এখন পড়ছেন
হোম > অন্যান্য > বাঁদরের গলায় মুক্তোর মালা – কলমে – অপরাজিতা – পর্ব ১৩

বাঁদরের গলায় মুক্তোর মালা – কলমে – অপরাজিতা – পর্ব ১৩

সময় যেন কাটতে চাইছে না ধ্রুবর। নীরা কি করেছে? কেমন আছে এখন? ড্রাইভারও কিছু একটা আন্দাজ করেছে সেও যত তাড়াতাড়ি পারা যায় গন্তব্যে পৌঁছাতে চাইছে। নীরার সাথে দেখা হওয়া থেকে এক একটা মুহূর্ত মনে পড়ছে ধ্রুবর। হাতে ফোনটা ধরে চোখ বুঝলো ধ্রুব। দু গাল দিয়ে জল পড়তে লাগলো।

ইরা নীরাকে নিয়ে প্রকাশদের বাড়ি এলো। দরজার কাছে নীরা ঢুকছে। শুনতে পেলো সীমা বলছে – ভাইয়ের এখন কেমন অবস্থা কে জানে ? ফোনটাও ধরতে পারছি না। ভীষণ টেনশন করছে ছেলেটা। নীরার কানে গেলো ফোনটাও ধরতে পারছে না , টেনশন করছে ,, বলে উঠলো – কি কি হয়েছে ওর ? প্রকাশ চমকে জিজ্ঞাসা করলো কার ?

নীরা- ওর,ধু , ধুবর কি হয়েছে দাদা ?

প্রকাশ কিছু না ভেবেই বললো – এক্সিডেন্ট

ইরা , সীমা চমকে গেলো, হঠাৎ প্রকাশ নীরাকে মিথ্যা বলতে গেলো কেন ?

ইরা সীমাকে ইশারা করলো।সীমা মাথা নেড়ে বোঝালো সেও বুঝতে পারছে না।

নীরা – কি হয়েছে? চিৎকার করে উঠলো ? কে কেমন আছে ও ? প্রকাশের হাত দুটো ধরে কাঁদতে কাঁদতে জিজ্ঞাসা করলো নীরা ? বলো না দাদাভাই কেমন আছে ও ? চুপ করে আছো কেন? দু চোখে জল বাঁধ মানছে না নীরার।

প্রকাশ – বন্ধুর – বন্ধুর এক্সিডেন্ট হয়েছে। ধ্রুবর কিছু হয়নি।
ও ঠিক আছে। – ধপ করে হাপাতে হাপাতে সোফায় বসে পড়লো নীরা। প্রকাশ যা বোঝার বুঝলো। ইরাকে ইশারা করে বাইরে ডাকলো। ইরা আসতেই বললো – তুই বলিসনি তো নীরা ও ধ্রুবকে ভালোবেসে ফেলেছে।

ইরা  – ধুর আমিই তো এখনই দেখলাম। জানলে তো তোমাকে আগেই বলে দিতাম।

প্রকাশ  – সাবাস- আগুন দু দিকেই লেগেছে। এখন শুধু। বাইরে একটা গাড়ি এসে দাঁড়ালো। কলকাতার ট্যাক্সি । প্রকাশ বললো – এসেছে , যা ভেতরে যা। বলেই দৌড় লাগলো নিচে।

ট্যাক্সির ভাড়া আগেই দিয়ে রেখেছিলো ধ্রুব। গাড়ি দাঁড়াতেই ছুটে নামলো। প্রকাশ একটু গম্ভীর মুখ করে এল যেন একটা কাজে বেরোচ্ছিল দেখা হয়ে গেলো ধ্রুবর সাথে। ধ্রুবকে দেখে একটু অবাক হওয়ার ভান করে বললো – তুমি এখানে ?

ধ্রুব – নী নীরা, কেমন আছে ? সব শেষ হয়ে যায়নি তো। চুপ করে আছো কেন? প্লিজ বলো।

প্রকাশ – ধ্রুবকে টানতে টানতে উপরে নিয়ে চললো। বললো ওপরে চল, বলছি।

সোফায় একটু আনমনা হয়ে বসে ছিল নীরা। কি বলেছে- তার কি মানে হয়েছে- সেসব দিকে নীরার কোনো হুঁশ ছিল না। যেন একমুহূর্তে বড়সড় ঝড় বয়ে গেছে ওর উপর দিয়ে। একটা মুহূর্তের জন্য তার মনে হয়েছিল সব শেষ। হঠাৎ ধ্রুবর গলা পেয়ে উঠে দাঁড়ালো, দরজায় দেখলো ধ্রুব। ধ্রুব এতক্ষন প্রকাশের দিকে তাকিয়েই কেমন আছে নীরা? বলো না? এইসব করছিলো।

এবার নীরার দিকে চোখ পড়তেই নিজেকে আর সামলাতে পারলো না। ছুটে এসে নীরাকে জড়িয়ে ধরলো। কি করতে গিয়েছিলে তুমি ? অবিনাশ সব? আমার কথা একবার মনে পরে নি। ফের নীরার মুখটা নিজের হাতে তুলে ধরে এক নিঃশ্বাসে বলে গেলো – তোমার কিছু হলে মরে যেতাম আমি । মরে যাবো তোমাকে ছাড়া। পাগলের মতো ভালোবাসি তোমার নীরা। সত্যি কিছু বোঝোনা তুমি ? সত্যি মোর যাবো। বলে ফের জড়িয়ে ধরলো। নীরার হাতদুটি ধ্রুবর পিঠে অসাবধানতা বসত চলে গেছে। খেয়াল নেই নীরার। প্রায় সঙ্গে সঙ্গেই হুশ ফিরলো। নীরা এবার সবার দিকে তাকিয়ে ধ্রুবকে ঠেলে সরিয়ে বাড়ির দিকে ছুট দিলো। নীরা, নীরা করতে করতে পিছনে ছুটলো সীমা। নীরা বলে ধ্রুব ওর পিছনে যেতে যাচ্ছিলো , প্রকাশ ধ্রুবর হাতটা ধরলো। ইরা মিথ্যে কথা বলেছে, নীরা ঠিক আছে। বললো প্রকাশ।

ধ্রুব- হোয়াট ? মিথ্যে কথা বলেছে মানে? ইয়ার্কি হচ্ছে ?  এবার জোরে চেচাতে লাগলো। ইরা ভয়ে প্রকাশের পিছনে লুকালো।

ধ্রুব- সবকিছুতেই ছেলে মানুষী, পাগলের মতো চিন্তা হচ্ছিলো, টেনশন হচ্ছিলো, হাত পা ঠান্ডা হয়ে যাচ্ছিলো ভয়ে? কি ভাব নিজেকে ? সব কিছুতেই ইয়ার্কি ?আমার মনে হচ্ছিলো আমার সব শেষ হয়ে গেলো, পাগলের মতো ছুটে এসেছি আমি ? আরো কিছু বলতে যাচ্ছিলো।

প্রকাশ বললো – তোমার মনে হচ্ছিলো তোমার সব শেষ হয়ে গেলো, পাগলের মতো ছুটে এসেছো তুমি? সেই জন্য। আর আমি বলেছিলাম ইরাকে এই সব বলতে ?

ধ্রুব – তুমি? তুমিই কি ওর মতো হয়ে গেছো নাকি?

প্রকাশ – ইয়েস, সোজা আঙুলে ঘি না বেরোলে আঙ্গুল বেঁকাতে হয় শালবাবু ? তোমার বাড়িতে ফোন করে বলছি। আগামী ২৫ সে তুমি বিয়ের পিঁড়েতে বসছো ,কাকাবাবুকেও বলছি , ২৫ সেই তোমার আর নীরার বিয়ে।

ধ্রুব – না।

প্রকাশ – কেন ? সাধছি বলে ঘ্যাম বেড়ে গেলো? এইমাত্র নীরাকে জড়িয়ে ধরে বলেছো নীরাকে ভালোবাসো তুমি। তাহলে প্রব্লেম কিসের ?

ধ্রুব – আমি ভালোবাসি নীরাকে, নীরা আমাকে নয়। নীরার মন জুড়ে শুধুই অবিনাশ। আমি চাইনা ও ভাবুক আমি সুযোগ নিতে এসেছি।

প্রকাশ – বাব্বা – এই জন্য বেশি সাহিত্য পড়তে নেই , যাই হোক, একটা খবর দিই – আগুন দুদিকেই লেগেছে ?

ধ্রুব চমকে উঠে – মানে?

ইরা – আকসিডেন্টের খবর শুনে নীরার রিঅ্যাকশন বললো। সাথেই জানালো নীরাও যে এখন ওকে জড়িয়ে ধরেছিলো খেয়াল করেছে কি সেটা ধ্রুব ?

নীরাও যে এখন ওকে জড়িয়ে ধরেছিলো খেয়াল করেনি ঘোরের মধ্যে ছিল ধ্রুব। এবার মনে পড়লো। ধ্রুব – ইসসস, কি অবস্থা, ফালতু মানুষকে এইভাবে টেনশন দেয় ?

প্রকাশ – হুমমমমমমমমম , খুব কষ্ট হচ্ছে। এতক্ষন কোথায় ছিলে?

ইরা – আর না করো না।

ধ্রুব – একটু হেসে – ওকে।

ইরা ধ্রুবকে জড়িয়ে ধরে – থ্যাংক ইউ , থ্যাংক ইউ।  তারপর বললো – আমি ওদিকে দেখি কি হচ্ছে। আসছি।

প্রকাশ এবার সীমার বাবাকে কল করলো। তিনি নীরার ব্যাপারে সবই জানেন। নীরার বিয়ে ভাঙার খবরও। তিনি বললেন সবই তো বুঝলাম , কিন্তু সে সত্যি হ্যাঁ বলেছে তো? প্রকাশ জানালো হুম। তিনি বললেন ধ্রুবর সাথে কথা বলে , বাড়িতে সবার মতামত নিয়ে জানাচ্ছেন। ধ্রুবর ফোনে ফোন এলো। ধ্রুব সম্মতি জানালো। কিছুক্ষন পরে প্রকাশের ফোন ফোন করে জানালেন সীমার বাবা জানালেন তাঁরা রাজি, যদি নীরার বাড়ির লোক চান তাহলে ২৫ সে ই বিয়ে

কিন্তু এখনো সীমা বাড়ি এলো না। ওদিকে কি হচ্ছে, কি হলো নীরার ?

 

আগের পর্ব – বাঁদরের গলায় মুক্তোর মালা – কলমে – অপরাজিতা – পর্ব ১২

 

অন্তিম পর্ব – বাঁদরের গলায় মুক্তোর মালা – কলমে – অপরাজিতা – অন্তিম পর্ব

আপনার মতামত জানান -
Top
error: Content is protected !!