এখন পড়ছেন
হোম > রাজ্য > পুরুলিয়া-ঝাড়গ্রাম-বাঁকুড়া > বাংলার বুকে জয়ের আগেই ‘অভিনব শপথ’ নিয়ে জয়ের অঙ্গীকার গেরুয়া শিবিরের

বাংলার বুকে জয়ের আগেই ‘অভিনব শপথ’ নিয়ে জয়ের অঙ্গীকার গেরুয়া শিবিরের

2019 এর লোকসভা ভোটে পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেসকে রীতিমতো কোণঠাসা করে ফেলেছিল রাজ্য বিজেপি। 42 টি আসনের মধ্যে রাজ্যের শাসক দল তৃণমূল কোন রকমে 22 টি আসনে জিতে নিজেদের গড় বাঁচিয়েছে। অন্যদিকে বিজেপি 18 টি আসনে জিতে পশ্চিমবঙ্গে নিজেদের দলকে সুবিধাজনক জায়গায় নিয়ে আসতে পেরেছে শুধুমাত্র সংগঠনের জোরে। এবার 2021 এর বিধানসভা ভোট নিয়ে রাজ্যের রাজনৈতিক দলগুলি রীতিমতো আঁটঘাট বেঁধে তৈরি হচ্ছে।

এরমধ্যে বিজেপি তৃণমূল সরকারকে ফেলার জন‍্য দলীয় রণকৌশল সাজাতে আসরে নেমেছে। ইতিমধ্যে গত লোকসভা নির্বাচনে ভারতের বিভিন্ন রাজ্যের মধ্যে বাংলায় বিজেপির সাফল্য চোখে পড়ার মতো। 2019 এর লোকসভা নির্বাচনে বিজেপির ভোট 40.30 শতাংশ বেড়েছে। আসন সংখ্যা গত পাঁচ বছরে বেড়েছে 2 থেকে 18। তাই সম্পূর্ণ পরিস্থিতিকে নজরে রেখে উৎসবের শেষে বিজেপি আবার ভোট মঞ্চ সাজাতে নেমে গেছে।

এবার 2021 এর বিধানসভা ভোটকে লক্ষ্য রেখে এক অভিনব শপথ নিয়ে জয়ের অঙ্গীকার করলো পদ্ম শিবির। 2019 এর লোকসভা নির্বাচনে বাঁকুড়ায় জয়জয়কার হয়েছে পদ্ম শিবিরের। এবার লক্ষ্য 2021 এর বিধানসভা নির্বাচন। তার আগে অবশ্য বাঁকুড়ায় আছে পুরসভা নির্বাচন। আর পুরসভা জিততে মরিয়া পদ্ম শিবির। সম্প্রতি বাঁকুড়ায় নারকেল ফাটিয়ে অঙ্গীকারবদ্ধ হলেন বিজেপি নেতা নেত্রীরা। বাঁকুড়া শহরের এই শপথ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সেখানকার সাংসদ সুবাস সরকার। সাথে ছিলেন বিজেপির জেলা নেতৃত্বও।

2019 এর লোকসভা নির্বাচনের পরিপ্রেক্ষিতে দেখা যাচ্ছে, বাঁকুড়ার পুরসভার প্রায় সব ওয়ার্ডেই বিজেপি এগিয়ে। সেই কারণে দুই হাজার কুড়ি সালের পৌরসভা নির্বাচনে জিততে বিজেপি উঠে-পড়ে লেগেছে। এদিন বাঁকুড়া শহরে নারকেল ফাটিয়ে শপথ নেওয়ার পাশাপাশি জনগণের মধ্যে লাড্ডু বিতরণ করে পদ্ম শিবির।

এদিন বাঁকুড়ার বিজেপি সাংসদ সাংবাদিকদের সামনাসামনি বলেন, ‘শনিবার বারবেলায় নারকেল ফাটিয়ে বাঁকুড়ার মানুষকে কাটমানিবিহীন পরিষেবা দেওয়ার অঙ্গীকার করা হল বিজেপির পক্ষ থেকে।’ পাশাপাশি এদিন বিজেপির পক্ষ থেকে বাঁকুড়া পুরসভাকে গ্রীন সিটি করা হবে বলে বিজেপির পক্ষ থেকে অঙ্গীকার করা হলো। এদিন পুরসভার কাছে শ্বেত পত্র প্রকাশের দাবিও রেখেছে বিজেপি।

প্রিয় বন্ধু মিডিয়ার খবর আরও সহজে হাতের মুঠোয় পেতে যোগ দিন আমাদের যে কোনও এক্সক্লুসিভ সোশ্যাল মিডিয়া গ্রূপে। ক্লিক করুন এখানে – টেলিগ্রাম, হোয়াটস্যাপ, ফেসবুক গ্রূপ, ট্যুইটার, ইউটিউবফেসবুক পেজ

প্রিয় বন্ধু মিডিয়ায় প্রকাশিত খবরের নোটিফিকেশন আপনার মোবাইল বা কম্পিউটারের ব্রাউসারে সাথে সাথে পেতে, উপরের পপ-আপে অথবা নীচের বেল আইকনে ক্লিক করে ‘Allow‘ করুন।


আপনার মতামত জানান -

উল্লেখ্য, গত বিধানসভা নির্বাচন অর্থাৎ 2016 সালে বাঁকুড়া বিধানসভা কেন্দ্রটি তৃণমূলের হাতছাড়া হয়। বাম কংগ্রেস প্রার্থী শম্পা দরিপা সেখানে বিধায়ক হিসেবে নির্বাচিত হন। তিনি অবশ্য পরে শাসক শিবিরে যোগদান করেন। তবে আবার 2019 সালের লোকসভা ভোটে বাঁকুড়ায় সুব্রত মুখোপাধ্যায় হেরে যান। এবং 2019 এর লোকসভা জয়ের পরেই বিজেপির লক্ষ্য হয় বাঁকুড়া পুরসভা দখল করা। 2019 সালের লোকসভা ভোটে তৃণমূলকে হারিয়ে সেখানে বিজয়ী হন বিজেপির সুভাষ সরকার।

দুই হাজার কুড়ি সালের পুরভোটে পুরসভা দখলের লক্ষ্যে বিজেপি‌। তবে বিজেপি তৃণমূলকে হারিয়ে 2020 সালের পুরভোটে গণতান্ত্রিকভাবে দখল করতে চাইছে‌ বাঁকুড়া পুরসভা। তবে বিজেপির পাখির চোখ কিন্তু 2021 এর বিধানসভা নির্বাচন। তার আগে দুই হাজার কুড়ি সালে পুরসভা দখল করে বিজেপির প্রাথমিক ধাক্কা হবে শাসক সরকারকে।

এ প্রসঙ্গে অবশ্য এখনো পর্যন্ত শাসক শিবিরের পক্ষ থেকে কোন বিবৃতি পাওয়া যায়নি। তবে রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের দাবি, বিজেপি যেভাবে বাংলাকে পাখির চোখ করেছে, যেভাবে সমগ্র পরিকল্পনা করে ভোট যুদ্ধে নামতে চলেছে, তাতে পদ্ম শিবির যথেষ্ট আশার আলো দেখতে পারে।

এ প্রসঙ্গে শাসক শিবিরের দাবি, বিজেপি যে পরিকল্পনাই করুক না কেন, পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনে বিজেপি তৃণমূলের থেকে পিছিয়ে থাকবে। তৃণমূল যেভাবে বাংলায় আছে, আগামী দিনে তাঁরা সেভাবেই বাংলার বুকে বিরাজ করবে। অন্যদিকে, তৃণমূল বিভিন্ন পরিকল্পনা মাফিক 2021 এর ভোট যুদ্ধে নামার প্রস্তুতি নিচ্ছে। আপাতত আগামী দিনের ভোটযুদ্ধের দিকে নজর রাখছে রাজনৈতিক বিশ্লেষকের দল।

আপনার মতামত জানান -
Top
error: Content is protected !!