এখন পড়ছেন
হোম > রাজ্য > কলকাতা > “বাংলাপক্ষ” জাতিবিদ্বেষী এবং জাতীবাদী কর্মকাণ্ডে ব্যস্ত! অভিযোগে দু-টুকরো হল সংগঠন!

“বাংলাপক্ষ” জাতিবিদ্বেষী এবং জাতীবাদী কর্মকাণ্ডে ব্যস্ত! অভিযোগে দু-টুকরো হল সংগঠন!

 

সংস্থা থেকে দল, কোনো ক্ষেত্রে যদি দলীয় কোন্দল বাঁধে, তাহলে তা যে ভয়ংকর পরিস্থিতি নিতে পারে, তা বারবার প্রমাণিত হয়েছে। আর এবার দলীয় কোন্দলকে সামলাতে না পেরে গর্গ চট্টোপাধ্যায়ের “বাংলাপক্ষ” দ্বিধাবিভক্ত হয়ে গেল। বস্তুত, বাঙালি মানুষদের জাতীয়তাবাদের আবেগকে ভিত করেই গত 2018 সালের জানুয়ারি মাসে এই “বাংলাপক্ষ” সংগঠন তাদের আত্মপ্রকাশ করেছিল।

কিন্তু এক বছর যেতে না যেতেই সেখানে বাসা বাঁধতে শুরু করেছিল গোষ্ঠী কোন্দল। আর এবার সেই গোষ্ঠী কোন্দলে “জাতীয় বাংলা” সম্মেলন নামে আরেকটি সংগঠনের জন্ম হল। যা নিঃসন্দেহে বাংলা পক্ষের সংগঠনের ক্ষয়িষ্ণু রুপকেই প্রকাশ্যে দিল বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। এদিন নতুন সংগঠনের কার্যকরী সভাপতি অনির্বাণ বন্দ্যোপাধ্যায় পুরনো সংগঠনের বিরুদ্ধে ব্যাপক সোচ্চার হন।

এদিন তিনি বলেন, “বাংলা পক্ষের নেতৃত্বে একাংশ বাঙালির অধিকার অর্জনের সংগ্রামের তুলনায় জাতিবিদ্বেষী এবং জাতীয়বাদী কর্মকাণ্ডে বেশি মনোনিবেশ করেছেন। তারা হিন্দুত্ববাদী বাঙালির স্বপক্ষে প্রচার করাটাকে বেশি গুরুত্ব দেন।” কিন্তু সত্যিই কি তাই! নতুন সংগঠনের নেতৃত্বরা যেভাবে পুরনো সংগঠনের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুললেন, তার কি কোনো ভিত্তি রয়েছে! জাতীয় বাংলা সম্মেলনের নেতৃত্বের দাবি, একসঙ্গে পথ চলা শুরু হলেও যতদিন যাচ্ছিল, বাংলা পক্ষের কাজকর্মের সঙ্গে ততই মতাদর্শগত বিরোধ চরমে উঠেছিল। গত 27 অক্টোবর সেই ফাটল সামনে আসে। কিন্তু বাংলা পক্ষ থেকে বেরিয়ে “জাতীয় বাংলা সম্মেলনের” নামে যে নতুন মঞ্চ গঠন হল, তার মূল উদ্দেশ্য কি!

প্রিয় বন্ধু মিডিয়ার খবর আরও সহজে হাতের মুঠোয় পেতে যোগ দিন আমাদের যে কোনও এক্সক্লুসিভ সোশ্যাল মিডিয়া গ্রূপে। ক্লিক করুন এখানে – টেলিগ্রামফেসবুক গ্রূপ, ট্যুইটার, ইউটিউবফেসবুক পেজ

যোগ দিন আমাদের হোয়াটস্যাপ গ্রূপে – ক্লিক করুন এখানে

প্রিয় বন্ধু মিডিয়ায় প্রকাশিত খবরের নোটিফিকেশন আপনার মোবাইল বা কম্পিউটারের ব্রাউসারে সাথে সাথে পেতে, উপরের পপ-আপে অথবা নীচের বেল আইকনে ক্লিক করে ‘Allow‘ করুন।


আপনার মতামত জানান -

এদিন এই প্রসঙ্গে নতুন সংগঠনের কার্যকরী সভাপতি অনির্বাণ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “বাংলাপক্ষের গোড়ার কথা ভুলে একটি বিদ্বেষ ধর্মী প্রতিক্রিয়াশীল রাজনৈতিক শক্তিতে পরিণত হয়েছে। এটা বাংলা পক্ষের উদ্দেশ্য সম্পূর্ণ বিপরীত। মানুষের অধিকার আদায়ের আন্দোলনই আমাদের মূল লক্ষ্য হতে চলেছে। বাঙালির আবেগকে সামনে রেখে বাংলা পক্ষ নিজের যে পরিচয় তৈরি করেছে, তা ছেড়ে বেরিয়ে বাংলার বাইরের মানুষের অধিকার আন্দোলনেও নামবে এই নতুন সংগঠন।”

তাহলে যেভাবে বাংলা পক্ষ থেকে বেরিয়ে নতুন একটি সংগঠন তৈরি হল, তাতে কি বাংলা পক্ষের নেতৃত্বরা চাপে পড়লেন! এদিন এই প্রসঙ্গে সেই বাংলাপক্ষের গর্গ চট্টোপাধ্যায় বলেন, “এর আগে তো বলা হচ্ছিল, বাংলা পক্ষ হল জামাতি। কেউ কেউ বলছিলেন, বাংলা পক্ষ তৃণমূলের মদতে চলে। এখন আবার বলা হচ্ছে হিন্দুত্ববাদী। এত কিছু তো একসঙ্গে হওয়া সম্ভব নয়। এগুলোর মধ্যে যে কোনো একটা হওয়া সম্ভব। কোন অভিযোগ তোলা হবে, তা স্থির করে নিলে ভালো হয়। বাংলা পক্ষে ভাঙ্গন হয়েছে বলে যে দাবি করা হচ্ছে, তা ঠিক নয়। সাংগঠনিক বিশৃংখলার কারণে যাদের আমরা বহিষ্কার করেছিলাম, তারা নতুন সংগঠন তৈরি করেছেন। তবে তাদের প্রতি আমার শুভেচ্ছা থাকবে। বাংলা এবং বাঙ্গালীর স্বার্থ নিয়ে যারা লড়বেন, তাদের সকলের প্রতিই আমার শুভেচ্ছা থাকবে।”

তবে গর্গ চট্টোপাধ্যায় যে কথাই বলুন না কেন, যেভাবে তিনি “বাংলাপক্ষ” তৈরি করেছেন, তাতে এখন আবার সেই “বাংলাপক্ষ” ভেঙে পৃথক সংগঠন যেভাবে গড়ে উঠল, তাতে তার সংগঠন যে অনেকটাই বিপাকে পড়ল, সেই ব্যাপারে নিশ্চিত বিশেষজ্ঞরা। এখন বাংলা ও বাঙালির অধিকার রক্ষার লড়াইয়ে এক সংগঠন ভেঙ্গে আরেক সংগঠনের মাথাচাড়া দেওয়া কি আকার ধারণ করে! সেদিকেই নজর থাকবে সকলের।

আপনার মতামত জানান -
Top
error: Content is protected !!