এখন পড়ছেন
হোম > রাজ্য > কলকাতা > এত বড় সাহস বাংলাকে কাঙাল বলছে – অমিত শাহকে তোপ মমতার

এত বড় সাহস বাংলাকে কাঙাল বলছে – অমিত শাহকে তোপ মমতার

লোকসভা নির্বাচনকে ঘিরে শাসক বনাম বিরোধী নেতাদের বাকযুদ্ধকে কেন্দ্র করে বর্তমানে সরগরম রাজ্য রাজনীতি। এবারের নির্বাচনে বাংলার প্রতি বাড়তি নজর দিয়ে বঙ্গ সফরে এসে গেরুয়া ঝড় তুলে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি অমিত শাহ।

আর বাংলার যে জায়গাতেই তারা নির্বাচনী সভা করছেন, সেখান থেকেই রাজ্যের বিভিন্ন প্রসঙ্গ তুলে ধরে শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস ও মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে কড়া ভাষায় আক্রমণ করতে দেখা যাচ্ছে গেরুয়া শিবিরের হেভিওয়েট নেতাদের। পাল্টা “বাংলা না জানা নেতারা বাংলায় এসে উল্টোপাল্টা বলছে” বলে নাম না করে অমিত শাহ, নরেন্দ্র মোদির উদ্দেশ্যে খোঁচা দিতে দেখা গেছে তৃণমূল নেত্রী তথা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেও।

ইতিমধ্যেই বাংলায় ছয় দফার নির্বাচন শেষ হয়েছে। বাকি রয়েছে সপ্তম তথা শেষ দফার নির্বাচন। আর এই শেষ দফার নটি লোকসভা কেন্দ্রের নির্বাচনে ব্যাপক প্রচার করতে শুরু করেছে দুই দলই। আর সোমবার সেই প্রচার সভায় এসে ফের মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে কড়া ভাষায় আক্রমণ করলেন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি অমিত শাহ। যা নিয়ে পাল্টা বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতির বিরুদ্ধে আক্রমণাত্মক ভূমিকায় দেখা গেল তৃণমূল নেত্রীকে।

হাতের মুঠোয় আরও সহজে প্রিয় বন্ধু মিডিয়ার খবর পেতে যোগ দিন –

১. আমাদের Telegram গ্রূপ – ক্লিক করুন
২. আমাদের WhatsApp গ্রূপ – ক্লিক করুন
৩. আমাদের Facebook গ্রূপ – ক্লিক করুন
৪. আমাদের Twitter গ্রূপ – ক্লিক করুন
৫. আমাদের YouTube চ্যানেল – ক্লিক করুন

প্রসঙ্গত, গতকাল বারাসাতের সভায় উপস্থিত হয়ে শাসক দল তৃণমূলের আমলে রাজ্যে অব্যবস্থা চলছে এই অভিযোগ করে অমিত শাহ বলেন, “সোনার বাংলাকে কাঙ্গাল বাংলায় পরিণত করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। নরেন্দ্র মোদী জনপ্রিয় হয়ে উঠছেন বলেই কেন্দ্রের প্রকল্প বাংলায় চালু করতে চাইছেন না মমতা দিদি।”

পাশাপাশি বাংলায় আগে রবীন্দ্রসংগীত শোনা গেলেও এখন বাংলা জুড়ে বোমা তৈরীর কারখানা হয়েছে বলেও অভিযোগ করতে দেখা যায় বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতিকে। আর বিজেপির অমিত শাহের এহেন কটাক্ষের জবাব সোমবারই বজবজের নির্বাচনী সভা থেকে দিলেন তৃণমূল নেত্রী তথা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

এদিন তিনি বলেন, “একটা নেতা এসে বলে গিয়েছে আমি নাকি বাংলাকে কাঙাল বানিয়ে দিয়েছি! কাঙালের মানে জানে! বাঙালিকে কাঙ্গালী বলছে! এদের একটাও ভোট দেবেন না। এত বড় সাহস! মাথামোটা লোক। নরেন্দ্র মোদির রাইটহান্ড একেবারে অর্ধশিক্ষিত। কিচ্ছু জানে না। শুধু দাঙ্গা লাগিয়ে হিন্দু, মুসলমান করে।” অন্যদিকে বজবজের সভা থেকে অমিত শাহের “ভাতিজা ট্যাক্সের” বক্তব্যেরও পাল্টা জবাব দিতে দেখা যায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে।

তিনি বলেন, “একটা লোকের দ্বারা কখনো দল চলে না। সবাইকে নিয়ে চলতে হয়। উনি আমাদের পরিবারের সবাইকে চেনেন না। ইন্দিরা গান্ধী যখন মারা যান তখন আমি কংগ্রেস করতাম। 1980 সালে মিছিল হত। সিপিএম বলতো পাড়া থেকে বেরোচ্ছে, কিন্তু ঢুকতে দেওয়া হবে না। মা আঠা করে দিতে পোস্টার মারব বলে। আর আমাদের পরিবারের একটা ছেলে অভিষেক রাজনীতিতে এসেছে, তাতে বিজেপির এত জালা হচ্ছে! সারাক্ষণ ধরে ভাতিজা ভাতিজা বলে গেল! এত হিংসুটে! সব সময় আমাদের পেছনে লাগে।”

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি অমিত শাহ বাংলায় গেরুয়া ঝড় তোলার পাশাপাশি তৃণমূলের অন্দরেও এদিন ঝড় তুলতে চেয়েছিলেন। আর তাইতো পিসি ভাইপোর সম্পর্কের কথা তুলে ধরে তৃণমূলে এই দুইজনই সর্বেসর্বা বোঝানোর চেষ্টা করে অনেক তৃণমূল কর্মীর ক্ষোভের বাতাবরণকে আরও ছড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেছেন। আর তা বুঝতে পেরেই “বিজেপি হিংসা ছড়াচ্ছে” বলে পাল্টা গোটা ব্যাপারটি ধামাচাপা দিয়ে গেরুয়া শিবিরের বিরুদ্ধে বেশি করে আক্রমণাত্মক হলেন তৃণমূল নেত্রী বলে দাবি সমালোচক মহলের একাংশের।

Top
error: Content is protected !!