এখন পড়ছেন
হোম > রাজ্য > কলকাতা > তৃণমূল নেত্রীর নেতৃত্ব নিয়েই বড়সড় প্রশ্ন তুলে মুকুল রায়ের হাসি চওড়া করে গেরুয়া শিবিরে অর্জুন সিং

তৃণমূল নেত্রীর নেতৃত্ব নিয়েই বড়সড় প্রশ্ন তুলে মুকুল রায়ের হাসি চওড়া করে গেরুয়া শিবিরে অর্জুন সিং

প্রিয় বন্ধু মিডিয়া এক্সক্লুসিভ – মুকুল রায় ও কৈলাশ বিজয়বর্গীয়র হাত ধরে বিজেপিতে যোগদান করলেন ভাটপাড়ার দাপুটে তৃণমূল বিধায়ক অর্জুন সিং। সকাল থেকেই ছড়ানো গুঞ্জন অনুযায়ী – মোটামুটি এই খবর আপাতত সকলেরই জানা। কিন্তু, অর্জুন সিংয়ের যোগদানের ফলে – যেটা সবথেকে মারাত্মক হল, তা হল এবার সরাসরি প্রশ্ন উঠে গেল তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্ব নিয়েই! কেননা, তৃণমূল কংগ্রেসের দুর্দিনে ভাটপাড়ার মত বামদুর্গে বুক চিতিয়ে লড়াই করা অর্জুন সিংয়ের এবারে স্পষ্ট দাবি ছিল – ব্যারাকপুরের লোকসভা টিকিট চায়!

যাবে থেকে শাসকদলের অন্দরে লোকসভা নির্বাচন নিয়ে প্রস্তুতি শুরু হয়েছে, তবে থেকেই অর্জুনবাবু স্পষ্ট করে দিয়েছেন তাঁর চাহিদা। তাঁর কথা ছিল, সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রের তৃণমূল সাংসদ দীনেশ ত্রিবেদীকে নাকি এলাকায় পাঁচ বছরে দেখাই যায় না। তিনি শুধু হাজির হন নির্বাচনের আগে। অন্যদিকে, এলাকার মানুষের দরকারে সব সময় হাজির অর্জুন সিং। আর তাই ব্যারাকপুরবাসীর ইচ্ছানুযায়ী এবার যেন অর্জুন সিংকেই টিকিট দেওয়া হয়। কিছুদিন আগে পর্যন্তও খবর ছিল অর্জুন সিংয়ের টিকিট ব্যারাকপুর কেন্দ্রে একদম পাকা। সেরকম হলে দীনেশ ত্রিবেদীকে যাদবপুরে টিকিট দেওয়া হতে পারে বা পরবর্তীকালে রাজ্যসভায় পাঠানো হতে পারে।

হাতের মুঠোয় আরও সহজে প্রিয় বন্ধু মিডিয়ার খবর পেতে যোগ দিন –

১. আমাদের Telegram গ্রূপ – ক্লিক করুন
২. আমাদের WhatsApp গ্রূপ – ক্লিক করুন
৩. আমাদের Facebook গ্রূপ – ক্লিক করুন
৪. আমাদের Twitter গ্রূপ – ক্লিক করুন
৫. আমাদের YouTube চ্যানেল – ক্লিক করুন

কিন্তু, তার পরিপ্রেক্ষিতেই জল্পনা ছড়ায়, যেহেতু বিজেপি কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে দীনেশবাবুর অসম্ভব ভালো সম্পর্ক, তাই তিনি তৃণমূলের টিকিট না পেলে নাকি, বিজেপি তাঁকে দলে নিয়ে নেবে। এই অবস্থায় সপ্তাহ তিনেক আগেই নাকি সিদ্ধান্ত হয় অর্জুন সিং নয়, ব্যারাকপুরে এবার টিকিট পাবেন দীনেশ ত্রিবেদীই। এই খবর অর্জুন সিংয়ের কাছে পৌঁছায় তৃণমূলের জেলা শীর্ষ নেতৃত্বের তরফে। স্বাভাবিকভাবেই সিদ্ধান্ত মেনে নিতে পারেননি অর্জুন সিং আর তখন থেকেই তাঁর বিজেপি যোগের সম্ভবনা ক্রমশ উজ্জ্বল হতে থাকে। এই খবর পেয়ে অর্জুন সিংকে আটকাতে স্বয়ং দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নবান্নে ডেকে পাঠান, একই সঙ্গে ডাক পরে দীনেশ ত্রিবেদীরও।

সূত্রের খবর, সেখানে তৃণমূল নেত্রী অর্জুন সিংকে জানান, যে লোকসভা প্রার্থী হিসাবে দীনেশ ত্রিবেদীকে মেনে নিক অর্জুন সিং, বদলে লোকসভা ভোট মিটে গেলে মিটবে রাজ্যের মন্ত্রিত্ব। কিন্তু অর্জুন সিংয়ের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে চলা বিজেপির এক যুবনেতা তাঁর প্রিয় ‘অর্জুন কাকুকে’ জানিয়ে রেখেছিলেন এরকম ‘জুমলা’ অফার আসতে পারে। কিন্তু, নির্বাচন মিটে গেলে কপালে জুটবে ‘লবডঙ্কা’, ওই বৈঠকে আগের রাতে যুবনেতার সঙ্গে হওয়া প্রতিটা কথা মিলে যাওয়াতেই, অর্জুন সিং মনস্থির করে ফেলেন দল ছেড়ে গেরুয়া শিবিরে যাচ্ছেন। কিন্তু, তাঁর কার্যবিধি কার্যত নজরবন্দি হয়ে যায় – ফলে সেই ‘চক্রব্যূহ’ কাটতে যে কদিন সময় লাগল, তারপরেই হল গেরুয়া শিবিরে যোগদান।

কিন্তু, এতদিন গেরুয়া শিবিরে যাঁরাই যাচ্ছিলেন ঘাসফুল শিবির থেকে, তাঁদের রীতিমত কুৎসিত আক্রমন করা হচ্ছিল – একাধিক অসাংবিধানিক ভাষায়। গেরুয়া শিবিরের স্পষ্ট অভিযোগ রীতিমত ভাড়া করা আইটি সেলের লোক দিয়ে এই আক্রমন করাচ্ছিল ঘাসফুল শিবির। কিন্তু, অর্জুন সিংয়ের ক্ষেত্রে তো আর সেকথা বলতে পারা যাবে না – কেননা তাঁকে যেন-তেন-প্রকারেন দলে রাখার চেষ্টায় ছিলেন স্বয়ং তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। অথচ, শত চেষ্টাতেও আটকাতে পারলেন না – এখন হয়ত বলবেন, একটা অর্জুন গেলে এক রাতে পাঁচ লক্ষ অর্জুন তৈরী করে নেবেন। কিন্তু, তাহলে আটকানোর মরিয়া চেষ্টা করেছিলেন কেন? প্রশ্নটা কিন্তু তুলতে শুরু করে দিয়েছে গেরুয়া শিবির – যা আগামীদিনে প্রচারে কিন্তু আরও রক্তচাপ বাড়াবে ঘাসফুল শিবিরের।

Top
error: Content is protected !!