এখন পড়ছেন
হোম > রাজ্য > উত্তরবঙ্গ > বিজেপি পরিচালিত পঞ্চায়েতে একশ দিনের টাকা তছরুপ, স্বতপ্রণোদিত হয়ে বিডিও করলেন এফআইআর

বিজেপি পরিচালিত পঞ্চায়েতে একশ দিনের টাকা তছরুপ, স্বতপ্রণোদিত হয়ে বিডিও করলেন এফআইআর

মূলত 2018 সালের পঞ্চায়েত নির্বাচন থেকেই রাজ্যের শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসকে টেক্কা দিতে শুরু করে ভারতীয় জনতা পার্টি। লাগামহীন সন্ত্রাসের জেরে পঞ্চায়েত নির্বাচনে বিরোধীরা খুব একটা ভালো ফল না করলেও রাজ্যের সর্বকালের সব রেকর্ড ভেঙে দিয়ে পাঁচ হাজারেরও বেশি পঞ্চায়েত আসনে জয়লাভ করে গেরুয়া শিবির। যদিও বা শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসের সংখ্যার তুলনায় বিজেপির সংখ্যা অত্যন্ত নগণ্য।

তবুও বিরোধীশূন্য পশ্চিমবঙ্গ পঞ্চায়েতে নাম্বার দুইয়ে এই জায়গা করে নিতে সক্ষম হয়েছিল ভারতীয় জনতা পার্টি। যার কারণে একাধিক গ্রাম পঞ্চায়েত দখলে চলে আসে বিজেপির। স্বাভাবিকভাবেই সেই গ্রাম পঞ্চায়েতগুলির কাজকর্মে খুত ধরবে রাজ্যের শাসক দল তা প্রথম থেকেই মনে করে এসেছিল রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা। আর এমনই একটা ঘটনা ঘটল উত্তর দিনাজপুর জেলার কালিয়াগঞ্জ থানার বিজেপি পরিচালিত বরুনা গ্রাম পঞ্চায়েতে।

সেখানে 100 দিনের কাজের টাকা তছরুপ করার অভিযোগ ওঠে বিজেপি পরিচালিত পঞ্চায়েত প্রধানের বিরুদ্ধে। আর এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে কালিয়াগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগও দায়ের করা হয়। গত শনিবার দিন রাত্রিবেলা এই প্রসঙ্গে কালিয়াগঞ্জ থানায় এফআইআর করেন কালিয়াগঞ্জের বিডিও প্রসূন কুমার। আর বিডিওর করা অভিযোগ অনুযায়ী উক্ত ওই পঞ্চায়েত এলাকায় 100 দিনের কাজের আওতাভুক্ত পুকুর খননের মাধ্যমে একটি বিদ্যালয়ের মাঠ উঁচু করার কাজ সঠিকভাবে পরিচালনা না করে একশ দিনের টাকা তছরুপ করেছে উল্লেখ্য ওই পঞ্চায়েত বোর্ড।

কিন্তু শুধু বিজেপি পরিচালিত পঞ্চায়েতই নয়, এর আগে রাজ্যের শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস পরিচালিত বিন্দোল গ্রাম পঞ্চায়েতে প্রায় সাড়ে তিন কোটি টাকার অর্থনৈতিক দুর্নীতির বিষয়ে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছিলেন রায়গঞ্জের বিডিও। আর পরপর শাসক-বিরোধী দুই দলের পরিচালিত পঞ্চায়েতের বিরুদ্ধেই অর্থনৈতিক তছরুপের অভিযোগ ওঠায় রীতিমত সরগরম হয়ে উঠেছে উত্তর দিনাজপুর জেলা।

ফেসবুকের কিছু টেকনিক্যাল প্রবলেমের জন্য সব আপডেট আপনাদের কাছে সবসময় পৌঁচ্ছাছে না। তাই আমাদের সমস্ত খবরের নিয়মিত আপডেট পেতে যোগদিন আমাদের হোয়াটস্যাপ বা টেলিগ্রাম গ্রূপে।

১. আমাদের Telegram গ্রূপ – ক্লিক করুন
২. আমাদের WhatsApp গ্রূপ – ক্লিক করুন
৩. আমাদের Facebook গ্রূপ – ক্লিক করুন
৪. আমাদের Twitter গ্রূপ – ক্লিক করুন
৫. আমাদের YouTube চ্যানেল – ক্লিক করুন

প্রিয় বন্ধু মিডিয়ায় প্রকাশিত খবরের নোটিফিকেশন আপনার মোবাইল বা কম্পিউটারের ব্রাউসারে সাথে সাথে পেতে, উপরের পপ-আপে অথবা নীচের বেল আইকনে ক্লিক করে ‘Allow‘ করুন।

আপনার মতামত জানান -

স্বাভাবিকভাবেই মানুষের মনে প্রশ্ন, শাসক-বিরোধী দুই রাজনৈতিক দল মিলে যখন জনগণের টাকা তছরুপ করছে, তখন জনগণ কাদের বাসায় থাকবে! স্থানীয় প্রশাসন সূত্রে খবর পাওয়া যাচ্ছে, বরুনা গ্রাম পঞ্চায়েতের সাপোল গ্রামে একটি পুকুর ও একটি স্কুলের মাঠ সংস্কারের কাজ 100 দিনের কাজের আওতাভুক্ত ভাবে পরিচালনা করেছিল বরুনা গ্রাম পঞ্চায়েত। বছরখানেক আগে এই কাজ হয়েছিল। কিন্তু স্থানীয় বাসিন্দাদের তরফ থেকে এই কাজ নিয়ে সমষ্টি উন্নয়ন আধিকারিকের কাছে লিখিত অভিযোগ করা হয়। আর যার জেরেই এই ঘটনার তদন্তে নামে ব্লক প্রশাসন থেকে শুরু করে জেলা প্রশাসন। আর তারপরই এর সত্যতা সামনে আসলে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন কালিয়াগঞ্জের বিডিও।

তবে গোটা ঘটনা প্রসঙ্গে বরুনা গ্রাম পঞ্চায়েতের বিজেপির প্রধান রীনাবালা দেবশর্মা বলেন, “সরকারি প্রকল্পের একটি টাকাও নিইনি। আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ আনা হচ্ছে।” অপরদিকে এই প্রসঙ্গে বরুনা গ্রাম পঞ্চায়েতের উপপ্রধান ননী গোপাল মন্ডল বলেন, “পুকুরের মাটি কাটা ও মাঠের কাজের কোনো অনিয়ম হয়নি। তিন মাস আগে ব্লক প্রশাসন থেকে পঞ্চায়েতে এক লক্ষ 82 হাজার টাকা ফেরত দিতে বলা হয়। আমরা প্রশাসনকে কাজের সব হিসেব বুঝিয়ে দিয়েছি। কিন্তু তারপরেও কেন প্রধানের নামে এফআইআর হল, সেটা আমরা বুঝতে পারছি না। আর্থিক অনিয়মের ঘটনা ঘটলে পঞ্চায়েতে নিযুক্ত সরকারি কর্মীদের দায় এড়াতে পারেন না। এর পেছনে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য রয়েছে।”

কিন্তু উপপ্রধান যাই বলুন না কেন, এই ঘটনায় সম্পূর্ণ ভিন্ন মত প্রকাশ করেছেন কালিয়াগঞ্জের বিডিও প্রসূন কুমার ধারা। এদিন এই প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “সরকারি অর্থ তছরূপের ঘটনা তদন্তে প্রমাণিত হওয়ায় কালিয়াগঞ্জ থানায় পঞ্চায়েত প্রধানের বিরুদ্ধে এফআইআর করা হয়েছে। বিষয়টি পুলিশ তদন্ত করবে।” স্থানীয় প্রশাসন সূত্রে জানানো হয়েছে, অভিযোগের ভিত্তিতে ঘটনার তদন্ত শুরু করা হয়েছে। তবে নিজের দলের নেতাকর্মীদের দোষ ঢাকতে ময়দানে নেমেছেন বিজেপির উত্তর দিনাজপুর জেলা সভাপতি নির্মল দাম। এদিন তিনি বলেন, “আমাদের দল পরিচালিত সব কটি গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় স্বচ্ছভাবে সরকারি কাজকর্ম হচ্ছে। বিন্দোলের কোটি কোটি টাকা তছরুপের ঘটনাকে ধামাচাপা দিতে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে আমাদের এক প্রধানের নামে থানায় অভিযোগ করা হয়েছে। আমরা এই চক্রান্তের বিরুদ্ধে আন্দোলনে নামব।”

কিন্তু 100 দিনের কাজের টাকা তছরুপের বিজেপির প্রধানের নাম জড়ানোয় কিছুটা স্বস্তি অনুভব করছে উত্তর দিনাজপুর জেলা তৃণমূল কংগ্রেস। নিজেদের বিরুদ্ধে ওঠা বিন্দোল গ্রাম পঞ্চায়েতের টাকা তছরূপে জড়িত তৃণমূল প্রধান লায়লা খাতুনকে ইতিমধ্যেই দল থেকে বহিষ্কার করেছে উত্তর দিনাজপুর জেলা তৃণমূল কংগ্রেস। গোটা ঘটনা প্রসঙ্গে উত্তর দিনাজপুর জেলা তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি কানাইয়ালাল আগরওয়াল বলেন, “সরকারি টাকা তছরুপের ঘটনায় যে দলের যে কেউই জড়িত থাক না কেন, প্রশাসন ও পুলিশের তাদের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ করা উচিত।”

তবে উত্তর দিনাজপুর জেলায় একের পর এক পঞ্চায়েতের আর্থিক দুর্নীতি নিয়ে অবশ্য বিশেষজ্ঞদের মধ্যে দ্বিমত রয়েছে। একদল বিশেষজ্ঞের মতে, জেলার পঞ্চায়েত ব্যবস্থা এতটা দুর্নীতিগ্রস্ত হয়ে পড়েছে, যে শাসক-বিরোধী নির্বিশেষে সব দলই জনগণের টাকা তছরুপ করতে উদ্যত। আবার অপর বিশেষজ্ঞদের মতে, বিন্দোল গ্রাম পঞ্চায়েতের টাকা তছরুপের ঘটনাকে কেন্দ্র করে কোণঠাসা জেলা তৃণমূল কংগ্রেস এবং তার নেতৃত্বদের নেপথ্য অঙ্গুলিহেলনে অনেকটা রাজনৈতিকভাবেই ষড়যন্ত্রের শিকার করা হচ্ছে বরুনা গ্রাম পঞ্চায়েতের বিজেপি প্রধানকে। এখন গোটা ঘটনায় সমগ্র তদন্ত কোন দিকে এগোয়, সেদিকেই তাকিয়ে রাজনৈতিক মহল।

আপনার মতামত জানান -
Top
error: Content is protected !!