এখন পড়ছেন
হোম > রাজ্য > কলকাতা > বাংলায় বিধানসভার “টার্গেট” জানাল মিম! সংখ্যালঘু ভোটে থাবা, ঘুম উড়তে চলেছে শাসকদল তৃণমূলের?

বাংলায় বিধানসভার “টার্গেট” জানাল মিম! সংখ্যালঘু ভোটে থাবা, ঘুম উড়তে চলেছে শাসকদল তৃণমূলের?

2019 সালের লোকসভা নির্বাচনে পশ্চিমবঙ্গে নতুনভাবে উত্থান ঘটেছে ভারতীয় জনতা পার্টির। তৃণমূলের ছোট, বড় সকল নেতারা যখন দাবি করছিল যে একটি বুথেও ভারতীয় জনতা পার্টি তৃণমূলের থেকে এগিয়ে থাকতে পারবে না, ঠিক সেই সময়ই রাজ্যের 18 টি লোকসভা কেন্দ্রে বেশ ভালো মার্জিনে জয়যুক্ত হয়ে রাজ্যের শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসকে ভারতীয় জনতা পার্টি বুঝিয়ে দিয়েছিলেন, বাংলায় ক্ষমতা দখলের লড়াইয়ে এখন তারাই তৃণমূলের মূল প্রতিদ্বন্দ্বী।

শুধু তাই নয়, যে বামফ্রন্টকে পরাস্ত করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বাংলার মসনদে আসীন হয়েছিলেন, লোকসভা নির্বাচনে সেই বামফ্রন্ট একটি কেন্দ্র ছাড়া বাকি 41 টি কেন্দ্রে নিজেদের জামানত পর্যন্ত খুইয়ে বসেছে। দুটি আসনে টিমটিম করে জ্বলছে ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস। তবে ভারতীয় জনতা পার্টি 18 টি আসনে জয়যুক্ত হলেও এবারের লোকসভা নির্বাচনে 22 টি আসনে জয়যুক্ত হয়েছে রাজ্যের শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস। আর এই চারটি আসন বেশি পাওয়ায় বর্তমানে তাদেরকে কিছুটা হলেও আশার আলো দেখাচ্ছে।

কিন্তু রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, তৃণমূল কংগ্রেস জয়যুক্ত হয়েছে তার মূল কারণ হিসেবে কাজ করেছে রাজ্যের সংখ্যালঘু ভোট ব্যাংক ফ্যাক্টর। শুধু বিশেষজ্ঞরাই নয়, নির্বাচন পরবর্তীতে নিজের সাংবাদিক সম্মেলনে তৃণমূল কংগ্রেসের পিছনে সংখ্যালঘু ভোটব্যাংকের ভূমিকা গোপন করতে পারেননি তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এনিয়ে ভারতীয় জনতা পার্টির পক্ষ থেকে যখন তাকে বারবার সংখ্যালঘু সরকার হিসাবে অপমানিত করা হচ্ছিল বলে অভিযোগ, তখন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কার্যত বলেই ফেলেছিলেন, “যে গরু দুধ দেয়, তার লাথি সহ্য করতে হয়।” যা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে বির্তকের শেষ ছিল না।

রাজ্যের সংখ্যালঘু ভোটব্যাঙ্ক যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অন্যতম প্রধান অবলম্বন, সেই বিষয়ে সংশয় নেই প্রায় কোনো বিশেষজ্ঞদের মধ্যেই। কিন্তু সম্প্রতি গঙ্গা, যমুনা, তিস্তা দিয়ে অনেক জল বয়ে গেছে। কেন্দ্রে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে নরেন্দ্র মোদি সরকার। তবে মোদিজী শপথ নেওয়ার পর থেকেই তিন তালাক বিল, ধারা 370 এর অবলুপ্তি ইত্যাদির মাধ্যমে প্রমাণ করে দিয়েছিল, এবারের মোদি সরকার রীতিমত পারফরমেন্সের মুডে রয়েছে।

আর সম্প্রতি ভারতের সর্বোচ্চ আদালত রাম মন্দির ইস্যুতে নিজের রায় জানিয়েছে। যাতে রাম মন্দির তৈরিতে বর্তমানে আর কোনো বাধা নেই। আর এই সমগ্র ঘটনাকে একদিকে নরেন্দ্র মোদি সরকার যেমন নিজেদের দিকে রাখছে, অন্যদিকে দেশের কট্টর মৌলবাদী নেতা হিসেবে পরিচিত এআইএমআইএম প্রধান আসাদুদ্দিন ওয়াইসি সমগ্র ইস্যুতে নিজের বিতর্কিত মন্তব্য করে রীতিমতো শোরগোল তুলে দিয়েছে দেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে।

প্রিয় বন্ধু মিডিয়ার খবর আরও সহজে হাতের মুঠোয় পেতে যোগ দিন আমাদের যে কোনও এক্সক্লুসিভ সোশ্যাল মিডিয়া গ্রূপে। ক্লিক করুন এখানে – টেলিগ্রাম, হোয়াটস্যাপ, ফেসবুক গ্রূপ, ট্যুইটার, ইউটিউবফেসবুক পেজ

প্রিয় বন্ধু মিডিয়ায় প্রকাশিত খবরের নোটিফিকেশন আপনার মোবাইল বা কম্পিউটারের ব্রাউসারে সাথে সাথে পেতে, উপরের পপ-আপে অথবা নীচের বেল আইকনে ক্লিক করে ‘Allow‘ করুন।


আপনার মতামত জানান -

কিন্তু ঘটনা নিয়ে জল্পনা তখন সৃষ্টি হয়, যখন আসাদুদ্দিন ওয়াইসিকে রীতিমত তুলোধোনা করেন পশ্চিমবাংলার মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল কংগ্রেস সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সাম্প্রতিক জনসভায় নিজের বক্তব্য রাখতে গিয়ে নাম না করে আসাদুদ্দিন ওয়াইসিকে বিজেপির বি টিম বলে কটাক্ষ করেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি এও বলেন, “হায়দরাবাদ থেকে কোটি কোটি টাকা নিয়ে এসে কেউ কেউ মেকি সংখ্যালঘু প্রীতির দামামা পেটাচ্ছে। বিপদের দিনে আমরাই পাশে থাকব।”

আর এর পরেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আক্রমণের তীব্র প্রতিক্রিয়া জানান এআইএমআইএম প্রধান আসাদউদ্দিন ওয়াইসি। তিনি বলেন, “পশ্চিমবঙ্গে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কি করে ভারতীয় জনতা পার্টিকে আঠারোর বেশি আসন পাইয়ে দিলেন!” শুধু তাই নয়, রাজ্যের সংখ্যালঘু সম্প্রদায় রীতিমতো দৈন্যতার মধ্যে আছে বলে অভিযোগ এআইএমআইএম প্রধান। তিনি বলেন, “মুখ্যমন্ত্রীর দোয়ায় হাত তোলার কোনো প্রয়োজন নেই সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের।” যার ফলে দুই দলের মধ্যে যে সম্পর্কের তিক্ততা তৈরি হয়েছে, তা নিয়ে সংশয় নেই কারো মধ্যেই।

সব থেকে চিন্তার বিষয়, বিশেষ সূত্র মারফত জানা গেছে, আসাদুদ্দিন ওয়াইসি আগত 2021 সালের বিধানসভা নির্বাচনে বাংলায় নিজেদের প্রার্থী দেওয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছেন। তাদের লক্ষ্য, বাংলার দুই-তৃতীয়াংশ আসন। এতে করে প্রবল চাপের সম্ভাবনা দেখছে রাজ্যের শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস বলে মত বিশেষজ্ঞদের।

কারণ রাজ্যে 294 বিধানসভা কেন্দ্রের মধ্যে 100 টি বিধানসভা কেন্দ্রে যদি সংখ্যালঘু অধ্যুষিত ওয়াইসির দল থাবা বসায়, তাহলে নিজেদের সংখ্যালঘু ভোটব্যাংকে রীতিমতো ভাটা ধরতে পারে শাসকদলের বলে মত একাংশের। কারণ বরাবরই হিন্দুত্ববাদী রাজনীতি করতে সিদ্ধহস্ত ভারতীয় জনতা পার্টি। আর তারা যে এই রাজ্যে সংখ্যাগুরু ভোটব্যাঙ্কে নিজেদের আধিপত্য কায়েম রাখবেন, তা বলাই বাহুল্য।

এমতাবস্থায় তৃণমূল কংগ্রেস সংখ্যালঘু ভোটব্যাংক যদি আকড়ে থাকে, তাহলে তা রীতিমতো চিন্তা জনক শাসকদলের কাছে। মূলত রাজ্যের 30% সংখ্যালঘু ভোটারদের মন জয় করতে এআইএমআইএম প্রধান আসাদউদ্দিন ওয়াইসির দল এখন কোন পরিকল্পনা গ্রহণ করেন এবং সেই পরিকল্পনায় তারা সার্থক হন কিনা! সেদিকেই লক্ষ্য থাকবে সকলের।

আপনার মতামত জানান -
Top
error: Content is protected !!