এখন পড়ছেন
হোম > রাজ্য > কলকাতা > ব্যাংকে টাকা রাখা আর নিরাপদ নয়! ওরা সেই টাকা তুলে নির্বাচনের আগে 5-10 কোটি করে মানুষকে দেয় – দাবি মুখ্যমন্ত্রীর

ব্যাংকে টাকা রাখা আর নিরাপদ নয়! ওরা সেই টাকা তুলে নির্বাচনের আগে 5-10 কোটি করে মানুষকে দেয় – দাবি মুখ্যমন্ত্রীর

দেশজুড়ে বিজেপি বিরোধিতায় প্রধান মুখ হয়ে উঠেছেন তৃণমূল সুপ্রিমো তথা বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। রাজনৈতিক হোক বা প্রশাসনিক – যে কোনো সভা থেকেই এখন তার কটাক্ষের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকছেন সেই গেরুয়া শিবিরের নেতারাই। আর এবারে নদীয়া জেলার প্রশাসনিক সভা থেকে সেই বিজেপির উদ্দেশ্যেই ফের তীব্র কটাক্ষের সুর শোনা গেল মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের গলায়।

আর্থিকভাবে সাধারণ মানুষকে নির্বাচনের আগে বিজেপির পক্ষ থেকে প্রলোভন দেখাতে হতে পারে। আর সেই প্রলোভনে যাতে সাধারণ মানুষ পা না দেন তার জন্য এদিন সকলের কাছে আবেদন জানান রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধান। নদীয়া জেলাকে “শ্রী চৈতন্য ও শান্তির জেলা” বলে অভিহিত করে বিজেপির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির উদ্দেশ্যে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “নদীয়া জেলা শান্তির জেলা। এটা নবদ্দীপ ও শান্তির ধাম। কিন্তু মনে রাখবেন, নির্বাচন এলেই কেউ কেউ দাঙ্গা করার চেষ্টা করে। মানুষে মানুষে ভেদাভেদ তৈরির চেষ্টা করে। কাউকে পাঁচ কোটি তো কাউকে 10 কোটি টাকা দিয়ে প্রলোভন দেখায়। কিন্তু এত টাকা আসে কোথা থেকে? আসলে এটা আমার আপনার ব্যাংকের টাকা।”

আর এরপরই উপস্থিত সাধারণের উদ্দেশ্যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আবেদন, “নদীয়া চৈতন্যদেবের জেলা। শান্তির জেলা। নবদ্বীপ ধাম, শান্তির ধাম। কৃষ্ণনগরের মাটি, কী সুন্দর পোড়া মাটির কাজ হয় এখানে, পুতুল তৈরি হয়। যার জন্য মৃত্তিকাও তৈরি করে দিয়েছি। এখানকার তাঁত শিল্পীরা, এখানকার মসলিন, এখানকার লোক শিল্পীরা, এখানকার চাষ, সব কিছুই বিখ্যাত। এমনকি নদীয়া জেলায় যে সরভাজা মিষ্টি পাওয়া যায়, সেই সরতীর্থও আমরা তৈরি করছি। মনে রাখবেন, নির্বাচন এলেই মিথ্যে কথায় পা দেবেন না। কুৎসায় পা দেবেন না। নিজেদের মধ্যে কোনও দাঙ্গায় যাবেন না। এরা নির্বাচনের সময় হিন্দু মুসলমানে ভাগাভাগি করে। তপসিলি, আদিবাসীদের ভাগাভাগি করে। মা মেয়েতে ঝগড়া লাগায়। ছেলে মেয়েতে ঝগড়া লাগায়। আর প্রচুর টাকা নিয়ে রাস্তায় নামে। ”

 

ফেসবুকের কিছু টেকনিক্যাল প্রবলেমের জন্য সব আপডেট আপনাদের কাছে সবসময় পৌঁচ্ছাছে না। তাই আমাদের সমস্ত খবরের নিয়মিত আপডেট পেতে যোগদিন আমাদের হোয়াটস্যাপ বা টেলিগ্রাম গ্রূপে।

১. আমাদের Telegram গ্রূপ – ক্লিক করুন
২. আমাদের WhatsApp গ্রূপ – ক্লিক করুন
৩. আমাদের Facebook গ্রূপ – ক্লিক করুন
৪. আমাদের Twitter গ্রূপ – ক্লিক করুন
৫. আমাদের YouTube চ্যানেল – ক্লিক করুন

প্রিয় বন্ধু মিডিয়ায় প্রকাশিত খবরের নোটিফিকেশন আপনার মোবাইল বা কম্পিউটারের ব্রাউসারে সাথে সাথে পেতে, উপরের পপ-আপে অথবা নীচের বেল আইকনে ক্লিক করে ‘Allow‘ করুন।


আপনার মতামত জানান -

সাথেই জানান যে, ”কাউকে পাঁচ কোটি, কাউকে ১০ কোটি। এই টাকাটা এল কোথা থেকে? আমার আপনার ব্যাংকের টাকা। আগামী দিনে জমা রাখা টাকা যদি ফেরত না পান? কী হবে ভেবে দেখেছেন? সব ব্যাংকের টাকায় ভরসা করা যাচ্ছে না। ব্যাংক বলছে, আপনি যতই টাকা রাখুন, একলাখ টাকার বেশি তুলতে পারবেন না। একদিন মুখ ফসকে বলে ফেলেছিল ফিনান্স মিনিস্টার। তা যদি হয়, সারা জীবনের পেনশন কে দেবে? প্রভিডেন্ট কে দেবে? টাকা যদি ফেরত না পান, তাহলে কী হবে ভেবে দেখেছেন?”

এর পাশাপাশি তিনি জানান যে, ”কেন্দ্রে এই সরকার থাকলে সব টাকা লুটে নেবে। সবাইকে ভয়ে রেখেছে। স্বনির্ভর গোষ্ঠী, আইসিডিএস, আশা থেকে সবাইকে বলব, প্রতারিত হবেন না। লোভে পাপ, পাপে মৃত্যু। কাউকে যদি টাকা দিতে আসে, নেবেন না। যে টাকা দিল, তাকে বিশ্বাস করবেন না। কারণ একদিন আপনাকে খাওয়াবে, ৩৬৫ দিন কে খাওয়াবে? ৩৬৫ দিন দু’টাকা কিলো চাল এই রাজ্য সরকার দেবে। ৩৬৫ দিন শিক্ষা, এই রাজ্য সরকার দেবে। ৩৬৫ দিন খাজনা, এই রাজ্য সরকার দেবে। আমি জানিয়ে গেলাম। পরে বলবেন না, আমি জানাইনি। আমি জানালাম কারণ আমি মাটিতে কাজ করি। আমি বুঝি কোনটা ভুল, কোনটা ঠিক।।”

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই রাজ্যে আসন্ন লোকসভা নির্বাচনের আগে যে শাসক দল তৃণমূলের ঘাড়ের উপর প্রবল নিঃশ্বাস ফেলছে বিজেপি তা ভালোই বুঝতে পেরেছেন তৃণমূল নেত্রী তথা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আর তাইতো নদীয়া জেলায় এসে সেই সাধারণের কাছে বিজেপিকে কটাক্ষ করে দেশের বর্তমান কেন্দ্রীয় সরকার ও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে কড়া ভাষায় সমালোচনা করলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

আপনার মতামত জানান -
Top
error: Content is protected !!