এখন পড়ছেন
হোম > রাজ্য > কলকাতা > হাইকোর্টের নির্দেশে কাল বনগাঁ পুরসভার ভাগ্যপরীক্ষা, ক্রমশ বাড়ছে জল্পনা

হাইকোর্টের নির্দেশে কাল বনগাঁ পুরসভার ভাগ্যপরীক্ষা, ক্রমশ বাড়ছে জল্পনা

দীর্ঘদিন ধরে বনগাঁ পৌরসভার ভবিষ্যৎ ঝুলে রয়েছে। কবে মিটবে সেখানকার সমস্যা, তা নিয়ে তাকিয়ে রয়েছে গোটা রাজ্যবাসী। তবে এবার হয়তো অপেক্ষার অবসান ঘটতে চলেছে। সূত্রের খবর, হাইকোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী বারাসতে জেলাশাসকের অফিসে ৫ সেপ্টেম্বর এই বনগাঁ পুরসভার আস্থা ভোটের দিনক্ষণ স্থির করল জেলা প্রশাসন।

জানা গেছে, ইতিমধ্যেই এই ব্যাপারে উত্তর 24 পরগনার জেলাশাসক চৈতালী চক্রবর্তী একটি চিঠি সমস্ত কাউন্সিলারদের কাছে পাঠিয়েছেন। জেলাশাসকের চিঠি পাওয়ার পরই আস্থা ভোটের দিন ঠিক হওয়ায় রীতিমতো চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে রাজনৈতিক মহলে। কিন্তু কি হবে সেই আস্থা ভোটে!

শাসক দলের দাবি, তারাই এখানে জয়লাভ করবে। অন্যদিকে বিজেপি তাদের সংখ্যাতত্ত্ব মেলানোর প্রয়াস শুরু করে দিয়েছে। বস্তুত, গত তিন মাসের চিত্রনাট্যে বর্তমানে স্বস্তিজনক অবস্থায় থাকা শাসক দল জয়ের বিষয়ে আত্মবিশ্বাসী। অন্যদিকে, বিজেপি শিবির সংখ্যাতত্ত্ব মেলানোর প্রয়াস শুরু করে দিয়েছে।

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, গত 2015 সালের পুরসভা ভোটে 22 আসনের বনগাঁ পুরসভায় শাসক দল 20, কংগ্রেস ও বামেরা একটি করে আসনে জয়লাভ করে। কিন্তু সদ্য সমাপ্ত লোকসভা নির্বাচনে হেরে যাওয়ার পরই এই বনগা পৌরসভায় শাসকদলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব চরম আকার ধারণ করলে সেই পৌরসভার ভাগ্য নিয়ে বড় মাপের প্রশ্নচিহ্ন তৈরি হয়।

জানা যায়, গত 7 জুন এই পুরসভার 12 জন তৃণমূল কাউন্সিলার চেয়ারম্যান শঙ্কর আঢ্যর বিরুদ্ধে একটি অনাস্থা প্রস্তাব আনলে গত 18 জুন অনাস্থা প্রস্তাব নিয়ে আসা ১২জন কাউন্সিলার দিল্লিতে গিয়ে বিজেপিতে যোগ দেন। কিন্তু তারা দিল্লি থেকে ফিরতে না ফিরতেই বিজেপিতে যোগ দেওয়া কাউন্সিলার শম্পা মহন্ত ফের তৃণমূলে যোগ দেন। আর এরপরই আদালতের নির্দেশে গত 16 জুলাই আস্থা ভোট হলে গোটা এলাকা রণক্ষেত্রের চেহারা নেয়। দুই পক্ষই পুরসভার মিটিং হলে পৃথক মিটিং করে আস্থা ভোটে জয়ী হওয়ার দাবি জানালে প্রবল সমস্যা তৈরি হয়।

তবে সেদিন কাউন্সিলারদের সংখ্যার বিচারে বিজেপি এগিয়ে থাকায় তারা ফের আদালতের দ্বারস্থ হয়। আর এমতাবস্থায় গত 7 আগস্ট বিজেপি ছেড়ে চার জন কাউন্সিলার যথা, অভিজিৎ কাপুরিয়া, দিলীপ মজুমদার, হিমাদ্রি মণ্ডল ও কার্তিক মণ্ডল তৃণমূলে যোগ দেন। আর এর ফলে বর্তমানে বিজেপির কাউন্সিলারের সংখ্যা সাত জনে নেমে আসে। অপরদিকে তৃনমূলের কাউন্সিলার সংখ্যা হয়ে যায় 13 জন।

অন্যদিকে গত 26 আগস্ট হাইকোর্টের বিচারপতি 16 জুলাইয়ের আস্থা ভোটকে বাতিল করলে আগামী 12 দিনের মধ্যে জেলাশাসকের অফিসে আগের অনাস্থা প্রস্তাবের উপর ভোটাভুটি করার নির্দেশ দেওয়া হয়। পাশাপাশি জেলা পুলিশ সুপারকে এই বনগাঁ পৌরসভার সমস্ত কাউন্সিলরদের নিরাপত্তা দেওয়ারও নির্দেশ দেওয়া হয়। আরে এহেন একটা পরিস্থিতিতে 5 সেপ্টেম্বর জেলাশাসকের অফিসে আস্থা ভোটের দিন স্থির করা হলে সমস্ত মহলেই শুরু হয়েছে গুঞ্জন। কি হবে আস্থা ভোটে?

ফেসবুকের কিছু টেকনিক্যাল প্রবলেমের জন্য সব আপডেট আপনাদের কাছে সবসময় পৌঁচ্ছাছে না। তাই আমাদের সমস্ত খবরের নিয়মিত আপডেট পেতে যোগদিন আমাদের হোয়াটস্যাপ বা টেলিগ্রাম গ্রূপে।

১. আমাদের Telegram গ্রূপ – ক্লিক করুন
২. আমাদের WhatsApp গ্রূপ – ক্লিক করুন
৩. আমাদের Facebook গ্রূপ – ক্লিক করুন
৪. আমাদের Twitter গ্রূপ – ক্লিক করুন
৫. আমাদের YouTube চ্যানেল – ক্লিক করুন

প্রিয় বন্ধু মিডিয়ায় প্রকাশিত খবরের নোটিফিকেশন আপনার মোবাইল বা কম্পিউটারের ব্রাউসারে সাথে সাথে পেতে, উপরের পপ-আপে অথবা নীচের বেল আইকনে ক্লিক করে ‘Allow‘ করুন।

আপনার মতামত জানান -

এদিন এই প্রসঙ্গে
বিজেপির বারাসত সাংগঠনিক জেলার সহ সভাপতি দেবদাস মণ্ডল বলেন, “আমাদের দলের কাউন্সিলারদের প্রতিনিয়ত ভয় দেখানোর পাশাপাশি হুমকি দেওয়া হচ্ছে। ওই হুমকির কাছে নতিস্বীকার করে কয়েকজন কাউন্সিলার তৃণমূলে যোগ দিয়েছেন। সেকারণে আস্থা ভোটের ফলাফল কী হবে তা নিয়ে এখনই কোনও মন্তব্য করা ঠিক হবে না। তবে আমরা আস্থা ভোটে যাব। আমরা পরিস্থিতির উপর নজর রাখছি।”

অন্যদিকে এই ব্যাপারে বনগাঁ পুরসভার চেয়ারম্যান শঙ্কর আঢ্য বলেন, “ভুল বোঝাবুঝির কারণে আমাদের দলের 12 জন কাউন্সিলার বিজেপিতে গিয়েছিলেন। তাঁদের মধ্যে পাঁচ জন ফের ঘরে ফিরে এসেছেন। ভুল বোঝাবুঝির অবসান হয়েছে। এই মুহূর্তে আমাদের কাউন্সিলার 13 জন রয়েছেন। কংগ্রেসের কাউন্সিলার আমাদের সঙ্গে রয়েছেন। সেকারণে আস্থা ভোটের ফলাফল কী হতে চলেছে বনগাঁ শহরের প্রত্যেক নাগরিক জানেন।

কিন্তু, যে মূর্খরা পেশিশক্তির পাশাপাশি ষড়যন্ত্র করে আমাদের ঘরে ফাটল ধরিয়ে ছিল, তারাই শুধু বুঝতে পারছে না। ওদের লজ্জা থাকলে ভোটাভুটিতে অংশ নেবে না।” কিন্তু আস্থা ভোটে কি হবে, তা সময় বলবে। তবে যেভাবে দীর্ঘদিন এই বনগাঁ পৌরসভায় ক্ষমতা দখলের ব্যাপারে অচলাবস্থা সৃষ্টি হয়েছিল এবং তাকে কেন্দ্র করে যেভাবে উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত হচ্ছিলেন এলাকাবাসীরা, তাতে বাসিন্দারা সকলেই চাইছেন, সমস্যা মিটিয়ে যে দলই বোর্ড গঠন করুক না কেন, প্রকৃত উন্নয়ন হোক এলাকার।

আপনার মতামত জানান -
Top
error: Content is protected !!