এখন পড়ছেন
হোম > রাজ্য > বর্ধমান > এখনো অন্ধকারে একবিংশ শতাব্দী! গ্রামের মোড়লের নির্দেশে বাবার দশ আঙুল কাটল ছেলে!

এখনো অন্ধকারে একবিংশ শতাব্দী! গ্রামের মোড়লের নির্দেশে বাবার দশ আঙুল কাটল ছেলে!

সভ্যতা গড়াতে গড়াতে একবিংশ শতকের দোরগোড়ায় এসে দাঁড়িয়েছে। দেশ স্বাধীন হয়েছে ৭১ বছর হল। ‘ডিজিট্যাল ইন্ডিয়া’ এখন প্রগতির বার্তাবাহক। তবুও কুসংস্কার থেকে মিলছে না নিস্তার। কুসংস্কারের এক ধাক্কায় যেন কয়েক শতক পিছিয়ে যাচ্ছি আমরা। তবুও ঘুম ভাঙছে না মানুষের। এদিন ফের কুসংস্কারের যুপাকাষ্ঠে বলি হতে হল এক বৃদ্ধ পিতাকে। ঘটনাটি ঘটেছে বর্ধমানের পাড়ুই থানা আওতাধীন রাধাকৃষ্ণপুর আদিবাসী গ্রামে। কী ঘটেছে শুনলে আৎকে উঠবেন আপনিও! আসুন জেনে নেওয়া যাক।

স্থানীয়দের সূত্রের খবর থেকে জানা যায়,গ্রাম মোড়লের নির্দেশে বৃদ্ধ বাবার দশটি আঙুল কেটে নিল ছেলে। তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ সে অপদেবতার পুজো করেছিল। এদিন রাতে গ্রামে এই অপারধের বিচার করার জন্য সালিশি সভা বসেছিল। সেখানেই আক্রান্ত ফন্দি সর্দারের বিরুদ্ধে অভিযোগটি ওঠে। তিনি নাকি বাড়িতে অপদেবতার পুজো করছেন। যার জেরে গ্রামে অশান্তি ছড়াচ্ছে। এমনকি গ্রামে এক মহিলাকে অপদেবতা তাঁর কারণেই ভর করেছে বলে অভিযোগে জানানো হয়। এসব অভিযোগের ভিত্তিতে সালিশি সভায় প্রথমে বৃদ্ধকে অপদেবতা বের করে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। কিন্তু তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করার তাকে বলি দেওয়ার নিদান দেন গ্রামের মোড়ল অনিল সর্দার। পরে শাস্তি কমিয়ে যে হাত দিয়ে তিনি অপদেবতার পুজো করেন সেই হাতেড আঙুলগুলি তাঁর ছেলেকে কেটে নেওয়াও নিদান দেন মোড়ল। মোড়লের নির্দেশ মেনেই বৃদ্ধ বাবার দুহাতের দশটি আঙুল কেটে নেয় ছেলে হরিশ্চন্দ্র সর্দার। এই ঘটনার পর গুরুতর আহত অবস্থায় ফন্দিবাবুকে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখান থেকে বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যেতে বলা হয়েছে। বৃদ্ধের ছেলে সহ আরো পাঁচজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

ফেসবুকের কিছু টেকনিকাল প্রবলেমের জন্য সব খবর আপনাদের কাছে পৌঁছেছে না। তাই আরো খবর পেতে চোখ রাখুন প্রিয়বন্ধু মিডিয়া-তে

এবার থেকে প্রিয় বন্ধুর খবর পড়া আরো সহজ, আমাদের সব খবর সারাদিন হাতের মুঠোয় পেতে যোগ দিন আমাদের হোয়াটস্যাপ গ্রূপে – ক্লিক করুন এই লিঙ্কে

উল্লেখ্য,এই কুসংস্কারের ঘটনার জেরে গ্রামে শোরগোল পড়ে গিয়েছে। গ্রামবাসীদের একাংশ এখনো মনে করছেন ফন্দি সর্দার বাড়িতে অপদেবতার পুজো করতেন যার কারণেরই গ্রাম এতো অশান্ত ছিল। ব্যাপারটা নিয়ে হইচই শুরু হয় এক মহিলাকে অপদেবতা ভর করার খবর প্রকাশ্যে এলে। গ্রামবাসীদের দাবী,এটার নেপথ্যেও রয়েছে ফন্দি সর্দার। এই ঘটনার পর গ্রামের মোড়লের নির্দেশে বৃদ্ধের বাড়িতে হানাও দিয়েছিল গ্রামবাসীরা। বৃদ্ধকে অপদেবতা বের করে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয় এমনকি রহস্য উদ্ধারের জন্য গ্রামের এক সাধু হরি মন্দির ও কালী মন্দির খোঁড়াখুঁড়িও শুরু হয়। বলা হয়,একটি ঘটের মধ্যে অপদেবতা রয়েছে। কিন্তু কিছু পাওয়া না গেলে ওই সাধু বলে ফন্দি সর্দার দোষের বোঝা চাপায় ফন্দি সর্দারের ঘাড়ে। বলে, ফন্দি সর্দার অপদেবতা লুকিয়ে রেখেছে। এরপরই ওই বৃদ্ধের বিরুদ্ধে ক্ষোভে ফেটে পরে মোড়ল সহ গ্রামবাসীদের একাংশ। গ্রামবাসীদের কোপের মুখে পড়েই শাস্তি হিসাবে দু হাতের দশটি আঙুল হারাতে হল বৃদ্ধকে।

এদিকে এই ন্যাক্কারজনক ঘটনায় উষ্মা প্রকাশ করলেন জেলা শাসক মৌমিতা গোদরা। আশ্বাস দিলেন অভিযুক্তরা এর যথাযোগ্য শাস্তি পাবে। গ্রামে কারা এবং কীভাবে এসব কুসংস্কার ছড়াচ্ছে তা খতিয়ে দেখার প্রতিশ্রুতি দিলেন তিনি। তবে এই মর্মান্তিক ঘটনা সভ্যতার চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিল যে কুসংস্কারমুক্ত ভারতবর্ষ গড়ার লক্ষ্যে এখনো আমরা কয়েক ধাপ পিছিয়ে আছি। এ ক্ষত থেকে মুক্তি মিলবে কবে? জাতির কাছে এ প্রশ্ন এখন বড় বেশি প্রাসঙ্গিক বলেই মনে করছেন ওয়াকিবহালমহল।

ফেসবুকের কিছু টেকনিকাল প্রবলেমের জন্য সব খবর আপনাদের কাছে পৌঁছেছে না। তাই আরো খবর পেতে চোখ রাখুন প্রিয়বন্ধু মিডিয়া-তে

এবার থেকে প্রিয় বন্ধুর খবর পড়া আরো সহজ, আমাদের সব খবর সারাদিন হাতের মুঠোয় পেতে যোগ দিন আমাদের হোয়াটস্যাপ গ্রূপে – ক্লিক করুন এই লিঙ্কে

আপনার মতামত জানান -
Top
error: Content is protected !!