এখন পড়ছেন
হোম > জাতীয় > ভারত থেকে কি এবার সত্যিসত্যিই ব্যবসা গুটিয়ে নেবে ভোডাফোন? ক্রমশ তীব্র হচ্ছে জল্পনা

ভারত থেকে কি এবার সত্যিসত্যিই ব্যবসা গুটিয়ে নেবে ভোডাফোন? ক্রমশ তীব্র হচ্ছে জল্পনা

বেশ কিছুদিন ধরেই একটা জল্পনা চলছিল ভারতীয় টেলিকম বাজারে। ভারত থেকে নাকি এবার বৃহত্তম টেলিকম অপারেটর ভোডাফোন আইডিয়া নিজেদের ব্যবসা বন্ধ করতে চলেছে। লাইসেন্স ফি এবং স্পেকট্রাম ব্যবহারের চার্জ নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে যে বিশাল আর্থিক বোঝা চেপেছে ভোডাফোনের ঘাড়ে, তা মেটাতে না পারার জন্যই এই সিদ্ধান্ত বলে দাবি করা হয়েছে। আর এই জল্পনাকে উস্কে দিয়ে সম্প্রতি ভোডাফোন সংস্থার চিফ এক্সিকিউটিভ জানিয়েছেন, মাত্রাতিরিক্ত কর ও চার্জ নেওয়া বন্ধ না হলে ভোডাফোনের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়তে পারে ভারতে।

বৃহত্তম টেলিকম বাজার ভারতে ভোডাফোন ইন্ডিয়া 700 কোটি ডলারের লোকসান দিয়েছে। ইতিমধ্যে যা একটা রেকর্ড। তবে সূত্রের দাবি, ভোডাফোনের এই লোকসানের পেছনে দুটি কারণ আছে। প্রথমটি হচ্ছে বহু বছর যাবত ভারতের কল চার্জ যথেষ্ট নিম্নগামী এবং অন্যদিকে ডাটা চার্জও ক্রমশঃ নিন্মমুখি।

যদিও কয়েক বছর আগে মোবাইলে ইন্টারনেট ব্যবহার করার আগে দুবার ভাবতে হত। কারণ, তার চার্জ ছিল অনেক বেশি। কিন্তু গত তিন বছর আগে রিলায়েন্স জিও টেলিকম বাজারে পদার্পণ করার সাথে সাথে মোবাইল ডাটার দাম প্রচুর কমিয়ে দেয়। যার ফলে সাধারণ মানুষ কথা বলার থেকে মোবাইলে ইন্টারনেট ব্যবহার করায় বেশি আগ্রহী হয়ে পড়ে। যোগাযোগ হেতু তারা বিভিন্ন অ্যাপ ব্যবহার করতে শুরু করে।

ফলে অন্যান্য টেলিকম কোম্পানিগুলোও চাপে পড়ে মোবাইল ডাটার দাম কমাতে বাধ্য হয়। যার ফলস্বরূপ, লাভের অংশ ক্রমশ কমতে থাকে। অন্যদিকে, সরকারের সাথে টেলিকম কোম্পানিগুলির প্রথম থেকেই মাত্রাতিরিক্ত কর ও চার্জ নিয়ে দ্বন্দ্ব বর্তমান। এ প্রসঙ্গে জানা যায়, 2005 সাল থেকেই ভারত সরকারের সাথে টেলিকম কোম্পানী গুলির একটি দ্বন্দ্ব চলছিলই। টেলিকম কোম্পানীগুলি দাবি করে, তাঁদের লভ্যাংশ থেকে সরকারকে কর দেওয়ার, কিন্তু টেলিকম কোম্পানিগুলির সূত্রে জানা যাচ্ছে, সরকারের কর মেটাতে কোম্পানির সম্পদ বিক্রি হচ্ছে এবং জমানো অর্থের সুদও বেরিয়ে যাচ্ছে।

এ নিয়ে সম্প্রতি টেলিকম কোম্পানীগুলো সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়। কিন্তু কোর্টের তরফেও সরকারকে সমর্থন জানানো হয়। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে সম্প্রতি টেলিকম কোম্পানিগুলি সরকারকে 90 হাজার কোটি টাকা দিতে বাধ্য হচ্ছে। যার মধ্যে শুধুমাত্র ভোডাফোনকেই প্রায় 40 হাজার কোটি টাকা দিতে হবে সরকারকে। এর ফলে তাঁদের লোকসানের পরিমাণ প্রচুর বেড়ে গেছে। আর এই প্রসঙ্গেই ভোডাফোনের প্রধান নিবার্হী নিক রিড জানিয়েছেন, ভারত সরকারের চাপের ফলে কোম্পানিগুলি ক্রমশ কোণঠাসা হতে চলেছে। তাদের কার্যক্রম সংশয়ের মধ্যে পড়ছে।

ফেসবুকের কিছু টেকনিক্যাল প্রবলেমের জন্য সব আপডেট আপনাদের কাছে সবসময় পৌঁচ্ছাছে না। তাই আমাদের সমস্ত খবরের নিয়মিত আপডেট পেতে যোগদিন আমাদের হোয়াটস্যাপ বা টেলিগ্রাম গ্রূপে।

১. আমাদের Telegram গ্রূপ – ক্লিক করুন
২. আমাদের WhatsApp গ্রূপ – ক্লিক করুন
৩. আমাদের Facebook গ্রূপ – ক্লিক করুন
৪. আমাদের Twitter গ্রূপ – ক্লিক করুন
৫. আমাদের YouTube চ্যানেল – ক্লিক করুন

প্রিয় বন্ধু মিডিয়ায় প্রকাশিত খবরের নোটিফিকেশন আপনার মোবাইল বা কম্পিউটারের ব্রাউসারে সাথে সাথে পেতে, উপরের পপ-আপে অথবা নীচের বেল আইকনে ক্লিক করে ‘Allow‘ করুন।


আপনার মতামত জানান -

ভোডাফোন ভারতের কোম্পানির সাথে যৌথভাবে কোম্পানি গঠন করে ব্যবসা চালাচ্ছে। ফলে ভোডাফোন ভারতের টেলিকম বাজারের 29% নিয়ন্ত্রণ করে। এ ব্যাপারে ভোডাফোনের চিফ এক্সিকিউটিভ নিক রিড জানিয়েছেন, ‘বৈরী আইন-কানুন, অতিরিক্ত কর এবং সর্বোপরি সুপ্রিম কোর্টের নেতিবাচক সিদ্ধান্তের কারণে আমাদের উপর বড় ধরনের বোঝা তৈরি হয়েছে।’ যদিও এই বক্তব্য রাখার পরের দিন তিনি সরকারের কাছে ক্ষমা প্রার্থী হন এবং ভারত ছেড়ে না যাবার কথাই বলেন।

তবে বাস্তবের ছবি অন্য। ভোডাফোন কোম্পানিতে নতুন করে কেউ কোন বিনিয়োগ করছে না। ভারতে ভোডাফোনের অংশীদার হচ্ছে আদিত্য বিড়লা। এ অবস্থায় ভোডাফোনের তরফ থেকে জানা গেছে, যদি কোম্পানিতে কোন বিনিয়োগ না হয় এবং এরকম অস্থির অবস্থা থাকে তাহলে ভারতের বাজার থেকে ভোডাফোনের বিদায় নেওয়ার সম্ভাবনা বহুলাংশে বেশি। তবে টেলিকম বিশেষজ্ঞদের দাবি, ভোডাফোনের মতন বড় সংস্থা যদি ভারত ছেড়ে বেরিয়ে যায় তাহলে তা টেলিকম জগতে মোটেও ভালো খবর নয়।

তবে ভোডাফোনের ব্যবসা গোটানোর পেছনে শুধু সুপ্রিম কোর্টের সিদ্ধান্ত যে আসল কারণ তা নয়, সরকারের সাথে করের বোঝা নিয়ে বহুদিন ধরেই তাঁদের বিরোধ চলছে। তবে ভোডাফোনের মতন কোম্পানি যদি ভারত থেকে ব্যবসা গুটিয়ে নেয়, তাহলে অন্যান্য কোম্পানিরা ভারতে বিনিয়োগ করার ব্যাপারে যথেষ্ট সন্দিহান থাকবে বলে মনে করছেন টেলিকম জগতের একাংশ। তবে গ্রাহকদের জন্য একটাই খবর, ভোডাফোন থাকুক চাই না থাকুক মোবাইল ফোনের খরচ যে এবার বাড়তে চলেছে সে ব্যাপারে কোন সন্দেহ নেই বলে মনে করছে টেলিকম বিশেষজ্ঞরা।

তবে ভোডাফোন আইডিয়া নিয়ে টেলিকম সেক্টরে চূড়ান্ত বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। এ ব্যাপারে টেলিকম বিশেষজ্ঞদের দাবি, সুপ্রিম কোর্টের রায়ে যে বিপুল অর্থের ঋণের বোঝা ভোডাফোন আইডিয়ার ঘাড়ে চেপেছে তার থেকে তাঁরা কি করে বেরোবে সেটাই এখন ভাবার বিষয়। তবে ভোডাফোন আইডিয়া যে এই মুহূর্তে টেলিকম সেক্টরে খুব একটা সুবিধাজনক জায়গায় নেই, তা স্বীকার করছেন টেলিকম সেক্টরের একাংশ। এখন ভোডাফোন আইডিয়া টেলিকম কোম্পানি নিজেদের সুরক্ষিত করতে কি সিদ্ধান্ত নেয়, সে দিকে নজর রাখছে দেশের তাবড় টেলিকম বিশেষজ্ঞরা।

আপনার মতামত জানান -
Top
error: Content is protected !!