এখন পড়ছেন
হোম > অন্যান্য > বাঁদরের গলায় মুক্তোর মালা – কলমে – অপরাজিতা – পর্ব ৫

বাঁদরের গলায় মুক্তোর মালা – কলমে – অপরাজিতা – পর্ব ৫

ফের ঘুরে দাঁড়িয়ে সামনের বাড়ির বারান্দার দিকে তাকালো। মোবাইল এর আলোয় দেখা যাচ্ছে স্পষ্ট একটা মুখ। সেই মুখটা। এটা তাহলে নীরাদের বাড়ি।সন্ধেবেলায় যখন নীরার বাড়ি যাচ্ছিলো ধ্রুব দেখছিলো। কিন্তু হটাৎ ইরা উপরের দিকে তাকাতেই ধ্রুব সরে এসেছিলো। বলা যায় না , যা মেয়ে ফের এটা নিয়ে মজা শুরু করবে। তাই ওরা কোন বাড়িতে গেছে দেখা হয়নি। দিদিকে জিজ্ঞাসা করবে তার আগেই দাদাভাই চলে এলো। ব্যাস নানা গল্প শুরু।

এত রাতে কি করছে নীরা মোবাইল নিয়ে? মনে প্রশ্ন জাগলো ধ্রুবর। ভালো করে দেখলো কিছু টাইপ করছে মনে মনে ভাবলো নিশ্চয়ই অবিনাশের সাথে চ্যাট করছে। সে তো করবেই আর কদিন পরেই বিয়ে। কিন্তু ধ্রুবর মনটা কেমন যেন খারাপ হয়ে গেলো। ঘরে চলে গেলো। কিন্তু থাকতে পারলো না ঘরে। ফের বারান্দার দরজায় কাছে এসে দাঁড়িয়ে নীরাকে দেখতে লাগলো। একমনে টাইপ করে যাচ্ছে নীরা। কি লিখছে ও ? অবিনাশকে নিয়ে ওর ভালোলাগা খারাপ লাগা এই সব লিখছে নিশ্চয়? এইসব আনমনে ভাবতে ভাবতে নীরার দিকে তাকিয়ে রইলো ধ্রুব। কিন্তু কতক্ষন কেউ জানে না।

এদিকে নীরা অনেক চেষ্টা করেও ঘুমাতে পারলো না যখন  হঠাৎ মনে পড়লো ধ্রুবর কথা। শুধু ধ্রুব না ধ্রুব মতো অনেকের কথা। যারা ওর লেখা পড়বে বলে সারাক্ষন “স্বপ্নের চোখ” খুলে বসে আছে। ঘরে ইরা ঘুমাচ্ছে। নীরা মোবাইল নিয়ে বাইরে বারান্দায় বসেছে। বারান্দাটা খুব প্রিয় ওর। কত কষ্টের ,কত রাতের কান্নার, কত ভালোলাগার সাক্ষী এই বারান্দাটা। বারান্দায় অন্ধকারে দাঁড়ালে ছায়ামূর্তি ছাড়া আর কাউকে ভালো করে দেখা যায়না। সুতরাং কেউ বুঝতে পারবে না কে কি করছে।

হঠাৎ নীরাদের বারান্দায় আলো জ্বলে উঠলো। আলো দেখে ঘোর কাটলো ধ্রুবর। ছিটকে ঘরে ঢুকলো, পর্দার আড়ালে দাঁড়িয়ে সামনের বারান্দার দিকে তাকিয়ে রইলো। নীরাও একমনে টাইপ করে যাচ্ছিলো, এবার চমকে চোখ তুললো। ইরা তার পাশে এসে দাঁড়িয়েছে। এতক্ষন ঘুমাচ্ছিলো। ঘুম ভাঙতেই দিদিকে না পেয়ে এখানে এসেছে। এসেই ঝগড়া শুরু করলো ? তুই কেন এখানে আমাকে একা ফেলে বসে আছিস ? আমি চলে গেলে তুই একা থাকবি, ঘরটা তোর হবে আনন্দ করছিলিস এতদিন আজ আমি তোর কাছে নেই তো কি কষ্ট হচ্ছে তোর ? বললো নীরা। ইরা এবার নীরাকে জড়িয়ে ধরে কেঁদে ফেললো। আমি কি করে থাকবো রে দিদি তোকে ছেড়ে ? তুই তো বর পেয়ে ভুলে যাবি বললো ইরা। নীরার চোখে জল সামলে নিয়ে বললো তুই তো বলেছিস আমি অবিনাশের সাথে ভালো থাকবো না। তাহলে তোদেরকে ভুলবো কি করে ? চুপ কর। তুই খুব সুখী হবি দিদি। কিছুক্ষন দুই বোনের কান্নাকাটি চললো। ইরা বললো চল শুবি , কালকে বাকি লিখবি। কি হলো সবটা চোখে পড়লেও কথা কিছু কানে গেলো না ধ্রুবর। নীরা আর ইরা ঘরে চলে গেলো। আলো বন্ধ হয়ে গেলো। ধ্রুব এদিকের ফাঁকা বারান্দার দিকে কিছুক্ষন তাকিয়ে থেকে বিছানায় গিয়ে শুয়ে পড়লো। অনেকক্ষন জেগে থাকার পর চোখ জুড়ে এলো।

পরের দিন একটু দেরি করে ঘুম থেকে উঠলো ধ্রুব। ধ্রুব বসার ঘরে বসে “স্বপ্নের চোখ” পেজ খুলে অজানা সুখ গল্পের শেষ অংশ পড়ছিলো।  তখনই ইরা আর ওর মা এলো সীমাদের বাড়িতে। ধ্রুব বসার ঘরেই ছিল। ইরা আর ওর মাকে দেখে ভেতরে আসতে বললো। সীমা ভেতরে ছিল। ইরা ধ্রুবর সাথে ওর মায়ের পরিচয় করালো। ধ্রুব ইরার মাকে প্রণাম করলো। ইরার মা প্রাণ ভোরে আশীর্বাদ করলেন। ইরা এবার নিজের স্বভাব সিদ্ধ ভঙ্গিমায় বললো -বাহ্ তুমি তো খুব ভালো ছেলে। পায়ে হাত দিয়ে প্রণাম করছো। ইরার মা বললো ভালো ছেলে তো হবেই। সীমা আমার কত ভালো মেয়ে। তার ভাই ভালো হবে না। এদিকে ধ্রুবর চোখ দরজায় অন্য একজনকে খুঁজতে লাগলো। সীমা এলো। ইরার মা বললেন – তোমার ভাই এসেছে তাই এলাম। কালকে ইরার মুখে অনেক কথা শুনলাম। তোমরা সবাই কাল আমাদের বাড়িতে দুপুরে খাবে। কোনো কথা শুনবো না। সীমা বললো কাকিমা আবার কেন? মেয়ে তো আপনাদের বাড়তেই থাকছে সবসময়। ইরার মা বললো- আমার নাতনিকে নিয়ে একদম কিছু বলবে না। সীমা হেসে বললো বেশ। কিন্তু আমাদের বলতে হবে না। আর কদিন পরে বিয়ে আপনারা এত ব্যাস্ত। ইরার মা বললো তা হোক। এর সাথেই ধ্রুবকে নীরার বিয়েতে থাকার জন্য বললো। ধ্রুব সম্মতি জানালো।

প্রিয় বন্ধু মিডিয়ার খবর আরও সহজে হাতের মুঠোয় পেতে যোগ দিন আমাদের যে কোনও এক্সক্লুসিভ সোশ্যাল মিডিয়া গ্রূপে। ক্লিক করুন এখানে – টেলিগ্রামফেসবুক গ্রূপ, ট্যুইটার, ইউটিউবফেসবুক পেজ

যোগ দিন আমাদের হোয়াটস্যাপ গ্রূপে – ক্লিক করুন এখানে

প্রিয় বন্ধু মিডিয়ায় প্রকাশিত খবরের নোটিফিকেশন আপনার মোবাইল বা কম্পিউটারের ব্রাউসারে সাথে সাথে পেতে, উপরের পপ-আপে অথবা নীচের বেল আইকনে ক্লিক করে ‘Allow‘ করুন।


আপনার মতামত জানান -

সীমা নীরার কথা জিজ্ঞাসা করলে ইরা জানালো – দিদি আর বাবা দুই জনেই বেরিয়েছে। দিদি গেছে পড়তে , আর বাবা গেছে ছোট পিসুর বাড়ি নেমন্তন্ন করতে। তাদের আবার বড় ঘ্যাম গিয়ে নেমন্তন্ন না করলে আসবে না। ইরার মা একটু চোখ পাকিয়ে বললো ইরা, এমন বলতে আছে। একে নিয়ে যে কি করি।এদিকে হো হো করে হেসে উঠলো ধ্রুব। ইরার মা জানালেন বাড়িতে কেউ নেই ,এবার উঠবেন। সীমা আর আপত্তি করলো না। ইরাকে থাকতে বললো। ইরা সময় পেলেই সীমার কাছে চলে আসে। নীরাও আসে। প্রকাশ সকালে বেরিয়ে যায়, মেয়েও স্কুলে বেরিয়ে যায়। একাই থাকে। নীরা ইরা আসলে ভালো লাগে। ইরার মা চলে গেলেন। ধ্রুব ইরাকে জিজ্ঞাসা করলো তুমি কি বরাবরই এমন নাকি মাঝে মাঝে। ইরা বললো আমি এমনই।

সীমা কিছুক্ষন কথা বলে ওদেরকে বসতে বলে চান করতে গেলো। ধ্রুব আর ইরা ঘরে গল্প করছে। ইরার আমেরিকার গল্প শুনছে। হঠাৎ প্রশ্ন করলো কালকে কতক্ষন দিদিকে দেখছিলে? চমকে উঠলো ধ্রুব। কি ? ন্যাকা আমি সব দেখেছি। দিদির মতো আমি নয় বুঝেছো? ঘর থেকে জানালা দিয়ে আবছা দেখলাম। পরিষ্কার দেখবো বলেই আলো জালিয়েছিলাম।তুমি দাঁড়িয়েছিলে মুখে সিগারেটে নিয়ে। একদম লুকাবে না – ধমক দিয়ে বললো ইরা। ধ্রুব বললো হুম, আমি সিগারেটে খেতে বেরিয়েছিলাম বারান্দায়। দেখলাম আলো জ্বলছে কেউ যদি দেখে ফেলে একটা বাজে দেখাবে বলে ঘরে ঢুকে পড়লাম। তোমরা ছিলে বাইরে? ও ওটা তোমাদের বাড়ি ? এবার ইরা জোরে মুখ বেকিয়ে বলে উঠলো ন্যাকা। বুঝলাম। বিজ্ঞের মতো উত্তর দিলো ইরা।

ধ্রুব বললো  কি বুঝলে?

ইরা –  এই যে তুমি ঢপ দিচ্ছ।

ধ্রুব বললো – না সত্যি। বাই দ্যা ওয়ে তোমার বয়ফ্রেন্ডের খবর কি? কি নাম বলো শুনি?

ইরা বললো আমার অনেক বয়ফ্রেইন্ড আছে।

ধ্রুব চমকে বললো কি? …………………. অনেক বয়ফ্রেইন্ড মানে ? ইরা বললো উফফ তুমি যা ভাবছো তা নয়। বয় ফ্রেন্ড মানে ছেলে বন্ধু।

ধ্রুব বললো হুম বয়ফ্রেইন্ড মানে ছেলে বন্ধুই হয়। ইরার বললো দূর বাবা , অনেক বন্ধু আছে যারা ছেলে। প্রেমিক বলে কেউ নেই, বুঝলে।

কালকে বললে যে? ধ্রুব জিজ্ঞাসা করলো।

ইরা বললো ওতো এমনি বললাম। তোমার আছে গার্ল ফ্রেন্ড ?

ধ্রুব বললো না, নেই। কপাল খারাপ।

এবার ইরার বললো ইসসস আগে হলে তোমার সাথেই দিদির বিয়েটা লাগিয়ে দিতাম। একটা ভালো দাদাভাই পেতাম।

ধ্রুব আনমনে বললো দেরি হয়ে গেলো না !

ইরা ধ্রুবকে বললো ফেসবুকে ইরা-ইরা সার্চ দাও। আমাকে ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট পাঠাও।

ধ্রুব ইরাকে নিজের ফোন দিয়ে বললো খোঁজ তুমি ? ইরা ধ্রুবর ফোন খুলেই ভেসে উঠলো ”স্বপ্নের চোখ” পেজের ” অজানা সুখ গল্পের সপ্তম পর্ব। গল্পটা কালকেই শেষ করবে ভেবেছিলো নীরা কিন্তু লেখার বসে অনেকটা বেশি লেখা হয়ে গেছে শেষ অংশ দেওয়া হয়নি। আজ দেবে। কাল শোওয়ার আগে ইরা নীরার থেকে মোবাইল টেনে নিয়ে পড়েছে তার পর ঘুমিয়েছে।

ইরা উত্তেজিত হয়ে বললো তুমি এই পেজের গল্প পড়ো? ভালো লাগে তোমার ?

ধ্রুব বললো হুম, ভীষণ ভালো লাগে। তুমি পড়ো?

ইরা বললো হ্যাঁ।

তারপরেই ধ্রুব বললো কিন্তু পার্ট পার্ট করে দেয় ওটাই খারাপ লাগে। আবার একদিনের অপেক্ষা। আজকেও শেষ হলো না। কি যে হবে বেলা আর সিদ্ধার্থর?কে জানে?

ইরা বললো কি আবার হবে ? ফের বেলাকে পাহাড় থেকে ফেলে দিতে যাবে অর্চনা। আর ওর সব মনে পরে যাবে। বেলা নিজের স্মৃতি ফিরে পাবে আর সিদ্ধার্থর কাছেই ফিরে যাবে।

ধ্রুব বললো তুমি কি করে জানলে ? আপডেট দিয়েছে? কখন ?

একটু অন্য মনস্কভাবেই ইরা বললো আরে দেয়নি দেবে পরে।

ধ্রুব বিষয়ে দৃষ্টি নিয়ে ইরার দিকে তাকিয়ে বললো তাহলে তুমি কি করে জানলে ?

ইরা নিজেকে সামলে বললো অরে সব গল্পই তো একই হয় তাই বললাম। এখন যদি ইরা বলে দেয় যে নীরা গল্প লেখে তাহলে নীরা ওকে আস্ত রাখবে না। কিন্তু বলতে খুব ইচ্ছা করছে। ..এমন সময় সীমা এলো। ঘড়িতেই ১২টা বাজলো। ইরা বললো উঠছি। অনেক বেলা হলো। ধ্রুবর একটা খটকা লাগলো। কালকে এতো কিছু খেয়াল করে নি। আজ মনে পড়লো কাল যখন এই পেজটার কথা নীরাকে বলেছিলো ধ্রুব নীরার চোখে কেমন উত্তেজনা দেখেছে। আজ ইরার চোখে ? ওদের চেনা যে এখানে লেখে? ইরাকে ধরবে এর পর দেখা হলে।

ইরা চলে যেতে সীমা ভাইয়ের কাছে নীরাদের গল্প জুড়লো। নীরা কালো বলে বিয়ে হচ্ছিলো না সে কথাও বললো। তারপর কি করে অবিনাশের সঙ্গে সম্বন্ধ সব।

সীমা বললো – নীরা খুব ভালো মেয়ে। আমার তো খুব খুব ইচ্ছা ছিল নীরার সাথে তোর বিয়ে দেওয়ার। কিন্তু তুই তো আর বিয়ে করবি না। সারাজীবন আইবুড়ো থাকবি। এই সময় একটা ফোন এলো। সীমা ফোন ধরতে উঠে গেলো। ” আমার তো খুব খুব ইচ্ছা ছিল নীরার সাথে তোর বিয়ে দেওয়ার। ” কথাটা বার বার কানে বাজতে থাকলো ধ্রুবর। আনমনে ভাবতে থাকলো সত্যিই কি ভুল হয়ে গেলো?

সীমা ফিরে এসে বললো ইরাও খুব ভালো মেয়ে। দেখছিস না কেমন নিজের মতো করে মেশে। রাখ ঢাক নেই ,খুব সহজসরল। কিন্তু তোর থেকে অনেকে ছোট।

ধ্রুব বললো – ওটার কথা বলিস না ওটা একটা খেপি।

সীমা বললো ঠিক বলেছিস? এর পরেই নীরার সম্পর্কে নানা কথা জানতে চাইলো ধ্রুব সীমার কাছে। সীমাও সব উত্তর দিলো। নীরার আরো পড়ার ইচ্ছা , গল্প বই পড়ার ইচ্ছা। খুব চুপচাপ,শান্ত। আরো শুনতে ইচ্ছা করছে নীরার সম্পর্কে। এমন সময় সীমা বললো -ভাই এবার ওঠ, বেলা হয়ে গেলো, চল খেতে হবে।

খেতে বসবে এমন সময় সীমার মেয়ে কুঁড়ি স্কুল থেকে বাড়ি এলো। আজ শনিবার আগে ছুটি হয়ে গেছে। নানা কথা বলতে বলতে খেতেও দেরি হলো। খেয়ে উঠে একটু ফোন নিয়ে বসলো ধ্রুব। হঠাৎ মনে হলো ইরা ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট একসেপ্ট করেছে কিনা দেখি ? ফেইসবুক খুলে দেখলো একসেপ্ট করছে। ইরা আর নীরার ছবি। অনেকগুলো ছবি রয়েছে ইরার সাথে নীরার। কতকগুলো আবার নীরাকে ট্যাগ করা আছে। ধ্রুব নীরার প্রোফাইল টা খুললো। গুটি কয়েক ছবি আছে।একটা ছবি খুব ভালো লাগলো। লাল পেড়ে সাদা শাড়ী পড়ে আছে নীরা। খোলা চুলটা পিঠ ছাড়িয়ে কোমর অব্দি গেছে , দশমীতে সিঁদুর খেলেছে। মুখে সিঁদুর লেগে আছে। ছবিটা নিজের মোবাইলেই সেভ করে রাখলো ধ্রুব। শুধু এটাই নয় অনেকগুলো ছবি। নারী ইরার ফেসবুক প্রোফাইল ঘাঁটতে ঘাঁটতে ধ্রুবর মনে হলো দেখি অজানা সুখের শেষ অংশ দিয়েছে কিনা ? দেখলো দিয়েছে। আশ্চর্য ইরা যেমন গল্প বলেছিলো ঠিক সেটাই হয়েছে।

আগের অংশ  –  বাঁদরের গলায় মুক্তোর মালা – কলমে – অপরাজিতা – পর্ব ৪

 

 

গল্পের পরের অংশ  –  বাঁদরের গলায় মুক্তোর মালা – কলমে – অপরাজিতা – পর্ব ৬

 

আপনার মতামত জানান -
Top
error: Content is protected !!