এখন পড়ছেন
হোম > রাজ্য > কলকাতা > বাংলায় মিমকে আটকাতে কি এবার কড়া অবস্থানে মমতার প্রশাসন? জানুন বিস্তারিত

বাংলায় মিমকে আটকাতে কি এবার কড়া অবস্থানে মমতার প্রশাসন? জানুন বিস্তারিত

পশ্চিমবঙ্গের মাটিতে এবার নতুন একটি রাজনৈতিক দল পা রাখতে চলেছে বলে জানা গেছে। আগামী বছরের শুরু থেকেই নতুন রাজনৈতিক দলটি পশ্চিমবঙ্গে তাঁদের ক্রিয়া-কলাপ শুরু করবে বলে খবর। হায়দ্রাবাদে তৈরি হওয়া দল আসাদউদ্দিন ওয়েইসির ওল ইণ্ডিয়া মজলিসে-ই-ইত্তেহাদুল মুসলিমিন বাংলার মাটিতে পা রাখতে চলেছে। ইতিমধ্যে তাঁরা তাঁদের সংগঠন নিয়ে কাজ শুরু করে দিয়েছে। মূলত নতুন রাজনৈতিক দলটির সংখ্যালঘুদের ভোট ভাগ করাই উদ্দেশ্য বলে মনে করছে রাজ্যের শাসক দল তৃণমূল। তাই এবার নাম না করে মুখ্যমন্ত্রী নবান্নে কট্টরপন্থী সংগঠনের বিরুদ্ধে অবস্থান গ্রহণ করলেন।

সোমবার নবান্নে রাজ্যের শীর্ষ পুলিশ কর্তাদের নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের একটি বৈঠক করেন এবং সেই বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পরিস্কার নির্দেশ দেন কট্টরপন্থী সংগঠনকে পশ্চিমবঙ্গের মাটিতে কোন সভা-সমাবেশের অনুমতি দেওয়া যাবে না। ইতিমধ্যে পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা উপনির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেস জয় লাভ করেছে। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের দাবি মূলত এনআরসি বিরোধিতাই তাঁদের জয়ের পথে এগিয়ে নিয়ে গেছে। সাথে সংখ্যালঘু ভোটও মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দল তৃণমূলের পক্ষে গেছে।

এই অবস্থার বাংলায় পা রাখতে চলেছে আসাদউদ্দিন ওয়াইসির অল ইন্ডিয়া মজলিসে ই ইত্তেহাদুল মুসলিমিন এর মতন সংগঠন। খুব স্বাভাবিকভাবেই তৃণমূলের কপালে চিন্তার ভাঁজ। কারণ তৃণমূলের কাছে এখন একুশের বিধানসভা নির্বাচন পাখির চোখ। একুশের ভোটে যদি রাজ্যে এম আই এম ভোটে লড়ে, তাহলে সংখ্যালঘু ভোট ভাগ হয়ে যাবার কিছুটা আশঙ্কা থাকে। অন্যদিকে, রাজ্য সরকারের কাছে ইতিমধ্যে খবর এসেছে, 2020 সালের শুরুতেই ব্রিগেডে সভা করতে চলেছে এম আই এম।

রাজ্য সরকার সেই ঘটনাকে মাথায় রেখেই আগে থেকেই সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করল। এবং নবান্নে রাজ্যের শীর্ষ পুলিশকর্তাদের নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী কড়া নির্দেশ দিলেন এরাজ্যে কট্টরপন্থী সংগঠনকে কোনভাবেই সভা কিংবা সমাবেশের কোনো অনুমতি দেওয়া যাবে না বলে। যদিও মুখ্যমন্ত্রী এখনো পর্যন্ত কোন কট্টরপন্থী সংগঠনের কথা বলেছেন, তা স্পষ্ট করে বলেননি। তবে রাজনৈতিক মহলের ধারণা, তিনি এমআইএমকেই এই কট্টরবাদী সংগঠনের তালিকায় শীর্ষস্থানে রেখেছেন। এর আগেও মুখ্যমন্ত্রী আসাদউদ্দিন ওয়াইসির দলকে বিজেপির দোসর বলে চিহ্নিত করেছেন।

একটু জেনে নেওয়া যাক, এম আই এম সম্পর্কে। এমআইএম এর পুরো কথা হল সর্বভারতীয় মজলিসে-ই-ইত্তেহাদুল মুসলিমিন বা এমআইএম (অনুবাদ: মুসলিম ইউনিয়ন পরিষদের অল ইন্ডিয়া কাউন্সিল) বা সংক্ষেপে এম আই এম। এটি তেলেঙ্গানার একটি আঞ্চলিক রাজনৈতিক দল বলে জানা যায়। এম আই এম এর প্রধান কার্যালয় হল আগাপুর হায়দরাবাদ তেলেঙ্গানায়। 1984 সাল থেকেই এম আই এম হায়দ্রাবাদ আসনের জন্য লোকসভায় আসন গ্রহণ করেছে। 2014 সালে তেলেঙ্গানায় বিধানসভা নির্বাচনে এমআইএম সাতটি আসনে জয়লাভ করে। এবং তারপর নির্বাচন কমিশন কর্তৃক এটি রাষ্ট্রীয় দল হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করে।

উল্লেখ্য, সোমবার নবান্ন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায় সব জেলার পুলিশ সুপার,পুলিশ কমিশনার, আইজি, ডিআইজি সহ পুলিশের উচ্চপদস্থ আধিকারিক দের সঙ্গে কথা বলেন। এছাড়াও নবান্নের এই বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের মুখ্যসচিব রাজীব সিনহা, স্বরাষ্ট্রসচিব আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায়, মুখ্যমন্ত্রীর নিরাপত্তা উপদেষ্টা সুরজিৎ কর পুরকায়স্থ, অতিরিক্ত আইনশৃঙ্খলা জ্ঞানবন্ত সিং ও কলকাতার পুলিশ কমিশনার অনুজ শর্মা প্রমুখরা। এর আগেও মুখ্যমন্ত্রী বারংবার অভিযোগ করে এসেছেন, পশ্চিমবঙ্গের বুকে কিছু সাম্প্রদায়িক রাজনৈতিক দল রাজ্যের শান্তি নষ্ট করছে এবং আইন-শৃংখলার অবনতি ঘটাচ্ছে। সম্প্রতি উপ নির্বাচন শেষ হওয়ার পরেও রাজ্যে বিক্ষিপ্ত কিছু অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেছে। সামনেই বড়দিন এবং নতুন বছরের বড় উৎসব আসতে চলেছে। এই উৎসবে যাতে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে, তার জন্যই মুখ্যমন্ত্রী এদিনের নবান্নে বৈঠক ডেকেছেন।

তবে রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, 2020 যদি আসাদউদ্দিন ওয়াইসির মজলিসে ইত্তেহাদুল মুসলিমিন বাংলার মাটিতে পা রাখে তাহলে 2021 এর বিধানসভা নির্বাচনে এক নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত পাওয়া যেতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। তবে মুসলিম এই দলটিকে সর্বোতভাবে আটকানোর চেষ্টা করে যাচ্ছে রাজ্যের শাসক দল বাংলার মাটিতে পা রাখা আটকাতে। অন্যদিকে, রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, কোন রাষ্ট্রীয় দলকে কোন রাজ্য নির্বাচনে লড়তে কোন ভাবেই আটকাতে পারে না। আপাতত মুখ্যমন্ত্রীর কড়া অবস্থানের ফলে এম আই এম কে আটকানো যেতে পারে কিনা সেদিকে নজর রাখবে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকের দল।

আপনার মতামত জানান -
Top
error: Content is protected !!