এখন পড়ছেন
হোম > জাতীয় > ভাবদিঘি আন্দোলনের সুষ্ঠু সমাধানে মরিয়া প্রশাসন বোঝালো আন্তরিকতায়

ভাবদিঘি আন্দোলনের সুষ্ঠু সমাধানে মরিয়া প্রশাসন বোঝালো আন্তরিকতায়

এক টানা ৭ ঘন্টা অপেক্ষার পরে ও ভাবাদিঘির সভাস্থলে আন্দোলনকারীরা অনুপস্থিত রইলো। কিন্তু হলে কী হবে হাল ছাড়তে নারাজ প্রশানিক কর্তারা এদিন আন্দোলনকারীদের দাবি অনুসারে তাঁদের বাড়ির উঠানে বৈঠক করতে উপস্থিত হলেন। প্রসঙ্গতঃ বিষ্ণুপুর-তারকেশ্বর রেল প্রকল্পের থেমে থাকা কাজ পুণরায় চালু করার জন্যে প্রশাসনের এমন নমনীয় আচরন দেখে বিস্মিত খদ আন্দলনকারীরাই। যদিও এদিনের বৈঠকের পরে কোনো ইতিবাচক ফলাফল পাওয়া যায়নি । কোনো মধ্যস্থতায় আসা সম্ভব হয়নি।

আরো খবর পেতে চোখ রাখুন প্রিয়বন্ধু মিডিয়া-তে

——————————————————————————————-

 এবার থেকে প্রিয় বন্ধুর খবর পড়া আরো সহজ, আমাদের সব খবর সারাদিন হাতের মুঠোয় পেতে যোগ দিন আমাদের হোয়াটস্যাপ গ্রূপে – ক্লিক করুন এই লিঙ্কে

ভাবাদিঘিতে এদিনের বৈঠক শেষে প্রশাসনের কর্তারা কোনো মন্তব্য না করলেও আরামবাগের মহকুমা শাসক লক্ষ্মী ভাবোবিয়া তেন্নেরু কে ফোন করা হলে তিনি ঘটনা সম্পর্কে বিস্তারিত জানিয়ে বললেন, “আমরা সম্প্রতি কাজে যোগ দিয়েছি। তাই রেল প্রকল্প সম্পন্ন করতে এদিন আন্দোলনকারীদের সঙ্গে আলাপ করতে এসেছিলাম। তাঁদের সঙ্গে কথা হয়েছে। আমরা তাঁদের সঙ্গে কথা বলে সমস্যা বোঝার চেষ্টা করছি।” প্রসঙ্গতঃ গত ২২শেজুন হুগলির তৎকালীন জেলাশাসক সঞ্জয় বনসলের নেতৃত্বে ভাবাদিঘিতে প্রশাসনিক বৈঠক হয়। সেই বৈঠকে সরকারের প্রতিশ্রুতিগুলি লিখিত আকারে দেওয়ার দাবি করেন আন্দোলনকারীরা ।

সেইমতো পুলিশ মারফত গত ৫ ই জুলাই জেলাশাসকের স্বাক্ষর করা উন্নয়নের প্রতিশ্রুতিপত্র আন্দোলনকারীদের দেওয়া হয়। এরপরে মহকুমা বাসীরা যথেষ্ট আশাবাদী হয়ে ওঠে। কিন্তু এদিন প্রশাসনিক বৈঠকে আন্দোলনকারীদের এই অপ্রতিরোধ্য আচরণ প্রশাসনকে কার্যতই আশাহত করেছে। উল্লেখ্য এদিন সকাল ১০টায় হুগলির নব নিযুক্ত অতিরিক্ত জেলাশাসক( ভূমি ও ভূমি সংস্কার) রজত নন্দা, অতিরিক্ত জেলাশাসক(উন্নয়ন) প্রতীপ মণ্ডল, আরামবাগের ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট প্রশান্ত মাইতি, লক্ষ্মণ বিশ্বাস সহ অন্যান্য আধিকারিকরা পূর্ব প্রস্তাবিত আলোচনাস্থল ভাবাদিঘি প্রাইমারি স্কুলে এসে উপস্থিত হন এবং বেলা ১১টা পর্যন্ত অপেক্ষা করেন। আন্দোলনকারীদের পক্ষ থেকে কেউ হাজির না হওয়ার তাঁরা গ্রাম পরিদর্শনে যান । পরে গোঘাট-১ বিডিও অফিসে বৈঠক করেন।

সেখান থেকে আবার তাঁরা ভাবাদিঘির স্কুলে ফিরে আসেন এবং আন্দোলনকারীদের জন্য অপেক্ষা করতে থাকেন। তখনও আন্দোলনকারীদের তরফ থেকে কোনো সাড়া না মেলায় প্রাইমারি স্কুলেই আধিকারিকরা মধ্যাহ্ন ভোজন সারেন। এরপরে বিকেল সাড়ে ৫টা নাগাদ আন্দোলনকারীরা নিজেদের বাড়ির উঠানে বৈঠকে বসতে রাজি হয়।এসেখানে প্রশাসনিক কর্তা ব্যক্তিরা গেলেও আন্দোলনকারীদের তরফ থেকে কোনো সৌজন্য মূলক আচরণ পাওয়া যায়নি বলে জানা গিয়েছে। বৈঠকের পরেও কোনও মধ্যস্থতা না হলে স্বভাবতই হতাশ হয়ে প্রশাসনিক কর্তারা সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা নাগাদ ফিরে যান।

এই আন্দোলন প্রসঙ্গে গোঘাট-১ পঞ্চায়েত সমিতির বিদায়ী সভাপতি মৃণাল আলু বললেন, “আন্দোলন ধীরে ধীরে স্তিমিত হচ্ছে। আমরা তাঁদের সঙ্গে রয়েছি।” প্রসঙ্গত, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘোষিত তারকেশ্বর-বিষ্ণুপুর রেলপথ গোঘাটের ভাবাদিঘিতে এসে থেমে গিয়েছে। প্রশাসন রেল প্রকল্প করতে আন্দোলনকারীদের সব রকমভাবে পাশে থাকার বার্তা দিলেও দিঘি বাঁচিয়ে রেল পথ করার দাবিতেই বিগত ৯ বছর যাবত তাঁরা আন্দোলন জারী রেখেছেন।

আপনার মতামত জানান -
Top
error: Content is protected !!