড়ার পর এলাকায় কার্যত তৃণমূলের পতাকা ধরারও লোক নেই। কাউন্সিলর থেকে শুরু করে নেতা-কর্মী সকলেই নাম লিখিয়েছেন গেরুয়া শিবিরে। একদা যা তৃণমূলের গড় ছিল, এখন কার্যত তা বিজেপির গড় হয়ে গেছে। সেখানে ঢুকে তৃণমূলের হেভিওয়েট মন্ত্রী-নেতাদের দিয়ে শক্তি প্রদর্শন করতে চেয়েছিল শাসকদল, দলনেত্রীর সফরের আগে তৈরী করতে চেয়েছিল মঞ্চ! কিন্তু, গেরুয়া সমর্থকদের স্বতঃস্ফূর্ত প্রতিবাদের মাঝে পরে কার্যত পালিয়ে যেতে হয় তাঁদের। দলীয় কার্যালয়ের সামনে ‘জয় শ্রীরাম’ ধ্বনি দেওয়া ঘিরে অশান্তির জেরে আপাতত থমথমে কাঁচরাপাড়া। অশান্তির আশঙ্কায় এলাকায় দোকানপাটও বন্ধ করে দিয়েছেন অধিকাংশ ব্যবসায়ী।

আপনার মতামত জানান -
Top
error: Content is protected !!