এখন পড়ছেন
হোম > অন্যান্য > বাঁদরের গলায় মুক্তোর মালা – কলমে – অপরাজিতা – অন্তিম পর্ব

বাঁদরের গলায় মুক্তোর মালা – কলমে – অপরাজিতা – অন্তিম পর্ব

নীরা বাড়ি ঢুকেই সিঁড়ি দিয়ে উপরে ছুটলো। সীমাও পিছু পিছু ছুটলো। নীরার মা রান্নাঘরে, বাবা অন্যঘরের খাটে শুয়ে আছেন আর কুঁড়ি ছবি আঁকছে। কেউ দেখলো না ওদের। নীরার ছুটে ঘরে ঢুকে বিছনায় উপর হয়ে শুয়ে কাঁদতে লাগলো। সীমা হাপিয়ে গিয়েছিলো – একটু থেমে বললো – এই মেয়ে ওঠ, ওঠ বলছি। মাগো আমরা কেউ জানলাম না আর এত বড় কান্ড করে ফেললো দুজনে। এখন আবার ঢং করে কান্না হচ্ছে।

নীরা এবার মুখ তুলে বললো আমি আবার কি করলাম ? তোমার ভাই তো সবার সামনে – ছি ছি,

সীমা – ওরে মেয়ে, শুধু আমার ভাইয়ের দোষ তাই না। আর তুই কি করলি ধ্রুবর এক্সিডেন্ট এর খবর শুনে?তুই ও তো জড়িয়ে ধরলি এখন।

এবার নীরার মনে পড়লো, কি কান্ড করেছে। লজ্জায় সীমার কোলে মাথা লুকালো।

সীমা নীরার মুখ তুলে বললো – কি ? আমাদের বাড়ির বৌ হবি?

নিরা বললো জানিনা।

সীমা – আর জানার দরকার নেই।

আচ্ছা শোনো। আমি আসছি। ওদিকে দেখি কি চলছে। ছেলে ভালো হলে কি হবে রাগলে তো তার থেকে খারাপ কেউ নেই।

নীরা -কেন ? কি হয়েছে আবার ? রাগবে কেন?

এবার সীমা সব কাহিনী বললো। তারপর বললো না আর দাঁড়াবো না।

নীরা বুঝলো কেন ও এসেই ঐভাবে জড়িয়ে ধরলো, কেন বার বার বলছিলো – কি করতে গিয়েছিলে? ও আমাকে হারানোর ভয় পেয়েছিলো। ফের লজ্জায় বালিশে মুখ লুকালো। বার বার ধ্রুবর ওকে জড়িয়ে ধরা, ওর বলা কথাগুলো মনে পড়ছিলো।

সীমা যেমন এসেছিলো তেমনিই চুপি চুপি বেরিয়ে গেলো। রাস্তায় ইরাকে দেখে বললো ওদিকে সব ঠিক আছে।
আচ্ছা এদিকের খবর কি।
ইরা বললো -তুমি গিয়ে দেখো না।

ইরা ঢুকলো। ইরার মা নীরার কথা জিজ্ঞাসা করলো। এখন ইরা যদি বলে আগে এসেছে,কেন কি? অনেক কথা। ইরা বললো দিদি এসে গেছে।

কখন এলো? জিজ্ঞাসা করলো মা।

ইরা বললো আমার সাথেই তো এলো। উপরে গেলো তুমি খেয়াল করো নি ?

ইরার মা ভাবলেন সত্যি তো তাঁর মাথার ঠিক নেই সত্যিই খেয়াল করে নি। তিনি এবার বললেন – কুঁড়িকে দুটো খাইয়ে, ওদের বাড়ি দিয়ে আয়।

ইরা বললো ওর দেরি হয়ে গেছে চান করবে। দিদিকে বলো খাইয়ে দিয়ে, দিয়ে আসতে। নীরার ডাক পড়লো। নীরা আসতেই মা ওকে বললো।

আমি খাইয়ে দিচ্ছি, ইরা দিয়ে আসুক – বললো নীরা। ধ্রুব আছে ওখানে – নীরা কিছুতেই যাবে না । ধ্রুবর সামনা সামনি দাঁড়াতে ওর খুব লজ্জা করছে। ও কিছুতে যাবে না।

ইরা বললো – আমি চান করতে যাচ্ছি,তুই যাবি।

নীরা – ওকে খাওয়াতে খাওয়াতে তোর চান হয়ে যাবে। চান করে দিয়ে আসবি।

ইরা এবার নীরার কানে কানে বললো – তুই যাবি নাকি আমি মাকে সব বলবো – ও বাড়িতে যা হয়েছে।

কোনো কাজ করাতে হলে ইরা এইভাবে দিদিকে ব্ল্যাকমেল করে সময় বিশেষে বিশেষ বিশেষ টপিক নিয়ে, নীরা বড় শান্ত, ভয় পায় সে।মুখটা ছোট হয়ে গেলো। কুঁড়িকে ডেকে খাওয়াতে খাওয়াতে ভাবলো বাড়ির দরজায় দিয়েই চলে আসবে। কিছুতেই ধ্রুবর সামনে যাবে না সে।

এদিকে সীমা ভয়ে ভয়ে বাড়ি ঢুকলো। সেও মিথ্যা বলেছে। সীমা বাড়ি ঢুকতেই প্রকাশ ইশারা করে নীরার কথা জিজ্ঞাসা করলো। নীরা ঠিক আছে – বলে যা কথা হয়েছে সব বললো।
এবার ভাইয়ের দিকে তাকাতেই। ভাইয়ের রাগ রাগ মুখ দেখে বললো – দেখ ভাই আমি কিছু করিনি। প্রকাশ এক দাবরী দিলো সীমাকে। বললো ওকে কি কৈফিয়ত দিচ্ছি। বলো বেশ করেছি।
সীমা  এবার সাহস পেয়ে বললো – হুম বেশ করেছি।
প্রকাশ বললো – এবার ভাইকে একটু চা খাওয়াও। আমি একটু মাছ ডিমের ব্যাবস্থা করি।

ধ্রুব বললো – তুই চা কর আমি স্নান করতে যাচ্ছি।
বিশ্বাস করেত পারছে না ধ্রুব, নীরাও ওকে ভালোবাসে। একবার হোক সামনাসামনি, ধরবে ও। একবার বারান্দায় দেখলো যদি থাকে। দেখতে পেলো না। চান করতে গেলো।

কিছুক্ষন পর নীরা কুঁড়িকে দরজার কাছে দিয়েই পালাচ্ছিল।ছাড়লো না কুঁড়ি। ভয়ে ভয়ে ঘরে ঢুকলো নীরা, ওখানে ধ্রুব আছে , ভাবতেই ভীষণ লজ্জা করছে। মা , মা করে চেচাতে লাগলো। সীমা রান্নাঘর থেকে সাড়া দিলো। কুঁড়ি টেনে নিয়ে গেলো নীরাকে। তুমি ঘরে যাও বলে কুঁড়িকে ঘরে পাঠিয়ে দিয়ে বললো। বস ,ভাই চান করেত গেছে , দেখা করে তারপর যাবি। কুঁড়িকে খাইয়ে দিয়েছি – পরে আসবো বলেই ছুট লাগলো নীরা।

 

না না চিন্তা করবেন না। আমাদের হিরো বাথরুম থেকে বেরিয়ে মাথা মুছতে মুছতে উঁকি দিয়ে এতক্ষনে দেখে নিয়েছে কে এসেছে।দরজায় চুপ করে লুকিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। নীরা ওখান দিয়ে পার হতে যাবে – এমন সময় ধ্রুব ওর হাতটা ধরে টেনে ঘরে ঢুকিয়ে নিয়ে দরজা বন্ধ করে দিলো। সীমা রান্না ঘরে, রান্নাঘরটা একটু ভিতরে ফলে সে কিছু দেখতে পেলো না। নীরা স্বপ্নেও এমন কিছু ভাবেনি ভীষণ চমকে গেছে, লজ্জা ভয় সব মুখে ফুটে উঠেছে। দরজা দিয়ে পালাতে গেলো। ধ্রুব আটকে দিলো। ধ্রুব একটু করে এগোচ্ছে ওর দিকে, নীরা ক্রমশ পিছোচ্ছে। দেওয়ালে ধাক্কা খেয়ে থমকালো নীরা। ধ্রুব ওর খুব কাছে এসে দাঁড়িয়েছে। ধ্রুব খুব ভালো করে বুঝতে পারছে নীরা পালাতে চাইছে। কিন্তু পালাতে দেবে না। ধ্রুব জিজ্ঞাসা করলো – ‘কি বলেছো দিদিকে ?
নীরা চমকে গিয়ে খুব আস্তে আস্তে বললো – কি বলেছি ?

ধ্রুব – যা করার তোমার ভাই করেছে , আমি কিছু করিনি।  সেদিন কে আমাকে জড়িয়ে ধরেছিলো ?  আর আজকে ? বলবো সবাইকে ?

না প্লিজ, আমি, আমি সত্যি খুব ভয় পেয়ে গিয়েছিলাম সেদিনের জন্য সরি। – বলে ভয়ে ভয়ে ধ্রুবর দিকে তাকালো।

 

ধ্রুব –  সেদিন জড়িয়ে ধরে আজকে সরি বলে কি হবে?  ঠিক আছে  চলো বলবো না – এখন তুমি বলো।

নিরা – কি?

ধ্রুব – টেল মি – ইউ লাভ মি

নীরা – কি?

নীরা – সীমাদি চলে আসবে, আমি বাড়ি যাবো।

ধ্রুব – যতক্ষণ না বলবে ছাড়বো না। দাঁড়িয়ে থাকো।

এমন সময় দরজায় টোকা। ভাই, এই ভাই হলো তোর , চা যে ঠান্ডা হয়ে গেলো।

নীরার মুখটা ফ্যাকাসে হয়ে গেলো , সব জেনে গেলো সীমাদি।

ইশারা করে নীরাকে চুপ করে থাকতে বললো ধ্রুব।

কোনো শব্দ এলো না , সীমা ভাবলো এখনো ভাই বাথরুমে – বললো -তাড়াতাড়ি বের। কতক্ষন লাগে চান করতে কে জানে বাবা।

রান্নাঘর থেকে ফের শব্দ আসছে। অতএব দিদি গেছে। ধ্রুব আবার বললো নীরাকে – কি হলো বলো, যতক্ষণ না বলবে আমি ছাড়বো না।

নীরা – আমি, আমি ?

ধ্রুব – হুম ,তুমি

এমন সময় ধ্রুবর ফোনটা বাজলো। ঘুরে দেখতে গেলো ধ্রুব। নীরা ধ্রুবকে থেকে সরিয়ে দিয়ে দরজা খুলে ছুট লাগলো , ধ্রুব ধরতে গেলো , পারলো না।

 

বাড়ি ফিরে নিজের ঘরে বিছানায় উপুর হয়ে শুলো, এখনো কাঁপছে ও। ধ্রুব কি করছিলো ? লজ্জায় মুখ লুকালো ও। ইরা জিজ্ঞাসা করলো – দিদি ধ্রুবদার সাথে দেখা হলো?

নীরা – না, চান করতে গেছে।

ইরা একটু বিরক্ত হয়ে – আর সময় পেলো না।

বিকেলে সীমা, প্রকাশ আর ধ্রুব এলো নীরাদের বাড়িতে। ধ্রুবকে দেখে সীমার মা জিজ্ঞাসা করলেন তুমি কখন এলে বাবা ? শুনেছ তো সব বলে কাঁদতে লাগলেন।

ধ্রুব – হুম।

প্রকাশ – দুপুরে এসেছে। একটা দরকারি জিনিস ফেলে গিয়েছিলো এখানে নিতে এসেছে।

নীরার মা ,বাবা ছাড়া বাকি সবাই বুঝলো প্রকাশ কি বলছে।

ইরা টিভি দেখছিলো। ধ্রুবকে দেখে বললো – দিদি উপরে আছে, চলো।

প্রকাশ বললো – ও তো জানে রাস্তা, তুই দাঁড়া। ধ্রুব উপরে গেলো।

সীমা এবার নীরার বাবাকে বললো – কাকাবাবু, আমার ভাইয়ের জন্য নীরাকে আপনার কাছে চাইতে এসেছি , আপনি  না করবেন না। ওরা দুজনেই রাজি। আমি নীরার সাথেও কথা বলেছি। তাছাড়া আমাদের বাড়িতেও সবাই রাজি। এখন আপনি হ্যাঁ বললেই  ২৫ তারিখেই বিয়ে হয়ে যাবে।

সোমেস্বরবাবু কি বলবেন, কিছু বুঝতে পারলেন না। অবাক হয়ে গেছেন।

অতসীদেবী ও তাই। প্রকাশ যা বললো তা সংক্ষেপে এমন -অবিনাশের সাথে নীরার বিয়ে ভেঙে গিয়ে ভালোই হয়েছে। কেননা কেউই সুখী হতো না এতে। নীরা ,ধ্রুব একে অপরকে ভালোবেসে ফেলেছে। নীরা – ধ্রুব দুজনেই রাজি আছে , ধ্রুবর বাড়ির লোকও রাজি। এখন সোমেস্বরবাবু হ্যাঁ করলেই বিয়ে। সোমেস্বরবাবু একটু থেমে বললেন – আমি কিছু ভাবতে পারছি না প্রকাশ। মনটা একেবারে ভেঙে গেছে। আমার কি করা উচিত, অনুচিত কিছু না।

প্রকাশ বললো- কাকাবাবু একবার বিশ্বাস করে ঠকেছেন জানি। আর একবার বিশ্বাস করুন। আপনার কাছে এটুকু চাই, তাছাড়া নীরা ও ধ্রুব দুজনেই দুজনকে ভালোবাসে। ভগবানও চান নীরা ও ধ্রুব এক হোক তাই এই বিয়ে ভেঙেছে। প্রকাশ ইরাকে ওদের ডাকতে বললো।

আমাদের হিরো এদিকে হেরোইনের ঘরে ঢুকলেন। দেখলেন নীরা উপর হয়ে বিছানায় শুয়ে। কিছু না বলে ধ্রুব গিয়ে ওর পাশে শুয়ে পড়লো। চোখ পড়তেই উঠে বসে পড়লো নীড়া। ধ্রুব এবার বললো – চলো – এবার বলো। তখন যা বলোনি। এবার ধ্রুব উঠে বসে বললো – বলবে না তো – আমার এক্সিডেন্ট হলেই ভালো হতো , মড়ে………..

নীরা ঘুরে – ধ্রুবর মুখটা হাত দিয়ে চেপে ধরলো।
ধ্রুব হাতটা সরিয়ে বললো – তাহলে বলো।

ধ্রুব বুকে মাথা রেখে নীরা বললো – ভালোবাসি।

ধ্রুব নীরাকে জড়িয়ে ধরেছে। এবার বললো – আচ্ছা শোনো – অনেক দিন গল্প লেখোনি। আজ রাতে কিন্তু আমার নতুন গল্প চাই।

নীরা – গল্প? ইরা বলে দিয়েছে ?

ধ্রুব – না,এ আমি ধরে ফেলেছি ,বলে সেদিনের কথা বললো। প্লিজ লেখা বন্ধ করো না।

নীরা ধ্রুবর বুকে মুখ লুকিয়ে বললো- বেশ লিখবো।

ইরা ঘরে ঢুকলো ওদেরকে দেখে বললো – ছি ছি , এইসব হচ্ছে। নীচে তোদের ডাকছে।

নিচে এলো ওরা। সোমেস্বরবাবু ওদের জিজ্ঞাসা করলেন। দুজনেই সম্মত হলো।

প্রকাশ ফোন করলো ধ্রুবদের বাড়িতে। কথা হলো সোমেস্বরবাবুর সাথে ধ্রুবর বাবা। তিনি জানালেন তাদের ছেলে বিয়ে করতে চেয়েছে। তাদের কোনো আপত্তি নেই। পারলে আজকেই বিয়ে দিয়ে দিতেন।

ঠিক হলো – আগামীকাল নীরার বাবা, প্রকাশ আর ধ্রুব যাবে ধ্রুবদের বাড়িতে। পাকা কথা বলতে। অতসী দেবী খুব কাঁদতে লাগলেন থামালো সীমা।

ধ্রুব চলে গেছে। যাবার আগে দেখা করে গেছে নীরার সাথে।

 

প্রিয় বন্ধু মিডিয়ার খবর আরও সহজে হাতের মুঠোয় পেতে যোগ দিন আমাদের যে কোনও এক্সক্লুসিভ সোশ্যাল মিডিয়া গ্রূপে। ক্লিক করুন এখানে – টেলিগ্রামফেসবুক গ্রূপ, ট্যুইটার, ইউটিউবফেসবুক পেজ

যোগ দিন আমাদের হোয়াটস্যাপ গ্রূপে – ক্লিক করুন এখানে

প্রিয় বন্ধু মিডিয়ায় প্রকাশিত খবরের নোটিফিকেশন আপনার মোবাইল বা কম্পিউটারের ব্রাউসারে সাথে সাথে পেতে, উপরের পপ-আপে অথবা নীচের বেল আইকনে ক্লিক করে ‘Allow‘ করুন।


আপনার মতামত জানান -

এত তাড়াতাড়ি বিয়ে ঠিক হলেও প্রায় সবাই এসেছে। সীমা একেবারে বিয়ের পরের দিন বড় কনে নিয়ে যাবে। নীরা লাল বেনারসি কিনেছে আর আগের হলুদ বেনারসি অপয়া, যেহেতু বিয়ে ভেঙে গেছে মাকে ভুল বুঝিয়ে ইরা নিজে বাগিয়ে নিয়েছে।

ধ্রুবর ভোরের স্বপ্ন সত্যি হলো। লাল বেনারসি পরেই নীরা ধ্রুবর হাত থেকে সিঁদুর পড়লো। কালো হলেও বৌ দেখে ধ্রুবর বাড়ির লোক খুব খুশি। ছেলের মন জয় করেছে।  হাজার সেধেও বিয়ে করছিলো না। মা আবার ভয় পেয়েছিলো বাইরে এতদিন ছিল সেখানে আবার বিয়ে করে আসেনি তো। যাই হোক এমন লক্ষী প্রতিমার মতো বৌ পেয়েছে। রং কালো তো কি মুখখানা দেখলেই মন ভরে যায়।

ইরা রয়ে গেছে, একেবারে অষ্টমঙ্গলায়, দিদি, ধুবকে নিয়ে ফিরবে। ইতিমধ্যে ধ্রুবর ‘ বাঁদর’ নামটা ইরা, নীরা জেনে গেছে। গল্পও সব শুনেছে।
বৌভাতের দিন  অতিথিরা সবাই চলে গেলো। নীরা, ধ্রুবকে ওদের ঘরে দিতে এলো সব দাদা দিদিরা। ঘরে এলো বাইরে গেলো না। দুজনকে একা কিছুতেই ছাড়ছে না। সেজদা – ছোটদাকে বললো – আচ্ছা ছোটভাই, এই হনুমানটা কি করে এত ভালো একটা বৌ পেলো বলতো। ধ্রুব একটু রেগে রেগে তাকালো। পাশ থেকে ধ্রুবর বড়দি ( বড় জ্যাঠার মেয়ে ) বললো – কি বলছিস? তার মানে – বাঁদরের গলায় মুক্তোর মালা।
ছোটদা বললো – একেবারেই তাই। নীরা আমাদের খাঁটি মুক্ত, তার থেকেও দামি। আর ওটা তো একটা বড় হনূমান।
গোটা ঘর হোহো করে হেসে উঠলো। ধ্রুব রাগী রাগী মুখ করে তাকিয়ে রইলো। আর নীরার মুখটা লজ্জায় লাল হয়ে গেলো।

ঋষি ( ছোটদার সালা ) ঘরে এসে বললো এই এই অনেক হয়েছে এবার ওদেরকে একা ছেড়ে দাও। সেই জোর করে সবাইকে বাইরে বের করলো। ঘরে দরজা বন্ধ হলো।

শেষ হলো নীরা ধ্রুবর এক প্রেম কাহিনী। এবার শুরু দাম্পত্যের আর এক প্রেম কাহিনী।

 

ইরা একেবারে দেখতে পারছে না এই ঋষিকে। ঋষির জন্যই ধ্রুবর জুতো চুরি করতে পারে নি , হাত বাঁধতে পারেনি, বর ঠকাতে পারেনি। এমনকি বাসররাতে এই ছেলেটার জন্যই কনে পক্ষ অন্তাক্ষরী হেরে গেছে। এই বাড়িতে এসে লুডো খেলার একটা প্রতিযোগিতা হয়েছিল , ইরা এক্সপার্ট , আজ পর্যন্ত ইরার কাছে নীরা জিততে পারেনি, এই ছেলেটা হক্কাই করে সেখানেও হারিয়ে দিয়েছে। আরো অনেক কিছু করেছে। সবেতে ব্যাগড়া দিয়েছে। সুযোগ পেলে আচ্ছা করে দেবে টাইট। আর ঋষি, ইচ্ছা করে জ্বালাচ্ছে ইরাকে। বেশ লাগছে ধ্রুবদার শালীকে – পিস্ একটা।

কি মনে হচ্ছে এবার আমাদের ইরা আর ঋষির প্রেমপর্ব শুরু হবে? কি জানি। নজরে রাখছি যদি কিছু হয় অবশ্যই ইরার প্রেমকাহিনী নিয়ে আসবো আপনাদের সামনে।আপাতত ভালো থাকুন সুস্থ থাকুন। আর গল্প ভালো লাগলে শেয়ার করুন।

আগের পর্ব – বাঁদরের গলায় মুক্তোর মালা – কলমে – অপরাজিতা – পর্ব ১৩

 

বাঁদরের গলায় মুক্তোর মালা  – পুরো গল্প পড়তে ক্লিক করুন — অপরাজিতা

 

 

নতুন প্রেমকাহিনী আসছে শীঘ্রই। …………….

প্রিয়বন্ধু বাংলা।

আপনার মতামত জানান -
Top
error: Content is protected !!