এখন পড়ছেন
হোম > রাজ্য > অডিও বার্তায় ফের বিস্ফোরক অভিযোগ করলেন ভারতী ঘোষ

অডিও বার্তায় ফের বিস্ফোরক অভিযোগ করলেন ভারতী ঘোষ

কলকাতার এক ওয়েব পোর্টালের খবর অনুযায়ী এবার মিথ্যা অভিযোগে তাঁকে ফাঁসাতে ইউনিসের মদত নিচ্ছে CID। এবার ইউনিস সম্বন্ধে বিভিন্ন তথ্য তুলে ধরলেন একটি অডিও বার্তায়। ওই ওয়েব পোর্টালে বলা হয়েছে যে ভারতী ঘোষ বলেছেন :-

আমি ভারতী বলছি। ভারতবাসীর উদ্দেশ্যে আজ আমি আন্তর্জাতিক গোরু পাচারকারী ইউনিস আলি মণ্ডলের গল্প বলব। এবং প্রমাণ দিয়েই বলব।
ইউনিস আলি ২০১৬ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর খড়গপুর লোকাল থানায় আসে। নিজের হাতে একটি লিখিত অভিযোগ জমা দেয়। জানায়, ২ দিন আগে অর্থাৎ ২৪ সেপ্টেম্বর তার একটি গাড়ি (নম্বর- WB 26S8374) ট্রাকের পিছনে ধাক্কা মেরেছে। গাড়িতে চালক ও এক ব্যক্তি ছিল। দুজনে আহত হয়। FIR-এ কিন্তু ইউনিস কোথাও উল্লেখ করেনি গাড়িতে যে ভদ্রলোক ছিল সে ওর দাদা। আবদুল সামাদ মণ্ডল। এটাও বলেনি, যে ওই গাড়িতে টাকা আছে। যদি সত্যি সত্যি কারোর টাকা থাকে তাহলে সে কি বলবে না আমার গাড়িতে টাকা ছিল ? দাদা যাচ্ছিল। ইউনিস কিন্তু, এটা বলেনি। কেন বলেনি ? এটা একটা অদ্ভুত ব্যাপার। যাই হোক, ইউনিসের অভিযোগের ভিত্তিতে কেস হল খড়গপুর থানায়। কেস নম্বর ৫০৯/১৬। তারিখ ২৬.০৯.২০১৬। ভারতীয় দণ্ডবিধির ২৭৯, ৩৩৭, ৩৩৮ ধারায় মামলা রুজু হয়।

এবারে আপনারা বলুন যদি কেউ টাকা নিয়ে কোনও জায়গা থেকে অন্য কোনও জায়গায় যায় এবং গাড়ি দুর্ঘটনায় পড়ে তাহলে সে অভিযোগ করার সময় লিখে দেবে তো গাড়িতে টাকা আছে। তাও এক-দু টাকা নয়। ৪৫ লাখ টাকা নাকি। যাই হোক ও লেখেনি। এরপর আরও বলি, ইউনিস আলি মণ্ডল কিন্তু দুর্ঘটনার সময় ঘটনাস্থানে ছিল না। দুদিন পর এসে অভিযোগ লিখে দেয়। ফলে ভালো করে খোঁজখবর করেই ও অভিযোগ লিখেছে। যাই হোক, ওর গাড়ি সিজ় হয়। তারপর বহুবার কোর্টে এই কেস ওঠে। ইউনিস আলি কোর্টে যায়। আমাদের খড়গপুরে DIG, IG সাহেবের অফিস রয়েছে। কোথাও সে লিখিত দেয়নি, কোথাও বলেনি গাড়ি করে নাকি টাকা নিয়ে যাচ্ছিল। টাকা যদি সত্যিই যেত তাহলে ভদ্রলোক নিশ্চয়ই কোথাও লিখে দিত। আমরা জানতাম, ইউনিস আলি মণ্ডল আন্তর্জাতিক গোরু পাচারকারী। সুতরাং, ও পশ্চিম মেদিনীপুর পুলিশের নজরদারিতে ছিল। সরকার, গোয়েন্দা সংস্থাকে জিজ্ঞাসা না করে নজরদারি রাখা যায় না। নজরদারি রাখতে রাখতেই জানা যায় ও আরও গোরুপাচার করতে চাইছে। এবং লোক নিযুক্ত করছে। দুলাল মণ্ডল নামে একজনকে টাকা দিয়ে পাঠিয়েছে ফেকোহাটে। বেআইনি গোরু কেনার জন্য। এই খবর পাওয়ার পর ফেকোহাট থেকে দুলালকে গ্রেপ্তার করা হয়। বেলিয়াপাড়া পুলিশ স্টেশনে FIR হয়। কেস নম্বর ৮৫/১৬। তারিখ ৬.১২.২০১৬। ভারতীয় দণ্ডবিধির ৩৭৯, ৪১১, ১২০ বি ধারায় মামলা রুজু হয়। যে গাড়ি করে বেআইনি গোরু নিয়ে যাওয়ার কথা ছিল, সেই গাড়ি বাজেয়াপ্ত হয়। ৬ চাকার গাড়ির নম্বর WB 25F 2474। তার থেকে প্রচুর টাকা উদ্ধার করা হয়েছিল। তা ফরেনসিকে পাঠানো হয়। এবং বেলিয়াপাড়ার এই কেসে ইউনিস আলি মণ্ডলও আসামি। কারণ সে দুলালকে গোরু কিনতে পাঠিয়েছিল। তাই তার নামও FIR-এ আছে। তাকে ধরার জন্য বহুবার রেড করে পুলিশ। পশ্চিম মেদিনীপুর পুলিশ উত্তর ২৪ পরগনাতেও যায়। কিন্তু, ধরা পড়েনি। পরবর্তী সময়ে সে হাইকোর্টে একটি পিটিশন দাখিল করে। সেখানে জানায়, তার ৪৫ লাখ টাকা গাড়ি করে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। এরপর হাইকোর্টের কাছে আবেদনটি তুলে নেয়। এর ভিত্তিতে হাইকোর্ট তার পিটিশনটিকে খারিজও করে।

এটাই ইউনিস আলি মণ্ডলের পুরো গল্প। আপনারা এটুকু তো বুঝতে পারছেন একটা আন্তর্জাতিক গোরু পাচারকারী যাকে পশ্চিম মেদিনীপুর পুলিশ বহুবার খোঁজার চেষ্টা করেছে। তার শাগরেদ ধরা পড়েছে। গোরুর গাড়ি বাজেয়াপ্ত হয়েছে। যে নজরদারিতে ছিল সেরকম একজন গোরু পাচারকারীকে CID পশ্চিমবঙ্গ ডেকে এনে তাকে দিয়ে অভিযোগ করাচ্ছে। তাকে বলছে, কমপ্লেন লিখে দাও। কী লিখতে বলছে ? সেই পুরোনো গল্প। আগে অভিযোগ দায়েরের সময় সে যা লেখেনি (৪৫ লাখ টাকার কথা) এখন তা লিখছে। এবং তাকে জিজ্ঞাসা করা হচ্ছে না ভাই তুমি করো কি ? টাকা কোথা থেকে এল ? সেদিন যে টাকা নিয়ে যাচ্ছিল তা কোন ব্যাঙ্ক থেকে তুলেছিলে ? টাকার উৎস দেখাও। এইগুলো তাকে জিজ্ঞাসা না করেই কেস করা হচ্ছে। বলা হচ্ছে, ভাই একটা কেস করে দাও তো এই অফিসারদের নামে। তাহলে তোমার গোরুপাচার ঠিক চলবে।

প্রিয়বন্ধু বাংলার তরফেও এই খবরের সত্যতা যাচাই করে দেখা সম্ভব হয় নি। এই প্রবন্ধ সম্পূর্ণরূপে ওই পোর্টালে প্রকাশিত খবরের পরিপ্রেক্ষিতে করা, কোনোভাবেই রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত নয় বা কোনো ব্যক্তি বা দলের সম্মানহানির উদ্দেশ্যে রচিত নয়।

আপনার মতামত জানান -
Top
error: Content is protected !!