এখন পড়ছেন
হোম > রাজ্য > কলকাতা > কাটমানি নিয়ে উত্তাল বর্ধমান, তৃনমূল নেতাদের সামাজিক বয়কটের ডাক

কাটমানি নিয়ে উত্তাল বর্ধমান, তৃনমূল নেতাদের সামাজিক বয়কটের ডাক

লোকসভা নির্বাচনে দলের খারাপ ফলাফল প্রকাশ্যে আসার পরই দুর্নীতি যে দলে জাঁকিয়ে বসেছে, তা ধরতে পেরেছিলেন তৃণমূল নেত্রী তথা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আর এরপরই রীতিমতো মাস্টারস্ট্রোক দিয়ে কাউন্সিলরদের নিয়ে বৈঠকে “কেউ কাটমানি খেলে তা তাকেই ফেরত দিতে হবে” বলে জানিয়ে দেন বাংলার প্রশাসনিক প্রধান।

আর এরপরই দিকে দিকে তৃণমূল থেকে দুর্নীতিগ্রস্ত নেতাদের বাড়ি ঘেরাও করে বিক্ষোভ প্রদর্শন করতে শুরু করেন সাধারণ মানুষ। পরিস্থিতি ভালো হবে মনে করলেও গোটা ঘটনায় তৃণমূলের দিকেই দুর্নীতির অভিযোগ আসায় অস্বস্তিতে পড়ে ঘাসফুল শিবিরও। আর এবার সেই সরকারি প্রকল্পে কাটমানি নেওয়ার অভিযোগে তৃণমূল নেতাদের কাছ থেকে টাকা ফেরত চাইলে তারা সেই টাকা দিতে না পারায় তাদের সামাজিকভাবে বয়কটের ডাক দিলেন গ্রামবাসীরা।

যে ঘটনা এখন প্রবল চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে পূর্ব বর্ধমানের আউসগ্রাম থানার দেয়াশা গ্রামে। গত বেশ কয়েকদিন ধরেই এই গ্রামে কাটমানি নেওয়াকে কেন্দ্র করে প্রবল অসন্তোষ তৈরি হয়েছিল। আর এরপরই গ্রামবাসীরা সিদ্ধান্ত নেন যে এলাকায় সালিশি সভা বসিয়ে এই টাকা ফেরত চাওয়া হবে। সেইমতো মঙ্গলবার সকালে এই দেয়াশা গ্রামের ধর্মরাজতলায় একটি সালিশি সভার আয়োজন করা হয়। যেখানে দেয়াশা অঞ্চল তৃণমূল সভাপতি সহ তৃণমূলের নয়জন নেতাকর্মীদের ডাকা হয়।

ফেসবুকের কিছু টেকনিক্যাল প্রবলেমের জন্য সব আপডেট আপনাদের কাছে সবসময় পৌঁচ্ছাছে না। তাই আমাদের সমস্ত খবরের নিয়মিত আপডেট পেতে যোগদিন আমাদের হোয়াটস্যাপ বা টেলিগ্রাম গ্রূপে।

১. আমাদের Telegram গ্রূপ – ক্লিক করুন
২. আমাদের WhatsApp গ্রূপ – ক্লিক করুন
৩. আমাদের Facebook গ্রূপ – ক্লিক করুন
৪. আমাদের Twitter গ্রূপ – ক্লিক করুন
৫. আমাদের YouTube চ্যানেল – ক্লিক করুন

প্রিয় বন্ধু মিডিয়ায় প্রকাশিত খবরের নোটিফিকেশন আপনার মোবাইল বা কম্পিউটারের ব্রাউসারে সাথে সাথে পেতে, উপরের পপ-আপে অথবা নীচের বেল আইকনে ক্লিক করে ‘Allow‘ করুন।


আপনার মতামত জানান -

জানা যায়, সেখানেই গ্রামবাসীদের পক্ষ থেকে দাবি করা হয় যে, এই তৃণমূল নেতারা সরকারি প্রকল্পের নাম করে প্রচুর টাকা আত্মসাৎ করেছেন। আর এরপর তারা যে সেই টাকা নিয়েছেন, তা স্বীকার করে নেন সেই তৃণমূলের নেতারা। এতেই বাধে বিপত্তি। কিন্তু কাটমানির টাকা নিলেও তা ফেরত দিতে নারাজ সেই তৃণমূলের নেতারা। কিন্তু কেন!

সূত্রের খবর, এদিন এই প্রসঙ্গে স্থানীয় তৃণমূল নেতা বিনয় মন্ডল বলেন, “আমরা দলীয় কাজের জন্য অল্পবিস্তর টাকা নিয়েছিলাম। সেই টাকা এখন দলের কাজেই খরচ হয়ে গিয়েছে। ফলে এখন সেই টাকা কি করে ফেরত দেব!” এদিকে তৃণমূল নেতাদের কাছ থেকে এই কথা শোনার পরই অভিযুক্ত নেতাদের সামাজিকভাবে বয়কটের ডাক দেন গ্রামবাসীরা।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, কাটমানি নিয়ে যেভাবে রাজ্য রাজনীতি উত্তাল হতে শুরু করেছে এবং তার সর্বশেষ সংযোজন যেভাবে তৃণমূল নেতারা এর জেরে সামাজিক বয়কটের শিকার হচ্ছেন, তাতে কিছুটা হলেও অস্বস্তিতে ঘাসফুল শিবির। তবে অভিযুক্ত তৃণমূল নেতারা দলের জন্য টাকা নিয়েছেন বলে জানালেও দল কেন তাদের দায় নেবে না! কেন সেই টাকা ফেরত দিতে দলের পক্ষ থেকে উদ্যোগ নেওয়া হবে না! এখন তা নিয়েও উঠতে শুরু করেছে প্রশ্ন।

এদিন এই প্রসঙ্গে আউসগ্রাম 1 ব্লক তৃণমূল সভাপতি শেখ সালেক রহমান বলেন, “আসলে গ্রামে গ্রামে মিলিতভাবে অশান্তি তৈরির চেষ্টা করছে বিজেপি এবং সিপিএম। চাঁদা দেওয়া যদি কাটমানি হয়, তাহলে সরাসরি প্রশাসনের কাছে অভিযোগ জানাক গ্রামবাসীরা। প্রশাসন তদন্ত করে ব্যবস্থা নেবে।” সব মিলিয়ে এবার সরকারি প্রকল্পে কাটমানি নেওয়ার অভিযোগে রীতিমতো সামাজিক বয়কটের শিকার শাসকদলের নেতারা।

আপনার মতামত জানান -
Top
error: Content is protected !!