এখন পড়ছেন
হোম > রাজ্য > নদীয়া-২৪ পরগনা > বড়মার শেষকৃত্য গড়াল মারামারিতে – তৃণমূলের ‘দখলদারি’ নিয়ে ক্ষোভ, জড়িয়ে গেল বিজেপিরও নাম

বড়মার শেষকৃত্য গড়াল মারামারিতে – তৃণমূলের ‘দখলদারি’ নিয়ে ক্ষোভ, জড়িয়ে গেল বিজেপিরও নাম

Priyo Bandhu Media

এবার মৃত্যুর পরেও মতুয়া মহাসঙ্ঘের বড়মা বীণাপাণি দেবীর শেষকৃত্য নিয়ে রাজ্যের শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস বনাম বিরোধী দল বিজেপির রাজনৈতিক দড়ি টানাটানি অব্যাহত। সূত্রের খবর, বুধবার দিনভর ঠাকুরবাড়িতে এই বড়মার শেষকৃত্য কারা করবে তা নিয়ে বিজেপির তরফে ঠাকুরবাড়ির সদস্য মঞ্জুলকৃষ্ণ ঠাকুর, শান্তনু ঠাকুর এবং অপরদিকে তৃণমূল সাংসদ মমতাবালা ঠাকুরের মধ্যে তীব্র দ্বন্দ্ব শুরু হয়েছিল।

আর বৃহস্পতিবার তা বচসা থেকে হাতাহাতি পর্যন্ত ছড়িয়ে গেল। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, বুধবারই ঠাকুরবাড়ির অন্যতম সদস্য বিজেপির মঞ্জুলকৃষ্ণ ঠাকুর ও শান্তনু ঠাকুর জানান, বৃহস্পতিবার বিকেল চারটে নাগাদ বড়মার শেষকৃত্য সম্পন্ন হবে। অন্যদিকে তৃণমূল সাংসদ মমতাবালা ঠাকুরের তরফ থেকে রাজ্যের খাদ্যমন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক জানিয়ে দেন যে, বৃহস্পতিবার বেলা 12 টার মধ্যেই বড়মার শেষকৃত্য সম্পন্ন করা হবে।

আর দুই পক্ষের তরফে এই দুরকম বিবৃতি নিয়ে বৃহস্পতিবার সারাদিনই ঠাকুরবাড়ি চত্বরে ছিল চরম উত্তেজনা। শেষ পর্যন্ত কখন বড়মার শেষকৃত্য সম্পন্ন হয় তার দিকেই তাকিয়ে ছিলেন মতুয়া ভক্তরা। দেখা যায়, বৃহস্পতিবার সকাল দশটা পনেরো মিনিটের সময় নাটমন্দির থেকে সেই বড়মার মৃতদেহ বের করে তা শববাহী গাড়িতে তোলার পর শোকমিছিল শুরু হয়। যেখানে উপস্থিত ছিলেন ঠাকুরবাড়ির আরেক সদস্য তথা সাংসদ মমতা বালা ঠাকুর, খাদ্যমন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক, দমকলমন্ত্রী সুজিত বসু, বিধাননগরে মেয়র সব্যসাচী দত্ত এবং রাজ্যের শাসকদলের এক ঝাঁক নেতা মন্ত্রীরা।

এদিকে এই শোকমিছিল শুরু হতে না হতেই ঠাকুরবাড়ির সদস্য বিজেপির শান্তনু ঠাকুরেরা তীব্র প্রতিবাদ শুরু করেন। তাদের অভিযোগ, শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসের অঙ্গুলিহেলনে বড়মার মৃতদেহ হাইজ্যাক করে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। আর এরপরই সেই শববাহী গাড়ি ফের পিছিয়ে নিয়ে আসা হয়। আর তারপরেই শুরু হয় নতুন করে মিছিল। এদিকে মিছিল শেষে বেলা পৌনে দুটো নাগাদ বড়মা বীণাপাণি দেবীর মৃতদেহ প্রথম রঞ্জন ঠাকুরের স্মৃতিসৌধে রাখা হয়। সেখানেই ঠাকুরবাড়ির সদস্য বিজেপির শান্তনু ঠাকুরেরা ধর্মীয় কাজকর্ম শুরু করলে আগে থেকেই গান স্যালুট এবং চিতা সাজানোর কাজকর্ম শেষ করে রাখেন রাজ্যের পুলিশ কর্মীরা।

এদিকে বেলা আড়াইটা বেজে গেলেও তখনও বড়মার মৃতদেহ বের না করা হলে মমতাবালা ঠাকুরের শিবিরের তরফ সেই শান্তনু ঠাকুরকে বড়মার মৃতদেহ বের করবার জন্য বলা হয়। কিন্তু তারপরও কোনো কথা না শোনায় একপ্রকার বড়মার মৃতদেহ তুলে এনেই চিতার সামনে নিয়ে যাওয়া হয়। আর এরপরই বেলা 2 টা 50 নাগাদ গান স্যালুট এবং বেলা তিনটে দশ নাগাদ প্রয়াত বীনাপানি দেবীর চিতায় আগুন দেন মঞ্জুলকৃষ্ণ ঠাকুর।

WhatsApp-এ প্রিয় বন্ধু মিডিয়ার খবর পেতে – ক্লিক করুন এখানে

আমাদের অন্যান্য সোশ্যাল মিডিয়া গ্রূপের লিঙ্ক – টেলিগ্রামফেসবুক গ্রূপ, ট্যুইটার, ইউটিউব, ফেসবুক পেজ

আমাদের Subscribe করতে নীচের বেল আইকনে ক্লিক করে ‘Allow‘ করুন।

এবার থেকে আমাদের খবর পড়ুন DailyHunt-এও। এই লিঙ্কে ক্লিক করুন ও ‘Follow‘ করুন।



আপনার মতামত জানান -

এদিকে শেষ মুহূর্তেও বড়মার শেষকৃত্য নিয়ে যেভাবে দুইপক্ষের মধ্যে দড়ি টানাটানি চলল, তা দেখে হতবাক মতুয়া মহাসঙ্ঘের ভক্তরা। এদিন এই প্রসঙ্গে বিজেপি তরফে ঠাকুরবাড়ির সদস্য শান্তনু ঠাকুর বলেন, “শাসকদলের নির্দেশেই জোর করে বড়মাকে চিতায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে। ওদের এত তাড়া কেন আমরা বুঝতে পারলাম না। আমি ভোটে লড়তে চাই না, কিন্তু ঠাকুরবাড়িকে রাজনীতি মুক্ত করতে চাই।”

অন্যদিকে বিজেপি নেতাদের জন্যই শান্তনু ঠাকুর বড়মার মৃতদেহ অকারণে আটকে রেখেছিল বলে অভিযোগ করেন রাজ্যের খাদ্যমন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক। পাশাপাশি বিজেপি ও ঠাকুরবাড়ির সদস্য মঞ্জুলকৃষ্ণ ঠাকুর এবং শান্তনু ঠাকুরকে কটাক্ষ করে তৃণমূল সাংসদ মমতাবালা ঠাকুর বলেন, “এতদিন মঞ্জুল তাঁর মাকে এক মুঠো ভাতও দেয়নি। আমি মায়ের মত করে রেখেছিলাম। এখন ওরা রাজনীতি করছে।” সব মিলিয়ে বড়মা বীণাপাণি দেবীর শেষকৃত্যেও ঠাকুরবাড়ির দুই শিবির দ্বন্দ্বে মিশে যাওয়ায় হতবাক সকলেই।

আপনার মতামত জানান -

Top
error: Content is protected !!